সাতক্ষীরায় জলবায়ু বাস্তুচ্যুত ৭৪.৯% মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায়: খানি
নিজস্ব প্রতিনিধি: ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও তীব্র নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে সাতক্ষীরা শহরের বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া জলবায়ু বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর ৭৪.৯ শতাংশ মানুষ বর্তমানে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (খানি)-র গবেষণায় দেখা যায়, দুর্যোগের মুখে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর ৪১.১১ শতাংশ মানুষ তাঁদের আবাদি কৃষিজমি হারিয়েছেন। চরম খাদ্যাভাবের কারণে এসব পরিবারের ৫২.২ শতাংশ মানুষকে পুরো একদিন না খেয়ে কাটাতে হয়েছে। তা সত্ত্বেও মাত্র ৭.৫ শতাংশ পরিবার সরকারি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আসতে পেরেছে।
‘অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জাতীয় কৌশলপত্র ২০২১’ গ্রহণের পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এর অঙ্গীকার ও সুফল বস্তিবাসীদের দৈনন্দিন জীবনে পৌঁছায়নি। ফলে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো নিরাপদ আবাস, পর্যাপ্ত খাবার, নিয়মিত কর্মসংস্থান এবং সরকারি সামাজিক সুরক্ষা ভাতা থেকে চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরার রয়েল গ্লাস কনভেনশন হল রুমে অনুষ্ঠিত ‘সহনশীলতার সূচনা নিজের ঘর থেকেই’ (Where does resilience start for those without a home?) শীর্ষক এক বহুপাক্ষিক সংলাপে এসব উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (খানি), পার্টিসিপেটরি RESEARCH অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (প্রান) এবং উন্নয়ন সংগঠন ‘স্বদেশ’ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খানি-র বিভাগীয় প্রতিনিধি। অনুষ্ঠানের আগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়, যা সাতক্ষীরার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
সংলাপে বক্তারা বলেন, সিডর ও আইলার মতো ভয়াবহ দুর্যোগের পর বিপুল সংখ্যক মানুষ তাদের সবকিছু হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে সাতক্ষীরা শহরে এসে মাথা গুঁজে আছেন। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, “বাস্তুচ্যুতির পরবর্তী খাদ্য অনিরাপত্তা কোনো সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়; এটি প্রকৃতপক্ষে দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনের একটি প্রতিরোধযোগ্য ব্যর্থতা।”
অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়ে জানান, বস্তিবাসীদের মধ্যে যারা এখনো বয়স্ক বা বিধবা ভাতার আওতায় আসেননি, তাদের তালিকা প্রদান করা হলে দ্রুত ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া পৌরসভার বাইরের ভূমিহীনরা আবেদন করলে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি পরিবারকে ২ একর পর্যন্ত কৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
উন্নয়ন সংগঠন ‘স্বদেশ’-এর নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্তের সভাপতিত্বে এবং বিশিষ্ট উন্নয়ন গবেষক ও সিইপিআর-এর নির্বাহী পরিচালক গৌরাঙ্গ নন্দীর সঞ্চালনায় সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্ত, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার, জেলা নির্বাচন অফিসার মো. হযরত আলী এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মো. জাহিদ পারভেজ।
সংলাপে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হামিদ, সিনিয়র সাংবাদিক ও ‘ডেইলি স্টার’-এর সাতক্ষীরা প্রতিনিধি কল্যাণ ব্যানার্জি, দক্ষিণের মশাল’-এর সম্পাদক আশেক এ ইলাহী, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম কামরুজ্জামান ও মিজানুর রহমান, সাবেক শিক্ষা অফিসার কিশোরী মোহন সরকার, নাগরিক নেতা আলী নুর খান বাবুল, ‘এখন টেলিভিশনের আহসান রাজীব, বাংলা ট্রিবিউনের আসাদুজ্জামান সরদার, ভোরের বাণী’-র মো. মোকাররাম বিল্লাহ ইমনসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।






