বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় গরমে শিশু ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ছে ব্যাপক হারে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় গরমে শিশু ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ছে ব্যাপক হারে

জেলা সদরের তিন হাসপাতালে ৫০ দিনে ১ হাজার ৭১৮ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু ভর্তি

পত্রদূত রিপোর্ট: প্রচন্ড গরমে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরাতে শিশু ডায়রিয়া রোগ বেড়েছে ব্যাপক হারে। প্রতিদিন সরকারী বেসরকারী হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ডায়রিয়ায় রোগে আক্রান্ত শিশুর রোগীর সংখ্যা।

শিশু বিষেশজ্ঞরা বলছেন, তীব্র গরমের কারনে শিশুদের শরীরে পানি সল্পতা দেখা দেয়ায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি খাওয়ার স্যালাইন খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎকগন।

এদিকে সাতক্ষীরার সরকারী হাসপাতালগুলোতে শিশু ডায়রিয়া রোগীর পর্যাপ্ত শয্যা ব্যবস্থা না থাকায় চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।

গতকাল বুধবার সরেজমিনে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। এরমধ্যে সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুর এলাকার গৃহবধু ময়না খাতুনের ১১ মাস বয়সের শিশু আররায়হানকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে গতকাল সকালে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে স্যালাইন ব্যতিত অন্যান্য ওষুধ হাসাপাতালের বাইরে থেকে ক্রয় করতে হয়েছে বলে জানান এই গৃহবধু।

 

এদিন তালা উপজেলার কানাইদিয়া গ্রাম থেকে আসা গৃহবধু পাপিয়া খাতুন তার ১০ মাস বয়সের শিশু পুত্র মোছাব্বির হোসেনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন ডায়রিয়া ওয়ার্ডে। তিনি বলেন, ডায়রিয়া ওয়ার্ডের পরিবেশ খুবই অস্বাস্থ্যকর। তাছাড়া অধিকাংশ ওষুধ হাসাপাতালের বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে। এখানে স্যালাইন ছাড়া আর কিছু পাওয়া যাচ্ছেনা।

সাতক্ষীরা সদর এবং মেডিকেল কলেজ ও বেসরকারী শিশু হাসপাতালের প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী গত ৫০ দিনে এই তিনটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৭১৮ জন। এরমধ্যে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ হাজার জন, সদর হাসপাতালে ৫৭৭জন এবং বেসরকারী শিশু হাসপাতালে ১৪১ জন শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে।

এছাড়া এসব হাসাপাতালে প্রতিদিন প্রচুর পরিমান ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু বহির্বিভাগেও চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে জানান চিকিৎসকগন।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিষেশজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার মোঃ সামছুর রহমান জানান, আমাদের দেশে সাধারণত মার্চ-এপ্রিল থেকে গরম শুরু হয়। এসময় শিশুদের শরীরে পানি সল্পতা দেখা দেয়। এতে করে শিশুরা ডায়রিয়া আক্রান্ত ছাড়াও জ্বর এবং বমি করে। এসময় শিশুদের মায়ের দুধের পাশাপাশি খাওয়ার স্যালাইন খাওয়ানোর পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

 

তাছাড়া শিশুরা যেন কোনো ক্রমেই পচাঁ বাসি খাবার খেতে না পারে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ হিসাবে ১ মার্চ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত ১ হাজারের উপরে ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু রোগী ভতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আব্দুর রহমান বলেন, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু ডায়রিয়া ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত শয্যা ব্যবস্থা না থাকায় ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু রোগদের চিকিৎসাসেবা দিতে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। দ্রুত শয্যা ব্যবস্থা বাড়ানোর জন্য সাতক্ষীরা সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়েছে।

Ads small one

জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় নিয়মিত একটি মামলার আসামি হিসেবে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেনÑসাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শহরের সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা শেখ জাহাঙ্গীর কবির (৪৭) এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ও ইটাগাছা এলাকার বাসিন্দা এস এম তুহিনুর রহমান (৩৬)।
সাতক্ষীরা সদর থানা-পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহিল আরিফ নিশাত ও সমীর গাইনসহ পুলিশের একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তার হওয়া ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকালই তাঁদের পুলিশ প্রহরায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: বিপন্ন গ্রামীণ সড়ক ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: বিপন্ন গ্রামীণ সড়ক ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় মৎস্য ঘের নীতিমালা অমান্য করে সরকারি রাস্তা ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে মাছ চাষের যে চিত্র সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উপজেলায় ৪ হাজার ৬৫৮টি মৎস্য ঘেরের একটি বড় অংশই গড়ে উঠেছে সরকারি আইন ও পরিবেশগত বিধিমালাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে। অনেক প্রভাবশালী ঘের মালিক সরকারি পাকা ও কাঁচা সড়কগুলোকে তাঁদের ঘেরের বেড়িবাঁধ হিসেবে ব্যবহার করছেন। এর ফলে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শতাধিক গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন ধ্বংসের মুখে পড়েছে, তেমনি সরকারি খাল ও পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নব্বইয়ের দশক থেকে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিল, খাল ও নদীর অববাহিকা দখল করে মাছ চাষ শুরু করেন। সময়ের সাথে সাথে এই প্রবণতা গ্রামীণ সড়কের বুক পর্যন্ত এসে ঠেকেছে। গণমাধ্যম জানাচ্ছে, যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের একাংশসহ কেশবপুরের বহু গুরুত্বপূর্ণ পাকা ও কাঁচা রাস্তার শোল্ডার ও পিচের অংশ ঘেরের পানির কারণে ধসে যাচ্ছে। ফলে যানবাহন ও জনসাধারনের চলাচলের সাধারণ পথগুলো এখন বিপজ্জনক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী, যেকোনো সড়ক থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে পৃথক বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষ করার স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন নেই।
এর চেয়েও বড় সংকট তৈরি হয়েছে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল করে দেওয়ায়। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা খাল ও কালভার্টের মুখ বন্ধ করে ব্যক্তিগত মৎস্য ঘের তৈরি করায় বৃষ্টির পানি নামার পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে কাদার বিল, মহাদেবপুর বিল, পাঁচপোতার বিলসহ ওই অঞ্চলের অন্তত এক ডজন বিশাল বিলের স্বাভাবিক পরিবেশ এখন হুমকির মুখে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থারই ক্ষতি হবে না, বরং কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং বিল এলাকার হাজার হাজার নি¤œআয়ের মানুষ ও মৎস্যজীবী দীর্ঘমেয়াদি জীবিকা সংকটে পড়বেন।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মৎস্য বিভাগ মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সচেতনতামূলক সভা করলেও তা প্রভাবশালী ঘের মালিকদের থামাতে পারছে না। নামমাত্র জরিমানা বা সাময়িক নিষেধাজ্ঞা এই কাঠামোগত ক্ষতি রোধে কোনো স্থায়ী সমাধান আনছে না। সরকারি সম্পদ ধ্বংস এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা জিম্মি করে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের এই অতি-মুনাফালোভী বৈরী আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
আমরা মনে করি, গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবেশ রক্ষা করতে হলে মৎস্য ঘের নীতিমালার কঠোর ও আপসহীন বাস্তবায়ন জরুরি। যেসব ঘের মালিক সরকারি রাস্তা বাঁধ হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কেবল জরিমানা নয়, বরং ফৌজদারি আইনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে অবৈধভাবে দখলকৃত খাল ও কালভার্টের মুখ অবিলম্বে উন্মুক্ত করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে হবে। গ্রামীণ অবকাঠামো ও জনস্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক উন্নয়ন টেকসই হতে পারে নাÑসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অনুধাবন করে দ্রুত স্থায়ী পদক্ষেপ নেবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের অংশ গ্রহণে ক্লাস্টারভিত্তিক মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ১১টায় উপজেলার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউআরসি ট্রেনিং সেন্টারে ৪টি ক্লাস্টারের এই পৃথক পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার বর্মনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপজেলার ১০৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা অংশ নেন। সভায় আলোচনায় অংশ নেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, ঝংকর ঢালী, সোহাগ আলম ও আশেকুজ্জামান।
আশাশুনি সদর, শ্রীউলা, চম্পাখালী ও বুধহাটা ক্লাস্টারের শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত এই সভায় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষকদের হাজিরা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও শিক্ষার মান উন্নয়ন, চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের তদারকি, জুন ক্লোজিংয়ের বিবিধ ভাউচার জমা এবং বিদ্যালয়গুলোতে ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) গঠনের সার্বিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক বিষয়ে আলোচনা করা হয়।