গুণী চিত্রশিল্পীদের স্মরণে খুলনা আর্ট একাডেমিতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ২১শে এপ্রিল বিশেষ দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ২১টি মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে শিল্পীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং তাঁদের সুস্বাস্থ্য ও সার্বিক মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করা হয়।
খুলনা মহানগরীর ৩৬, আয়েশা কটেজ, ইকবাল নগরে অবস্থিত খুলনা আর্ট একাডেমিতে ২০১৫ সালে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত প্রতিথযশা ও স্বনামধন্য শিল্পীরা পরিদর্শনে আসেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শিল্পী রফিকুন নবী, সমীর দত্ত, মোস্তাফিজুল হক, শামসুদ্দোহা, নিসার হোসেন, শেখ আফজাল হোসেন, শিশির ভট্টাচার্য, সিলভিয়া নাজনীন, বিমানেশ চন্দ্র এবং তরিকত ইসলাম।
সেই স্মরণীয় ঘটনাকে কেন্দ্র করেই প্রতিবছর ২১শে এপ্রিল দিনটি বিশেষভাবে পালন করে আসছে একাডেমি।এ বছরের আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল থেকে আগত রতন বেপারী ও সুলতা হালদার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন খুলনা আর্ট একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস, একাডেমির সদস্য সৌহার্দ্য বিশ্বাস ও সম্প্রীতি বিশ্বাস।
এ সময় চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস জানান, তিনি যতদিন এই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করবেন, ততদিন শিল্পগুরুদের স্মরণে এই বিশেষ দিনটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করে যাবেন। তিনি আরও বলেন, শিল্পগুরুদের ছবি সামনে রেখে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি যে জ্ঞান শিল্পগুরুদের কাছ থেকে অর্জন করেছেন, তা নবীন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, খুলনা আর্ট একাডেমির চারুকলা ভর্তি কোচিং থেকে ইতোমধ্যে ২৩০ জন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে এবং অসংখ্য শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ড্রইং শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত হয়েছেন। এটিকেই তিনি তাঁর জীবনের পরম প্রাপ্তি বলে মনে করেন এবং এই সাফল্যের পেছনে শিল্পগুরুদের আশীর্বাদকেই মূল শক্তি হিসেবে দেখেন।
তিনি আরও বলেন, আর্ট কলেজ থেকে যে শিল্পীর আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করে তাঁর শিল্পজীবনের যাত্রা শুরু, তিনি হলেন ভাস্কর শেখ সাদী ভূঁঞা। যিনি ২০২৪ সালে পরলোকগমন করেন। তাঁর আদর্শ ধারণ করেই তিনি শিল্পচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং যতদিন শিল্পচর্চা করবেন, ততদিন এই গুণীজনদের স্মরণে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করবেন। তার সঞ্চিত শিক্ষা বিনা অর্থে খুলনার সিইউসি স্কুলের সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের সপ্তাহে একদিন ছবি আঁকার প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন এতে মনে করেন তার শিল্প সাধনার সার্থকতা খুঁজে পায়।
সর্বশেষে, তিনি তাঁর পিতা-মাতা ও সকল শিল্পগুরুকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে সকলের কাছে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন যেন তিনি তাঁর শিল্প সাধনার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে চির অমর হয়ে থাকতে পারেন। সকলের জন্য সুস্থতা প্রার্থনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি