বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় শিশুশ্রম বন্ধে কঠোর হওয়ার আহ্বান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় শিশুশ্রম বন্ধে কঠোর হওয়ার আহ্বান

oplus_0

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলার ইটভাটাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিশুশ্রম রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। রবিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা শিশুশ্রম পরিবীক্ষণ কমিটির এক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসন এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, খুলনার যৌথ উদ্যোগে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল।
সভায় বক্তারা বলেন, শিশুশ্রম নির্মূলে কেবল আইন যথেষ্ট নয়, বরং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে ধর্মীয় উপাসনালয়-মসজিদ ও মন্দিরের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। শিশুদের কাজে না পাঠিয়ে স্কুলে পাঠাতে অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় কর্মজীবী শিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন ইউনিয়নে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে এবং দেবহাটা উপজেলায় কর্মরত শিশুদের বেসরকারি সংস্থা ‘সুশীলন’-এর মাধ্যমে পুনর্বাসন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর খুলনার সহকারী মহাপরিদর্শক মো. শাহিনুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন একই দপ্তরের উপমহাপরিদর্শক সানতাজ বিল্লাহ, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাফিউল ইসলাম, জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. জাহারুল ইসলাম টুটুল ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইয়েদুর রহমান মৃধা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার, সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোজাফফর উদ্দীন, সাতক্ষীরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অপু হালদার এবং সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান প্রমুখ। সভায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং জেলা থেকে শিশুশ্রম নির্মূলে সমন্বিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

Ads small one

হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৯ মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৯ মৃত্যু

দেশের হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার ২৫ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত) ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময় নিশ্চিত হামে কেউ মারা যায়নি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হামে রোগীর সংখ্যা ৮৯৩ জন। আর নিশ্চিত হাম শানাক্ত হয়েছে ৫২ জনের।

গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ৮০ হাজার ৪৯৭ জন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন ৭৬ হাজার ৭৮৮ জন।

১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৬০৫। এ সময় নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ জনের।

 

দেবহাটায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা

দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইফুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলিম।

সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আশফাক হোসেন, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আর. কে. বাপ্পা, দেবহাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর খায়রুল আলম, সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ বোস্তামি উজ্জ্বল, রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক কে. এম. রেজাউল করিম, উপজেলা ইমাম সমিতির সভাপতি হাফেজ মাওলানা আব্দুস সাত্তার এবং আশার আলোর প্রতিনিধি আব্দুল গনি। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুলের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে সকল শিশুকে নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য অভিভাবকদের সচেতন করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

 

আশাশুনির জলাশয়ে বিলুপ্তপ্রায় শাপলা ফুল: হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
আশাশুনির জলাশয়ে বিলুপ্তপ্রায় শাপলা ফুল: হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য

আশাশুনি সংবাদদাতা: একসময় সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বিল, খাল, পুকুর ও জলাশয়গুলোতে শাপলা ফুলের বাহার ছিল চোখে পড়ার মতো। বর্ষা এলেই ফুটে উঠতো সাদা, লাল ও বেগুনি রঙের শাপলা, যা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, গ্রামীণ জীবনের এক আবেগময় অংশ হিসেবেই পরিগণিত ছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আশাশুনির সেই অপরূপ দৃশ্য ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।

 

জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত আধুনিকায়ন, জলাশয় ভরাট, রাসায়নিক বর্জ্য এবং অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহারের ফলে আজ বিলুপ্তির পথে প্রাকৃতিক জলজ উদ্ভিদ শাপলা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় গ্রামের শিশুরা সকাল সকাল শাপলা তুলতে পুকুরে যেত। মায়েরা রান্নার উপকরণ হিসেবে শাপলার ডাটা সংগ্রহ করতেন। শাপলার শিকড় (ঢ্যাঁড়শের মতো অংশ) ছিল গ্রামীণ পুষ্টিকর খাদ্য, যা পেটের নানা রোগের ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হতো।

বিশেষ করে প্রতিটি গ্রামে পুকুরঘাট, বিল বা খালের ধারে বসে শাপলা ফোটা দেখার যে অপার আনন্দ ছিল তা আজ শহুরে যান্ত্রিকতার ভিড়ে চাপা পড়ে যাচ্ছে। আশাশুনির বড়দল, খাজরা, বুধহাটা, কাদাকাটি, আনুলিয়া, শ্রীউলা, প্রতাপনগরসহ অনেক এলাকায় এখন আর আগের মতো শাপলা দেখা যায় না।উপজেলা কৃষি ও পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, শাপলা শুধু একটি ফুল নয় এটি একটি জীববৈচিত্র্যবান এলাকার পরিচায়ক।

 

এটি জলাশয়ের স্বাস্থ্যবিধান রক্ষা করে এবং ছোট মাছের আশ্রয়স্থল হিসেবেও কাজ করে। ফলে শাপলা বিলুপ্ত হওয়া মানে শুধু ফুল হারানো নয়, একটি জীববৈচিত্র্যগত ভারসাম্যের বিপর্যয়ও। আশাশুনি সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সজল কুমার আঢ্য মনে করছেন, শিক্ষার্থী ও তরুণদের প্রকৃতি চেনাতে হলে, গ্রামীণ সৌন্দর্য টিকিয়ে রাখতে হলে স্থানীয় জলজ উদ্ভিদ সংরক্ষণে পদক্ষেপ নিতে হবে।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে বিল ও খাল পুনরুদ্ধার, রাসায়নিক দূষণ রোধ এবং শাপলা সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।পরিবেশবান্ধব আশাশুনি গড়তে হলে প্রকৃতির এই নিঃশব্দ ধ্বংস ঠেকাতে কার্যকর নীতিমালা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।