বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

শেষ ওয়ানডে জিতে সিরিজ নিশ্চিত করলো বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ
শেষ ওয়ানডে জিতে সিরিজ নিশ্চিত করলো বাংলাদেশ

তৃতীয় ওয়ানডের সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নিউজিল্যান্ড ৪৪.৫ ওভারে ২১০/১০ (লিস্টার ২*; নিকোলস ৪, ইয়াং ১৯, ল্যাথাম ৫, কেলি ৫৯, আব্বাস ২৫, ক্লার্কসন ৬, স্মিথ ২, লেনক্স ২, ও’রুর্ক ১, ফক্সক্রফট ৭৫)

ফল: বাংলাদেশ ৫৫ রানে জয়ী

বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ২৬৫/৮ (হৃদয় ৩৩*, মোস্তাফিজ ৩*; সাইফ ০, তানজিদ ১, সৌম্য ১৮, লিটন ৭৬, শান্ত ১০৫, মিরাজ ২২, শরিফুল ১, তানভীর ০)

তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডকে ৫৫ রানে হারিয়ে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। ৪৪.৫ ওভারে নিউজিল্যান্ডকে তারা অলআউট করেছে ২১০ রানে।

অবশ্য ১৬০ রানে ৯ উইকেট পতনের পরও এত দূর যাওয়ার কথা ছিল না সফরকারীদের। শেষ দিকে অবিশ্বাস্য কিছু করার চেষ্টা করেছিলেন ডিন ফক্সক্রফট। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ব্যবধান কমাচ্ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তাকে ৭৫ রানে থামিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার ৭২ বলের ইনিংসে ছিল ৭টি ছক্কা। শেষ দিকে এসেই হাত খেলার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

২৬৬ রানের লক্ষ্যে শুরুটা খারাপ ছিল না নিউজিল্যান্ডের। শেষটাও কোনোভাবে সামলে নিয়েছে তারা। কিন্তু মাঝের পুরো সময়টা জুড়ে চাপ সৃষ্টি করে রাখে বাংলাদেশ।

৩ উইকেট পতনের পর নিক কেলির (৫৯) ব্যাটেই তারা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল। কেলিকে থামান মোস্তাফিজুর রহমান। তার পরই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ার মতো অবস্থায় চলে যায় নিউজিল্যান্ড। নামে ছোট ধস। ১২৪ রানে ৫ উইকেট পতনের পর ১৬০ রানে পড়ে নবম উইকেট! তখনই ফক্সক্রফট ৭২ বলে ৭৫ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে প্রাণ সঞ্চারের চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু সঙ্গী ছিল না কেউ। ফলে চাপ সামলানো তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। তার আউটের মধ্য দিয়েই শেষ হয় কিউইদের ইনিংস। শেষ উইকেটে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৩১ বলে ৫০ রান যোগ করেছেন ফক্সক্রফট।

দুই ম্যাচ পর ফেরা মোস্তাফিজুর রহমানই ছিলেন সেরা বোলার। ৪৩ রানে নেন ৫ উইকেট। দুটি করে নেন নাহিদ রানা ও মেহেদী হাসান মিরাজ। একটি নিয়েছেন শরিফুল ইসলাম।

মোস্তাফিজের পঞ্চম উইকেট

শুরু থেকে দারুণ বোলিংয়ের ফল পাচ্ছেন মোস্তাফিজ। তার পঞ্চম শিকার হিসেবে বোল্ড হয়েছেন ও’রুর্ক। তাতে নবম উইকেটের পতন হয়েছে নিউজিল্যান্ডের।

মোস্তাফিজের চতুর্থ শিকার লেনক্স

নতুন ব্যাটার জেইডেন লেনক্সকেও থিতু হতে দেননি মোস্তাফিজুর রহমান। তার বলে শট খেলার চেষ্টায় ২ রানে ক্যাচ আউট হয়েছেন কিউই ব্যাটার। নিউজিল্যান্ড অষ্টম উইকেট হারিয়েছে ১৫৪ রানে।

মিরাজের দুর্দন্ত ক্যাচে আউট স্মিথ

৩৫.৫ ওভারে নতুন ব্যাটার স্মিথ শট খেলার চেষ্টা করেছিলেন। বোলার ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। তার বলে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। স্মিথের (২) বিদায়ে ১৫০ রানে সপ্তম উইকেট হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। স্মিথ ছিলেন মোস্তাফিজের তৃতীয় শিকার।

নাহিদের আঘাতে পড়লো নিউজিল্যান্ডের ষষ্ঠ উইকেট

নাহিদ রানার হাত ধরে ষষ্ঠ উইকেটেরও দেখা পেয়ে গেছে বাংলাদেশ। তার দ্বিতীয় শিকার হয়েছেন জশ ক্লার্কসন। নাহিদের গতিময় বলে কিউই ব্যাটার বোল্ড হয়েছেন ৬ রানে।

শরিফুলের আঘাত, পঞ্চম উইকেট হারালো নিউজিল্যান্ড

কেলির আউটের পর জুটি গড়ার চেষ্টায় ছিলেন ডিন ফক্সক্রফট ও মোহাম্মদ আব্বাস। ১৬ রান যোগ করেন তারা। ৩০তম ওভারে শরিফুলের গতিতে পরাস্ত হন আব্বাস। শট খেলতে গেলে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হয়েছেন তিনি। বিদায় নেওয়ার আগে ৩৬ বলে ২৫ রান করেছেন। তার ইনিংসে ছিল ১টি চার। নিউজিল্যান্ড পঞ্চম উইকেট হারিয়েছে ১২৪ রানে।

কেলিকে থামালেন মোস্তাফিজ

নিউজিল্যান্ডকে পথ দেখাচ্ছিলেন নিক কেলি। বাংলাদেশের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। ২৫.২ ওভারে অবশেষে তাকে ৫৯ রানে থামিয়ে দ্বিতীয় উইকেট তুলে নিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। শরীর থেকে যথেষ্ট বাইরের বল কাট করতে গিয়ে তানজিদ হাসানকে ক্যাচ দিয়েছেন কেলি। নিউজিল্যান্ড চতুর্থ উইকেট হারিয়েছে ১০৮ রানে।

কেলির ফিফটি, একশ ছাড়ালো নিউজিল্যান্ড

ল্যাথাম দ্রুত ফিরলেও দলকে এগিয়ে নিচ্ছেন ওপেনার নিক কেলি। তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি। সিরিজে এটি তার টানা দ্বিতীয়। আব্বাসকে নিয়ে গড়েছেন জুটি। তাতে দলের শত রানও ছাড়িয়েছে সফরকারীদের।

দ্রুত ল্যাথামকে ফেরালেন মিরাজ

ইয়াংকে ফিরিয়ে জুটি ভেঙেছেন নাহিদ রানা। তার পর নতুন নামা অধিনায়ক ল্যাথামকেও বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে দেননি অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তার বলে সুইপ করতে গিয়ে ৫ রানে ক্যাচ আউট হয়েছেন কিউই অধিনায়ক। নিউজিল্যান্ড তৃতীয় উইকেট হারায় ৬১ রানে।

কেলি-ইয়াং জুটি ভাঙলেন নাহিদ

৮ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর জুটি গড়েছিলেন উইল ইয়াং ও নিক কেলি। ধীরে সুস্থেই অগ্রসর হচ্ছিলেণ তারা। দ্বিতীয় উইকেটে তারা যোগ করেন ৪৬ রান। ১৩.৩ ওভারে এই জুটি ভেঙে স্বস্তি ফিরিয়েছেন পেসার নাহিদ রানা। তার গতির কাছে পরাস্ত হয়েছেন ইয়াং। কাট করতে গেলেও বল জমা পড়েছে লিটনের গ্লাভসে। নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় উইকেট হারায় ৫৪ রানে। ইয়াং আউট হয়েছেন ১৯ রান করে।

শুরুতে মোস্তাফিজের আঘাত

নিউজিল্যান্ডকে ২৬৬ রানের লক্ষ্য দিয়ে চতুর্থ ওভারেই সাফল্য পেয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। দুই ম্যাচ পর একাদশে ফেরা কাটার মাস্টারের বাউন্সারে পরাস্ত হয়েছেন ওপেনার হেনরি নিকোলস। নিউজিল্যান্ড প্রথম উইকেট হারিয়েছে ৮ রানে।

shanto-litton-banglatribune
১৬০ রানের জুটি গড়েছেন শান্ত-লিটন।
২৬৫ রানে থামলো বাংলাদেশ

চট্টগ্রামে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডকে ২৬৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্ত সেঞ্চরি (১০৫) ও লিটন দাসের ফিফটিতে (৭৬) ভর করে ৮ উইকেটে ২৬৫ রানে থেমেছে বাংলাদেশের ইনিংস।

টস হেরে খেলতে নেমে শুরুর ধাক্কাতেই চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। উইল ও’রুর্কের বোলিংয়ে ৩২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। সেখান থেকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। দু’জন মিলে ১৭৮ বলে গড়েন ১৬০ রানের জুটি। এই জুটি স্থিতি এনে দেয় ইনিংসে। এরপর ধীরে ধীরে এগিয়ে নেয় শক্ত অবস্থানে।

চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ইনিংসের ভিত গড়েন শান্ত। অন্যদিকে ৭৬ রানে থামেন লিটন। দুজনের আউটের পর শেষ দিকে গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন তাওহীদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজ। যদিও সেভাবে রান পায়নি তারা। বরং দারুণ নিয়ন্ত্রণে বোলিং করেছে নিউজিল্যান্ড। শেষ পাঁচ ওভারে আসে মাত্র ৩৪ রান। দ্রুত পড়েছে স্বাগতিকদের ৩ উইকেট।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৩২ রানে ৩টি নেন ও’রুর্ক। দুটি করে নেন বেন লিস্টার ও জেইডেন লেনক্স। একটি নিয়েছেণ ডিন ফক্সক্রফট।

দ্রুত পড়লো ৩ উইকেট

শেষ দিকে এসে রান বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন মিরাজ। ১৮ বলে ২২ রান করেছিলেন। ৪৮তম ওভারে অবশ্য শেষ রক্ষা হয়নি। মেরে খেলতে গিয়ে ইয়াংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। মিরাজের বিদায়ে ২৫৬ রানে পড়ে ষষ্ঠ উইকেট। পরের ওভারে এক রান যোগ হতেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শরিফুল ইসলামও। পতন হয় সপ্তম উইকেটের। একই ওভারে অর্থাৎ ৪৯তম ওভারের চতুর্থ বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তানভীল ইসলামও। ।

সেঞ্চুরির পরই আউট শান্ত

চতুর্থ সেঞ্চুরির পর অবশ্য বেশিক্ষণ আর স্থায়ী হয়নি শান্তর ইনিংস। তীব্র গরমে লম্বা সময় ধরে খেলায় তার অস্বস্তি বোঝা যাচ্ছিলো। শেষ পর্যন্ত ৪৩তম ওভারে লেনক্সের ঘূর্ণিতে থামে তার ইনিংস। ১১৯ বলে ১০৫ রানে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন শান্ত। তার ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ২টি ছক্কা।

চতুর্থ সেঞ্চুরির দেখা পেলেন শান্ত

শুরু থেকে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। লিটনের সঙ্গে জুটি গড়েও খেলেছেন। এই সময় টানা দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নেন তিনি। পরে ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়েছেন। শান্ত চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন ১১৪ বলে।

লিটনের বিদায়ে ভাঙলো ১৬০ রানের জুটি

শুরুর ধাক্কার পর চতুর্থ উইকেটে ১৬০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত। শেষ দিকে এসে হাত খুলে মারছিলেন লিটন। তার মাশুলও দিয়েছেন। বামহাতি স্পিনার লেনক্সের বলে উইকেট ছেড়ে খেলার চেষ্টায় ছিলেন। কিন্তু ঘূর্ণিতে পরাস্ত হওয়ায় বোল্ড হয়েছেন ৭৬ রানে। লিটনের ৯১ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ১টি ছয়। লিটন ওয়ানডেতে ফিফটি পেয়েছেন ১৯ ইনিংস পর!

ফিফটির দেখা পেয়েছেন লিটনও

চতুর্থ উইকেটে জুটি গড়ে দলকে দিশা দেখাচ্ছেন লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত। শান্তর পর ফিফটি তুলে নিয়েছেন লিটনও। লিটন ১৩তম ওয়ানডে ফিফটির দেখা পেয়েছেন ৭১ বলে। তাদের পার্টনারশিপ একশও ছাড়িয়েছে।

শান্তর টানা দ্বিতীয় ফিফটি

৩২ রানে তিন উইকেট পড়ার পর জুটি গড়ে দলকে স্থিতি এনে দিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। জুটি গড়েছেন তারা। শান্ত সিরিজে টানা দ্বিতীয় ফিফটির দেখাও পেয়েছেন। তার পঞ্চাশ পূরণ হয়েছে ৭০ বলে। এটা তার ক্যারিয়ারের ১২তম ফিফটি।

ও’রুর্কের তৃতীয় শিকার সৌম্য

৯ রানে দ্বিতীয় উইকেট পতনের পর জুটি গড়ার চেষ্টায় ছিলেন সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত। বড় ইনিংসের ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন সৌম্য। কিন্তু নবম ওভারে সেই ও’রুর্কের গতি আর বাউন্সের কাছে পরাস্ত হয়েছেন। বল স্টাম্পে টেনে এনে বোল্ড হয়েছেন ১৮ রানে। তাতে ৩২ রানে পতন হয়েছে তৃতীয় উইকেটের।

ও’রুর্কের আঘাতে সাজঘরে সাইফ-তানজিদ

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ৩ ওভারের মধ্যে ফিরেছেন দুই ওপেনার। উইল ও’রুর্কের করা প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন সাইফ হাসান (০)। এক ওভার বিরতি দিয়ে আবারও আঘাত হানেন ও’রুর্ক। তার বাউন্সি বলে ইনসাইড এজে বোল্ড হয়েছেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসানও (১)।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে মোস্তাফিজ

শেষ ওয়ানডেতেও বাংলাদেশের টস ভাগ্য সহায় হয়নি। টানা তিন ম্যাচেই টস জিতলো নিউজিল্যান্ড। চট্টগ্রামে এবার অবশ্য টস জিতে শুরুতে বোলিং নিয়েছে সফরকারী দল। বাংলাদেশ এবার প্রথমে ব্যাট করবে।

চট্টগ্রামের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লা. লে. মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু হবে সকাল ১১টায়। ওয়ানডে সিরিজে এখন ১-১ সমতা। তাই তৃতীয় ওয়ানডেটা সিরিজ নির্ধারণী।

একাদশে কারা

শেষ ম্যাচের একাদশে পরিবর্তন এনেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। বাদ পড়েছেন রিশাদ হোসেন ও তাসকিন আহমেদ। ফিরেছেন মোস্তাফিজুর রহমান ও স্পিনার তানভীর ইসলাম। নিউজিল্যান্ড একাদশে পরিবর্তন একটি। বাদ পড়েছেন ব্লেয়ার টিকনার, তার জায়গায় এসেছেন বেন লিস্টার।

বাংলাদেশ একাদশ: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন, লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয়, মোস্তাফিজুর রহমান, শরীফুল ইসলাম, সৌম্য সরকার, তানভীর ইসলাম ও নাহিদ রানা।

নিউজিল্যান্ড একাদশ: হেনরি নিকোলস, নিক কেলি, উইল ইয়াং, টম ল্যাথাম (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), মুহাম্মদ আব্বাস, ডিন ফক্সক্রফট, জশ ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, জেডেন লেনক্স, উইলিয়াম ও’রুর্ক ও বেন লিস্টার।

Ads small one

আর্জেন্টিনার বড় জয়, মেসির হ্যাটট্রিকে মেতেছে শোবিজ অঙ্গন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ
আর্জেন্টিনার বড় জয়, মেসির হ্যাটট্রিকে মেতেছে শোবিজ অঙ্গন

লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে ৩–০ ব্যবধানে হারিয়ে জয় দিয়ে শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। মাঠের এই দাপুটে পারফরম্যান্সে যেমন গ্যালারি মাতোয়ারা, তেমনি সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে পড়ে উচ্ছ্বাস—শোবিজ তারকারাও যোগ দেন সেই আনন্দে।

মাঠে উপস্থিত থেকে ম্যাচ দেখা অভিনেত্রী নাঈম নাদিয়া লিখেছেন, “ইয়েস, আমরা এখানে, আর্জেন্টিনা। গর্জন তুলুন!”

যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অভিনেতা অমিত হাসান একটু খোঁচা মেরে লিখেছেন, “আমার পূর্বানুমান ঠিক হলো। তিন গোল দিলাম। রাগ করলা।” অর্থাৎ আগে থেকেই যেন তিনি স্কোর জানতেন!

অভিনেত্রী কেয়া পায়েল পুরো ম্যাচ দেখে মুগ্ধ হয়ে বলেন, “তিনটি গোল। একজন সর্বকালের সেরা। সম্পূর্ণ আধিপত্য! এই মানুষটি যখন নিজের সেরা ছন্দে থাকে, তখন তাকে থামানোর কোনো উপায় থাকে না।”

অভিনেতা জায়েদ খান আবার ইতিহাস টেনে এনেছেন, লিখেছেন, “অভিনন্দন আর্জেন্টিনা। ম্যারাডোনার জন্যই আজকে ফুটবল ভালোবাসি, আর্জেন্টিনাকে ভালোবাসি। অসাধারণ লিওনেল মেসি।”

পরীমনি নিজের ছেলের ছবির সঙ্গে মেসি-ভাবনা মিশিয়ে লিখেছেন, “আমার ছোট্ট মেসি। মাশা আল্লাহ।”—যেখানে ফুটবল আর মাতৃত্ব এক ফ্রেমে এসে গেছে।

গায়িকা লুইপা আবার ফুটবলের চেয়ে বেশি ব্যস্ত ছিলেন স্বামীকে নিয়ে, লিখেছেন, “আমার স্বামী আর্জেন্টিনা নাকি ব্রাজিলের সাপোর্টার এইটা কখনোই বলে না… কিন্তু আজকে আমার কেমন একটা সন্দেহ হচ্ছে…”—অর্থাৎ খেলা না দেখেই ঘুমিয়ে পড়া স্বামীই এখন মূল রহস্য!

অভিনেত্রী সালহা খানম নাদিয়া প্রথমবার সন্তানের সঙ্গে খেলা দেখে আবেগে ভেসে লিখেছেন, “সানার জীবনের প্রথম দেখা আর্জেন্টিনার ম্যাচ, আর সেই ম্যাচেই আর্জেন্টিনার জয়, মেসির হ্যাটট্রিক! বিশ্বকাপযাত্রার শুরুটা এর চেয়ে সুন্দর আর কী হতে পারে?”

অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম খুব সংক্ষেপে শান্ত ভঙ্গিতে লিখেছেন, “সবাইকে শুভ সকাল, অত্যন্ত চমৎকার একটি জয়।”—যেন পুরো ফুটবল উন্মাদনাকে এক লাইনে কুল ডাউন করে দিলেন তিনি।

আরেক অভিনেত্রী মন্দিরা চক্রবর্তী মাঠ থেকেই পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, “মাই লাভ মেসি, প্রিয় দল আর্জেন্টিনার জন্য ভালোবাসা।”—মেসির প্রতি ভালোবাসা যেন স্কোরলাইনকেও ছাপিয়ে গেছে।

সব মিলিয়ে মেসির হ্যাটট্রিক শুধু ম্যাচ জিতিয়ে দেয়নি, দেশের তারকাদের টাইমলাইনও পুরোপুরি দখল করে নিয়েছে—ফুটবল উৎসব এখন স্টেডিয়াম থেকে ফেসবুক পর্যন্ত!

রোনালদোর রেকর্ড ছোঁয়ার দিনে প্রথমার্ধে পর্তুগালকে রুখে দিলো কঙ্গো, ১-১ সমতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
রোনালদোর রেকর্ড ছোঁয়ার দিনে প্রথমার্ধে পর্তুগালকে রুখে দিলো কঙ্গো, ১-১ সমতা

যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন স্টেডিয়ামে তীব্র উত্তেজনা আর রোমাঞ্চের মধ্য দিয়ে শেষ হলো পর্তুগাল ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) মধ্যকার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচের প্রথমার্ধ। ম্যাচের শুরুতেই জোয়াও নেভেসের দুর্দান্ত গোলে পর্তুগাল লিড নিলেও, প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে কঙ্গোর স্ট্রাইকার ইয়োয়ান উইসার নাটকীয় গোলে ১-১ সমতা নিয়ে বিরতিতে গেছে দুই দল।

পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড ছোঁয়ার ঐতিহাসিক ষষ্ঠ বিশ্বকাপ অভিযানের শুরুটা পর্তুগালের জন্য হয়েছিল স্বপ্নের মতো। হিউস্টন স্টেডিয়ামে ম্যাচের বাঁশি বাজার পর একটুও সময় নষ্ট করেনি রবার্তো মার্তিনেসের শিষ্যরা। খেলার ঠিক ৬ষ্ঠ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে আসা চমৎকার এক ক্রস বাতাসে ভেসে কঙ্গোর ডি-বক্সে ঢুকলে নিখুঁত পজিশন নেন পর্তুগিজ মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেস। নিজের মার্কারকে সম্পূর্ণ ফাঁকি দিয়ে এক বুলেট গতির হেডে কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসিকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি। গোল উদযাপনে আকাশের দিকে তাকিয়ে ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এই তরুণ। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপ মঞ্চে ফেরা কঙ্গোর জন্য এটি ছিল এক বিশাল ধাক্কা।

শুরুর গোল খেয়ে ব্যাকফুটে চলে গেলেও দমে যায়নি কঙ্গোর ‘চিতারা’। পর্তুগালের তারকাখচিত মাঝমাঠ ও বার্নার্ডো সিলভাদের আক্রমণ সামলে ধীরে ধীরে কাউন্টার অ্যাটাকে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে তারা। পুরো প্রথমার্ধ জুড়েই পর্তুগাল বল পজিশনে আধিপত্য বজায় রাখলেও কঙ্গোর রক্ষণভাগ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে কড়া পাহারায় রেখে বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে দেয়নি।

যখন মনে হচ্ছিল প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যাচ্ছে পর্তুগাল, ঠিক তখনই ম্যাচের ৪৫ মিনিটে (৪৫+৪ মিনিটে যোগ করা সময়ে) নাটকীয়ভাবে জ্বলে ওঠেন কঙ্গোর নিউক্যাসল ইউনাইটেড স্ট্রাইকার ইয়োয়ান উইসা। পর্তুগিজ ডিফেন্সের একটি মুহূর্তের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে ডিওগো কস্তাকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান তিনি। উইসার এই অবিশ্বাস্য ও নাটকীয় সমতাসূচক গোলে কঙ্গো শিবিরে উল্লাসের জোয়ার বয়ে যায়। ফলে ১-১ গোলের সমতা ও টানটান উত্তেজনা নিয়েই মাঠ ছেড়েছে দুই দল।

দ্বিতীয় হাফে রোনালদোরা পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেন, নাকি কঙ্গো বড় কোনো অঘটন ঘটায়— এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।

রোনালদোর ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, কঙ্গোর মুখোমুখি পর্তুগাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
রোনালদোর ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, কঙ্গোর মুখোমুখি পর্তুগাল

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে আজ। লিওনেল মেসির পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপে মাঠে নামছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি জানিয়ে দিয়েছেন, এটাই হতে পারে তার শেষ বিশ্বকাপ। আর শেষবারের মতো সেই একমাত্র শিরোপাটা ছোঁয়ার স্বপ্ন বুকে নিয়েই মাঠে নামছেন তিনি।

গ্রুপ ‘কে’-র উদ্বোধনী ম্যাচে রবার্তো মার্টিনেজের পর্তুগাল মুখোমুখি ডিআর কঙ্গোর, যারা ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে।

 

রোনালদো খেলবেন ৪-২-৩-১ ছকের একমাত্র স্ট্রাইকার হিসেবে। তার পেছনে তিনজন— বের্নার্দো সিলভা, ব্রুনো ফার্নান্দেস ও পেদ্রো নেতো। মাঝমাঠের হোল্ডিং ভূমিকায় জোয়াও নেভেস ও ভিতিনহা। রক্ষণে কানসেলো, আরাউহো, ভেইগা ও মেন্দেস।

পর্তুগাল একাদশ: দিয়োগো কস্তা; তোমাস আরাউহো, রেনাতো ভেইগা, জোয়াও কানসেলো, নুনো মেন্দেস; জোয়াও নেভেস, ভিতিনহা; বের্নার্দো সিলভা, ব্রুনো ফার্নান্দেস, পেদ্রো নেতো; ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (অধিনায়ক)।

শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ থেকে বেঞ্চে গেছেন নেলসন সেমেদো, রুবেন দিয়াস, দিয়োগো দালোত, গনসালো ইনাসিও ও ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাও।

ডিআর কঙ্গোতে চার পরিবর্তন

কোচ সেবাস্তিয়ান দেজাবরে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচের একাদশে চারটি পরিবর্তন আনলেন। দলে এসেছেন স্টিভ কাপুয়াদি, সেদ্রিক বাকাম্বু, এদো কাইয়েম্বে ও আর্থার মাসুয়াকু— বেঞ্চে গেছেন নাথানিয়েল মবুকু, থিও বঙ্গোন্দা, জোরিস কাইয়েম্বে ও নোয়া সাদিকি।

ডিআর কঙ্গো একাদশ: লিওনেল এমপাসি; অ্যারন ওয়ান-বিসাকা, স্টিভ কাপুয়াদি, আক্সেল তুয়ানজেবে, চ্যান্সেল মবেম্বা (অধিনায়ক), আর্থার মাসুয়াকু; এনগালায়েল মুকাউ, স্যামুয়েল মুতুসামি, এদো কাইয়েম্বে; ইয়োয়ান উইসা, সেদ্রিক বাকাম্বু।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ওয়ান-বিসাকা ও ব্রেন্টফোর্ডের উইসার মতো প্রিমিয়ার লিগ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খেলোয়াড় থাকলেও কাগজে-কলমে পর্তুগালই স্পষ্ট ফেভারিট।

৬০ বছরের অপেক্ষা, একজনের শেষ সুযোগ

পর্তুগালের ইতিহাসে সেরা সাফল্য ১৯৬৬ সালে তৃতীয় স্থান— ইউসেবিওর সেই কীর্তির পর ছয় দশক কেটে গেছে। নেশনস লিগ চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল এবার ফেভারিটদের তালিকায়, আর রোনালদোর জন্য এটাই শেষ সুযোগ ক্যারিয়ারের একমাত্র অপূর্ণ স্বপ্নটা পূর্ণ করার।