শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

শ্যামনগরে গ্রাম পুলিশদের বর্জ্য ও স্যানিটেশন সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে গ্রাম পুলিশদের বর্জ্য ও স্যানিটেশন সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলায় বেসরকারী সংগঠন রুপান্তরের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) গ্রাম পুলিশ ও বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের বর্জ্য ও স্যানিটেশন সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

রুপান্তরের গোফরইমপ্যাক্ট প্রকল্পের আওতায় শ্যামনগর অফিসার্স ক্লাব হল রুমে সুইজারল্যান্ড, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও সুইসকনট্যাক্ট বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ প্রশিক্ষণে উপজেলার আটুলিয়া, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী ও গাবুরা ইউপির গ্রাম পুলিশ এবং নওয়াবেঁকী বাজার, গড়কুমারপুর বাজার, চাঁদনীমুখা বাজার ও কলবাড়ী বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য অংশ গ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণে সম্মানিত অতিথি ছিলেন উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের কোয়ার্ডিনেটর সাব ডিস্ট্রিক লিয়াজো মো. আলম চৌধুরীসহ রুপান্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে নিরাপদ ও সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

Ads small one

কপোতাক্ষ-ইছামতি-বেতনার দখলকারী হিসেবে চিহ্নিত ৩০২ জনের তালিকা প্রকাশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ
কপোতাক্ষ-ইছামতি-বেতনার দখলকারী হিসেবে চিহ্নিত ৩০২ জনের তালিকা প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কপোতাক্ষ, ইছামতি ও বেতনা নদীসহ বিভিন্ন নদ-নদী ও নৌখালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং নাব্যতা রক্ষায় দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের নির্দেশনার আলোকে সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) সরেজমিন তদন্ত ও পুনঃযাচাই শেষে ৩০২ জনকে নদী দখলকারী হিসেবে চিহ্নিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ উচ্ছেদ কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে। নিচে ওই তালিকা প্রকাশ করা হলো।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজ থেকে নেট-পাটা অপসারণে নামছে প্রশাসন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
আজ থেকে নেট-পাটা অপসারণে নামছে প্রশাসন

সাতক্ষীরার নদ-নদী রক্ষায় জেলা প্রশাসনের মহাপরিকল্পনা:
কপোতাক্ষ, ইছামতি ও বেতনার ৩০২ অবৈধ দখলদারের তালিকা প্রকাশ

আসাদুজ্জামান সরদার: আজ শনিবার (১৮ জুলাই) থেকে নেট-পাটা অপসারণে নামছে প্রশাসন। সাতক্ষীরার নদ-নদী ও নৌ-খালগুলোর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনতে এবং নাব্যতা রক্ষায় অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ উচ্ছেদ কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের কঠোর নির্দেশনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) সরেজমিন তদন্ত ও পুনরায় যাচাইয়ের ভিত্তিতে এই বিশেষ তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের রাজস্ব (এসএ) শাখা থেকে ইতিমধ্যে এই দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনাটি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হয়েছে। একই সাথে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ওয়েব পোর্টালে এই উচ্ছেদ রূপরেখা প্রকাশ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদন ও উচ্ছেদ পরিকল্পনা পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, জেলার প্রধান ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নদী-কপোতাক্ষ, ইছামতি, বেতনা এবং বিভিন্ন সংযোগ নৌ-খাল দীর্ঘকাল ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী ও ভূমিগ্রাসীদের অবৈধ দখলে রয়েছে। নদী অববাহিকার সরকারি জমি গ্রাস করে দখলদাররা গড়ে তুলেছে স্থায়ী ও অস্থায়ী টিনের ঘর, বিশাল সীমানা প্রাচীর, বাণিজ্যিক মাছের ঘের, পুকুর, আমবাগান ও ফসলি জমি। এমনকি কিছু কিছু মৌজায় নদীর বুক চিরে গড়ে তোলা হয়েছে পরিবেশ বিধ্বংসী বাণিজ্যিক ইটভাটা এবং বিভিন্ন শিল্প কারখানার শেড বা ছাউনি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার রাধানগর মৌজায় ইছামতি নদীর তীরবর্তী প্রায় ১০ জন বড় দখলদারকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা বিপুল পরিমাণ নদীর জায়গা দখল করে আছেন। অন্যদিকে, বিনেরপোতা মৌজায় বেতনা নদীর মূল সীমানা গ্রাস করে অবৈধ সীমানা প্রাচীর এবং ফ্যাক্টরির বিশাল ছাউনি নির্মাণের তথ্য মিলেছে। তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বেতনা নদীর এই দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য ইতিমধ্যে সর্বশেষ নোটিশ প্রদান করা হয়েছে এবং উচ্ছেদ কার্যক্রম বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে চলমান রয়েছে।

এছাড়া সদর উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় ‘নৌ-খাল’ দখল করে অবাধে ধান চাষ ও মাছ চাষ করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বাবুলিয়া মৌজায় ‘কামরুল এসবিবি’ ও ‘মনির এসবিএল’ নামের দুটি বাণিজ্যিক ইটভাটা নদীর সীমানার ভেতরে গড়ে তোলার চূড়ান্ত প্রমাণ মিলেছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই এসব অতি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পুরোপুরি উদ্ধার করার জন্য সর্বোচ্চ ৫০ দিন পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করে একটি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম সাজানো হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের নির্দেশনায় জেলার প্রতিটি নদ-নদীর অবৈধ দখলদারদের তালিকা মাঠ পর্যায়ে এসিল্যান্ডদের মাধ্যমে পুনরায় যাচাই করা হয়েছে। নদী রক্ষায় জেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। বেতনা নদীতে উচ্ছেদ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং অন্যান্য স্থানেও দ্রুত সময়ের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। সামাজিক চ্যালেঞ্জ থাকলেও নদী ও পরিবেশের স্বার্থে কোনো আপস করা হবে না।

সরকারি এই প্রতিবেদনে সবচেয়ে ভয়াবহ দখলদারিত্বের চিত্র ফুটে উঠেছে তালা উপজেলার মাগুরা, জগদানন্দকাটি, পুটিয়াখালী, রাজেন্দ্রপুর ও জালালপুর মৌজায় কপোতাক্ষ নদের অববাহিকায়। এখানে শতাধিক ব্যক্তি নদীর মূল জায়গা দখল করে স্থায়ী ও অস্থায়ী টিনের ঘর তুলে বসবাস করছেন। জেলা প্রশাসন এই কপোতাক্ষ নদের দখলদারদের সরাতে ‘ভ্রাম্যমাণ উচ্ছেদ অভিযান’ বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কপোতাক্ষ নদের উচ্ছেদ পরিকল্পনার পথে বড় দুটি অন্তরায় বা চ্যালেঞ্জ সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন। প্রথমত, মাঠ পর্যায়ে উচ্ছেদ অভিযান জোরালো ও একযোগে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে তীব্র ‘জনবলের অভাব’ ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সংকট রয়েছে। দ্বিতীয়ত, এই নদী অববাহিকা দখল করে যারা বসবাস করছেন, তাদের একটি বড় অংশই প্রকৃত ‘ভূমিহীন পরিবার’। ফলে মানবিক দিক বিবেচনা এবং তাদের পুনর্বাসনের জটিল বিষয়টি উচ্ছেদ অভিযানের অন্যতম মূল সামাজিক বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর সাতক্ষীরা জেলা সম্পাদক এবং নদী সুরক্ষা বিষয়ক জাতীয় কমিটির সদস্য মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, প্রাক্টিক্যালি আমাদের যে নদী আইন এবং পরবর্তীতে সংশোধিত যে নদী আইনটি হয়েছে। সেটা গুরুত্ব দিয়ে মাঠে সঠিকভাবে পালন করা হয়, তাহলে মানুষজন নদী দখল ও দূষণ থেকে পিছিয়ে আসবে। তবে তার আগে যেটি সবচেয়ে বেশি দরকার, সেটি হচ্ছে জনগণকে সচেতন করা। নদী আসলে একটি জীবন্ত সত্তা; নদী না বাঁচলে সাতক্ষীরা বাঁচবে না, নদী না বাঁচলে আমাদের প্রাণ-প্রকৃতি বাঁচবে না। ফলে নদীকে কখনো ব্যক্তিগত সম্পদ বা সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করলে হবে না; এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ এবং রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা বিধিবদ্ধ। যারা দখল ও দূষণ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনের সঠিক প্রয়োগ করলেই নদী সুরক্ষিত হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি যে, প্রশাসনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সাতক্ষীরার প্রায় সাড়ে তিনশত নদী দখলকারীর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যদি তালিকাটি চূড়ান্ত হয়েই থাকে, তবে চিহ্নিত করার পরেও এই নদী দখলদারদের উচ্ছেদ করতে প্রশাসনের ব্যর্থতা বা দেরি কোথায়? আমি মনে করি, যেহেতু তারা চিহ্নিত, তাই প্রশাসনকে অবশ্যই রাষ্ট্রীয় আইনের প্রয়োগ করে তাদের দ্রুত উচ্ছেদ করতে হবে। আর এই রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে যদি কোনো বাধা-বিঘœ আসে, তবে প্রশাসনকে অত্যন্ত কঠোর হাতে সেটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে আমরা প্রশাসনের কাছে এটাই জোর দাবি জানাচ্ছি।

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম মইন বলেন, জেলা প্রশাসনের এই উচ্ছেদ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা ইতিমধ্যেই পুরোদমে কাজ শুরু করেছি। প্রথমত, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রয়োজনীয় বাজেট বা বরাদ্দ চাওয়া হবে। বরাদ্দ পাওয়া গেলেই ক্রমান্বয়ে সব দখলদারদের উচ্ছেদে মূল অভিযান শুরু হবে। তবে আজ শনিবার (১৮ জুলাই) থেকেই আমরা নেটপাটার বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযান শুরু করছি, এর পরপরই বড় দখলদারদের হাত থেকে নদীর জায়গা উদ্ধার করা হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন থেকে সরাসরি মনিটর বা তদারকি করা হচ্ছে, তাই উচ্ছেদের ক্ষেত্রে ছোট-বড় বা প্রভাবশালী কেউ কোনো ছাড় পাবেন না। এছাড়া নদী রক্ষা ও পুনঃদখল ঠেকাতে উদ্ধারকৃত জায়গাগুলোতে বনায়ন করার মূল পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।

 

 

৩০২ অবৈধ দখলদারের তালিকা দেখতে এই লিংকে ক্লিক করুন

 

 

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিকে ‘লালকার্ড’ প্রদর্শন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিকে ‘লালকার্ড’ প্রদর্শন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিসহ এ ধরনের সব চুক্তি বাতিলের দাবিতে গণজমায়েত করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। এসময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিকে ‘লালকার্ড’ প্রদর্শন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে লালকার্ড‘ শীর্ষক স্লোগান দিয়ে উপস্থিত সবাই হাত উঁচু করে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন।

সমাবেশে বক্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী’ উল্লেখ করে অবিলম্বে এসব চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।

সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সংসদের সব রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে ঝগড়া হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া ‘দাসত্বমূলক চুক্তির’ বিষয়ে যেন ‘নীরবতার ঐক্য’ তৈরি হয়েছে।

 

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগমুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের করা বাণিজ্য চুক্তিটি আসলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশনামা এবং রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের ক্ষমতার স্বার্থে জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে এই পদক্ষেপকে সমর্থন দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি করেছে, তা জনগণকে জানানো হয়নি। মার্কিন সরকারের প্রকাশ করা ৩২ পৃষ্ঠার দলিলটি পড়লে দেখা যায়, এটি কোনো চুক্তি নয় বরং বাংলাদেশকে কী করতে হবে, তার একটি মার্কিন হুকুমনামা।

এর ফলে প্রয়োজন বা দাম বিবেচনা না করেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন জিনিস বিনা শুল্কে আমদানি করতে বাংলাদেশ বাধ্য হবে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় কমবে এবং সাধারণ মানুষের ওপর কর ও ভর্তুকির বোঝা বাড়বে।’

 

দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নীরবতার সমালোচনা করে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘দলগুলো নিজেদের ক্ষমতার স্বার্থে এই সর্বনাশী চুক্তির বিষয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নীরব রয়েছে। ভারতের আধিপত্য ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন লাগবে—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বহুজাতিক করপোরেট স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন সবাই পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।’

গণজমায়েতে গান পরিবেশনা করে উদীচী, গানের দল সমগীত ও কোরাস। নাটক পরিবেশনা করে নাট্যদল প্রাচ্যনাট ও বিবর্তন। এছাড়া, কবিতা আবৃত্তি করেন তাহসিন রেজা, অনন্যা মাহমুদ এবং মাসুদ মনিরুল। মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিসহ দেশীয় স্বার্থ বিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবিতে আজকের গণজমায়েতে দেশের বাইরেও থেকেও সংহতি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

সম্মিলিত এই গণজমায়েতে আরও উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য, গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক, বাম গণতান্ত্রিক জোট, ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা, যুদ্ধ ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী জোটসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন, নারী সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন, রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।