মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাস

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সংসদ অধিবেশনে নির্দিষ্টকরণ বিল, ২০২৬ পাসের মধ্য দিয়ে এই বাজেট অনুমোদন পায়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুর দিন ১ জুলাই থেকে এই বাজেট কার্যকর হবে।

এর আগে সোমবার করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি এবং কিছু ক্ষেত্রে করছাড়ের ৬৪টি সংশোধনীসহ অর্থবিল, ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর এটি বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট। এর আগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার সর্বশেষ ২০০৬-০৭ অর্থবছরে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের মাধ্যমে জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেছিল।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেটকে মানবিক অর্থনীতি গড়ে তোলার একটি সমন্বিত রূপরেখা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের মূল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেটের তুলনায় নতুন বাজেটের আকার প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি।

বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমান। একই সঙ্গে বাজেটের মোট আকার সম্ভাব্য জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী ‘থ্রিআর কৌশল’ ঘোষণা করেন। এ কৌশলের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ‘রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন’, ‘রিস্টোরেশন’ এবং ‘রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসেলারেশন’—এই তিন ধাপে এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে কৌশলটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজেট বাস্তবায়নের জন্য মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী সরকারি ব্যয়ের অনুমোদন চেয়ে ২০২৬ সালের নির্দিষ্টকরণ বিল সংসদে উত্থাপন করেন। এতে ১৫ লাখ ১৫ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ের অনুমোদন চাওয়া হয়। পরে কণ্ঠভোটে ‘নির্দিষ্টকরণ আইন, ২০২৬’ বিলটি পাস হয়।

এর আগে জাতীয় সংসদ ‘অর্থবিল, ২০২৬’ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীসহ পাস করে। সংশোধনীগুলোর মধ্যে করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা বিলুপ্ত করার বিধান উল্লেখযোগ্য।

নির্দিষ্টকরণ বিল পাসের আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন ব্যয় মিলিয়ে ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির আওতায় নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের ব্যয়ের যৌক্তিকতা সংসদে উপস্থাপন করেন।

অপরদিকে, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের দেওয়া ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে ১ হাজার ৩৪৩টি ছাঁটাই প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ করে দেয় জাতীয় সংসদ।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও স্বতন্ত্র সদস্যসহ মোট ৪৩ জন সংসদ সদস্য ৩৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ওপর ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করে আলোচনায় অংশ নেন।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের অনুরোধে স্পিকার গিলোটিন পদ্ধতি প্রয়োগ করে অবশিষ্ট মঞ্জুরি দাবিগুলো বিস্তারিত আলোচনা ছাড়াই একযোগে কণ্ঠভোটে অনুমোদন করেন।

নির্দিষ্টকরণ বিল পাসের সময় বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যরা সংসদে উপস্থিত ছিলেন। বিলটি গৃহীত হওয়ার বিষয়ে তারা কোনও আপত্তি জানাননি।

Ads small one

কেপ ভার্দের বিপক্ষে একাদশ নিয়ে ভাবনায় স্কালোনি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১১:১১ অপরাহ্ণ
কেপ ভার্দের বিপক্ষে একাদশ নিয়ে ভাবনায় স্কালোনি

 

বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে বড় দলগুলোর কেউ কেউ সুবিধা করতে পারেনি। একই দিনেই বাদ পড়েছে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী দল। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল তো জাপানের সঙ্গে পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের গোলে জয় পেয়ে মাঠ ছেড়েছে।

তাই লিওনেল স্কালোনি তার দল নিয়ে বেশি চিন্তিত। সেরা ৩২-এ আর্জেন্টিনা খেলবে নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষে। শক্তির বিচারে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দেই আছে আফ্রিকার দলটি। গ্রুপ পর্বের কোনও ম্যাচ হারেনি তারা। পয়েন্ট ভাগ করেছে স্পেন, উরুগুয়ের মতো সাবেক চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে। এমন চমক দেখানো দলটির বিপক্ষে আর্জেন্টিনা কেমন একাদশ নিয়ে মাঠ নামে সেটি নিয়ে এখন জানার আগ্রহ অনেকের।

কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে এরই মধ্যে অনুশীলনে ফিরেছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। তবে তিনটি পজিশন নিয়ে এখনও চিন্তায় আছেন স্কালোনি। টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা রক্ষণভাগে, বিশেষ করে সেন্ট্রাল ডিফেন্সে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ডান হাঁটুতে চোট পান ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। এর আগেও একই হাঁটুতে চোট ছিল তার। তাই জর্ডানের বিপক্ষে তাকে মাঠে নামানো হয়নি। যদিও চিকিৎসকদের মতে, রোমেরোর চোট গুরুতর নয়। হাঁটুর ফোলা কমলেও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নন এই ডিফেন্ডার। অনুশীলনে রোমেরোর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেই সিদ্ধান্ত নেবে কোচিং স্টাফ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চোটের পর প্রথমবারের মতো সতীর্থদের সঙ্গে পূর্ণ অনুশীলন করেছেন রোমেরো। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে না পেলে, লিসান্দ্রো মার্তিনেসের সঙ্গে সেন্ট্রাল ডিফেন্সে দেখা যেতে পারে জর্ডানের বিপক্ষে অধিনায়কত্ব করা নিকোলাস ওতামেন্দিকে।

স্কালোনির দ্বিতীয় ধোঁয়াশা আক্রমণভাগে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে লিওনেল মেসির শুরুর একাদশে ফেরা একরকম নিশ্চিত। তবে তাঁর সঙ্গে আক্রমণে কে থাকবেন, সেটাই বড় প্রশ্ন। শুরুতে পরিকল্পনা ছিল হুলিয়ান আলভারেসকে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে রাখার। কিন্তু গোড়ালির চোট থেকে ফিরলেও এখনও পুরোপুরি ফিট নন এই ফরোয়ার্ড।

জর্ডানের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন লাউতারো মার্তিনেস। ফলে স্কালোনি এখন সিদ্ধান্তহীনতায়—ফিটনেসে পিছিয়ে থাকা আলভারেস নাকি ফর্মে থাকা লাউতারো, কে মেসির সঙ্গে আক্রমণে জুটি গড়বেন।

স্কালোনির সামনে তুলনামূলকভাবে কম চিন্তা লেফটব্যাক পজিশন নিয়ে। নিকোলাস তালিয়াফিকো প্রস্তুতি ম্যাচে চোট পেয়ে প্রথম দুই ম্যাচ খেলতে পারেননি। তার অনুপস্থিতিতে ফাকুন্দো মেদিনা দায়িত্ব সামলে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তবে জর্ডানের বিপক্ষে মাঠে ফিরেছেন তালিয়াফিকো। তাই সব ঠিক থাকলে কেপ ভার্দের বিপক্ষে শুরুর একাদশে ফিরবেন তিনিই।

কৌতুক; হাসির বিজ্ঞান ও নৈতিকতার নির্মল রম্যরস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
কৌতুক; হাসির বিজ্ঞান ও নৈতিকতার নির্মল রম্যরস

সাকিবুর রহমান বাবলা

পহেলা জুলাই আন্তর্জাতিক কৌতুক দিবস (International Joke Day। প্রতিদ্বন্দ্বিতা, উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও ব্যস্ততার এই পৃথিবীতে দিবসটি যেন একটি মৃদু স্মরণিকাÑমানুষের জীবনে হাসিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান আছে। হাসি শুধু আনন্দের প্রকাশ নয়; এটি সামাজিক সম্পর্কের সেতুবন্ধন, মানসিক প্রশান্তির উৎস এবং বাস্তবতাকে সহজে গ্রহণ করার এক মানবিক কৌশল।

কৌতুকের ইতিহাস মানবসভ্যতার ইতিহাসের মতোই প্রাচীন। গবেষকদের মতে, পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন লিখিত কৌতুকের সন্ধান পাওয়া যায় প্রায় চার হাজার বছর পুরোনো সুমেরীয় সভ্যতার একটি প্রবাদে। মজার বিষয় হলো, সেই প্রাচীন কৌতুকটিও ছিল দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ ও মানবিক অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে। এতে বোঝা যায়, হাজার হাজার বছর আগে মানুষ যেমন হাসত, আজও তেমনি হাসে; শুধু ভাষা ও প্রেক্ষাপট বদলেছে।

প্রাচীন গ্রিসে কৌতুক ও ব্যঙ্গরস ছিল সামাজিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নাট্যকার এরিস্টোফেনিসের কমেডি নাটকগুলো জনজীবনের নানা অসঙ্গতিকে হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরত। পরবর্তীকালে রোমান সভ্যতা, মধ্যযুগের রাজদরবারের ভাঁড় এবং ইউরোপীয় রেনেসাঁস যুগের রম্যসাহিত্য কৌতুককে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

কৌতুক সংরক্ষণের ইতিহাসও বেশ চমকপ্রদ। বিশ্বের প্রাচীনতম পরিচিত কৌতুকসংকলন ‘ফিলোজেলোস’ (Philogelos), যা খ্রিস্টীয় চতুর্থ বা পঞ্চম শতকে গ্রিক ভাষায় সংকলিত হয়েছিল। এতে ২৬৪টি কৌতুক সংরক্ষিত আছে। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, সেই সংকলনের অনেক কৌতুকের কাঠামো আজও আধুনিক রসিকতায় দেখা যায়।

মানুষ কেবল কৌতুক সৃষ্টি করেনি, সংরক্ষণও করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাস্যরস ও ব্যঙ্গচর্চা নিয়ে বিশেষ জাদুঘর গড়ে উঠেছে। কানাডার মন্ট্রিয়লে অবস্থিত ‘জাস্ট ফর লাফস’ উৎসব ও সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক কেন্দ্রকে বিশ্বের অন্যতম হাস্যরসকেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়। এছাড়া বিভিন্ন দেশে কমেডি, কার্টুন ও ব্যঙ্গচিত্র সংরক্ষণের জন্য পৃথক জাদুঘরও রয়েছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনোদন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, হাসি মানুষের শরীরে ইতিবাচক রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায়। হাসলে শরীরে এন্ডোরফিন নিঃসৃত হয়, পেশির টান কমে, মানসিক চাপ হ্রাস পায় এবং মনোসামাজিক যোগাযোগ আরও দৃঢ় হয়। এমনকি প্রাচীন গ্রিক চিকিৎসকেরাও রোগীদের মন ভালো রাখতে নাটক ও কৌতুক উপভোগের পরামর্শ দিতেন। আধুনিক গবেষণাও দেখায় যে হাসি উদ্বেগ কমাতে এবং মানসিক সুস্থতা বাড়াতে সহায়ক।

তবে কৌতুকেরও একটি নৈতিক সীমারেখা রয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে হাসি ও কৌতুক নিষিদ্ধ নয়; বরং তা মানবিক ও স্বাভাবিক আচরণের অংশ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও সাহাবিদের সঙ্গে কখনও কখনও রসিকতা করতেন, তবে সেই রসিকতায় মিথ্যা, অপমান, বিদ্রুপ বা কঠোরতা থাকত না। ইসলামী ঐতিহ্যে কৌতুককে এমন একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা হয় যা মানুষের মনকে প্রফুল্ল করে, সম্পর্ক মজবুত করে এবং মানসিক চাপ কমায়। তবে কাউকে হেয় করা, মিথ্যা বলা বা ধর্মীয় মূল্যবোধকে উপহাস করা ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। হযরত আলী (রা.)-এর মতে, “কথায় কৌতুক ততটুকুই মেশানো উচিত, যতটুকু খাবারে লবণ দেওয়া হয়।”

আসলে কৌতুকের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এটি মানুষের মধ্যে দূরত্ব ও জড়তা কমানো। রাজনৈতিক মতভেদ, সামাজিক বিভাজন কিংবা ব্যক্তিগত সংকট—সবকিছুর মাঝেও একটি নির্মল হাসি মানুষকে কাছাকাছি আনতে পারে। হাসি মানুষের বেঁচে থাকার শক্তিকে জাগিয়ে রাখে।

ডিজিটাল বিপ্লবে কৌতুকের রূপ বদলেছে ঠিকই, কিন্তু মানুষের হাসির তৃষ্ণা রয়েই গেছে। লোককথা আর বৈঠকখানার আসরের সেই রসিকতা এখন মিম ও সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিওতে নতুন প্রাণ পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক কৌতুক দিবস আমাদের সেই চিরন্তন মানবিক সত্যটিই স্মরণ করিয়ে দেয়—জীবনের সব সমস্যার সমাধান হয়তো হাসি নয়, কিন্তু কিছু হাসি সমস্যার ভার কিছুটা হলেও হালকা করতে পারে। তাই কৌতুক হোক নির্মল, মানবিক ও ইতিবাচক; হাসি হোক সুস্থ সমাজ গঠনের এক অনন্য শক্তি।

 

‎জনগণের টাকায় উন্নয়ন, কৃতিত্বের মালা কার গলায়?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
‎জনগণের টাকায় উন্নয়ন, কৃতিত্বের মালা কার গলায়?

মুক্তমত

‎গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎‎সাতক্ষীরায় বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান। পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাস্তা, ড্রেন, কালভার্ট ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এসব প্রকল্পের অর্থায়ন হচ্ছে জনগণের করের টাকায় এবং রাষ্ট্রের উন্নয়ন বাজেট থেকে। কিন্তু বাস্তবে এসব কার্যক্রমের উপস্থাপন ও তদারকি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

‎স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে যে, অনেক ক্ষেত্রে সরকারি উন্নয়ন কর্মকা-ের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে। এমনকি কোথাও কোথাও ভবিষ্যৎ পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থী বা দলীয় নেতৃত্বের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রচার-প্রচারণা চালানোর অভিযোগও শোনা যাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে এটি কি রাষ্ট্রের উন্নয়ন কার্যক্রম, নাকি রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার একটি কৌশল?

‎সরকারি প্রকল্পের অর্থ জনগণের। সেই অর্থে বাস্তবায়িত কোনো কাজকে যদি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যাতে জনগণের কাছে এটি কোনো রাজনৈতিক দলের বিশেষ অবদান বলে প্রতীয়মান হয়, তাহলে তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে।

‎বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কার্যকর ভূমিকা ও স্বায়ত্তশাসনের স্বীকৃতি দেয়। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকা- পরিচালিত হওয়ার কথা। কিন্তু যদি সরকারি উন্নয়নের কৃতিত্ব ধীরে ধীরে দলীয় পরিচয়ের আড়ালে চলে যায়, তাহলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মর্যাদা ও স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

‎আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সংস্কৃতি গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে জনগণের ন্যায্য অধিকার ও উন্নয়নের প্রশ্নটি আড়ালে পড়ে যেতে পারে। উন্নয়ন তখন নাগরিক সেবার পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রচারণার উপকরণে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।

‎আমি কাউকে অভিযুক্ত করছি না; তবে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রশ্ন তুলছি জনগণের টাকায় পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকৃত মালিকানা কি জনগণের কাছেই থাকবে, নাকি তা রাজনৈতিক কৃতিত্ব অর্জনের প্রতিযোগিতায় ব্যবহৃত হবে?
‎সাতক্ষীরার মানুষ উন্নয়ন চায়, কিন্তু সেই উন্নয়নের সঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতাও দেখতে চায়। কারণ জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রতিটি প্রকল্পের জবাবদিহিতা শেষ পর্যন্ত জনগণের কাছেই।