সাতক্ষীরায় জামায়াতের সংসদ সদস্যের ভিডিও নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়
Oplus_131072
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম হয়েছে। গত সোমবার রাতে ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর নানা আলোচনার সুত্রপাত হয়।
ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে অবস্থান করছেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। কখনো তিনি ফোনে কথা বলছেন, আবার কখনো তাকে ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যাচ্ছে।
ভিডিওটি প্রকাশের পর সাতক্ষীরা জেলা থেকে পরিচালনাধীন ‘ক্রাইম বার্তা’ দাবি করে, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি ভুয়া দৃশ্য। তবে ফ্যাক্ট-চেকিং বা তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘বেঙ্গল লেন্স’ অনুসন্ধানের পর জানায়, ভিডিওটি এআই দিয়ে বানানো নয়, এটি আসল। সিসিটিভি ফুটেজের সময় উল্লেখ (টাইমস্ট্যাম্প) অনুযায়ী ভিডিওটি ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ধারণ করা হলেও এটি কোন স্থানের, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিওর বিষয়ে কথা বলতে সংসদ সদস্যের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান মাওলানা আজিজুর রহমান জানান, এমপি তাকে অবহিত করেছেন যে ভিডিওতে দৃশ্যমান তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই তাদের বিয়ে হয়েছে। বিয়ে কবে হয়েছে-জানতে চাইলে জামায়াতের এই নেতা জানান, সুনির্দিষ্ট তারিখ জানা না থাকলেও বিয়েটি বেশ কিছুদিন আগেই সম্পন্ন হয়েছে।
তবে ঘটনার মোড় অন্যদিকে ঘোরে যখন দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে ভিডিওতে আলোচিত মরিয়ম খাতুনের একটি জীবনবৃত্তান্ত (বায়োডাটা) সামনে আসে। গত ২২ জুন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম সেই জীবনবৃত্তান্তে জোর সুপারিশ করে নিজের স্বাক্ষর প্রদান করেন। জীবনবৃত্তান্তে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মরিয়ম খাতুন ২০০৮ সালের ২২ মে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০২৬ সালে ঢাকা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষায় অংশ নেন। পরিবারের ঠিকানা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার বিস্তারিত বিবরণের পাশে তার বৈবাহিক অবস্থার ঘরে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, তিনি ‘অবিবাহিত’।
এদিকে বিতর্কের মুখেই ২১ জুলাই নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতি দিয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।
লিখিত বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ঘটনাটি গত ১৩ জুলাইয়ের এবং এর পেছনে তার নিজস্ব গাড়িচালকের সুপরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদাবাজির নীল নকশা রয়েছে।
বিবৃতিতে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথমা স্ত্রী মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে মগবাজারে অবস্থিত দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে তারা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। অবস্থানকালে গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ সুকৌশলে ৬ থেকে ৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে ওই কার্যালয়ে ঢোকার ব্যবস্থা করে দেয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ওই অপরিচিত ব্যক্তিরা কক্ষে ঢুকে তার ও পরিবারের সদস্যদের পরিচয় জানতে চেয়ে চরম হেনস্তা করে। একপর্যায়ে তাদের কার্যালয়ের নিচে একটি চায়ের দোকানে নিয়ে গিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। সে সময় তাৎক্ষণিকভাবে কিছু টাকা প্রদান করার পরই তারা সেখান থেকে রেহাই পান।
ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতিতে গাজী নজরুল ইসলাম জানতে পারেন যে, এই পুরো ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন তার গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ, যিনি সম্পর্কে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা।
সংসদ সদস্য জানান, তার শ্বশুর মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর দুলাভাইয়ের পারিবারিক পূর্বশত্রুতা ছিল। ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ওবায়দুল্লাহ তার কাছে ৫ লাখ টাকা এবং মাসুম বিল্লাহর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং পরিবারের ক্ষতি করার সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে দাবিকৃত টাকা না পেয়ে চালক ওবায়দুল্লাহ অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে একটি বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন বলে সংসদ সদস্য দাবি করেন। একে নিজের ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্র এবং ‘চরিত্র হননের অপচেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
এই ধরনের হীন কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, পুরো বিষয়টি একটি সাজানো ঘটনা। এই ষড়যন্ত্রের মূল হোতা চালক ওবায়দুল্লাহসহ জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।












