বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় চিকিৎসার অভাবে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় চিকিৎসার অভাবে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক: সময়মত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা না পাওয়া ও চিকিৎসকের কর্তব্য অবহেলায় তাহসিন (১৩) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরের দিকে সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল এলাকায় ট্রমা সেন্টার ও স্পেশালাইজড হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে।

মৃত কিশোর তাহসিন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশদহা গ্রামের মো. হান্নানের ছেলে।

মৃতের পরিবারের অভিযোগ, মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে নারিকেল পাড়তে যেয়ে গাছ থেকে পড়ে মারাত্মক আহত হন তাহসিন। দুপুর দেড়টার দিকে তাকে সাতক্ষীরা ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়। তবে সেখানে দায়িত্বরত কোন ডাক্তার-নার্সরা তখন ছিলেন না। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর সার্জারী বিশেষজ্ঞ ডা. অসীম কুমার সরকার এসে রোগীকে দেখেন এবং কিছু বিষয়ে পরীক্ষা করতে বলেন। তারা সব পরীক্ষাও করান। তবে ওই পরীক্ষার রিপোর্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করেন রাত ৯ টার দিকে। এরপর ডাক্তার এসে বলেন তার লাঞ্চ ফেটে গেছে এখানে চিকিৎসা করানো সম্ভব নয়, তাকে অন্যত্রে নিয়ে যান। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পর তাহসিন মারা যায়।

তারা অভিযোগ করে আরো বলেন, তাহসিনের শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল তবে তাকে কোন অক্সিজেন দেওয়া হয়নি। এসময় হাসপাতালে দায়িত্বরত কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি সেসময় তাহসিনের আইসিইউ সাপোর্টের দরকার ছিল কিন্তু সাতক্ষীরা ট্রমা সেন্টারে কোন আইসিইউ এর ব্যবস্থা নেই। পরিবারের সদস্যরা তাহসিনকে অন্য কোথাও নিয়ে যেতে চাইলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদেরকে অন্য কোথাও নিয়ে যেতে দেননি। বরং চিকিৎসার খরচ হিসেবে প্রায় ৩০ হাজার টাকা তাদের কাছ থেকে নেয়া হয়।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা ট্রমা সেন্টারের ম্যানেজার জনি হাসপাতালে তাহসিন নামের একজন রোগী মারা যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, গাছ থেকে পড়ে গিয়ে তার লাঞ্চ ফেটে যায়। এখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিষয়টি জানার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্রে নিয়ে যেতে বলা হয়। কিন্তু রোগীর লোকেরা তাকে নিয়ে যায়নি। ট্রমা সেন্টারে থাকা অবস্থায় তাহসিনের কোন চিকিৎসার অবহেলা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

Ads small one

সাতক্ষীরায় চালু হলো ১০০ শয্যার ‘ব্লিস হাসপাতাল’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় চালু হলো ১০০ শয্যার ‘ব্লিস হাসপাতাল’

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা ও আশপাশের অঞ্চলের মানুষের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে শহরে যাত্রা শুরু করেছে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ‘ব্লিস হাসপাতাল’। শহরের পলাশপোলের চৌরঙ্গী মোড়ে মনোরম পরিবেশে হাসপাতালটির কার্যক্রম চালু হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখানে ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবাসহ দেশের খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়মিত পরামর্শের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় রোগীদের আর ঢাকা বা দূর-দূরান্তে ছুটতে হবে না।

রোগীদের নিবিড় পরিচর্যার জন্য হাসপাতালটিতে আধুনিক আইসিইউ, সিসিইউ ও এনআইসিইউ সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া গাইনি ও চোখের জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য তিনটি সর্বাধুনিক অপারেশন থিয়েটার, কিডনি ডায়ালাইসিস, ফিজিওথেরাপি এবং সার্বক্ষণিক প্রসূতি ও নবজাতক সেবা বিভাগ চালু করা হয়েছে।

সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য হাসপাতালটিতে বিশ্বমানের ডায়াগনস্টিক ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। যেখানে ১.৫ টেসলা এমআরআই, ৩২-স্লাইস সিটি স্ক্যান, ৪ডি আল্ট্রাসনোগ্রাম, ডিজিটাল এক্স-রে ও পিসিআরসহ সব ধরনের আধুনিক পরীক্ষার সুবিধা রয়েছে। অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্টদের মাধ্যমে এই রেডিওলজি ও প্যাথলজি সেবা সার্বক্ষণিক পরিচালনা করা হচ্ছে।

 

শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ও নন-এসি কেবিন, সার্বক্ষণিক লিফট, জেনারেটর এবং দূরপাল্লার রোগীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা উন্নত অ্যাম্বুলেন্স সেবার পাশাপাশি হৃদরোগ, নিউরো, মেডিসিন, চর্ম, শিশু, ইউরোলজি ও অর্থোপেডিকসহ প্রায় সব বিভাগের অভিজ্ঞ চিকিৎসকেরা নিয়মিত রোগী দেখছেন।

 

 

 

 

 

সাতক্ষীরায় জমি বিরোধের জেরে গৃহবধূকে পিটিয়ে জখম, থানায় মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জমি বিরোধের জেরে গৃহবধূকে পিটিয়ে জখম, থানায় মামলা

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আগরদাঁড়ি গ্রামে জমি-জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রুমা পারভিন (৩২) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। আহত গৃহবধূ বর্তমানে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নারী সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি আগরদাঁড়ি গ্রামের আব্দুর জলিলের স্ত্রী।

আহত গৃহবধূর পরিবার জানায়, গ্রামের আব্দুল গফুর নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের ওয়ারেশসূত্র পাওয়া জমির একাংশ অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। গত ১ জুন ওই জমিতে প্রাচীর নির্মাণের জন্য ইট আনা হলে পরদিন ২ জুন বিকেলে প্রতিপক্ষ আব্দুল গফুরের নেতৃত্বে লুৎফর রহমান, আমেনা খাতুন ও মমেনাসহ ৫-৬ জন তাঁদের বাড়িতে এসে অতর্কিত হামলা চালায়।

 

এ সময় রুমা পারভিনকে লাঠিসোঁটা ও ইট দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ও তাঁর স্বামী তাঁকে উদ্ধার করে রাতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় আহত গৃহবধূর স্বামী আব্দুর জলিল বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মামলা করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবারটি বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করে ঘটনার সঠিক তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।

 

 

 

 

 

 

সম্পাদকীয়/ বাঁশদাহার কয়ারবিল ব্রিজ কি সংস্কার হবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ বাঁশদাহার কয়ারবিল ব্রিজ কি সংস্কার হবে

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশদাহা ইউনিয়নের কয়ারবিল এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটির বর্তমান বেহাল দশা কেবল স্থানীয় সড়ক যোগাযোগের অব্যবস্থাপনাই ফুটিয়ে তোলে না, বরং তা জননিরাপত্তার জন্য এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর অনুযায়ী, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্রিজটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অথচ অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া চরম উদ্বেগজনক।

কয়ারবিলের এই সড়কটি মূলত কলারোয়া উপজেলার সঙ্গে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে শত শত মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ভ্যান ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। বর্তমানে ব্রিজের ভেঙে যাওয়া অংশে বাঁশ, কাঠ, ইটের রাবিশ আর মাটির বস্তা দিয়ে কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে যাতায়াত সচল রাখা হয়েছে। একটি ব্যস্ততম গ্রামীণ সড়কের প্রধান ব্রিজে এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও আদিম উপায়ে চলাচল সচল রাখা যেমন বিপজ্জনক, তেমনি তা স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতারও বহিঃপ্রকাশ। এই নড়বড়ে সেতুটি যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানি কিংবা মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে।

এই অচলাবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ। কয়ারবিল অঞ্চল থেকে ধান, সবজি ও মাছের মতো পচনশীল পণ্য জেলা শহরের বাজারে নেওয়ার একমাত্র পথ এটি। ব্রিজের এই জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে কৃষকদের বাধ্য হয়ে দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা তাঁদের পরিবহন খরচ ও সময় দুই-ই বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ ছাড়া স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও জরুরি চিকিৎসাপ্রার্থী রোগীদের দুর্ভোগের তো কোনো সীমাই নেই।

সামনে বর্ষা মৌসুম। ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলে পানির তোড়ে এবং অতিরিক্ত চাপে জরাজীর্ণ এই ব্রিজের বাকি অংশটুকুও ধসে পড়ার আশঙ্কা শতভাগ। তেমনটি ঘটলে আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেবে।

আমরা মনে করি, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সচলতা বজায় রাখা যেকোনো স্থানীয় সরকারের প্রথম কাজ। কয়ারবিল ব্রিজের ক্ষেত্রে এই দীর্ঘসূত্রতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটার পর টনক নড়ার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। বর্ষা পুরোদমে শুরু হওয়ার আগেই অতি দ্রুত এই স্থানে একটি নতুন ও স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জরুরি ও সর্বোচ্চ হস্তক্ষেপ কামনা করছি।