মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

‎জনগণের টাকায় উন্নয়ন, কৃতিত্বের মালা কার গলায়?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
‎জনগণের টাকায় উন্নয়ন, কৃতিত্বের মালা কার গলায়?

মুক্তমত

‎গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎‎সাতক্ষীরায় বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান। পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাস্তা, ড্রেন, কালভার্ট ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এসব প্রকল্পের অর্থায়ন হচ্ছে জনগণের করের টাকায় এবং রাষ্ট্রের উন্নয়ন বাজেট থেকে। কিন্তু বাস্তবে এসব কার্যক্রমের উপস্থাপন ও তদারকি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

‎স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে যে, অনেক ক্ষেত্রে সরকারি উন্নয়ন কর্মকা-ের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে। এমনকি কোথাও কোথাও ভবিষ্যৎ পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থী বা দলীয় নেতৃত্বের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রচার-প্রচারণা চালানোর অভিযোগও শোনা যাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে এটি কি রাষ্ট্রের উন্নয়ন কার্যক্রম, নাকি রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার একটি কৌশল?

‎সরকারি প্রকল্পের অর্থ জনগণের। সেই অর্থে বাস্তবায়িত কোনো কাজকে যদি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যাতে জনগণের কাছে এটি কোনো রাজনৈতিক দলের বিশেষ অবদান বলে প্রতীয়মান হয়, তাহলে তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে।

‎বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কার্যকর ভূমিকা ও স্বায়ত্তশাসনের স্বীকৃতি দেয়। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকা- পরিচালিত হওয়ার কথা। কিন্তু যদি সরকারি উন্নয়নের কৃতিত্ব ধীরে ধীরে দলীয় পরিচয়ের আড়ালে চলে যায়, তাহলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মর্যাদা ও স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

‎আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সংস্কৃতি গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে জনগণের ন্যায্য অধিকার ও উন্নয়নের প্রশ্নটি আড়ালে পড়ে যেতে পারে। উন্নয়ন তখন নাগরিক সেবার পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রচারণার উপকরণে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।

‎আমি কাউকে অভিযুক্ত করছি না; তবে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রশ্ন তুলছি জনগণের টাকায় পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকৃত মালিকানা কি জনগণের কাছেই থাকবে, নাকি তা রাজনৈতিক কৃতিত্ব অর্জনের প্রতিযোগিতায় ব্যবহৃত হবে?
‎সাতক্ষীরার মানুষ উন্নয়ন চায়, কিন্তু সেই উন্নয়নের সঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতাও দেখতে চায়। কারণ জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রতিটি প্রকল্পের জবাবদিহিতা শেষ পর্যন্ত জনগণের কাছেই।

Ads small one

লোডশেডিং আতঙ্কের মধ্যেই শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
লোডশেডিং আতঙ্কের মধ্যেই শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

আগামী ২ জুলাই থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হচ্ছে উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার পরীক্ষায় অংশ নেবে সাড়ে ১২ লাখের বেশি শিক্ষার্থী। এর একদিন আগে মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষাও। তবে পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে লোডশেডিং। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে।

এবার সারা দেশের ২ হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষাজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার পরিবেশ প্রয়োজন। শতভাগ বিদ্যুতায়নের পর বেশিরভাগ শিক্ষার্থী বিদ্যুতের আলোতেই পড়াশোনায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। কিন্তু পরীক্ষা সামনে রেখে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে এখনও কোনও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পরীক্ষা উপলক্ষে আলাদা কোনও নির্দেশনা নেই। তবে সারা দেশে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।

প্রতি বছর রমজান ও সেচ মৌসুমকে সামনে রেখে বিদ্যুৎ বিভাগ বিশেষ প্রস্তুতি নেয়। তুলনামূলক কম তাপমাত্রার সময়ে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও এইচএসসি পরীক্ষা হয় জুলাই মাসের তীব্র গরমে। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।

লোডশেডিং পরিস্থিতি

গত তিন দিনের তুলনায় মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও তা এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ২৮ জুন মধ্যরাত থেকে ৩০ জুন বিকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক লোডশেডিং হয়েছে।

২৮ জুন রাত ১২টায় বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল প্রায় ২ হাজার ৭৯৯ মেগাওয়াট। পরদিন ২৯ জুন ভোরে তা বেড়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮২৮ মেগাওয়াটে পৌঁছায়। দিনের বেলায় ঘাটতি কিছুটা কমলেও সন্ধ্যা ও রাতে আবারও ৫০০ থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি দেখা যায়। ৩০ জুন সকালে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দিনের বিভিন্ন সময়ে ১০০ থেকে ৪৮০ মেগাওয়াট পর্যন্ত ঘাটতি ছিল। ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হন গ্রাহকরা।

প্রস্তুতিতে বাধা

দেশের অনেক এলাকায় দিন-রাতের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন পরীক্ষার্থীরা। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ চলে গেলে ভ্যাপসা গরমে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

যশোরের পরীক্ষার্থী অনিক হাসান বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে বিদ্যুতের অবস্থা খুবই খারাপ। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। পরীক্ষার সময়ও যদি একই পরিস্থিতি থাকে, তাহলে আমাদের অনেক সমস্যা হবে।’

চট্টগ্রামের বাসিন্দা রাশেদা বেগমও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তার ছেলে এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘লোডশেডিং শুরু হলে মোমবাতির আলোতে পড়তে বসে। কিন্তু গরমে বেশিক্ষণ বসে থাকা যায় না। ভ্যাপসা গরমে বাচ্চারা অস্থির হয়ে পড়ে।’

বৃষ্টি হলেও কমছে না গরম

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হলেও বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম কমছে না। আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও আর্দ্রতার কারণে অস্বস্তিকর আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ বলেন, সাধারণত বৃষ্টির পর তাপমাত্রা কমে যায়। কিন্তু বর্তমানে যে বৃষ্টি হচ্ছে, তা মেঘের অপেক্ষাকৃত নিচু ও পাতলা স্তর থেকে হচ্ছে। ফলে বৃষ্টির পানিও খুব বেশি ঠান্ডা থাকে না। এ কারণে বৃষ্টির পরও ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাত তাপমাত্রা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।

তিনি জানান, আগামী ২ জুলাই থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ও বিস্তৃত পরিসরে বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে। তখন তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

নকআউট মিশনে মাঠে নেমেছে নরওয়ে-আইভরি কোস্ট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
নকআউট মিশনে মাঠে নেমেছে নরওয়ে-আইভরি কোস্ট

এই প্রথম মুখোমুখি আইভরি কোস্ট ও নরওয়ে। বিশ্বকাপে শেষ ৩২ এর ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে একাদশে ১০টি পরিবর্তন আনার পর আজও একই পথে হেঁটেছেন নরওয়ের কোচ স্টালে সোলবাক্কেন। আগের ম্যাচের একাদশ থেকে কেবল প্যাট্রিক বার্গ জায়গা ধরে রেখেছেন। মাঝমাঠে তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন মার্টিন ওডেগার্ড ও সান্ডার বের্গে। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম নকআউট ম্যাচ খেলতে শুরুর একাদশে ফিরেছেন আর্লিং হাল্যান্ড।

বিশ্বকাপের এক আসরে টানা দুই ম্যাচে শুরুর একাদশে ১০ বা তার বেশি পরিবর্তন আনা প্রথম দলও হলো নরওয়ে।

নরওয়ে (৪-৩-৩): ওরইয়ান নিয়ল্যান্ড; মার্কুস পেডারসেন, ক্রিস্টোফার আয়ের, টরবিয়র্ন হেগেম, ডেভিড মোলার উলফে; মার্টিন ওডেগার্ড, সান্ডার বের্গে, প্যাট্রিক বার্গ; আলেক্সান্ডার সরলথ, আর্লিং হলান্ড, আন্তোনিও নুসা।

ভারতীয় ভিসা আবেদনে ‘টাইম স্লট’ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
ভারতীয় ভিসা আবেদনে ‘টাইম স্লট’ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

ভারতীয় ভিসা আবেদনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বরাদ্দে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক)। বুধবার (১ জুলাই) থেকে নতুন এ ব্যবস্থা কার্যকর হবে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আবেদনকারীরা আর নিজেদের পছন্দমতো অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় (টাইম স্লট) নির্বাচন করতে পারবেন না। পরিবর্তে, আবেদন জমা দেওয়ার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে খালি থাকা একটি সময় আবেদনকারীর জন্য বরাদ্দ করবে সিস্টেম।

আইভ্যাক জানিয়েছে, ১ জুলাই থেকে বাংলাদেশের সব ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক) সব ধরনের ভিসার ক্ষেত্রে টাইম-স্লটভিত্তিক আবেদন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করছে।

প্রতিটি আইভ্যাকের দৈনিক আবেদন গ্রহণের সক্ষমতার ভিত্তিতে সিস্টেম ক্রমানুসারে আবেদনকারীদের জন্য সময় নির্ধারণ করবে। ফলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের সময় আবেদনকারীদের আলাদাভাবে টাইম স্লট নির্বাচন করতে হবে না।

ভিসা আবেদন নির্বিঘ্নে ও সময়মতো জমা দেওয়ার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিতকরণে উল্লেখিত নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আইভ্যাকে উপস্থিত থাকার পরামর্শ দিয়েছে আইভ্যাক।