সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় ডিসি কাপ ফুটবলের ফাইনালে আশাশুনি উপজেলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ডিসি কাপ ফুটবলের ফাইনালে আশাশুনি উপজেলা

এস এম হাবিবুল হাসান: সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছে আশাশুনি উপজেলা দল। তারা শ্যামনগর উপজেলা ফুটবল দলকে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে সরাসরি ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আগামী ৩০ আগস্ট রোববার মেঘা ফাইনালে তারা কালিগঞ্জ উপজেলা দলের মুখোমুখি হবে।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আশাশুনি উপজেলা একাদশ বনাম শ্যামনগর উপজেলা দলের মধ্যে খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের শ্যামনগর উপজেলা দল বনাম আশাশুনি উপজেলায় দলের মধ্যে দ্বিতীয় সেমিফাইনালের ম্যাচটিও জয়-পরাজয়ের ভাগ্য নির্ধারিত হয় টাইব্রেকারের মাধ্যমে।

আশাশুনি উপজেলা দল টাইব্রেকারে ৪-২ গোলের ব্যবধানে শ্যামনগর উপজেলা দলকে পরাজিত করে ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। মেঘা ফাইনালে তারা কালিগঞ্জ উপজেলা দলের সাথে মুখোমুখি হবে ।

আগামী ৩০ আগস্ট রোববার বিকেলে সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর মেঘা ফাইনাল আশাশুনি উপজেলা দল বনাম কালিগঞ্জ উপজেলা দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে রৌদ্রোজ্জল বিকেলে জেলা স্টেডিয়াম মাঠে জাঁকজমকপূর্ণ দ্বিতীয় সেমিফাইনালের খেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমার্ধের শুরুতে মুহুর মুহুর আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে খেলতে থাকে শ্যামমগর উপজেলা দল এবং আশাশুনি উপজেলা দল। খেলার ২৪ মিনিটের মাথায় শ্যামনগর উপজেলা দলের বিদেশি খেলোয়াড় গিয়াসের ডি-বক্সের মধ্যে থেকে জোরালে আশাশুনি উপজেলার ডিফেন্ডার ফাহিমের মাথায় লেগে বল সরাসরি ডুকে যায় জালে।ফলে আত্মঘাতী গোলে সুবাদে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় শ্যামনগর উপজেলা দল।

 

খেলার ২৬ মিনিটের মাথায় আবারও শ্যামনগর উপজেলার আক্রমণ। হৃদয়ের দুর্দান্ত শর্ট সেভ করেন আশাশুনি উপজেলার গোলরক্ষক জিকে শান্ত। মুহুর মুহুর আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে খেলাটি হয়ে উঠে প্রানবন্ত। দর্শক পরিপূর্ণ সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামের গ্যালারী থেকে প্রতি মূহুর্তে করতালি মাধ্যমে খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করে। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে শ্যমনগর উপজেলা আশায় খেলার ধরনে কিছুটা পরিবর্তন করে। তারা ৪-৩-২-১ থেকে ৪-২-২-২ খেলতে থাকে। অপর দিকে আশাশুনি উপজেলা দল ৪-৪-১-১ খেলতে থাকে। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে আশাশুনি উপজেলা দলের বিদেশি খেলোয়াড় বেনজামার গোলে ১-১ সমতায় ফেরে তারা। প্রথমার্ধের খেলা শেষে শ্যামনগর উপজেলা ১-১ আশাশুনি উপজেলা দল গোলের সমতা নিয়ে বিরতি যান উভয় দল।

মেঘাচ্ছন্ন বিকেলে ১-১ গোলের সমতায় বিরতি থেকে ফিরে শ্যামনগর উপজেলা ও আশাশুনি উপজেলা মাঠে নামে উভয় দল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে খেলতে থাকে উভয় দল। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯ মিনিটের মাথায় আশাশুনি উপজেলার বিদেশি খেলোয়াড় সামসির দুর্দান্ত গোলে ২-১ গোলে এগিয়ে যায়। সে শ্যামনগর উপজেলার গোলরক্ষক আমিরের মাথার উপর দিয়ে বলটি গোলের মধ্যে চলে যায়। খেলাটি ২-১ গোলে চলতে থাকে। একদিকে আশাশুনি উপজেলা দল গোল ব্যবধানে বাড়াতে মরিয়া অন্যদিকে শ্যামনগর উপজেলা দল গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে মহুর মহুর আক্রমণ করে শ্যামনগর উপজেলা দল।

খেলার ৬৫ মিনিটের মাথায় আবারও আক্রমণে আশাশুনি উপজেলা দল। আশাশুনি উপজেলা দলের ১৭ নাম্বার জার্সিধারী রাজুর দৃষ্টি নন্দন গোল অফসাইডের ফাঁদে পড়ে বাতিল হয়ে যায়। খেলার ৬৯ মিনিটের শ্যামনগর উপজেলার কর্নার কিক থেকে বিদেশি খেলোয়াড় গ্যাস গোল করে ২-২ সমতায় ফেরে তারা।

 

খেলায় ২-২ গোলের সমতায় ফিরে গোল ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে যায় উভয় দল।খেলার শেষ মূহুর্তে শ্যামনগর উপজেলা দলের বিদেশি খেলোয়াড় গ্যায়িসের দুর্দান্ত শর্ট গোল বারে লেগে ফিরে আসে। ফলে কোন অঘটন না ঘটায় ২-২ গোলের সমতায় দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শেষ হয়। এরফলে দ্বিতীয় সেমিফাইনালের জয়-পরাজয়ের ভাগ্য নির্ধারিত হয় টাইব্রেকারের মাধ্যমে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোন কোন দলের জয়-পরাজয় নিষ্পত্তি না হওয়ায় রেফারি টাইব্রেকারের সিদ্ধান্ত নেয়। টাইব্রেকারে আশাশুনি উপজেলা দল ৪ টির মধ্যে ৪টি গোল করেন।অপর দিকে শ্যামনগর উপজেলা দল ৪টির মধ্যে ২ টি গোল করতে সক্ষম হয়।

ডিসি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্েেটর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে রেফারি হিসেবে মাঠ পরিচালনা করেন অভিজ্ঞতা সম্পন্ন নাসির উদ্দিন। সহকারী আবু ওয়াহেদ বাবলু ও ওয়াসিউদ্দীন খান বিপুল। চতুর্থ রেফারি হিসেবে ছিলেন নাজমুল। ম্যাচ কমিশনার আতাউর রহমান। এছাড়া মাঠে ধারা বিবরণীতে ছিলেন ওলিউর রহমান, ইসমাইল হোসেন মিলন, শাহাজাহান আলী শাহিন ও আশরাফ হোসেন।

খেলায় ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন আশাশুনি উপজেলার গোলকিপার জি কে শান্ত। সে সমগ্র ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ৮ টির মধ্যে নিশ্চিত গোল ৬ টি ক্লিন শর্ট সেভ করেন।

মেঘা ফাইনাল লাইনআপ :
আগামীকাল ৩০ আগস্ট ফাইনালে- কালিগঞ্জ উপজেলা দল বনাম আশাশুনি উপজেলা দল।

Ads small one

সুন্দরবনে প্রবেশের অপেক্ষায় বনজীবী ও পর্যটকেরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
সুন্দরবনে প্রবেশের অপেক্ষায় বনজীবী ও পর্যটকেরা

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দেওয়া হচ্ছে সুন্দরবনের দুয়ার। আর মাত্র সাত দিন পর সুন্দরবনে প্রবেশ করে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের সুযোগ পাবেন উপকূলীয় এলাকার জেলে ও বাওয়ালিরা। একই সঙ্গে পর্যটকদের জন্যও খুলে দেওয়া হবে সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্রগুলো। ফলে দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকা বনজীবীদের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি।
তবে নিষেধাজ্ঞার সময় উপকূলের বহু পরিবারকে ধারদেনা ও ঋণ করে কিংবা বিকল্প পেশায় যুক্ত হয়ে সংসারের খরচ চালাতে হয়েছে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা এলাকার বাসিন্দা জিন্নাত গাজী বলেন, সুন্দরবন বন্ধ থাকার সময় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। বাধ্য হয়ে এনজিও থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। এখন বন খুলবে, এটাই বড় আশার বিষয়।
বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের নীলডুমুর গ্রামের জেলে রিপন গাজী বলেন, সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরে যারা জীবিকা নির্বাহ করে, তাদের জন্য এই সময়টা খুব কঠিন। ধারদেনা করে দিন পার করতে হয়েছে। বন খুললে আবার আয়-রোজগার শুরু হবে।
এদিকে সুন্দরবন খোলার প্রস্তুতি শুরু করেছে বন বিভাগ। জেলে-বাওয়ালিদের নিরাপদে প্রবেশ, অনুমতিপত্র প্রদান এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও বনজ সম্পদ রক্ষায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সুন্দরবন খুলে দেওয়ার পর জেলে-বাওয়ালিদের বৈধভাবে বনে প্রবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বনদস্যুদের তৎপরতা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। একই সঙ্গে বিষ দিয়ে মাছ ধরা, ক্ষতিকর জাল ব্যবহার ও বন্য প্রাণী শিকার বন্ধে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।
আগামী ১ সেপ্টেম্বরকে সামনে রেখে উপকূলের জেলেদের মধ্যে এখন দারুণ ব্যস্ততা। কেউ নৌকা ও জাল মেরামত করছেন, আবার কেউ দীর্ঘদিনের ঋণের বোঝা লাঘবের আশায় নতুন করে সুন্দরবনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সাতক্ষীরায় ফোর্ব-এর জেলা সমন্বয় সভা ও প্রটোকল উপস্থাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ফোর্ব-এর জেলা সমন্বয় সভা ও প্রটোকল উপস্থাপন

নিজস্ব প্রতিনিধি: দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের অধীন ‘বাংলাদেশ ফোরাম ফর ফোর্ব’-এর জেলা পর্যায়ের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১০টায় সাতক্ষীরা শহরের নাজমুল সরণিস্থ ম্যানগ্রোভ সভাঘরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ফোরাম ফর ফোর্ব সাতক্ষীরার সভাপতি অধ্যাপক পবিত্র মোহন দাশ। অতিথি ছিলেন হাঙ্গার প্রজেক্ট ঢাকার সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শশাঙ্ক বরণ রায় এবং পরিচালনা করেন সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার রুবিনা আক্তার।
সভায় সমাজকর্মী শেখ সিদ্দিকুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ সরকার, রাজনৈতিক নেত্রী ফরিদা আক্তার বিউটি, ধর্মীয় নেতা মাওলানা মাহবুবুর রহমান, নাগরিক নেতা আলি নুর খান বাবুল, অধ্যাপক মহিউদ্দীন আহমেদসহ স্থানীয় প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
সভায় ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক ঘৃণা, মব ভায়োলেন্স ও সহিংসতা প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হয়। এ ছাড়া “ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক ঘৃণা ও সহিংসতা প্রতিরোধ এবং উত্তেজনা প্রশমনের জন্য আগাম সতর্কতা প্রটোকল” শীর্ষক একটি খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলায় একটি ‘র‌্যাপিড রেসপন্স টিম’ গঠনের বিষয়েও সভায় সিদ্ধান্ত হয়।

 

 

দেবহাটায় গড়িয়াডাঙ্গা বিদ্যালয়ের সেতু সংস্কারকাজ উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় গড়িয়াডাঙ্গা বিদ্যালয়ের সেতু সংস্কারকাজ উদ্বোধন

Oplus_131072

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের গড়িয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ভাঙা সেতু সংস্কারকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার বেলা চারটায় এ সংস্কারকাজের উদ্বোধন করেন পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক আলহাজ মাওলানা অলিউল ইসলাম।
দীর্ঘদিন সেতুটি চলাচলের অনুপযোগী থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছিল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
উদ্বোধনকালে মাওলানা অলিউল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের সমস্যা সমাধানও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সে বিবেচনায় সেতুটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ সময় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এইচ এম ইমদাদুল হক, ইউপি সদস্য গোলাম ফারুক হোসেন, সমাজসেবক সোহারাব হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন। সেতু সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত ও মানসম্মতভাবে কাজটি সম্পন্ন করার দাবি জানান।