সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: পবিত্র ঈদুল আজহা
পবিত্র ঈদুল আজহা আমাদের মাঝে সমাগত। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় দুটি ধর্মীয় উৎসবের একটি হলো এই কোরবানি। আত্মত্যাগ, সংযম এবং পরম করুণাময় আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্যের এক অনন্য প্রতীক এই ঈদ। এই দিনটিতে পশু কোরবানির মাধ্যমে মূলত মানুষের ভেতরের অহংকার, স্বার্থপরতা ও পশুত্বকে বিসর্জন দেওয়া হয়। এটাই ঈদুল আজহার মূল বাণী।
কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা কেবল পশু জবাইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত রয়েছে ত্যাগের মানসিকতায়। আমরা যখন আমাদের প্রিয় ও হালাল উপার্জনে কেনা পশু আল্লাহর নামে উৎসর্গ করি, তখন প্রকারান্তরে আমরা এই শপথই নিই যে, সত্য ও সুন্দরের জন্য আমরা যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।
তবে উৎসবের এই আনন্দ যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতায় রূপ না নেয়, সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।
আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা অভাবের তাড়নায় উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত। কোরবানির গোশত বিতরণের ক্ষেত্রে দরিদ্র, এতিম ও প্রতিবেশীদের হক যথাযথভাবে আদায় করা আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্ব। ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই কোরবানির সার্থকতা নিশ্চিত হয়।
পাশাপাশি, কোরবানির সময় আমাদের নাগরিক দায়িত্ব ও পরিবেশ সচেতনতার বিষয়টিও অত্যন্ত জরুরি। নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি দেওয়া এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে পশুর বর্জ্য অপসারণ করার ক্ষেত্রে আমাদের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। যত্রতত্র বর্জ্য ফেলে রাখলে তা যেমন পরিবেশ দূষিত করে, তেমনি জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। সিটি কর্পোরেশন বা স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও এ বিষয়ে স্বতঃস্ফূর্ত ভূমিকা পালন করা আবশ্যক।
ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং ত্যাগের শিক্ষাকে বুকে ধারণ করে আমাদের সমাজ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ ও বৈষম্য দূর হোক—এটাই হোক এই ঈদের প্রত্যাশা। দেশের সর্বস্তরের জনগণকে পবিত্র ঈদুল আজহার আন্তরিক শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।






