সাতক্ষীরায় জাকারিয়া হত্যার ঘটনায় ১২ জনের নামে থানায় মামলা
ছবির ক্যাপশান: “আমার সন্তান জাকারিয়াকে কেন নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো” লেখা ফেস্টুন হাতে শহরের নিউমার্কেটের সামনে নীরব প্রতিবাদ জানালেন শিক্ষক, রাজনীতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী নাসরিন খান লিপি
পত্রদূত রিপোর্ট: কলেজ ছাত্র জাকারিয়া খাঁনকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের ভাই শাহারিয়ার খাঁন বাদি হয়ে শনিবার রাতে ১২জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা সাত জনকে আসামী করেছেন। মামলায় কিশোর গ্যাং এর নেতা নাহিদ হাসানকে প্রধান আসামী করা হয়েছে। এদের মধ্যে মুহিদ হাসান বনিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রবিবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন, শহরের ইটাগাছা এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. আরিজুল ইসলাম (২৮), আবুল হোসেন ওরফে বড় খোকার ছেলে ছোট ময়না (২৭), রবিউল ইসলামের ছেলে মো. জুয়েল (২৪), মো. হাসানের ছেলে মো. সাগর (২৩), মৃত ফিরোজ উদ্দীনের ছেলে মো. রনি (৩০), শাকিল চেয়ারম্যানের ছেলে মো. সামি (২৪), জমিদার মুন্সির ছেলে মো. নাঈম (২২), নজরুল সরদারে ছেলে রাশিদুর জামান রাশেদ (৩০), মো. মিঠুর ছেলে মো. হুজাইফা (২০) ও মিজানুর রহমান মির্জার ছেলে মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ (২৮)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার গভীর রাতে সাতক্ষীরা শহরের প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সামনে কদম গাছতলার নিচে রবিউলের চায়ের দোকানে কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদসহ তার বাহিনীর সদস্যরা সেখানে চা খেতে আসে। তারা এসময় তাকে দ্রুত চা দিতে বলে। চা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রবিউলের সাথে তারা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাচ করতে থাকে। এসময় রবিউলের প্রতিবেশী ভাইপো বাপ্পী হাসান এর প্রতিবাদ করলে তারা বাপ্পীকে মারপিট ও মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এ সময় জাকারিয়া খাঁন ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় বাপ্পীকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তারা তাকে পরিকল্পিতভাবে এলাপাতাড়ি মারপিট করতে থাকে। এরপর ১নং আসামী কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদ হাসান হত্যার উদ্দেশ্যে তার হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে জাকারিয়ার বামপাশের বুকে খোঁচা মেরে মারাতœক জখম করে। এতে সাথে সাথে জাকারিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এসময় চা দোকানী রবিউলসহ স্থাণীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ফুফাতো ভাই ও সাতক্ষীরা পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ শাহীন জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদ হাসানের নেতৃত্বেই সরাসরি এই হত্যাকান্ড চালানো হয়েছে। অবিলম্বে তিনি নাহিদ হাসানসহ সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবী জানান।
এদিকে, কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর বকচরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. রমজান আলীকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখমের ঘটনায় সদর থানায় মামলা রয়েছে। যে মামলায় চার্জশীটও দেয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল শহরের ‘ফুচকা বাংলা’র পরিচালক আজিজুল ইসলামকে ছুরি দিয়ে খুঁচিয়ে রক্তাক্ত জখম করে কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদগং। এ নিয়েও মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে আদালতে। এছাড়া বাঁকাল ইসলামপুর এলাকার এক যুবকের পিঠে ছুরি মেরে নির্মম আঘাতসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে ছুরি মারা ও আঙুল কেটে নেয়া মতো গুরুতর অভিযোগে অসংখ্য মামলা রয়েছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৩ সালে কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদের পিতা গিয়াস উদ্দীনকে ভোমরা সড়কের গাংনিয়া ব্রিজ এলাকায় চোরাকারবারিরা পিটিয়ে হত্যা করে। এরপর অপরাধজগতে প্রবেশ করে নাহিদ।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ডের বিষয়ে কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদের চাচা নাছির উদ্দীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার ভাইপো মুহিদ হাসান বনি ও জাকির হোসেন রনি এ ঘটনার সাথে জড়িত নয়। ঘটনার সময় নাহিদ নিজেও সেখানে ছিল না। আমাদের পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করতে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তবে নাহিদের অতীতের নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আগের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে পুলিশ তাকে ধরুক, তাতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু নিরীহ কাউকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আটক করা ঠিক হবে না।
সাতক্ষীরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মিথুন সরকার জানান, কলেজ ছাত্র জাকারিয়া হত্যার ঘটনায় ইতিমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকী অঅসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন বলেন, রবিবার সকালে বনিকে আদালতে পাঠানো হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হবে।






