সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় ইকোর চক্ষু ক্যাম্পে শতাধিক রোগী পেলো ফ্রি চিকিৎসা ওষুধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ইকোর চক্ষু ক্যাম্পে শতাধিক রোগী পেলো ফ্রি চিকিৎসা ওষুধ

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বারাত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ইকোর উদ্যোগে গতকাল ৩০ এপ্রিল দিনব্যাপী ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প করা হয়েছে। সেখানে শতাধিক দরিদ্র নারী ও পুরুষ চক্ষু রোগী তাদের চোখের ফ্রি-চিকিৎসা ও ওষুধ নিয়েছেন। একই দিন এদের মধ্যে থেকে ১২ জনকে সম্পুর্ন বিনা মুল্যে ছানি অপারেশন করে আমেরিকান লেন্স লাগানো হবে।

উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়নের বারাত গ্রামের সোবহান গাজী (৫৮) ও আলেয়া বেগম (৬০) জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু অর্থের অভাবে ভালো চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। তারা আরো জানান, দুইদিন আগে গ্রামে মাইকে প্রচারে জানতে পারেন বারাত গ্রামে ইকো ইমদাদ-সিতারা ফাউন্ডেশন হেলথ সেন্টারে ইকোর উদ্যোগে ফ্রি চোখের রোগী দেখা হবে। সেখান থেকে বিসামূল্য চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়েছি। এজন্য ইকোর কর্তৃপক্ষকে তারা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ইকো যেন এই মহতী উদ্যোগ অব্যাহত রাখে। তাহলে সমাজের দরিদ্র মানুষরা উপকৃত হবেন।

একই উপজেলার কাজিরডাঙ্গা গ্রামের বৃদ্ধা ছবিরন (৬৫) ও বারাত গ্রামের হাসেম আলী (৭২) জানান, তারা অনেকদিন ধরে চোখেন ছানি সমস্যায় ভুগছিলেন। গতকাল ইকোর ফ্রি চক্ষু ক্যাম্পে গিয়ে চিকিৎসা ও ওষুধ নেন এবং একই সাথে তারা বিনামুল্যে চোখের ছানি অপারশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী জেলার তালা উপজেলার বারাত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ইকোর উদ্যোগে ফ্রি চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ইকোর আয়োজনে বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা পেয়ে খুশি এসব হতদরিদ্র পরিবারেরা।

আয়োজকরা জানান, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সমন্বয়ে এখানে শতাধিক চক্ষু রোগীকে বিনামূল্যে সেবা ও ওষুধ দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে থেকে বাছাই করা ১২ জন রোগীকে পরবর্তীতে চোখের ছানি অপারেশন ও লেন্স স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও প্রাথমিক পর্বে রোগীদের বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, পরামর্শপত্র, ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে।

ইকোর প্রজেক্ট অফিসার আবদুল কাদের জানান, ইকো সমাজে পিছিয়ে পড়া হতদরিদ্রদের সচেতন করতে এবং আর্থসামাজিকভাবে স্বচ্ছল করতে সংগঠনটি কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বারাত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী ফ্রি চক্ষু মেডিকেল ক্যাম্পে এলাকার শতাধিক দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা বিনামুল্যে চোখের গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, এছাড়াও ইকো ইমদাদ-সিতারা ফাউন্ডেশন হেলথ সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। যেখানে প্রতিদিন দরিদ্র রোগীদের ৫০ টাকার কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে। একজন রোগী এই কার্ডের মাধ্যমে ৫ বার চিকিৎসা নিতে পারবেন।

এই হেলথ সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। দরিদ্র মানুষ এখান থেকে সরকারি হাসপাতালের চেয়েও কম মূল্য পরীক্ষা করাতে পারছেন।

পাশাপাশি সমাজের হতদরিদ্র মানুষকে প্রতিষ্ঠা করা এবং তাদের কর্মক্ষেত্র তৈরি করতে যশোরের চাঁচড়াস্থ ইকো ট্রেনিং সেন্টার কাজ করছে। একই সাথে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে ইকো ইনস্টিটিউট। এই প্রতিষ্ঠানে এতিম শিশু ও হতদরিদ্ররা বিনামূল্য থাকা-খাওয়াসহ লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে। সংস্থাটি দেশের বিভিন্ন জেলায় ফ্রি স্বাস্থ্য কেন্দ্র, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অধ্যায়নরত মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চতর শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের মতো কার্যক্রম করে আসছে।

 

 

 

Ads small one

সুন্দরবনে প্রবেশের অপেক্ষায় বনজীবী ও পর্যটকেরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
সুন্দরবনে প্রবেশের অপেক্ষায় বনজীবী ও পর্যটকেরা

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দেওয়া হচ্ছে সুন্দরবনের দুয়ার। আর মাত্র সাত দিন পর সুন্দরবনে প্রবেশ করে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের সুযোগ পাবেন উপকূলীয় এলাকার জেলে ও বাওয়ালিরা। একই সঙ্গে পর্যটকদের জন্যও খুলে দেওয়া হবে সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্রগুলো। ফলে দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকা বনজীবীদের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি।
তবে নিষেধাজ্ঞার সময় উপকূলের বহু পরিবারকে ধারদেনা ও ঋণ করে কিংবা বিকল্প পেশায় যুক্ত হয়ে সংসারের খরচ চালাতে হয়েছে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা এলাকার বাসিন্দা জিন্নাত গাজী বলেন, সুন্দরবন বন্ধ থাকার সময় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। বাধ্য হয়ে এনজিও থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। এখন বন খুলবে, এটাই বড় আশার বিষয়।
বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের নীলডুমুর গ্রামের জেলে রিপন গাজী বলেন, সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরে যারা জীবিকা নির্বাহ করে, তাদের জন্য এই সময়টা খুব কঠিন। ধারদেনা করে দিন পার করতে হয়েছে। বন খুললে আবার আয়-রোজগার শুরু হবে।
এদিকে সুন্দরবন খোলার প্রস্তুতি শুরু করেছে বন বিভাগ। জেলে-বাওয়ালিদের নিরাপদে প্রবেশ, অনুমতিপত্র প্রদান এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও বনজ সম্পদ রক্ষায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সুন্দরবন খুলে দেওয়ার পর জেলে-বাওয়ালিদের বৈধভাবে বনে প্রবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বনদস্যুদের তৎপরতা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। একই সঙ্গে বিষ দিয়ে মাছ ধরা, ক্ষতিকর জাল ব্যবহার ও বন্য প্রাণী শিকার বন্ধে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।
আগামী ১ সেপ্টেম্বরকে সামনে রেখে উপকূলের জেলেদের মধ্যে এখন দারুণ ব্যস্ততা। কেউ নৌকা ও জাল মেরামত করছেন, আবার কেউ দীর্ঘদিনের ঋণের বোঝা লাঘবের আশায় নতুন করে সুন্দরবনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সাতক্ষীরায় ফোর্ব-এর জেলা সমন্বয় সভা ও প্রটোকল উপস্থাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ফোর্ব-এর জেলা সমন্বয় সভা ও প্রটোকল উপস্থাপন

নিজস্ব প্রতিনিধি: দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের অধীন ‘বাংলাদেশ ফোরাম ফর ফোর্ব’-এর জেলা পর্যায়ের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১০টায় সাতক্ষীরা শহরের নাজমুল সরণিস্থ ম্যানগ্রোভ সভাঘরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ফোরাম ফর ফোর্ব সাতক্ষীরার সভাপতি অধ্যাপক পবিত্র মোহন দাশ। অতিথি ছিলেন হাঙ্গার প্রজেক্ট ঢাকার সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শশাঙ্ক বরণ রায় এবং পরিচালনা করেন সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার রুবিনা আক্তার।
সভায় সমাজকর্মী শেখ সিদ্দিকুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ সরকার, রাজনৈতিক নেত্রী ফরিদা আক্তার বিউটি, ধর্মীয় নেতা মাওলানা মাহবুবুর রহমান, নাগরিক নেতা আলি নুর খান বাবুল, অধ্যাপক মহিউদ্দীন আহমেদসহ স্থানীয় প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
সভায় ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক ঘৃণা, মব ভায়োলেন্স ও সহিংসতা প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হয়। এ ছাড়া “ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক ঘৃণা ও সহিংসতা প্রতিরোধ এবং উত্তেজনা প্রশমনের জন্য আগাম সতর্কতা প্রটোকল” শীর্ষক একটি খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলায় একটি ‘র‌্যাপিড রেসপন্স টিম’ গঠনের বিষয়েও সভায় সিদ্ধান্ত হয়।

 

 

দেবহাটায় গড়িয়াডাঙ্গা বিদ্যালয়ের সেতু সংস্কারকাজ উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় গড়িয়াডাঙ্গা বিদ্যালয়ের সেতু সংস্কারকাজ উদ্বোধন

Oplus_131072

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের গড়িয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ভাঙা সেতু সংস্কারকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার বেলা চারটায় এ সংস্কারকাজের উদ্বোধন করেন পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক আলহাজ মাওলানা অলিউল ইসলাম।
দীর্ঘদিন সেতুটি চলাচলের অনুপযোগী থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছিল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
উদ্বোধনকালে মাওলানা অলিউল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের সমস্যা সমাধানও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সে বিবেচনায় সেতুটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ সময় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এইচ এম ইমদাদুল হক, ইউপি সদস্য গোলাম ফারুক হোসেন, সমাজসেবক সোহারাব হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন। সেতু সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত ও মানসম্মতভাবে কাজটি সম্পন্ন করার দাবি জানান।