মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

কৌতুক; হাসির বিজ্ঞান ও নৈতিকতার নির্মল রম্যরস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
কৌতুক; হাসির বিজ্ঞান ও নৈতিকতার নির্মল রম্যরস

সাকিবুর রহমান বাবলা

পহেলা জুলাই আন্তর্জাতিক কৌতুক দিবস (International Joke Day। প্রতিদ্বন্দ্বিতা, উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও ব্যস্ততার এই পৃথিবীতে দিবসটি যেন একটি মৃদু স্মরণিকাÑমানুষের জীবনে হাসিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান আছে। হাসি শুধু আনন্দের প্রকাশ নয়; এটি সামাজিক সম্পর্কের সেতুবন্ধন, মানসিক প্রশান্তির উৎস এবং বাস্তবতাকে সহজে গ্রহণ করার এক মানবিক কৌশল।

কৌতুকের ইতিহাস মানবসভ্যতার ইতিহাসের মতোই প্রাচীন। গবেষকদের মতে, পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন লিখিত কৌতুকের সন্ধান পাওয়া যায় প্রায় চার হাজার বছর পুরোনো সুমেরীয় সভ্যতার একটি প্রবাদে। মজার বিষয় হলো, সেই প্রাচীন কৌতুকটিও ছিল দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ ও মানবিক অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে। এতে বোঝা যায়, হাজার হাজার বছর আগে মানুষ যেমন হাসত, আজও তেমনি হাসে; শুধু ভাষা ও প্রেক্ষাপট বদলেছে।

প্রাচীন গ্রিসে কৌতুক ও ব্যঙ্গরস ছিল সামাজিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নাট্যকার এরিস্টোফেনিসের কমেডি নাটকগুলো জনজীবনের নানা অসঙ্গতিকে হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরত। পরবর্তীকালে রোমান সভ্যতা, মধ্যযুগের রাজদরবারের ভাঁড় এবং ইউরোপীয় রেনেসাঁস যুগের রম্যসাহিত্য কৌতুককে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

কৌতুক সংরক্ষণের ইতিহাসও বেশ চমকপ্রদ। বিশ্বের প্রাচীনতম পরিচিত কৌতুকসংকলন ‘ফিলোজেলোস’ (Philogelos), যা খ্রিস্টীয় চতুর্থ বা পঞ্চম শতকে গ্রিক ভাষায় সংকলিত হয়েছিল। এতে ২৬৪টি কৌতুক সংরক্ষিত আছে। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, সেই সংকলনের অনেক কৌতুকের কাঠামো আজও আধুনিক রসিকতায় দেখা যায়।

মানুষ কেবল কৌতুক সৃষ্টি করেনি, সংরক্ষণও করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাস্যরস ও ব্যঙ্গচর্চা নিয়ে বিশেষ জাদুঘর গড়ে উঠেছে। কানাডার মন্ট্রিয়লে অবস্থিত ‘জাস্ট ফর লাফস’ উৎসব ও সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক কেন্দ্রকে বিশ্বের অন্যতম হাস্যরসকেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়। এছাড়া বিভিন্ন দেশে কমেডি, কার্টুন ও ব্যঙ্গচিত্র সংরক্ষণের জন্য পৃথক জাদুঘরও রয়েছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনোদন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, হাসি মানুষের শরীরে ইতিবাচক রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায়। হাসলে শরীরে এন্ডোরফিন নিঃসৃত হয়, পেশির টান কমে, মানসিক চাপ হ্রাস পায় এবং মনোসামাজিক যোগাযোগ আরও দৃঢ় হয়। এমনকি প্রাচীন গ্রিক চিকিৎসকেরাও রোগীদের মন ভালো রাখতে নাটক ও কৌতুক উপভোগের পরামর্শ দিতেন। আধুনিক গবেষণাও দেখায় যে হাসি উদ্বেগ কমাতে এবং মানসিক সুস্থতা বাড়াতে সহায়ক।

তবে কৌতুকেরও একটি নৈতিক সীমারেখা রয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে হাসি ও কৌতুক নিষিদ্ধ নয়; বরং তা মানবিক ও স্বাভাবিক আচরণের অংশ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও সাহাবিদের সঙ্গে কখনও কখনও রসিকতা করতেন, তবে সেই রসিকতায় মিথ্যা, অপমান, বিদ্রুপ বা কঠোরতা থাকত না। ইসলামী ঐতিহ্যে কৌতুককে এমন একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা হয় যা মানুষের মনকে প্রফুল্ল করে, সম্পর্ক মজবুত করে এবং মানসিক চাপ কমায়। তবে কাউকে হেয় করা, মিথ্যা বলা বা ধর্মীয় মূল্যবোধকে উপহাস করা ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। হযরত আলী (রা.)-এর মতে, “কথায় কৌতুক ততটুকুই মেশানো উচিত, যতটুকু খাবারে লবণ দেওয়া হয়।”

আসলে কৌতুকের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এটি মানুষের মধ্যে দূরত্ব ও জড়তা কমানো। রাজনৈতিক মতভেদ, সামাজিক বিভাজন কিংবা ব্যক্তিগত সংকট—সবকিছুর মাঝেও একটি নির্মল হাসি মানুষকে কাছাকাছি আনতে পারে। হাসি মানুষের বেঁচে থাকার শক্তিকে জাগিয়ে রাখে।

ডিজিটাল বিপ্লবে কৌতুকের রূপ বদলেছে ঠিকই, কিন্তু মানুষের হাসির তৃষ্ণা রয়েই গেছে। লোককথা আর বৈঠকখানার আসরের সেই রসিকতা এখন মিম ও সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিওতে নতুন প্রাণ পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক কৌতুক দিবস আমাদের সেই চিরন্তন মানবিক সত্যটিই স্মরণ করিয়ে দেয়—জীবনের সব সমস্যার সমাধান হয়তো হাসি নয়, কিন্তু কিছু হাসি সমস্যার ভার কিছুটা হলেও হালকা করতে পারে। তাই কৌতুক হোক নির্মল, মানবিক ও ইতিবাচক; হাসি হোক সুস্থ সমাজ গঠনের এক অনন্য শক্তি।

 

Ads small one

অনলাইনে জুয়া খেললে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
অনলাইনে জুয়া খেললে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

অনলাইন জুয়া, বেটিং, ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং, ভিপিএন বা মিরর সাইট ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে জুয়ার অর্থ লেনদেনের শাস্তির বিধান রেখে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
মঙ্গলবার সংসদের বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন। পরে বিরোধী দলের সদস্যদের আনা জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নিষ্পত্তির পর বিলটি পাস হয়।

বিদ্যমান পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭ রহিত করে নতুন আইনটি করা হচ্ছে। সংবিধানের ১৮(২) অনুচ্ছেদে জুয়া নিরোধে রাষ্ট্রের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নীতির কথাও বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ অংশে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিলে বলা হয়েছে, সাধারণ জুয়ার অপরাধে কোনো ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। আর অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া অনলাইন বেটিংয়ের অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

জুয়ার স্থান পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও চার লাখ টাকা অর্থদণ্ডের পাশাপাশি আদালতের আদেশে সংশ্লিষ্ট ভবন, কক্ষ, যানবাহন, সার্ভার অবকাঠামো বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা যাবে। জুয়ার সামগ্রী সংরক্ষণ, প্রস্তুত, সরবরাহ, বিক্রি, বিতরণ, আমদানি বা ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং আদালতের মাধ্যমে এসব সামগ্রী বাজেয়াপ্ত বা ধ্বংসের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রাখা হয়েছে। বাজিকর হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। আদালত দোষী ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অথবা স্থায়ীভাবে সংশ্লিষ্ট খেলাধুলা, প্রতিযোগিতা বা ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা করতে পারবেন। একইভাবে জুয়ার বিজ্ঞাপন, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, মিথ্যা লাভের প্রতিশ্রুতি, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা রেফারেল ক্যাম্পেইন পরিচালনার জন্য ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ইনফ্লুয়েন্সার, শিল্পী, খেলোয়াড় বা সেলিব্রিটিকে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে।

ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, হোস্টিং, ডোমেইন সার্ভিস, ক্লাউড অবকাঠামো বা কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট বা বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে জুয়া পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং সংঘবদ্ধভাবে বা অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে এ অপরাধ সংঘটিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। জুয়ার অর্থ ব্যাংক, এমএফএস, ডিজিটাল ওয়ালেট, হাওলা, হুন্ডি বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন, গোপন বা বৈধ করার চেষ্টা করলে তা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর অধীন সম্পৃক্ত অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

আইনে বলা হয়েছে, কোনো কোম্পানি, করপোরেট সংস্থা, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, হোস্টিং প্রোভাইডার, পেমেন্ট গেটওয়ে বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট পরিচালক, নির্বাহী কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক, অংশীদার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দায়ী করা যাবে, যদি না তিনি প্রমাণ করতে পারেন যে অপরাধটি তার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে এবং তা প্রতিরোধে তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। প্রতিষ্ঠানটিকেও পৃথকভাবে অভিযুক্ত করা যাবে এবং আদালত প্রয়োজনে তাদের নিবন্ধন, লাইসেন্স বা কার্যক্রম স্থগিত, বাতিল বা নিষিদ্ধ করতে পারবেন। একই অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তির দ্বিগুণ পর্যন্ত দণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন আইনে অপরাধে ব্যবহৃত বা অপরাধ থেকে অর্জিত অর্থ, সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, ডোমেইন, সিম, ডিভাইসসহ অন্যান্য সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা আদালতকে দেওয়া হয়েছে। অনলাইন জুয়া, অনলাইন বেটিং এবং সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধের বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনালে হবে, অন্য অপরাধের বিচার হবে এখতিয়ারসম্পন্ন ফৌজদারি আদালতে। আইনের অধীন সব অপরাধ আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপস অযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে। তদন্তের ক্ষেত্রে সাব-ইন্সপেক্টরের নিচের পদমর্যাদার কোনো পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না এবং প্রয়োজন হলে আদালতের অনুমতি নিয়ে অভিযুক্তের ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট বা ক্রিপ্টো ওয়ালেট সাময়িকভাবে ফ্রিজ করা যাবে।

হতাশ করলেও জার্মানির সমর্থন ছাড়ব না: স্পর্শিয়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
হতাশ করলেও জার্মানির সমর্থন ছাড়ব না: স্পর্শিয়া

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২ থেকে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির আকস্মিক বিদায় কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না দলটির কোটি ভক্ত। এই তালিকায় আছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়াও। প্রিয় দলের এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সে ক্ষুব্ধ ও অভিমানী হলেও জার্মানির প্রতি নিজের ভালোবাসা ও সমর্থন একটুও কমেনি বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে জার্মানির বিশ্বকাপ মিশন শেষ হওয়ার পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ছবি পোস্ট করেন স্পর্শিয়া। সাদা হোম জার্সির সঙ্গে ব্লু জিন্স পরা সেই ছবির ক্যাপশনেই প্রকাশ পায় তার মনের গভীর হতাশা আর দলের প্রতি অকৃত্রিম টান।

স্পর্শিয়া লেখেন, ‘হারো, ভালো খেলে হারো? হারো, বড় দলের কাছে হারো? এভাবে বারবার হতাশ করলেও আমি জার্মানির সমর্থন ছাড়ব না। ফুটবল বুঝতে শেখার পর থেকেই এই দলটাই আমার ভালোবাসা।’ তবে এখানেই দমে যাননি তিনি; দলটির ভবিষ্যতে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারেও আশা প্রকাশ করেছেন। তার ভাষ্য, ‘আমি বিশ্বাস করি, একদিন জার্মানি আবারও তাদের হারানো গৌরব ফিরে পাবে, আগের সেই কিংবদন্তি প্রজন্মের মতোই। জার্মানির প্রতি আমার ভালোবাসা সবসময় অটুট থাকবে। আপাতত বিদায়।’

উল্লেখ্য, রাউন্ড অব ৩২-এর সেই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল জার্মানি। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচটি ১-১ সমতায় শেষ হলে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৪-৩ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় প্যারাগুয়ে, আর তাতেই ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ঘণ্টা বাজে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

রাজধানীতে এআই ক্যামেরায় ১৫০০ মামলা : ডিএমপি কমিশনার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে এআই ক্যামেরায় ১৫০০ মামলা : ডিএমপি কমিশনার

রাজধানীতে বর্তমানে ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে এআই-ভিত্তিক ট্রাফিক ক্যামেরায় ১৫০০ মামলা এবং ৩৮ হাজার সমন জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ ।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও ট্রাফিকের ডিসি কার্যালয়ে আয়োজিত তেজগাঁও বিভাগের লেক রোডে এআই ক্যামেরার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

কমিশনার বলেন, আগে ১৫টি ইন্টারসেকশনে এআই ক্যামেরা ছিল, আজ (মঙ্গলবার) আরও চারটি যুক্ত হওয়ায় মোট ১৯টি ইন্টারসেকশনে এই প্রযুক্তি চালু হয়েছে। এখন পর্যন্ত এআই ক্যামেরায় ১৫০০ মামলা দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি ৩৮ হাজার গাড়ির মালিকের কাছে সমন জারি করা হয়েছে। প্রতিটি মামলার জরিমানার পরিমাণ আলাদা হওয়ায় মোট আদায়ের হালনাগাদ তথ্য ট্রাফিক বিভাগের কাছে রয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জংশনেও এআই ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।

এআই ট্রাফিক প্রসিকিউশন নিয়ে কমিশনার বলেন, ক্যামেরায় শনাক্ত হওয়া ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শুধু মোবাইলে বার্তা নয়, ডাকযোগেও (বাই পোস্ট) অভিযুক্ত গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের ঠিকানায় প্রসিকিউশনের নোটিশ পাঠানো হয়। একইসঙ্গে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের নির্ধারিত দুইটি নম্বর থেকেও এসএমএস পাঠানো হয়। এছাড়া বিষয়টি ডিএমপির ট্রাফিক ও ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়।
গাড়ি বিক্রি হলেও মালিকানা পরিবর্তন না করায় নোটিশ পুরোনো মালিকের কাছে যাচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে মোসলেহ্ উদ্দিন জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৩৮ হাজার সমন ইস্যু করা হয়েছে।

রাজধানীর সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে ডিএমপির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে রাজধানীর সড়ক থেকে সব অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বিষয়ে একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ডিএমপি। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে ডিএমপি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজন সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে। সমন্বিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার আনিসুর রহমান, ডিএমপি ও তেজগাঁও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।