মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় যুব-তরুণদের ক্ষমতায়ন ও পরামর্শদাতা বিষয়ক কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় যুব-তরুণদের ক্ষমতায়ন ও পরামর্শদাতা বিষয়ক কর্মশালা

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা ইয়ূথ হাবে যুব-নেতৃত্বাধীন যুব তরূণদের ক্ষমতায়ন ও পরামর্শদাতা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল-২০২৬) সকাল ৯ টায় সিডো সাতক্ষীরার বাস্তবায়নে এবং একশনএইড বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালাটি উদ্বোধন ও স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সিডো সংস্থার প্রধান নির্বাহী শ্যামল কুমার বিশ্বাস।

প্রশিক্ষণে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী, ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন ও পৌরসভা এবং তালা উপজেলার ধানদিয়া ও নগরঘাটা ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রুপ হতে ২ জন করে মোট ২৭ জন তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করেন।

দিন ব্যাপী এই কর্মশালার দায়িত্ব পালন করেন ইন্সপেরিটর একশনএইড বাংলাদেশ প্রিয়াংকা সেন মৌ, প্রশিক্ষণের সহায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হৃদয় মন্ডল। উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প সমন্বয়কারী মোঃ তহিদুজ্জামান (তহিদ), প্রোগ্রাম অফিসার চন্দ্রশেখর হালদার, ফাইনান্স অফিসার চন্দন কুমার বৈদ্য।

Ads small one

জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে উপকূলের তরুণদের ‘রোড শো’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০৮ অপরাহ্ণ
জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে উপকূলের তরুণদের ‘রোড শো’

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ভামিয়া ও বনবিবিতলা গ্রামে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় তরুণরা। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি’র পিসিআরসিবি প্রকল্পের সহযোগিতায় ওই এলাকায় একটি ‘রোড শো’ ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

উপকূলীয় এই জনপদে জলাবদ্ধতার কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগের চিত্র সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে এবং প্রশাসনকে সজাগ করতে এই কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় সিসিআরসি’র যুব সদস্যরা।

সকালে ভামিয়া (৮ নম্বর ওয়ার্ড) ও বনবিবিতলা (২ নম্বর ওয়ার্ড) গ্রামের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে তরুণদের রোড শো। এ সময় তাঁরা প্লাকার্ড ও ফেস্টুন হাতে জলাবদ্ধতার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। পরে পদযাত্রাটি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে শেষ হয়, যেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে তাঁদের দাবিগুলো পেশ করা হয়।

তরুণদের এই উদ্যোগে সংহতি জানিয়ে শত শত গ্রামবাসী মিছিলে যোগ দেন। তাঁরা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, যার ফলে কৃষি ও সুপেয় পানির সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

কর্মসূচি শেষে ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মোল্লা। তরুণদের এই সক্রিয়তাকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “জলাবদ্ধতা এই এলাকার মানুষের নিত্যদিনের কষ্ট। সমস্যাটি সমাধানে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।”

সভায় ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাহাতাব উদ্দিন সরদার, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রবিউল ইসলাম এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য মাছুরা খাতুন বক্তব্য দেন। এ ছাড়া সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন, সিসিআরসি’র সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুনসহ স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, যুবসমাজের এই সক্রিয় অবস্থানের ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং উপকূলের এই দুই গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটবে।

 

শার্শায় ডিজেল নিয়ে ‘কারসাজি’, কেজিতে ৩৮ টাকা বেশি দিচ্ছেন কৃষক!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০৬ অপরাহ্ণ
শার্শায় ডিজেল নিয়ে ‘কারসাজি’, কেজিতে ৩৮ টাকা বেশি দিচ্ছেন কৃষক!

শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকার হাটবাজারগুলোতে ডিজেল নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কেজিপ্রতি অনেক বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে। সেচ মৌসুমের এই সময়ে জ্বালানি তেলের এমন চড়া দামে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সরকারি হিসাবে বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০৬ টাকা (সংশোধিত মূল্য অনুযায়ী)। জ্বালানি তেলের ঘনত্ব অনুযায়ী এক কেজি ডিজেলের দাম হওয়ার কথা প্রায় ১৩৭ টাকা। অথচ বাগআঁচড়া ও কায়বা এলাকার মুদিদোকানগুলোতে প্রতি কেজি ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা দরে। অর্থাৎ কেজিপ্রতি কৃষকদের কাছ থেকে প্রায় ৪৩ টাকা (আগের হিসেবে ৩৮ টাকা) অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে।

শার্শার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরা জানান, যাতায়াত খরচ ও দূরত্বের কারণে তাঁরা পাম্পে না গিয়ে হাতের কাছের মুদিদোকান থেকেই ডিজেল কেনেন। এই সুযোগটিই নিচ্ছেন একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। কৃষকদের অভিযোগ, গ্রামের দোকানে যে দাম চাওয়া হয়, সেচ সচল রাখতে বাধ্য হয়েই সেই দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে তাঁদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার দাম কমালো কি বাড়ালো, তাতে আমাদের কোনো লাভ হয় না। গ্রামের দোকানে যে দাম চায়, আমরা সেই দামেই কিনি। এসব দেখার যেন কেউ নেই।”

কায়বা রুদ্রপুর বাজারের মুদি ব্যবসায়ী রফিক কাজী বলেন, “আগে আমরা কম দামে কিনে বিক্রি করতে পারতাম। কিন্তু এখন পাইকারি পর্যায়েই আমাদের চড়া দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে। ফলে ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকার নিচে বিক্রি করার উপায় নেই।” খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি বাজারে সিন্ডিকেটের কারণেই দামের এই অস্বাভাবিক তারতম্য।

অভিযোগ, পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ ও বড় ব্যবসায়ীরা ন্যায্যমূল্যের পরিবর্তে সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট বা দাম বৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি করছে। এতে সাধারণ কৃষকদের পকেট কাটছে একটি চক্র।

এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ বলেন, “সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে ডিজেল বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো ব্যবসায়ী এমন কারসাজিতে লিপ্ত থাকেন, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয় কৃষকরা অবিলম্বে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে এই ‘ডিজেল সিন্ডিকেট’ ভাঙার দাবি জানিয়েছেন।

তালায় ১৫ বছর শিকলবন্দী তরুণীর পাশে দাঁড়ালো উপজেলা প্রশাসন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
তালায় ১৫ বছর শিকলবন্দী তরুণীর পাশে দাঁড়ালো উপজেলা প্রশাসন

শহিন আলম, খলিষখালী (পাটকেলঘাটা): সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামের মোড়লপাড়ায় ২৪ বছর বয়সী মিতু নামের এক তরুণী গত প্রায় ১৫ বছর ধরে পায়ে শিকল ও বেড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছে। এনিয়ে সম্প্রতি “তালায় ১৫ বছর ধরে শিকলবন্দী তরুণী, চিকিৎসা পেলে সুস্থতার আশা” শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।

 

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিস আফরোজা আখতার এর নির্দেশে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রাহাত খান তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. খালিদ হাসান নয়নকে সঙ্গে নিয়ে মিতুর বাড়িতে সরেজমিন পরিদর্শনে যান। এ সময় তারা মিতুর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শন শেষে চিকিৎসক জানান, যথাযথ চিকিৎসা পেলে মিতুর সুস্থ হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এ আশ্বাসে পরিবারের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিতুর মায়ের হাতে কিছু শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ তুলে দেন। পাশাপাশি তিনি মিতুর সম্পূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানোর কথা জানান।