শ্যামনগরে বেকার হয়ে পড়া ছেলের গাড়ীর পেট্রোল সংগ্রহের জন্য মা দীর্ঘ লাইনে
oppo_2
পীযুষ বাউলিয়া পিন্টু, মুন্সীগঞ্জ (শ্যামনগর): শ্যামনগরে মুন্সিগঞ্জ ডেমলা ফিলিং স্টেশন থেকে ছেলে সাগর বৈদ্যের মোটর সাইকেলের পেট্রোল সংগ্রহ করার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে সাগর বৈদ্যের মা বিথিকা রানী বৈদ্য। ভাড়ায় মটর সাইকেল চালক সাগর বৈদ্য তেল না পেয়ে বেকার হয়ে এখন মাঠের কাজে লেগেছে। এজন্য তেলের জন্য পাম্পে অপেক্ষা করছে মা।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রখর তাপদাহে তাকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সারাদেশে জ্বালানি তেলের সংকট কাটাতে ৫ দিন অপেক্ষার পর আজ তেল সংগ্রহ করা যাবে জানিয়েছেন ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ। মুন্সিগঞ্জ ফিলিং স্টেশন থেকে ইউনিয়ন ভিত্তিক তেল সংগ্রহের ঘোষণা দিলে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন দীর্ঘ পাঁচ দিন পরে আজ তেল দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে।
মুন্সিগঞ্জ ফিলিং স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিয়নের তেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে উপজেলা প্রশাসন। তারই ধারাবাহিকতায় বুড়িগোয়লিনি ইউনিয়নে পেট্রোল দেয়ার সময়ে ব্যাপকভাবে অব্যবস্থাপনার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ইউনিয়নের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সাথে মুন্সিগঞ্জ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারকে বেপরোয়া মারধর করে। সে কারণে ফিলিং স্টেশন ৫দিন তেল দেওয়া বন্ধ রাখে।
মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী দুই হাজারের অধিক মোটরসাইকেল ব্যবহার করে। স্থানীয় মোটরসাইকেল ভাড়া চালকরা নিরুপায় হয়ে বেকার হয়ে পড়ছে, আবার কেউ কেউ ভিন্ন পেশার কাজের সাথে যুক্ত হচ্ছে। ফলে সেই পরিবারের নারীকে দেখা গেছে পেট্রোল সংগ্রহ করতে। ৩ সন্তানের জননী বিথিকা রানী বলেন, আমার ছেলে সাগর বৈদ্য মোটরসাইকেল ভাড়া চালানোসহ কৃষি কাজ করে সংসার চালায়। সময় মত তেল না পাওয়ার কারণে কৃষি কাজের শ্রম দিতে গেছে। আমি এই দুইদিন তেলের লাইনে অপেক্ষা করছি। গতকাল তেল দেওয়ার খবর শুনে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছি।
এই ফিলিং স্টেশনে সকাল ৭টা থেকে ৯.৩০ মিনিট পর্যন্ত সরকারি বেসরকারি চাকরিজীবীদের তেল দিয়েছে। পরে সাধারণ জনগণের লাইনে কিছু তেল দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নিয়ম ছাড়াই তেল দেওয়া হচ্ছে। আমরা দীর্ঘ লাইনে রাস্তার দুই পাশে প্রায় ২/৩ শ মোটরসাইকেল গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছি কখন তেল পাবো জানিনা। মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য দেবাশীষ গায়েন বলেন অনাকাঙ্খিত বিশৃঙ্খল কিছু ঘটনার কারণে তেল দেওয়া বন্ধ ছিল। ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে সমন্বয় করে আবার তেল দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এখানে সুষ্ঠুভাবে তেলের বন্টন বিষয়টি নিশ্চিত হলে সকলের তেল পাবে এবং জনগণের স্বস্তি ফিরে আসবে।



