মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

সংবিধানে ফিরেছে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ
সংবিধানে ফিরেছে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয় পরিবর্তন করে আনা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনর্বহাল সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বহাল রইলো বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এই রায় দেন।

পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে তিনটি আপিল হয়। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তি একটি এবং নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন পৃথক আপিল করেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার একটি আপিল করেন।

২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৬ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ মামলাটির শুনানি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসাদ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত হবে মর্মে মুলতবির আদেশ দিয়েছিলেন।

সেদিন আদালতে রিটকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। ইন্টারভেনর হিসেবে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার এস এম শাহরিয়ার কবির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

গত ৮ ডিসেম্বর আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূইয়া। শুনানিকালে পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল চেয়ে চেয়েছেন বদিউল আলম মজুমদারের এই আইনজীবী। শুনানির এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীতে যদি পদ্ধতিগত ত্রুটি থাকে, তাহলে তো পুরোটাই একবারেই বাতিল করা যায়।

এদিকে গত ২ ডিসেম্বর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলে পক্ষভুক্ত হন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এর আগে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান ফিরিয়ে এনেছেন আদালত।

আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, গণতন্ত্র হচ্ছে আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ। এই গণতন্ত্র বিকশিত হয় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে তাতে জনগণের ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন হয়নি। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের আত্মবিশ্বাস জনগণের মধ্যে জন্ম নেয়নি। যার ফলশ্রুতিতে হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান। রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে।

বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত তৎকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদ উদ্দিন, রিটকারী সুজনের বদিউল আলমের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী ড. শরিফ ভূঁইয়া। বিএনপির পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল। জামায়াতের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার এহসান সিদ্দিকী। ইনসানিয়াত বিপ্লবের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। চার আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জুনায়েদ আহমেদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ, ইন্টারভেনর হিসেবে ছিলেন ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে এই রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে আদালত বলেন, অনুচ্ছেদ দুটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে ধ্বংস করেছে, যেটি হচ্ছে গণতন্ত্র। পঞ্চদশ সংশোধনী মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ, ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করেছেন আদালত। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।

রায়ে আদালত আরও বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোটা বাতিল করা হচ্ছে না। বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার আগামী জাতীয় সংসদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন আদালত। রায়ে আদালত আরও বলেছেন, সংসদ আইন অনুসারে জনগণের মতামত নিয়ে বিধানগুলো সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করতে পারবে। এর মধ্যে জাতির পিতার স্বীকৃতির বিষয়, ২৬ মার্চের ভাষণের বিষয়গুলো রয়েছে।

গণভোটের বিষয়ে রায়ে হাইকোর্ট বলেন, গণভোটের বিধান বিলুপ্ত করা হয়, যেটি সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অংশ ছিল। এটি ১৯৯১ সালে দ্বাদশ সংশোধনীতে যুক্ত হয়। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের গণভোটের বিধান বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৪৭ ধারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় বাতিল ঘোষণা করা হলো। ফলে দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হলো।

হাইকোর্টের রায়ে ৭ ক, ৭ খ এবং ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয়েছে। ৭ ক অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ ইত্যাদি অপরাধ এবং ৭ খ সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য করার কথা বলা ছিল। এদিকে ৪৪ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ বিষয়ে বলা আছে। ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ বলছে, এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটিয়ে সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোনও আদালতকে তার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ওই সব বা এর যেকোনো ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করতে পারবেন। এই অনুচ্ছেদটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে রায়ে।

পরে গত ৮ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করা রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের স্বাক্ষরের পর ১৩৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ এই রায় প্রকাশ করা হয়।

এরপর গত ৩ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ‘লিভ টু আপিল’ দায়ের করা হয়। আপিল আবেদনে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিল চাওয়া হয়। রিটকারী সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এই আপিল দায়ের করেন। এরই ধারাবাহিকতায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

এরপর গত ১৩ নভেম্বর বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন সর্বোচ্চ আদালত।

Ads small one

খুলনায় অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত, দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
খুলনায় অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত, দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

খুলনায় অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত, দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠান আজ (মঙ্গলবার) দিঘলিয়া উপজেলার যোগীপোল ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুন।

অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার যোগীপোল ও আড়ংঘাটা ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত, দুস্থ ও অসহায় ৭৫টি পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করেন।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবারের পাশে আছেন এবং সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখছেন। তারই নিদের্শনায় দুর্যোগে আক্রান্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তরা যেন সরকারি সহায়তা পায় এবং তাদের পাশে থাকতে বিভাগীয় প্রশাসনকে নিদের্শনা প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এবং দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসণে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিানে দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন দাশ গুপ্ত, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো: আব্দুল করিম সহ স্থানীয় জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন। দিঘলিয়া উপজেলা প্রশাসন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

পরে খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়নের বেলেঘাট পশ্চিমপাড়ায় অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ৭৫টি পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। তথ্যবিবরণী

দলীয় এমপির ভিডিও ভাইরাল ইস্যুতে যা বললো জামায়াত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৬:২১ অপরাহ্ণ
দলীয় এমপির ভিডিও ভাইরাল ইস্যুতে যা বললো জামায়াত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবর পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলছে, প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে।

তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বক্তব্য, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ভিডিও বক্তব্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে আরও খোঁজখবর ও প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

তালা বাজার বণিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন, সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
তালা বাজার বণিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন, সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ

তালা প্রতিনিধি: তালা বাজারকে অশান্ত করার ষড়যন্ত্র, সাধারণ ব্যবসায়ীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা এবং কথিত আন্ডারগ্রাউন্ড মাফিয়া চক্রের তৎপরতার অভিযোগ তুলে তালা বাজার বণিক সমিতির উদ্যোগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে তালা ডাকবাংলো হলরুমে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তালা বাজার বণিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, গত ২০ জুন শাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সাগর তার সিডিআই মোটরসাইকেলটি মেরামতের জন্য মেলা বাজার পাম্পসংলগ্ন ফাহিমের গ্যারেজে জমা দেন। দীর্ঘ সময় বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আনার আশ্বাস দেওয়ার পর ফাহিম দাবি করেন, মোটরসাইকেলটি চুরি হয়ে গেছে। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, ফাহিম নিজেই মোটরসাইকেলটি চুরি করে ভাঙারি ব্যবসায়ী আব্দুল মাজেদের কাছে কেজি দরে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বণিক সমিতি একাধিকবার সালিশের উদ্যোগ নিলেও ফাহিম উপস্থিত হননি বলে দাবি করা হয়।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ জুলাই বণিক সমিতির সভাপতি এস এম নুরুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আলমগীর হোসেন এবং কোষাধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুন ফাহিমের গ্যারেজে গিয়ে অভিযোগকারী সাগরের উপস্থিতিতে তার বক্তব্য গ্রহণ করেন। এ সময় ফাহিমের বাবা, খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আব্দুল জলিল উপস্থিত থেকে বিষয়টির সিদ্ধান্ত বণিক সমিতির ওপর ছেড়ে দেন বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগ করা হয়, একপর্যায়ে সভাপতি ও কার্যনির্বাহী সদস্য সাময়িকভাবে ঘটনাস্থল থেকে সরে গেলে কয়েকজন বহিরাগত যুবক সেখানে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে একজন অস্ত্র প্রদর্শন করে নিজেকে “খুলনার গ্রেনেড বাবু” পরিচয় দিয়ে কোষাধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুনকে হত্যার হুমকি দেয়। এ সময় ফাহিম একটি ভারী সাইলেন্সার রেঞ্চ দিয়ে আঘাত করতে গেলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশে থাকা মামুন হাওলাদার নামে একজন আহত হন।

এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেল ফেলে অন্য মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা গুলি করে হত্যার হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, পুলিশি তদন্ত ও স্থানীয় জনতার সহায়তায় ফাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। তদন্তে “গ্রেনেড বাবু” পরিচয়দানকারী ব্যক্তি খুলনা অঞ্চলের কথিত মাফিয়া “গ্রেনেড বাবু”র সহযোগী “কালা তুহিন” বলে জানতে পেরেছেন বলে দাবি করেন বক্তারা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৪০টিরও বেশি মামলা রয়েছে এবং তিনি ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি বলেও অভিযোগ করা হয়। এছাড়া, তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে খলিলনগর ইউনিয়নের সদস্য আব্দুল জলিলের আশ্রয়ে থেকে মাদক ও চোরাচালান কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বণিক সমিতির পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো: ফাহিমকে রিমান্ডে নিয়ে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, ইউপি সদস্য আব্দুল জলিলকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং কালা তুহিন ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে তালা বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বণিক সমিতির নেতারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তালা বাজার ও আশপাশের এলাকায় বাইরের বিভিন্ন সন্ত্রাসী চক্রের সদস্যরা অবস্থান নিয়ে নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছে। এসব কর্মকান্ড রোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তালা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি এস এম নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক স, ম ইয়াছিন উল্লাহ,বণিক সমিতির নেতা ফারুক হোসেন, মেহেদী হাসান, আলমগীর হোসেন, হারুনসহ সমিতির অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা।