সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

সাইফের পর দ্রুত ফিরলেন সৌম্যও

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
সাইফের পর দ্রুত ফিরলেন সৌম্যও

দ্বিতীয় ওয়ানডের সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ৫ ওভারে ৩৪/২ (তানজিদ ১৭*, শান্ত ৪*; সাইফ ৮, সৌম্য ৮)

নিউজিল্যান্ড ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮/১০ (স্মিথ ১৮*; নিকোলস ১৩, ইয়াং ২, ল্যাথাম ১৪, আব্বাস ১৯, কেলি ৮৩, ক্লার্কসন ৬, ফক্সক্রফট ১৫, টিকনার ১২, লেনক্স ০, রুর্ক ৬)

১৯৯ রানের লক্ষ্যে শুরুতেই চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। ২১ রানের মধ্যে হারিয়েছে দুই উইকেট। প্রথম ওভারেই নাথান স্মিথের শেষ ডেলিভারিতে বোল্ড হন হাত খোলার চেষ্টায় থাকা ওপেনার সাইফ হাসান (৮)। তার পর একইভাবে আগ্রাসী হওয়ার চেষ্টায় ছিলেন সৌম্য সরকারও। কিন্তু চতুর্থ ওভারের শেষ বলে ও’রুর্কের বলে আপার কাট করতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ৮ রানে।

১৯৮ রানে অলআউট নিউজিল্যান্ড

সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দারুণ বোলিংয়ে ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানে গুটিয়ে গেছে নিউজিল্যান্ড। সিরিজে ফিরতে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য এখন ১৯৯ রান।

বল হাতে মূল সর্বনাশটা করেছেন পেসার নাহিদ রানা। ৩২ রানে এক মেডেনে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। দুটি ৩২ রানে দুটি নিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। তিনিও একটি মেডেন দিয়েছেন। একটি করে নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ, সৌম্য সরকার ও রিশাদ হোসেন।

রানা তিনবার ওভারের প্রথম বলেই উইকেট তুলে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে প্রভাব ফেলেন। শুরুতে প্রথম পাওয়ারপ্লেতে নেন দুটি উইকেট, এরপর ২৯তম ওভারে আরেকটি। শেষদিকে তৃতীয় পাওয়ারপ্লেতে আরও দুটি উইকেট শিকার করে ইনিংস শেষ করেন।

ফিল্ডিংয়েও দারুণ পারফরম্যান্স দেখায় বাংলাদেশ। একাধিক সিঙ্গেল বাঁচানোর পাশাপাশি ডিপে কয়েকটি নিশ্চিত চার ঠেকিয়ে কিউইদের রান আটকেছে তারা। উইকেটকিপার লিটন দাস নেন দুটি চমৎকার ক্যাচ, আর তাওহীদ হৃদয় নেন তিনটি! যার মধ্যে ৪৯তম ওভারে লং-অনে ডাইভ দিয়ে নেওয়া ক্যাচটি ছিল নিউজিল্যান্ডের শেষ উইকেট।

ব্যাট হাতে একার লড়াইটা করেছেন ওপেনার নিক কেলি। ১০২ বলে ৮৩ রান করেছেন তিনি। বাকিরা সেভাবে বাংলাদেশের বোলিংয়ে দাঁড়াতেই পারেনি।

নাহিদের পঞ্চম শিকার লেনক্স

শুরু থেকে নাহিদ রানার পেস বিপদে ফেলেছে কিউইদের। শেষটাতে এসেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ৪৬তম ওভারে তার পঞ্চম শিকার হয়েছেন জেইডেন লেনক্স। নতুন ব্যাটারকে একেবারে বোল্ড করেছেন তিনি। নিউজিল্যান্ড নবম উইকেট হারায় ১৮৩ রানে। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার পাঁচ উইকেট পেলেন নাহিদ।

শরিফুলের আঘাতে পড়লো কিউইদের অষ্টম উইকেট

উইকেট পড়তে থাকায় রান বাড়িয়ে নেওয়ার তাড়া দেখা যায় ব্লেয়ার টিকনারের। কিন্তু তাতে সফল হতে পারেননি। ৪৪.৫ ওভারে শরিফুলের বলে মেরে খেলতে গেলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ১২ রানে। তাতে ১৮২ রানে অষ্টম উইকেট পড়েছে সফরকারীদের।

নাহিদ রানার চতুর্থ শিকার ফক্সক্রফট

দিনে টানা তৃতীয়বার প্রথম বলে আঘাত হেনে উইকেট নিলেন নাহিদ রানা। তাতে অবশ্য মোট চতুর্থবার উইকেটের দেখা পেয়েছেন তিনি। শেষ দিকে এসে ৪৩তম ওভারে তার শিকার হয়েছেন ডিন ফক্সক্রফট। পুল করতে গিয়ে ১৫ রানে হৃদয়ের হাতে ধরা পড়েছেন কিউই ব্যাটার। তাতে ১৬৪ রানে সপ্তম উইকেট হারিয়েছে নিউজিল্যান্ডের।

কেলির আউটের পর ক্লার্কসনকে ফেরালেন রিশাদ

সতীর্থরা ব্যর্থ হলেও শুরু থেকে প্রান্ত আগলে নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন ওপেনার নিক কেলি। ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়েছিলেন। এগিয়ে যাচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকেও। ৩৭তম ওভারে মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ানো কেলিকে থামিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। তাকে হৃদয়ের ক্যাচ বানান তিনি। কেলি আউট হন ৮৩ রানে। তার বিদায়ে ১৪৫ রানে পড়েছে পঞ্চম উইকেট। পাশাপাশি ভেঙেছে ফক্সক্রফটের সঙ্গে কেলির ৩৭ রানের জুটি।

পরের ওভারে নতুন নামা ক্লার্কসন রিশাদের বলে চার মারলেও থিতু হতে পারেননি। রিশাদের ঘূর্ণিতে ৬ রানে থেমেছেন কিউই ব্যাটার। মেহেদী হাসান মিরাজকে সহজ ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ৬ রানে। যার ফলে টানা দ্বিতীয় ওভারে আরও একটি উইকেট তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।

আব্বাসকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙলেন রানা

তৃতীয় উইকেট পতনের পর চাপে পড়ে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। সেখান থেকে দলকে ভালোই সামাল দিচ্ছিলেন নিক কেলি ও মোহাম্মদ আব্বাস। তাদের জুটিতেই স্কোর একশ ছাড়িয়েছে। চতুর্থ উইকেটে ৫৬ রান যোগ করেন তারা। ২৯তম ওভারে আবারও আক্রমণে এসে এই জুটি ভেঙে তৃতীয় উইকেট তুলে নিয়েছেন নাহিদ রানা। তার বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে লিটনের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়েছেন মোহাম্মদ আব্বাস। ফেরার আগে ৩৪ বলে ১৯ রান করেছেন তিনি।

কেলির ফিফটিতে একশ ছাড়িয়েছে নিউজিল্যান্ড

৫২ রানে তৃতীয় উইকেট পতনের পর জুটি গড়েছেন নিক কেলি ও মোহাম্মদ আব্বাস। পঞ্চাশ ছাড়িয়েছে এই জুটি। যার মূল দায়িত্বটা সামলাচ্ছেন কেলি। ৬৬ বলে তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি। তাদের জুটিতে ভর করে ২৭ ওভারে একশ ছাড়িয়েছে নিউজিল্যান্ড।

ল্যাথামকে ফেরালেন সৌম্য

কিউইদের রানই নিতে দেয়নি বাংলাদেশ। ২৮ রানে দুই উইকেট পতনের পর জুটি গড়ার চেষ্টায় ছিলেন ল্যাথাম ও কেলি। ২৪ রান যোগ করেন তারা। ১৮তম ওভারে দলীয় ফিফটির পরই সৌম্য সরকারের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অধিনায়ক ল্যাথাম (১৪)। ৫২ রানে তৃতীয় উইকেটের পতনে আরও চাপে পড়েছে সফরকারী দল।

টানা দ্বিতীয় ওভারে নাহিদের আঘাত

অষ্টম ওভারের পর দশম ওভারে আবারও আঘাত হেনেছেন নাহিদ রানা। এবারও উইকেট নেন প্রথম বলে। তার গতি আর বাউন্সের কাছে পুরোপুরি পরাস্ত হন নতুন ব্যাটার উইল ইয়াং। বলটা সামলাতে পারেননি। ব্যাটে স্পর্শ করে চলে যায় সৌম্য সরকারের হাতে। ইয়াং বিদায় নেন ২ রানে। নিউজিল্যান্ড তাদের দ্বিতীয় উইকেট হারায় ২৮ রানে।

আক্রমণে এসেই নাহিদের উইকেট

টস জিতে ব্যাট করতে নামলেও কিউইদের দুই ওপেনারকে সহজে রান দেননি পেসার তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম। নিখুঁত লাইন লেংথে বল করে সফরকারী ব্যাটারদের হতাশ করেছেন। তাতে ৭ ওভারে স্কোর ছিল বিনা উইকেটে ২৫। অষ্টম ওভারে প্রথম আক্রমণে এসে ব্রেক থ্রু এনে দেন পেসার নাহিদ রানা। ওপেনার হেনরি নিকোলসকে প্রথম বলেই এলবিডাব্লিউতে ফেরান তিনি। নিকোলস ২৬ বলে সাজঘরে ফিরেছেন ১৩ রানে। নিউজিল্যান্ড প্রথম উইকেট হারায় ২৫ রানে।

আবারও টস হেরেছে বাংলাদেশ, একাদশে সৌম্য

প্রথম ওয়ানডের মতো দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও টস ভাগ্য সহায় হয়নি বাংলাদেশের। টস জিতে আবারও ব্যাটিং নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। তার মানে এই গরমে আবারও ফিল্ডিং করতে হবে স্বাগতিক বাংলাদেশকে। ম্যাচ যথারীতি শুরু হচ্ছে সকাল ১১টায়। দেখাবে টি স্পোর্টস ও নাগরিক টিভি।

প্রথম ম্যাচ বাংলাদেশ ২৬ রানে হেরেছে। তাই এই সিরিজ বাঁচাতে এই ম্যাচ জিততে মরিয়া স্বাগতিকরা। তার ওপর এই ম্যাচটা আবার লিটন দাসের শততম ওয়ানডে।

প্রথম ওয়ানডেতে ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটিংটা খুবই বাজে করেছে বাংলাদেশ। ৩৭ রানে হারিয়েছে শেষ ৬ উইকেট। গুটিয়ে যায় ২২১ রানে। এই ম্যাচে ব্যাটিংয়ে ভালো করার বিকল্প নেই।

একাদশে কারা

গত ম্যাচ থেকে একটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। বাদ পড়েছেন আফিফ হোসেন, তার জায়গায় এসেছেন সৌম্য সরকার। নিউজিল্যান্ড অবশ্য অপরিবর্তিত দল নিয়ে খেলছে।

বাংলাদেশ একাদশ: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন, লিটন দাস (উইকেটকিপার), তাওহীদ হৃদয়, সৌম্য সরকার, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।

নিউজিল্যান্ড একাদশ:
উইল ইয়াং, টম ল্যাথাম (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), হেনরি নিকোলস, নিক কেলি, মোহাম্মদ আব্বাস, ডিন ফক্সক্রফট, জশ ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, ব্লেয়ার টিকনার, উইলিয়াম ও’রুর্ক ও জেইডেন লেনক্স।

Ads small one

সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: নাগরিক দুর্ভোগের অবসান হবে কবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: নাগরিক দুর্ভোগের অবসান হবে কবে?

oppo_0

একটি আধুনিক ও প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় নাগরিকরা নিয়মিত কর পরিশোধ করবেন, আর বিনিময়ে পাবেন ন্যূনতম নাগরিক সুবিধাÑএটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু সাতক্ষীরা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মধ্যকাটিয়া এলাকার চিত্র দেখলে মনে হয়, সেখানকার বাসিন্দারা যেন কোনো পরিত্যক্ত জনপদে বসবাস করছেন। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মধ্যকাটিয়ার একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাব এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে কার্যত একটি উন্মুক্ত নর্দমায় পরিণত হয়েছে। কাদা, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং ড্রেনের উপচে পড়া কালো, দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। একই চিত্র সাতক্ষীরা তুফান কোম্পানীর মোড় থেকে পিএন স্কুল মোড় পর্যন্ত সড়টির। এ সড়কটির কোথাও আস্ত নেই।
একটি সভ্য সমাজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম সড়ক যদি এমন নরককু-ে পরিণত হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রেনগুলো দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ও বিষাক্ত পানি উপচে রাস্তায় জমে থাকছে। রাস্তার বড় বড় গর্তগুলো এই নোংরা পানির নিচে লুকিয়ে থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বৃদ্ধ ও নারীদের প্রতিদিন যে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ভোগান্তির এখানেই শেষ নয়; এই জমে থাকা নোংরা পানি ও আবর্জনার কারণে এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রব মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা। এলাকার মানুষ ঘরের দরজা-জানালা পর্যন্ত খুলতে পারছেন না দুর্গন্ধের কারণে। অথচ নাগরিকরা নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করে যাচ্ছেন। ট্যাক্স দিয়েও কেন মানুষকে এমন আদিম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে বাস করতে হবেÑএই প্রশ্ন এখন জোরালো হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই সমস্যার কথা জানালেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুম দরজায় কড়া নাড়ছে, এই অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি যে আরও কতটা ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে, তা সহজেই অনুমেয়।
পৌরসভার পক্ষ থেকে বরাবরের মতোই “বিষয়টি অবগত আছি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে” ধরনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি, শুধু মুখের আশ্বাস বা আশ্বাসের চাদরে দুর্ভোগ ঢেকে রাখার সময় আর নেই। মধ্যকাটিয়াবাসীর এই দুর্ভোগ লাঘবে এখন প্রয়োজন তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী সমাধান।
আমরা সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই—অবিলম্বে মধ্যকাটিয়া এলাকার ড্রেনগুলো পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। নাগরিকদের সুস্থ ও নিরাপদভাবে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করা পৌরসভার আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। আশা করি, কর্তৃপক্ষ আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত মাঠে নামবেন এবং মধ্যকাটিয়াবাসীকে এই দুঃসহ নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবেন।

বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সাতক্ষীরা তালা কলারোয়া আশাশুনিতে জামায়াতের প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সাতক্ষীরা তালা কলারোয়া আশাশুনিতে জামায়াতের প্রস্তুতি সভা

পত্রদূত রিপোর্ট: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আগামী ২০ জুন খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উপজেলায় প্রস্তুতি সভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার এসব সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসব সভার বক্তারা বলেন বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে এই বিভাগীয় সমাবেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সমাবেশ সফল করতে সব স্তরের নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সভায় উপজেলার কর্মপরিষদ সদস্যসহ সব ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে যাতায়াত ব্যবস্থা, লিফলেট বিতরণ ও সাংগঠনিক প্রচারণা জোরদার করার বিষয়ে চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।


সাতক্ষীরা সদর: উপজেলা জামায়াতের আমীর ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সেক্রেটারি ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা নায়েবে আমীর শেখ নুরুল হুদা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ এবং জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শাহাদাত হোসাইন।
কলারোয়া: উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাঃ কামারুজ্জামান এতে সভাপতিত্ব করেন। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মো. ওসমান গনী ও জেলা ইউনিট সদস্য অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম। এছাড়া উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা মো. আব্দুল হামিদ, অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শাহজাহান কবীরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের আমীর, সেক্রেটারি ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রচার-প্রচারণা জোরদার ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
আশাশুনি: আশাশুনিতে লিফলেট বিতরণ করেছে জামায়াতে ইসলামী। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় আশাশুনি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় সদর ইউনিয়নের শ্রীকলস ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রচারণাকালে সড়কের যাত্রী, পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ এবং সমাবেশ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা হয়।


লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন আশাশুনি সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ আব্দুল্লাহ, সহ-সম্পাদক এস এম শহিদুজ্জামান বাবলু, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম, ওয়ার্ড সম্পাদক হাফেজ আব্দুল করিম, শ্রমিক নেতা রুহুল আমিন এবং আবুল কাশেমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
‎তালা: ‎“খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ” সফল করার লক্ষ্যে তালায় লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামির উদ্যোগে তালা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজারে লিফলেট বিতরণ করা হয়। ‎লিফলেট বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রেন্টু, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, তালা সদর ওয়ার্ড সেক্রেটারি অহিদুজ্জামান রিপনসহ দলীয় অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী। নেতৃবৃন্দ আগামী ২০ জুন শনিবার বেলা ২টায় খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানের সমাবেশ সফল করার জন্য তালা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

আশাশুনির কাঁকড়াবুনিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় হাসপাতালে ভর্তি ৫

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ণ
আশাশুনির কাঁকড়াবুনিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় হাসপাতালে ভর্তি ৫

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের কাঁকড়াবুনিয়া গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত পাঁচজনকে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মৃত গফুর সানার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কাঁকড়াবুনিয়া গ্রামের জামাল সানা, শরিফুল ইসলাম, রেজাউল সরদার, বাবু গাজী ও হযরত আলী সানার সঙ্গে বাদীর পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গত ১৪ জুন সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বাদী জাহাঙ্গীর আলম বাড়ি যাওয়ার পথে জামাল সানার বাড়ির সামনে ওয়াপদা রাস্তার ওপর পৌঁছালে প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ ও লাঠিসোটা নিয়ে তার পথরোধ করে।
এর প্রতিবাদ করলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। জাহাঙ্গীরকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার ছোট ভাই দ্বীন মোহাম্মদ সানা, ভাগ্নে জসিম ও সাহিদুল, এবং চাচাতো ভাগ্নে তরিকুল ইসলাম সানাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ২২ হাজার ২০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া বাদীর স্ত্রী জ্যোৎস্না খাতুনকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা মূল্যের সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হাসপাতালে যাওয়ার পথে আহতদের ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয় বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানিয়েছে।