বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় যশোরের আবু সাঈদ লাইভ সাপোর্টে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় যশোরের আবু সাঈদ লাইভ সাপোর্টে

মামুনুর রশিদ খান, মনিরামপুর (যশোর): দীর্ঘ প্রবাস জীবনের ইতি টেনে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর। পরিবারের জন্য কেনা উপহার আর স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার আনন্দ নিয়ে রওনা হয়েছিলেন বিমানবন্দরের পথে। কিন্তু মাঝপথে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা তছনছ করে দিল সব স্বপ্ন। সৌদি আরবের রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত যশোরের হামিদপুর গ্রামের সন্তান আবু সাঈদ এখন মৃত্যুশয্যায়। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর অবস্থা ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং বর্তমানে তাঁকে লাইভ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

আবু সাঈদ যশোর সদর উপজেলার হামিদপুর দক্ষিণপাড়ার গনি মোল্লার ছোট ছেলে এবং সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলামের চাচাতো ভাই।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আবু সাঈদ দীর্ঘ দিন ধরে রিয়াদের একটি সুপার শপে কর্মরত ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওই সুপার শপটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি বেশ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। একদিকে কর্মহীন হওয়ার মানসিক চাপ, অন্যদিকে দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে থিতু হওয়ার পরিকল্পনা-সব মিলিয়ে গত ২১ এপ্রিল তিনি দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু নিয়তি তাঁর জন্য অন্যকিছু লিখে রেখেছিল।

বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে আবু সাঈদ ও তাঁর তিন সহকর্মীকে বহনকারী গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে ঘটনাস্থলেই তাঁর দুই সহকর্মী মারা যান। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই সৌদি আরবের বিশেষ উদ্ধারকারী দল ‘দিফা আল-মাদানি’ (সিভিল ডিফেন্স) দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাড়ির ভেতর থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় আবু সাঈদ ও আরও একজনকে উদ্ধার করতে অত্যাধুনিক হাইড্রোলিক কাটার ব্যবহার করেন। একই সময়ে সৌদি ট্রাফিক পুলিশ-এর সদস্যরা দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেন এবং লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আবু সাঈদের শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি, বরং ধীরে ধীরে তা অবনতির দিকে যাচ্ছে। বর্তমানে তিনি লাইভ সাপোর্টে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।

ছেলের ফেরার প্রতীক্ষায় থাকা হামিদপুর গ্রামের গনি মোল্লার বাড়িতে এখন শুধুই কান্নার রোল। যে মানুষটির কয়েক ঘণ্টা পর বাড়িতে থাকার কথা ছিল, তাঁর লাইভ সাপোর্টে থাকার খবর আসার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আবু সাঈদের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং গ্রামবাসী তাঁর জীবন রক্ষার্থে বিশেষ দোয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে হামিদপুরসহ আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এই ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

Ads small one

শ্যামনগরে উপকূলীয় নারীদের মাঝে লবণসহিষ্ণু চারা বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে উপকূলীয় নারীদের মাঝে লবণসহিষ্ণু চারা বিতরণ

শ্যামনগর প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় নারীদের মাঝে লবণসহিষ্ণু ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। গত ২৪ জুন উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নে নওয়াবেঁকী গণমুখী ফাউন্ডেশনের (এনজিএফ) উদ্যোগে এবং গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের অর্থায়নে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) কারিগরি সহায়তায় ইউনিয়নের ৪৫০টি পরিবারের মাঝে মোট ২ হাজার ২৫০টি লবণসহিষ্ণু চারা বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে চারা বিতরণ করেন পদ্মপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান জি এম আমজাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, এই বনায়ন জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও কার্বন শোষণে যেমন ভূমিকা রাখবে, তেমনি ভবিষ্যতে পরিবারগুলোর পুষ্টি ও আয় বৃদ্ধিতেও সহায়তা করবে। অনুষ্ঠানে এনজিএফের পরিচালক (মাইক্রোফাইন্যান্স) আলমগীর কবীরসহ স্থানীয় ইউপি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শতবর্ষী আছিয়া বেগমের পাশে সদর উপজেলা প্রশাসন ও সংবাদকর্মীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ
শতবর্ষী আছিয়া বেগমের পাশে সদর উপজেলা প্রশাসন ও সংবাদকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি: অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটানো সাতক্ষীরার ধুলিহর ইউনিয়নের নাথপাড়া গ্রামের শতবর্ষী অসহায় বৃদ্ধা আছিয়া বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছে সদর উপজেলা প্রশাসন। মানবিক এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ২৪ জুন সকালে তাঁর বাড়িতে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি একটি জীর্ণ কুঁড়েঘরে আছিয়া বেগমের মানবেতর জীবনযাপনের খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্তের দৃষ্টিগোচর হয়। এরপর তাঁর নির্দেশনায় সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শাহিনুল ইসলাম এই খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করেন। স্থানীয় সংবাদকর্মী একরামুজ্জামান জনি ও রকিবের মাধ্যমে আছিয়া বেগমের বাড়িতে ১০ কেজি চাল, চিনি, ভোজ্যতেল ও লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগে স্বামী ময়েজউদ্দিন ঢালীর মৃত্যুর পর থেকে নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছেন আছিয়া বেগম। তাঁর দুই ছেলে ও দুই মেয়ে থাকলেও তাঁরা নিজেরাও চরম অভাব-অনটন ও অসুস্থতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ফলে মায়ের দায়িত্ব নেওয়ার সামর্থ্য তাঁদের নেই। বর্তমানে সরকারের দেওয়া মাত্র ৬০০ টাকার বয়স্ক ভাতাই ছিল তাঁর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।
গত ২০ জুন সরেজমিনে দেখা যায়, নাথপাড়ার একটি নির্জন এলাকায় ভাঙাচোরা ও মরিচাধরা টিনের চালের ঘরে চরম কষ্টে বাস করছেন তিনি। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে। প্রশাসনের এই আকস্মিক সহায়তায় আছিয়া বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। স্থানীয় বাসিন্দারা বৃদ্ধার জীবনের শেষ দিনগুলো স্বস্তিতে কাটানোর জন্য একটি স্থায়ী ঘর ও নিয়মিত সহায়তার ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।

শ্যামনগরে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের কর্মপরিকল্পনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের কর্মপরিকল্পনা সভা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে অবহিতকরণ ও কর্মপরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘ভিটামিন-এ খাওয়ান, মৃত্যুর ঝুঁকি কমান’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গত ২৪ জুন সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জামান কনক।
সভায় চিকিৎসকেরা জানান, মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভিটামিন ‘এ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাপ্তবয়স্করা বিভিন্ন ফলমূলের মাধ্যমে এই উপাদানটি পেলেও শিশুরা তা থেকে বঞ্চিত হয়। এর ফলে তারা অপুষ্টি ও হামসহ নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। এই ঘাটতি পূরণে সরকারি উদ্যোগে আগামী ২৮ জুন (রবিবার) উপজেলার ১৮৯টি কেন্দ্রে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
শ্যামনগর হাসপাতাল সূত্র জানায়, এবার উপজেলায় মোট ৩৯ হাজার ২৯৮ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৪ হাজার ২৯৮ জন শিশুকে একটি করে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩৫ হাজার শিশুকে একটি করে লাল রঙের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
সভায় প্রতিটি শিশুর কাছে ক্যাপসুল পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। তিনি বলেন, সরকারি এই কর্মসূচির আওতা থেকে যেন কোনো শিশু বাদ না পড়ে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল হক, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. তরিকুল ইসলাম ও উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি এস কে সিরাজ উপস্থিত ছিলেন।