মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: উপকূলের যুবসমাজ ও কারিগরি শিক্ষার ভবিষ্যৎ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ১:০৮ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: উপকূলের যুবসমাজ ও কারিগরি শিক্ষার ভবিষ্যৎ

0-3840x2160-0-0-{}-0-12#

 

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রার অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা দেশের অন্য যেকোনো অঞ্চলের চেয়ে ভিন্ন এবং জটিল। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই এ অঞ্চলকে প্রতিনিয়ত ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও তীব্র লবণাক্ততার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে টিকতে হয়। এই দুর্যোগের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে স্থানীয় কর্মসংস্থানে। কৃষিজমি ও মৎস্য ঘের বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সনাতনী জীবিকা আজ চরম সংকটে। ফলে কর্মসংস্থানের তীব্র অভাবে কয়রার যুবসমাজ এক গভীর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে এলাকায় একটি সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) স্থাপনের যে দাবি উঠেছে, তা কেবল সময়ের দাবি নয়, বরং এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক মুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত।
একটি জনপদের বিরাট অংশ কর্মহীন থাকলে সেখানে সামাজিক অস্থিরতা, মাদক ও জুয়ার মতো ব্যাধি ছড়িয়ে পড়া অস্বাভাবিক নয়। কয়রায় ঠিক এই চিত্রটিই ফুটে উঠছে। কর্মসংস্থানের খোঁজে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষকে বাধ্য হয়ে অন্য জেলার ইটভাটায় বা ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় শ্রম বিক্রি করতে যেতে হচ্ছে। এর ফলে পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে এবং বিঘিœত হচ্ছে শিশুদের শিক্ষাজীবন, যা দীর্ঘমেয়াদে এই অঞ্চলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির পথকে রুদ্ধ করছে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, তাত্ত্বিক উচ্চশিক্ষা অর্জন করেও ব্যবহারিক ও কারিগরি দক্ষতার অভাবে বহু তরুণ-তরুণী বাধ্য হয়ে দিনমজুরের কাজ করছেন।
উপকূলীয় এই অঞ্চলে কারিগরি শিক্ষার অভাব কতটা প্রকট, তা বোঝা যায় যখন দেখা যায় স্থানীয় বেড়িবাঁধ নির্মাণ বা সড়ক সংস্কারের মতো জরুরি কাজেও স্কেভেটর বা রোলার চালকসহ দক্ষ কর্মী অন্য জেলা থেকে আনতে হয়। অথচ স্থানীয় যুবকদের যদি ড্রাইভিং, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল কিংবা আইটি খাতের মতো বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ দেওয়া যেত, তবে তাঁরা শুধু নিজেদের ভাগ্যই বদলাতেন না, বরং দুর্যোগ-পরবর্তী অঞ্চলের পুনর্গঠনেও দক্ষ চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারতেন।
সুসংবাদ হলো, কয়রায় টিটিসি স্থাপনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করে প্রস্তাবনা জমা দিয়েছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনও এ বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা মনে করি, এই প্রকল্পটিকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা জরুরি। প্রস্তাবিত এই টিটিসি শুধু যুবকদের দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারের উপযোগী করেই তুলবে না, বরং এর বহুতল ভবনটি দুর্যোগের সময়ে স্থানীয় মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারবে।
কারিগরি শিক্ষাই পারে একটি অনুন্নত ও দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলের যুবসমাজকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে। কয়রার বিপন্ন যুবসমাজকে অন্ধকারের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং উপকূলের টেকসই অর্থনীতি বিনির্মাণে সরকার দ্রুততম সময়ে এই কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি স্থাপন করবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।

Ads small one

কার্পেটিং শক্ত হতে প্রকৌশলগত সময়ের প্রয়োজন; তুলে ফেলার প্রবণতা রুখতে হবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৪:০৩ অপরাহ্ণ
কার্পেটিং শক্ত হতে প্রকৌশলগত সময়ের প্রয়োজন; তুলে ফেলার প্রবণতা রুখতে হবে

প্রকাশ ঘোষ বিধান

সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত বিটুমিনের কাঁচা কার্পেটিং শক্ত হওয়ার জন্য প্রকৌশলগত নির্দিষ্ট সময় বা কিউরিং দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই সময় দেওয়ার আগেই কার্পেটিং তুলে ফেলার প্রবণতা রোধ করতে হবে, অন্যথায় সড়কের স্থায়িত্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দ্রুত রাস্তা নষ্ট হয়ে যায়।

সড়ক নির্মাণে দুর্নীতি এবং নিম্নমানের সামগ্রীর ব্যবহার বন্ধ করার মাধ্যমেই হাত দিয়ে কার্পেটিংয়ের আস্তরণ তুলে ফেলার প্রবণতা স্থায়ীভাবে রুখতে হবে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক সংস্কারের পরপরই স্থানীয়দের হাত দিয়ে কার্পেটিং তুলে ফেলার ঘটনা ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। এটি মূলত ঠিকাদারদের অনিয়ম এবং কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

কার্পেটিং শেষ হওয়ার পরপরই হাত দিয়ে টেনে তোলা সম্পূর্ণ নিষেধ। কাজ শেষ হওয়ার পরপরই তা টেনে তোলা সম্পূর্ণ কারিগরি জ্ঞানশূন্য কাজ। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বার্তা পৌঁছে দিতে হবে যেন তাৎক্ষণিকভাবে রাস্তা নষ্ট করার এই প্রবণতা থেকে বিরত থাকতে হবে।

কার্পেটিং শক্ত হওয়ার প্রকৌশলগত ধাপগুলো হলো। বিটুমিন ও পাথরের মিশ্রণটি প্রায় ১৪০ ডিগ্রি থেকে ১৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস উচ্চ তাপমাত্রায় প্রয়োগ করা হয়। রোলার দিয়ে কমপ্যাকশন করার পর, রাস্তাটির ভেতরের আর্দ্রতা শুকিয়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসতে এবং পাথরগুলো নিখুঁতভাবে লক হতে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগে। রাস্তাটি পুরোপুরি স্থায়ী রূপ নিতে ও ট্রাফিকের চাপ নেওয়ার উপযোগী হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। প্রকৌশলগত এই সময়ের আগে যদি রাস্তাটিতে যানবাহন চলাচল শুরু করে বা কেউ কাঁচা কার্পেটিং খুঁচিয়ে বা হাত দিয়ে টেনে তুলে ফেলার চেষ্টা করে, এতে রাস্তার স্থায়ীত্ব নষ্ট করে দেয়।

কার্পেটিং বা বিটুমিনাস সারফেসিং শক্ত হতে এবং টেকসই রূপ নিতে প্রকৌশলগত প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়। কাজ শেষের পরপরই ভারী যানবাহন চলাচলের আগে বিটুমিনকে পুরোপুরি সেট হওয়ার জন্য এবং নিচের স্তরের সাথে স্থায়ী বন্ডিং তৈরি করার সময় দিতে হয়।

সড়ক সংস্কারের পর হাত দিয়ে কার্পেটিং টেনে তোলার প্রবণতা মূলত দুটি বড় কারণে ঘটে থাকে। ঠিকাদারি দুর্নীতি এবং প্রযুক্তিগত অজ্ঞতা। নিম্নমানের বিটুমিন ও ইটের খোয়া ব্যবহার এবং কার্পেটিংয়ের নির্ধারিত পুরুত্ব বজায় না রাখলে এই সমস্যা দেখা দেয়। কার্পেটিং করার আগে প্রয়োজনীয় প্রাইম কোট ও ট্যাক কোট বা বিটুমিন ছিটানো যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হয়।

 

মূল খোয়া বা পাথরের ওপর জমে থাকা কাদা ও ধুলার আস্তরণ সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে তবেই পিচ ঢালাই করতে হবে। অন্যথায় নতুন আস্তরণ স্থায়ী হয় না। চুক্তি অনুযায়ী কার্পেটিংয়ের জন্য নির্ধারিত পুরুত্ব যেমন ২৫ বা ৪০ মিলিমিটার কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে। পোড়া মাটির খোয়া, রাবিশ বা নিম্নমানের ইটের পরিবর্তে উচ্চমানের পাথর ও সঠিক গ্রেডের বিটুমিন ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রকৌশলীদের কাজের প্রতিটি ধাপে সশরীরে উপস্থিত থেকে তদারকি করতে হবে। কার্পেটিং যেন নির্ধারিত পুরুত্বের হয় এবং সেখানে সঠিক অনুপাতে বিটুমিন ও পাথর ব্যবহার করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। কার্পেটিং শুরুর আগে রাস্তার বেস বা ইটের খোয়ার ওপর জমে থাকা ময়লা এবং কাদার আস্তরণ অবশ্যই ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।

কোনো স্থানে নিম্নমানের কাজের প্রমাণ মিললে সঙ্গে সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং বিল আটকে দেওয়া উচিত। অনিয়ম প্রমাণিত হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানত বাজেয়াপ্ত, লাইসেন্স বাতিল এবং আইনগত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ল্যাব টেস্টে কাজের মান উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ঠিকাদারদের চূড়ান্ত বিল প্রদান বন্ধ রাখতে হবে।

সড়ক নির্মাণ একটি অতি-প্রয়োজনীয় প্রকৌশলগত প্রক্রিয়া। কার্পেটিং শেষ হওয়ার পর তা শক্ত হতে এবং স্থায়ী বন্ধন তৈরি করতে নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন। সম্প্রতি কার্পেটিং শেষ হওয়ার পরপরই তা হাত দিয়ে টেনে তোলার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে তা সম্পূর্ণ কারিগরি জ্ঞানশূন্য কাজ। কার্পেটিং শেষ হওয়ার পরপরই তা নরম থাকে। এই অবস্থায় হাত দিয়ে টেনে তোলা হলো একটি নবজাতক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা। কার্পেটিং তুলা মানে কাজের গুণগত মান নয়, বরং সময়ের আগেই তার ওপর যান্ত্রিক বল প্রয়োগের ফল। রাস্তায় কার্পেটিং করার পর রোলার দিয়ে করা হয়। রোলার দেওয়ার সাথে সাথেই রাস্তাটি তার পূর্ণ শক্তি অর্জন করে না। বিটুমিনাস লেয়ারটি যখন তার স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরে আসে, তখনই তা টেকসই রূপ নেয়। কাজ চলাকালীন বা কাজ শেষ হওয়ার পরপরই রাস্তার কার্পেটিং খুঁচিয়ে তুলে ফেলা মানে হলো রাস্তার ইন্টারলকিং সিস্টেম ধ্বংস করা।

নতুন পাকা সড়কের কার্পেটিং স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে কাঁচা কার্পেটিং তুলে ফেলার প্রবণতা রুখতে হবে। রাস্তা শক্ত হওয়ার জন্য প্রকৌশলগত নির্দিষ্ট সময় বা কিউরিং পিরিয়ড প্রয়োজন হয়। পাকা করার পরপরই ভারী যানবাহন চললে বা কার্পেটিং তুলে ফেলা হলে রাস্তাটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। কাঁচা কার্পেটিং হাত বা অন্য কোনোভাবে টেনে তোলা মানে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা এবং নষ্ট করা। কাজ শেষ হওয়ার পরপরই তা হাত দিয়ে টেনে তোলার প্রবণতা সম্পূর্ণ কারিগরি জ্ঞানশূন্য কাজ ও নির্মাণ বিধির পরিপন্থী।

কার্পেটিং এর ইন্টারলকিং সিস্টেম হলো একটি স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষা ব্যবস্থা। কার্পেটিং শক্ত হতে বা টেকসই রূপ নিতে একটি নির্দিষ্ট প্রকৌশলগত সময়ের প্রয়োজন হয়। কাজ শেষ হওয়ার পরপরই তা হাত দিয়ে টেনে তোলা বা খুঁচে নষ্ট করা থেকে বিরত থাকতে হবে। নিম্নমানের কাজ চোখে পড়লে তা হাত দিয়ে না তুলে সরাসরি ছবি বা ভিডিওসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কিংবা স্থানীয় প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত

পত্রদূত রিপোর্ট: মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্স ড্রিলসেডে মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত কল্যাণ সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম।

কল্যাণ সভার শুরুতেই সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ), খালিদ মোঃ আরাফাত বিগত মাসের কার্যবিবরণীর গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করেন এবং চলতি মাসে পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন আবেদন সমূহ উপস্থাপন করেন।

পুলিশ সুপার সকল পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং অধিকাংশ সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানসহ বাকি সমস্যার দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। পুলিশ সুপার সকল অফিসার ফোর্সদের উদ্দেশ্যে সার্ভিসরুলস মেনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে ডিউটি করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। মেসে উন্নত খাবার পরিবেশন, ড্রেসরুলস মেনে পোশাক পরিধান করা, ছুটি ও টিএ বিলে ন্যায্যতা রাখা, স্বাস্থ্য সচেতনতা, ব্যক্তিগত ও আবাসস্থলের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, বিদ্যুৎ এর সঠিক ব্যবহার এবং জনসাধারণের সাথে উত্তম ব্যবহারসহ বিভিন্ন দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

পরবর্তীতে দীর্ঘ কর্মজীবনের সফল সমাপ্তি উপলক্ষে অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল মোঃ আলী হায়দার সেখ-কে সম্মাননা ক্রেস্ট ও শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের নগদ অর্থ ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন সাতক্ষীরা জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মিথুন সরকার, সহকারী পুলিশ সুপার (দেবহাটা সার্কেল) মোঃ বায়েজীদ ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ) শাওন রেজা, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ) মোঃ ইমরান খান, পুলিশ হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ আবু হোসেনসহ সকল থানার অফিসার ইনচার্জ, ডিআইও-১, টিআই (অ্যাডমিন) এবং জেলা পুলিশের সকল পদমর্যাদার সদস্যবৃন্দ।

শহরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে আলিপুর-কুলিয়া ইজিবাইক চালকদের মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
শহরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে আলিপুর-কুলিয়া ইজিবাইক চালকদের মানববন্ধন

সংবাদদাতা: শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, প্রশাসনিক হয়রানি এবং বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন আলিপুর-কুলিয়া রুটের ইজিবাইক চালকরা। একই সাথে শহরের কেন্দ্রস্থলে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় সাধারণ যাত্রী ও চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ বলে তারা অভিযোগ করেছেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, শহরের অন্যান্য এলাকা এবং পৌরসভার ইজিবাইকগুলো নির্বিঘেœ শহরের সর্বত্র চলাচল করতে পারলেও কেবল আলিপুর-কুলিয়া রুটের ইজিবাইকগুলোকে শহরের প্রাণকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে চালকদের একমাত্র আয়ের পথ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

 

রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি এবং ক্ষোভ চালক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জানান, এই রুটে নিয়মিত মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সদর হাসপাতালের অসংখ্য রোগী ও তাদের স্বজনরা যাতায়াত করেন। কিন্তু বিভিন্ন পয়েন্টে ইজিবাইক আটকে দেওয়ায় জরুরি চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের পথে পথে চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগে কুলিয়া থেকে মাত্র ২৫ টাকায় সরাসরি সদর হাসপাতালের সামনে যাওয়া যেত। কিন্তু এখন শহরের মাঝপথে ইজিবাইক আটকে দেওয়ায় নেমে অন্য গাড়িতে উঠতে হচ্ছে। ফলে ২৫ টাকার জায়গায় দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে, সময়ও নষ্ট হচ্ছে।প্রতিবাদ সভায় চালক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ জানান, আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

 

চালকদের রুজি-রোজগার রক্ষা এবং রোগীসহ সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি নিরসনে তারা অবিলম্বে এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান।তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, অবিলম্বে আলিপুর-কুলিয়া রুটের ইজিবাইকগুলোকে শহরের প্রাণকেন্দ্র ও হাসপাতাল এলাকায় চলাচলের সুযোগ না দেওয়া হলে আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।