শ্যামনগরে সূর্যমুখী চাষ এক সম্ভবনাময় ফসল
রনজিৎ বর্মন, সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর): উপকূলের সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর উপজেলায় সূর্যমুখী চাষের অপার সম্ভবনা রয়েছে। এটি নতুন করে লবনাক্ত শ্যামনগরে নতুন সম্ভবনাময় এক কৃষি ফসল। উপজেলার ভূরুলিয়া ইউপিসহ অন্যান্য ইউপিতে সূর্যমুখী চাষ করে কৃষকরা ভাল ফলন পেয়েছেন। এটাতে একদিকে কৃষকের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা অন্যদিকে এলাকায় হলুদ ফুলের চমৎকার সমারোহ এবং এটি দর্শনার্থীদের জন্য এক দর্শনীয় স্থান হয়ে দেখা দিচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে প্রকাশ, শ্যামনগর উপজেলায় ৬০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফসলের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে ভূরুলিয়া ইউপিতে। বারটি ইউপির মধ্যে এখানে ২০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। ধান কাটার পর পতিত জমি কাজে লাগিয়ে তুলনামূলক কমসময়ে উৎপাপদনযোগ্য ও লাভজনক ফসল হিসাবে চাষ করছেন কৃষকরা সূর্যমুখী। বিশেষ করে লবন সহিষ্ণু হাইসান-৩৬ জাতের সূর্যমুখী চাষের ভালো ফলন ও বাজার মূল্যে পাওয়ার আশায় তারা আগ্রহী। উপকূলীয় শ্যামনগরে লবনাক্ত হওয়ায় কৃষি ফসল চাষে চ্যালেঞ্জ রয়েছে তার মধ্যেও সূর্যমুখী স্থান করে নিয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায় সূর্যমুখী লবনসহনশীল কৃষি ফসল।
উপজেলার ভূরুলিয়া ইউপির কৃষক শমন মন্ডল ও ধানখালী গ্রামের কৃষক রমেশ সরকার বলেন, আগে জমি ধান কাটার পর ফেলে রাখা হত বা অন্য ফসলের চাষ কোন কোন সময় করা হত। বর্তমানে সূর্যমুখী চাষ করে ভাল ফলন পাওয়া যাচ্ছে। খরচ তেমন বেশি না উল্লেখ করে বলেন সামান্য খরচ ও পরিশ্রমে লাভবান হওয়া যায়। কারণ সূর্যমুখী তেলের মূল্য অনেক বেশি। দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে সূর্যমুখীর বীজ তেল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে অনেক স্থানীয় কৃষকের সূর্যমুখীর বীজ থেকে তেল বের করার প্রক্রিয়া ও বাজারজাত করণ বিষয়ে ধারণা কম রয়েছে। কৃষকদের দাবী সহজ প্রক্রিয়ায় বীজ থেকে তেল বের করা ও শোধন করার প্রক্রিয়া সহজলভ্য হলে মাঠে মাঠে সূর্যমুখীর চাষ আরও দ্বিগুন ভাবে হবে।
উপজেলার বিভিন্ন কৃষকের ক্ষেত পরিদর্শন করে দর্শনার্থীরা হলুদ ফুলের সমারোহের মধ্যে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন অনেকে। এর ফলে স্থানীয়রা মত প্রকাশ করে অনেকে বলছেন শ্যামনগরে সূর্যমুখী চাষে অপার সম্ভবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন মন্ডল ,উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহিউদ্দীন বলেন সূর্যমুখী চাষ শ্যামনগরে এক সম্ভবনাময় ফসল। তারা বলেন ভূরুলিয়া ইউনিয়নে কৃষকদের সহায়তায় বড় ধরনের প্রদর্শনী প্লট করা হয়েছে। এখানে প্রণোদনার মাধ্যমে সূর্যমুখীর বীজ থেকে তেল বের করা ও শোধনের জন্য একটি মেশিন প্রদান করা হয়েছে। যার মাধ্যমে কৃষকরা এই সুবিধা গুলি পাবেন।
অভিজ্ঞরা মনে করেন শ্যামনগরে সূর্যমুখী চাষে প্রয়োজনীয় সরকারি-বেসরকারী সহায়তা প্রদান করা হলে উপকূলীয় এলাকায় কৃষি ফসল উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনসহ দেশের অর্থনৈতিক খাত সমৃদ্ধি হবে।



