বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি ধানের দামে ধস, দুশ্চিন্তায় সাতক্ষীরার কৃষকরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ণ
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি ধানের দামে ধস, দুশ্চিন্তায় সাতক্ষীরার কৃষকরা

ইব্রাহিম খলিল: উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় চলতি বোরো মৌসুমে ধান আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেলেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং বাজারে ধানের দামে ধস এই দুই চাপে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। ফলে একদিকে রেকর্ড উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হলেও অন্যদিকে উৎপাদন খরচ ও কম দামের কারণে লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে কৃষক পর্যায়ে।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৮০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৮২ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমিতে। অতিরিক্ত আবাদ মূলত ঘের এলাকার সম্প্রসারণের মাধ্যমে হয়েছে। সাতক্ষীরা আশাশুনি প্রতাপনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় এই অতিরিক্ত চাষাবাদ লক্ষ্য করা গেছে। তবে মাঠপর্যায়ের কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন ভালো হলেও সেচ, জ্বালানি ও বাজারদরের অস্থিরতায় লাভের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার রইচপুর গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, জমিতে ঠিকমতো পানি না দিলে ধান ভালো হয় না। কিন্তু বিদ্যুৎ ঠিকমতো পাওয়া যায় না, আবার ডিজেলও ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। লাইনে দাঁড়িয়ে কম জ্বালানি নিতে হচ্ছে, অনেক জায়গায় আবার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সারাদিন একটু করে কারেন্ট দেয়, আবার বন্ধ হয়ে যায়। এতে সেচ ঠিকমতো দেওয়া যায় না। ৪০ বছর ধরে চাষ করি, কিন্তু এখন সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছি।

মন্টুমিয়ার বাগানবাড়ি এলাকার কৃষক লিটন বাবু বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে ঠিকমতো পানি তুলতে পারছি না। রাতে পানি তুলতে গেলে অনেক সময় বিদ্যুৎ থাকে না। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সেচ আরও কঠিন হয়ে গেছে।

সাতক্ষীরার খড়িবিলা এলাকার কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, আমি ১১ বিঘা জমিতে ধান চাষ করি। কিন্তু এ বছর খরচের তুলনায় দাম একেবারেই কম। প্রতি বিঘায় রোপণ খরচ প্রায় ২৫০০ টাকা, সার, বিদ্যুৎ বিল, ঘাস পরিষ্কার ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে লাভ তো দূরের কথা, কোনো মতে সমান থাকবে। তিনি আরও বলেন, এক বিঘা জমির লিজ দিতে লাগে ২০ হাজার টাকা। আমার ১১ বিঘায় শুধু লিজ বাবদই প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সব খরচ বাদ দিলে কোনো লাভ থাকবে না।

কৃষকদের অভিযোগ, গত বছর যেখানে প্রতি বস্তা ধান ২৩০০ থেকে ২৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেখানে এবার তা নেমে এসেছে ১৬০০ থেকে ১৭০০ টাকায়। এতে উৎপাদন খরচই তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

তাদের দাবি, সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ধানের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ না হলে ভবিষ্যতে অনেক কৃষক চাষাবাদ থেকে সরে যেতে বাধ্য হবেন।

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “সাতক্ষীরা একটি খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা। এখানে আউশ, আমন ও বোরো এই তিন মৌসুমেই ধান উৎপাদন হয়। এ বছর ফসল অত্যন্ত ভালো হয়েছে। আমরা যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলাম, তার চেয়েও বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে। আমরা আশা করছি, সামগ্রিক উৎপাদনও ভালো হবে।

তিনি আরও বলেন, তেল ও জ্বালানি সংকটের যে কথা বলা হচ্ছে, বাস্তবে এর তেমন বড় প্রভাব পড়বে না। কারণ ৫ থেকে ৬ দিনের বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা অনেক এলাকায় সেচের চাপ কমিয়েছে। যেসব এলাকায় সমস্যা রয়েছে, সেখানে আমাদের কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে মাঠে কাজ করছেন।

 

 

 

Ads small one

পাইকগাছায় বিশ্ব ধরিত্রী দিবস পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় বিশ্ব ধরিত্রী দিবস পালিত

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: বিশ্ব ধরিত্রী দিবস উপলক্ষে পাইকগাছায় বনবিবির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২২ এপ্রিল বুধবার বেলা ১১টায় পাইকগাছার নতুন বাজারস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সাংবাদিক ও কলামিস্ট প্রকাশ ঘোষ বিধান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, নতুন বাজার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ এর সভাপতি অশোক কুমার ঘোষ। বিশেষ অতিথি ছিলেন, সপ্তদ্বীপা সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি মাধুরী রানী সাধু, সাংবাদিক আহম্মদ আলী বাঁচা। বক্তব্য রাখেন, লিনজা আক্তার মিথিলা, মরিয়াম, মিতু সেন, মরিয়াম সুলতানা, জান্নাতুল, জয়নাব, গনেশ দাস, কার্তিক বাছাড় প্রমুখ।

আলোচনা সভায় বক্তরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবী অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে, পৃথিবী না থাকলে মানুষের জীবন অস্তিত্বহীন। পৃথিবীকে তার স্বাভাবিক গতিতে চলতে দিতে হবে। অতিলোভী মানুষ প্রকৃতির সম্পদের অপব্যবহার করেছে। তাতে জনজীবন দুর্বিষহ অবস্থায় পড়েছে। ধরিত্রী আমাদের মায়ের মতন আগলে রেখেছে। তাই পৃথিবী রক্ষার দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে।

শ্রীলঙ্কার কাছে হারল বাংলাদেশের মেয়েরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
শ্রীলঙ্কার কাছে হারল বাংলাদেশের মেয়েরা

স্পোর্টস ডেস্ক: তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে হেরে সমতায় নেমে এসেছে বাংলাদেশ নারী দল। রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৪ উইকেটে পরাজিত হয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। ফলে সিরিজ এখন ১-১ সমতায়। আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হবে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচ।

 

১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। ওপেনার হাসিনি পেরেরা ৫ রান করে বিদায় নেন। ইমেশা দুলানি করেন ৮ রান। তবে ওপেনার ও অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন। ৩৯ বলে ৮টি চারে ৪০ রান করেন তিনি।

 

ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় চতুর্থ উইকেটে হারশিথা সামারাবিক্রমা ও হানসিমা করুনারত্নের ৭৭ রানের জুটিতে। করুনারত্নে ৪০ ও সামারাবিক্রমা ৫০ রান করে আউট হলেও জয়ের ভিত গড়ে দেন তারা। কৌশানি ৪ রান করে ফেরেন। পরে কাভিশা ও নীলাক্ষী দলকে জয় এনে দিয়ে মাঠ ছাড়েন।

বাংলাদেশের হয়ে নাহিদা আক্তার সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নেন। এছাড়া সুলতানা খাতুন ও রিতু মনি একটি করে উইকেট শিকার করেন।

 

এর আগে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। কিন্তু শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে দল। মাত্র ৪ রানে জুয়াইরিয়া ফেরদৌস (২) ও শারমিন আক্তার (০) আউট হয়ে যান।

 

একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই করেন অধিনায়ক জ্যোতি। ১০১ বলে ৪টি চারে ৫৮ রান করে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন তিনি। শারমিন সুলতানা ২৫, স্বর্ণা আক্তার ১৬, রিতু মনি ১৭, নাহিদা আক্তার ২০ ও রাবেয়া খান ১৫ রান করে কিছুটা অবদান রাখেন। এছাড়া সোবহানা মোস্তারি ৫, মারুফা আক্তার ১ ও সুলতানা খাতুন ১ রান করেন।

 

শেষ পর্যন্ত ১৬৫ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার পক্ষে অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন। এছাড়া আরও তিন বোলার দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

 

এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ, শুরু ২ জুলাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ, শুরু ২ জুলাই

অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হয়ে পরীক্ষা শেষ হবে ৮ আগস্ট।

বুধবার (২২ এপ্রিল) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল উদ্দীন হায়দারের সইয়ে এ রুটিন প্রকাশ করা হয়। বিশেষ প্রয়োজনে বোর্ড কর্তৃপক্ষ এ সময়সূচি পরিবর্তন করতে পারবে বলে রুটিনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, প্রথমদিনে বাংলা প্রথমপ্রত্র (আবশ্যিক) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আর ৮ আগস্ট শেষ দিন ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা হবে। নির্ধারিত দিনে সকাল ১০টায় শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা চলবে।

আবার দ্বিতীয় শিফটে বিকেল ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা চলবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার কক্ষে পরীক্ষার্থীদের আসন গ্রহণ করতে হবে।

পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রথমে বহুনির্বাচনি ও পরে সৃজনশীল, রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ৩০ নম্বরের বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় ৩০ মিনিট এবং ৭০ নম্বরের সৃজনশীল (সিকিউ) পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।