মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে উপকূলের তরুণদের ‘রোড শো’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০৮ অপরাহ্ণ
জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে উপকূলের তরুণদের ‘রোড শো’

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ভামিয়া ও বনবিবিতলা গ্রামে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় তরুণরা। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি’র পিসিআরসিবি প্রকল্পের সহযোগিতায় ওই এলাকায় একটি ‘রোড শো’ ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

উপকূলীয় এই জনপদে জলাবদ্ধতার কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগের চিত্র সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে এবং প্রশাসনকে সজাগ করতে এই কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় সিসিআরসি’র যুব সদস্যরা।

সকালে ভামিয়া (৮ নম্বর ওয়ার্ড) ও বনবিবিতলা (২ নম্বর ওয়ার্ড) গ্রামের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে তরুণদের রোড শো। এ সময় তাঁরা প্লাকার্ড ও ফেস্টুন হাতে জলাবদ্ধতার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। পরে পদযাত্রাটি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে শেষ হয়, যেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে তাঁদের দাবিগুলো পেশ করা হয়।

তরুণদের এই উদ্যোগে সংহতি জানিয়ে শত শত গ্রামবাসী মিছিলে যোগ দেন। তাঁরা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, যার ফলে কৃষি ও সুপেয় পানির সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

কর্মসূচি শেষে ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মোল্লা। তরুণদের এই সক্রিয়তাকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “জলাবদ্ধতা এই এলাকার মানুষের নিত্যদিনের কষ্ট। সমস্যাটি সমাধানে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।”

সভায় ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাহাতাব উদ্দিন সরদার, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রবিউল ইসলাম এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য মাছুরা খাতুন বক্তব্য দেন। এ ছাড়া সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন, সিসিআরসি’র সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুনসহ স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, যুবসমাজের এই সক্রিয় অবস্থানের ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং উপকূলের এই দুই গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটবে।

 

Ads small one

প্রসঙ্গ: কেশবপুরে শিক্ষকসংকটে প্রাথমিক শিক্ষা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ
প্রসঙ্গ: কেশবপুরে শিক্ষকসংকটে প্রাথমিক শিক্ষা

একটি জাতির ভবিষ্যতের ভিত্তি রচিত হয় প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে। কিন্তু যশোরের কেশবপুর উপজেলার ১৫৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান চিত্র আমাদের চরম হতাশ ও উদ্বিগ্ন করে। সেখানে প্রধান শিক্ষকসহ ৮৬টি শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা কেবল প্রশাসনিক জটিলতা নয়, বরং ওই অঞ্চলের হাজার হাজার শিশুর শিক্ষার অধিকার হরণের শামিল।
উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ৩৪টি বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল চালিকাশক্তি হলেন তার প্রধান শিক্ষক। যখন জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়, তখন তাঁর মূল কাজ অর্থাৎ পাঠদান ও তদারকিÑউভয়ই মুখ থুবড়ে পড়ে। এর ওপর আরও ৫২ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণিতে পাঠদান করতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার মান বজায় রাখা কি আদৌ সম্ভব?
গ্রামাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো মূলত সাধারণ ও নি¤œবিত্ত পরিবারের সন্তানদের একমাত্র ভরসা। সেখানে বছরের পর বছর শিক্ষকসংকট চলার অর্থ হলো গ্রাম ও শহরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্যকে আরও উসকে দেওয়া। প্রধান শিক্ষকবিহীন স্কুলগুলোতে প্রশাসনিক স্থবিরতা যেমন বাড়ছে, তেমনি পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঝরে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা কেবল অমূলক নয়, বরং এটি আমাদের রাষ্ট্রীয় অবহেলারই প্রতিফলন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অবসরজনিত কারণে পদগুলো শূন্য হয়েছে এবং তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শিক্ষক অবসর নেবেন—এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। কেন আগে থেকেই বিকল্প জনবল বা নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হলো না? কেন বছরের পর বছর শিশুদের শিক্ষার ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা হবে? আমলাতান্ত্রিক জটিলতার দোহাই দিয়ে শিক্ষার মতো মৌলিক খাতকে অবহেলা করার সুযোগ নেই।
আমরা মনে করি, কেবল লিখিত চিঠি পাঠিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। কেশবপুরের শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে এসব শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়ন করতে হবে। বিশেষ করে যে ৩৪টি স্কুলে অভিভাবকহীনতা (প্রধান শিক্ষক নেই) চলছে, সেখানে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, প্রাথমিক শিক্ষায় এই বিনিয়োগহীনতা বা গাফিলতি আমাদের পুরো ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পঙ্গু করে দিতে পারে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ অবিলম্বে এই সংকটের সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেÑএটাই প্রত্যাশা।

আশাশুনিতে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও পরিকল্পনা অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও পরিকল্পনা অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ঝুঁকি হ্রাস পরিকল্পনা (ডিআরআর-আরআরএপি) প্রকল্পের অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্বিক সহযোগিতায়, জাপান সরকারের আর্থিক সহায়তায়, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এর কারিগরি সহযোগিতায়, বাস্তবায়নে সহযোগি সংস্থা সুশীলন ও ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বাস্তবায়নে কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু। প্রকল্প সমন্বয়কারী ইমরান হোসেনের পরিচালনায় কর্মশালায় আলোচনা রাখেন, ডব্লিউএফপি খুলনা সাব অফিসের হেড আল মামুন আজাদ, খুলনা অফিসের তাছলিমা তামাচ্ছুম, সুশীলনের উপ-পরিচালক মনীর হোসেন, প্রকল্পের মিল কো-অর্ডিনেটর খালিদ মাহমুদ, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অনিন্দ্যদেব সরকার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আতিয়ার রহমান, পিআইও আমিরুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রুমা, অধ্যক্ষ মুজিবর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক দিপঙ্কর বাছাড় দিপু, হাজী আবু দাউদ ঢালী প্রমুখ। কর্মশালায় প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত কার্যক্রমের উপর আলোচনা, প্রতিবন্ধকতা, সমস্যা ও এলাকার সমস্যা তুলে ধরে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়।

শ্যামনগরে সোয়া দুই টন নিষিদ্ধ শামুক আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৫ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে সোয়া দুই টন নিষিদ্ধ শামুক আটক

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয় থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে রাখা সোয়া দুই টন (২২৫০ কেজি) নিষিদ্ধ শামুক ও ঝিনুক জব্দ করেছে পুলিশ ও বন বিভাগ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলা সদরের নকিপুর বাজারে এক যৌথ অভিযানে ৫০ বস্তা ভর্তি এই শামুক জব্দ করা হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকেলে বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জ ও শ্যামনগর থানা পুলিশ কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে অভিযান চালায়। সেখানে বস্তাভর্তি নিষিদ্ধ শামুকগুলো কক্সবাজারে পাঠানোর জন্য রাখা হয়েছিল।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, মো. হানজালা নামের এক ব্যক্তি এসব শামুক কক্সবাজারের নূর আলম নামের এক ব্যক্তির কাছে পাঠানোর জন্য বুকিং করেছিলেন। বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২৬-এর তফসিল অনুযায়ী এসব শামুক ও ঝিনুক আহরণ, পরিবহন ও বাণিজ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
বন কর্মকর্তা আরও জানান, জব্দ করা শামুকগুলো বর্তমানে বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। এই পাচার চেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয়রা জানান, এর আগেও বেশ কয়েকবার শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ও মুন্সিগঞ্জ এলাকা থেকে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ শামুক ও ঝিনুক জব্দ করেছিল বন বিভাগ। একটি অসাধু চক্র সুন্দরবন ও সংলগ্ন এলাকা থেকে এসব প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচার করে আসছে, যা উপকূলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য চরম হুমকি।