সাতক্ষীরায় কলেজ মোড়–মাছখোলা সড়ক যেন মরণফাঁদ: সংস্কারের দাবিতে আলটিমেটাম
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ কলেজ মোড় থেকে মাছখোলা পর্যন্ত সড়কটি এখন কয়েক লাখ মানুষের কাছে মূর্তিমান এক আতঙ্কের নাম। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া এবং সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কারণে সড়কটি এখন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই ‘নরক যন্ত্রণা’ থেকে মুক্তি পেতে রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে সাতক্ষীরা পৌর প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজ মোড় থেকে মাছখোলা পর্যন্ত সড়কের অধিকাংশ জায়গায় কার্পেটিংয়ের চিহ্ন পর্যন্ত নেই। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। সামান্য বৃষ্টিতেই সেসব গর্ত ছোটখাটো ডোবায় পরিণত হয়। বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটি দীর্ঘ সময় পানির নিচে তলিয়ে থাকে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাত্র কয়েক মিনিটের পথ পাড়ি দিতে এখন ৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে শহরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
এই সড়কটি কেবল একটি রাস্তা নয়, বরং ক্লাব মোড়, মাছখোলা, পারমাছখোলা, গোয়ালপোতা, দামারপোতা ও শাল্ল্যেসহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এই পথ দিয়ে যাতায়াত করলেও বর্তমানে এটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
রাস্তা জীর্ণ হওয়ায় এই এলাকায় কোনো যানবাহন সহজে ঢুকতে চায় না। স্থানীয়দের অভিযোগÑরাস্তার অজুহাতে রিকশা ও ইজিবাইকচালকরা দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছেন। সন্ধ্যার পর কোনো চালক এই রুটে যেতে চান না। ফলে জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা আদিত্য কুমার আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা পৌরসভার ভেতরে থেকেও যেন এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বাস করছি। সন্ধ্যার পর কোনো অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত এই রাস্তায় আসতে চায় না।”
জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ রাস্তাটি টেকসইভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়ে রোববার বিকেল ৩টার দিকে পৌর প্রশাসকের হাতে আবেদনপত্র তুলে দেন এলাকাবাসী। এ সময় সাংবাদিক মাসুদ রানা, রবিউল ইসলাম রবি, মনির হোসেন, অনিমেষ সরকারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এলাকাবাসীর হুঁশিয়ারি, আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই যদি সংস্কার কাজ শুরু না হয়, তবে এই ক্ষোভ গণ-আন্দোলনে রূপ নিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, পৌর কর্তৃপক্ষ এই দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তি নিরসনে কতটুকু দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।









