শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় সাংবাদিকদের সাথে নবাগত পুলিশ সুপারের মতবিনিময় 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় সাংবাদিকদের সাথে নবাগত পুলিশ সুপারের মতবিনিময় 

এসএম শহীদুল ইসলাম: ​সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের আয়োজনে জেলার নবাগত পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে এক সৌজন্য ও পরিচিতি সভায় মিলিত হয়েছেন। ‘শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, প্রগতি’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে জেলা পুলিশের কার্যালয়ে শনিবার (১৬ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় এই সভার আয়োজন করা হয়।

​সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পুলিশের ভূমিকার পাশাপাশি সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচনায় আসে।

​নবাগত পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “পুলিশ এবং সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করেন। সমাজ থেকে অপরাধ দূর করতে এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই পক্ষের মধ্যে সুসম্পর্ক ও সমন্বয় থাকা জরুরি।” তিনি জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়নে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

​সভায় উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ নবাগত পুলিশ সুপারকে স্বাগত জানিয়ে জেলার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা, মাদক চোরাচালান রোধ এবং সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের কার্যকর ভূমিকার ওপর জোর দেন তাঁরা।

oplus_0

​মতবিনিময় সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় মূলত তিনটি প্রধান স্তম্ভের ওপর আলোকপাত করা হয়। তা হলো—জেলার ট্রাফিক ও সাধারণ নাগরিক জীবনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি করা। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল জোরদার এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে পুলিশি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে একটি প্রগতিশীল জেলা গড়ে তোলা।

পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম বলেন— ​”পুলিশের দরজা সাধারণ মানুষের জন্য সবসময় খোলা থাকবে। আমরা চাই সাতক্ষীরা জেলাকে একটি নিরাপদ ও শান্তিময় জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে। সাতক্ষীরার ২৩ লক্ষ মানুষের শান্তির মঞ্জিল হিসেবে সাতক্ষীরাকে গড়ে তুলতে চাই। কেউ দলীয় পরিচয়ে অপরাধ করলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না। আইনের শাসন জনগণের দোর গোড়ায় পৌঁছে দিতে পুলিশ প্রস্তুত। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, তাঁর দরজা সব সময় খোলা আছে।”  তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের চোখে আমরা পৃথিবী দেখি। তাই পুলিশ-পাবলিক-প্রেস এই তিনটির সমন্বয় অতীব জরুরী।” ​সভা শেষে নবাগত পুলিশ সুপার জেলার সকল গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান এবং আগামী দিনগুলোতে সাতক্ষীরার উন্নয়নে একসাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অর্থ) এস এম রাজু আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মিথুন সরকার, ডি আই-১ আব্দুল আলিমসহ পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তারা।

সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিনিধি কল্যাণ ব্যানার্জি, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি  আবুল কাশেম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, সাবেক সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম কামরুজ্জামান, সাংবাদিক অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহী, আব্দুল ওয়ারেশ খান চৌধুরী, রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী, বরুণ ব্যানার্জি, আবু তালেব, আবুল কালাম, গাজী ফরহাদ, আব্দুস সামাদ, এসএম বিপ্লব হোসেন, আবু সাইদ প্রমুখ।

এসম সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকরা পুলিশ সুপারের কাছে সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরে বলেন— মাদক, সন্ত্রাস, অনলাইন জুয়া, চুরি, ডাকাতি, খুন, নারী ও শিশু পাচার, কাউন্টার মামলা, হয়রানিমূলক মামলা, মামলার তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতা, তদন্তে দুর্বলতা, পুলিশের নিকট থেকে সময়মত তথ্য না পাওয়া, থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া, জেল পলাতক আসামী গ্রেপ্তার না হওয়া, ভূমি দস্যু, বনদস্যু, পাচার ও পাচারকারী আইনের আওতায় না আসা, ট্রাফিক সেবা সঠিকভাবে না পাওয়াসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত সাতক্ষীরা জেলা। এসব সমস্যাগুলো বিবেচনায় নিয়ে তা সমাধানের দাবি জানান বক্তারা। পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শোনেন এবং সমস্যাগুলো সকলের সহযোগিতা নিয়ে সমাধানের আশ্বাস দেন।

Ads small one

কয়রায় অনূর্ধ্ব-১৪ চ্যাম্পিয়ন ফুটবল দলকে সংবর্ধনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ণ
কয়রায় অনূর্ধ্ব-১৪ চ্যাম্পিয়ন ফুটবল দলকে সংবর্ধনা

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: নতুন কুঁড়ি অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবল প্রতিযোগিতায় জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে খুলনার কয়রা উপজেলা দল। এই সাফল্য উদ্যাপনে দলটিকে জমকালো সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে কয়রা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে মদিনাবাদ সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী। খেলাধুলা তরুণ সমাজকে মাদক ও অনলাইন জুয়া থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে উল্লেখ করে তিনি ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
কয়রা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি মো. আলাউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের টিম ম্যানেজার মেসবাহ উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কপোতাক্ষ ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবম আব্দুল মালেক, খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য এমএ হাসান, কয়রা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রধান কোচ এস এম শফিকুল ইসলাম, ক্লাবের উপদেষ্টা শহীদ সরোয়ার, ডেল্টা লাইফের ইনচার্জ আলিউজ্জামান তাইজুল ও দলীয় অধিনায়ক রিফাত আজম। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড়দের হাতে মেডেল ও জার্সি তুলে দেওয়া হয়।

পিআইবির মাল্টিমিডিয়া, ফ্যাক্ট চেক ও এআই প্রশিক্ষণ: সময়ের এক জরুরি পদক্ষেপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
পিআইবির মাল্টিমিডিয়া, ফ্যাক্ট চেক ও এআই প্রশিক্ষণ: সময়ের এক জরুরি পদক্ষেপ

আজহারুল ইসলাম সাদী

প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উৎকর্ষের এই যুগে সংবাদমাধ্যমের কাজের পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ও গুজবের ভিড়ে বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখা এখন সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। এমন এক প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) ও তথ্য এবং সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে দেশব্যাপী চলমান ‘মাল্টিমিডিয়া, ফ্যাক্ট চেক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)’ বিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

প্রযুক্তির এই সময়ে শুধু প্রথাগত সাংবাদিকতার ওপর নির্ভর করে টিকে থাকা কঠিন। সময়ের দাবি মেনে পিআইবির এই আয়োজনে মূলত আধুনিক সাংবাদিকতার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গÑমাল্টিমিডিয়া, ফ্যাক্ট চেকিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

আজকের দিনে ‘মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা’ হলো সংবাদ পরিবেশনের এমন এক সমন্বিত রূপ, যেখানে লেখার পাশাপাশি ছবি, ইনফোগ্রাফিক্স, অডিও ও ভিডিওর মতো একাধিক মাধ্যমকে ব্যবহার করে সংবাদকে আরও আকর্ষণীয় ও গ্রহণযোগ্য করে তোলা হয়। একজন মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকের কাজ শুধু মাঠ থেকে তথ্য আনা নয়, বরং অডিও-ভিডিও এডিটিং ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উপযোগী কনটেন্ট তৈরি করা।
একইভাবে, যেকোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই বা ‘ফ্যাক্ট-চেকিং’ এখন সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাঁচা তথ্য সংগ্রহ করার পর তা অপতথ্য বা বিভ্রান্তিকর কি না, তা যাচাই-বাছাই এবং বিশ্লেষণ শেষে জনবান্ধব সংবাদ হিসেবে রূপান্তর করার সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়াই হলো প্রকৃত সাংবাদিকতা।

অন্যদিকে, সংবাদকক্ষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর প্রবেশ ঘটছে দ্রুত গতিতে। তথ্য অনুসন্ধান, বিশাল ডেটা বিশ্লেষণ, কনটেন্ট তৈরি ও সম্পাদনা থেকে শুরু করে ছবির সত্যতা যাচাই—সবখানেই এখন এআই টুলের ব্যবহার বাড়ছে। তবে এআই যেমন কাজকে সহজ করেছে, তেমনি এর অপব্যবহারের মাধ্যমে তৈরি ‘ডিপফেক’ বা ভুয়া তথ্যের বিস্তার বিশ্বজুড়ে বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফলে সাংবাদিকতায় এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নৈতিক মানদ- ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার বিষয়টিও এই প্রশিক্ষণে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।

এই ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ২৩ থেকে ২৫ জুন সাতক্ষীরা জেলায় তিন দিনব্যাপী এক কর্মশালার আয়োজন করা হয়, যেখানে জেলার ৭০ জন সাংবাদিক অংশ নেন। এই আয়োজনে সাংবাদিকদের আধুনিক সাংবাদিকতার বিভিন্ন কৌশলের ওপর বাস্তবমুখী ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

কর্মশালাটিতে প্রশিক্ষক হিসেবে অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বরা দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন চ্যানেল ২৪-এর অনুষ্ঠান পরিচালক ও উপস্থাপক (আরটিভি ও একুশে টেলিভিশনের সাবেক সিনিয়র রিপোর্টার) মো. জুলহাস কবীর, পিআইবির প্রশিক্ষক সাহানোয়ার সাইদ শাহীন, ‘হুম বাংলাদেশ’-এর ফ্যাক্ট চেকার ও এআই বিশেষজ্ঞ আলী আকবর (তাওসিফ আকবর) এবং দৈনিক ইত্তেফাকের রাজনৈতিক ও নির্বাচনবিষয়ক সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান।

তিন দিনের এই সফল প্রশিক্ষণ শেষে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিব।
ডিজিটাল মাধ্যমের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী সাংবাদিকতার ধারা অব্যাহত রাখতে পিআইবির এই সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ সাংবাদিকদের পেশাগতভাবে আরও সমৃদ্ধ ও সচেতন করে তুলবেÑএটাই এখন সবার প্রত্যাশা।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট

ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপেই নবজাতকের জন্ম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপেই নবজাতকের জন্ম

চারদিকে ধ্বংসস্তূপ, স্বজন হারানোর আহাজারি আর উদ্ধারকর্মীদের মরিয়া ছুটে চলা। এমন ভয়াবহ এক দুর্যোগের মধ্যেই জন্ম নিয়েছে এক নবজাতক। শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় শোকের আবহে এই শিশুর জন্ম যেন এক টুকরো আশার আলো।
এদিকে জোড়া ভূমিকম্পের কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও এখনও থামেনি উদ্ধার অভিযান। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিত মানুষের সন্ধানে দিন-রাত এক করে কাজ করছেন দেশি-বিদেশি উদ্ধারকর্মীরা। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে নিহতের সংখ্যা। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৯২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন তিন হাজার ৩৬০ জনেরও বেশি, আর এখনও ১৭২ জন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট ও রয়টার্স জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত একটি এলাকার ধ্বংসস্তূপের পাশে আশ্রয় নেওয়া এক অন্তঃসত্ত্বা নারী একটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।

উদ্ধারকর্মীরা জানান, চারদিকে যখন ধ্বংসস্তূপ থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছিল, ঠিক সেই সময় নবজাতকের প্রথম কান্না উপস্থিত সবার চোখে জল এনে দেয়। অনেকেই শিশুটিকে দুর্যোগের মধ্যেও জীবনের জয়ের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই নবজাতকটিকে ‘আশার প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। উদ্ধারকর্মীরাও বলেছেন, এমন একটি মুহূর্ত তাদের ক্লান্তি কিছুটা হলেও ভুলিয়ে দিয়েছে।

ভেনেজুয়েলায় কয়েকদিন আগে আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৯২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন তিন হাজার ৩৬০ জনের বেশি এবং এখনও ১৭২ জন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, ৫০ হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সহায়তা জোরদার করতে ইতোমধ্যে এক হাজার ৬০০ জনের বেশি-বিদেশি উদ্ধারকর্মী ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছেন। বিভিন্ন দেশ থেকে ১৭টি উদ্ধারকারী ফ্লাইট দেশটিতে অবতরণ করেছে এবং আরও কয়েকটি ফ্লাইট পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাস ও উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল। বহু বহুতল ভবন, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। হাজারো পরিবার রাতারাতি হারিয়েছে তাদের স্বজন, ঘর-বাড়ি এবং জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ।

উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা কমে এলেও তারা আশা ছাড়ছেন না। ধ্বংসস্তূপের প্রতিটি ইট-পাথর সরিয়ে জীবনের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায় কিনা, সেই চেষ্টা চলছে অবিরাম।

একদিকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসছে নিথর দেহ, অন্যদিকে একই ধ্বংসস্তূপের পাশে জন্ম নেওয়া একটি নবজাতক মনে করিয়ে দিচ্ছে—সব হারিয়েও জীবন থেমে থাকে না। ভেনেজুয়েলা এখন শোক, বেদনা ও আশার এক কঠিন অধ্যায় অতিক্রম করছে।