রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় ‘উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’Ñএই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের সহযোগিতায় এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার বলেন, “বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান ও উদ্ভাবনী চিন্তায় এগিয়ে আসতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের মেলার মাধ্যমেই গবেষণামুখী নতুন প্রজন্ম তৈরি হবে, যারা ভবিষ্যতে দেশের সেরা বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদ হিসেবে আবির্ভূত হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল নৈতিকতা ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে বিজ্ঞান চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু গ্রামগঞ্জের শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে সমান সুযোগ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানান। একইসাথে তিনি সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ও সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় মাদক গ্রহণ থেকে বিরত রাখতে কঠোর তদারকির আহ্বান জানান।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিনুর রহমান চৌধুরী তরুণ প্রজন্মকে অপরাধমুক্ত ও সৃজনশীল কাজে নিয়োজিত রাখতে বিজ্ঞান চর্চাকে একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে অভিহিত করেন। শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে দেবহাটার বহেরা এ.টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মুমতাহিনা এবং সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের আবরার আশিক তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে জানায়, এই মেলা তাদের আত্মবিশ্বাস ও উদ্ভাবনী অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার আফরিন সিদ্দীকার সঞ্চালনায় মেলায় জেলার বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, তালার সমকাল মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠ, কলারোয়ার বেগম খালেদা জিয়া মহাবিদ্যালয় ও গার্লস পাইলট হাইস্কুল, আশাশুনির সরাপপুর ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দেবহাটার হাজী কিয়ামউদ্দীন মেমোরিয়াল মহিলা কলেজ ও বহেরা এ.টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

মেলায় শিক্ষার্থীরা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, ভূমিকম্প সতর্ককারী যন্ত্র, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ক নানা উদ্ভাবনী মডেল প্রদর্শন করে। দর্শনার্থীদের ভিড়ে মেলা প্রাঙ্গণ ছিল মুখর। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা তৈরি করে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

Ads small one

শুল্কের চাপে যুক্তরাষ্ট্রে কমছে বাংলাদেশি পোশাকের দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ণ
শুল্কের চাপে যুক্তরাষ্ট্রে কমছে বাংলাদেশি পোশাকের দাম

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পোশাকের বাজার যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে পোশাক আমদানিতে বড় ধরনের সংকোচন দেখা দিয়েছে। জানুয়ারি থেকে জুলাই ২০২৬ সময়ে দেশটির পোশাক আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে ৪১ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে আমদানির পরিমাণ কমেছে ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। তবে আমদানি করা পোশাকের গড় একক মূল্য সামান্য বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ।

এই সংকুচিত বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান চীন ও ভারতের তুলনায় তুলনামূলকভাবে ভালো হলেও পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই পোশাক খাত। সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি কমেছে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। আরও উদ্বেগের বিষয়, শুধু জুলাইয়ে রফতানি কমেছে ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। অর্থাৎ বছরের প্রথম সাত মাসের গড় পতনের তুলনায় জুলাইয়ে বাংলাদেশের রফতানি কমেছে আরও দ্রুত হারে।

যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির সর্বশেষ সাত মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। দেশটির বাণিজ্য বিভাগের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা) থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ ও সংকলন করেছে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস (বিএভি)।

সংকুচিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাকের বাজার

ওটেক্সার তথ্য বলছে, জানুয়ারি-জুলাই ২০২৫ সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ৪৫ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছিল। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪১ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশটির পোশাক আমদানি কমেছে প্রায় ৩ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার।

আমদানির পরিমাণের হিসাবেও বড় পতন হয়েছে। গত বছরের প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১৪ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন বর্গমিটার সমতুল্য পোশাক আমদানি করেছিল।

চলতি বছর তা কমে হয়েছে প্রায় ১৩ দশমিক ২০ বিলিয়ন বর্গমিটার সমতুল্য। অর্থাৎ পরিমাণের হিসাবে পতন হয়েছে ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ।

অন্যদিকে গড় একক আমদানি মূল্য ৩ দশমিক ১৪ ডলার থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ১৭ ডলারে উঠেছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে কম পরিমাণে পোশাক ঢুকলেও আমদানিকারকরা গড়ে সামান্য বেশি দামের পোশাক কিনেছেন।

এতে বোঝা যায়, বাজারের মূল চাপটি মূলত চাহিদা ও আমদানির পরিমাণে। সামগ্রিক বাজারে পোশাকের গড় মূল্য কিছুটা বাড়লেও আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে নতুন ক্রয়াদেশ ও ভোগের প্রবাহ আগের তুলনায় দুর্বল হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশেও কমেছে রফতানি

যুক্তরাষ্ট্রের বাজার সংকুচিত হওয়ার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের ওপরও। জানুয়ারি-জুলাই ২০২৫ সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি করেছিল। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে হয়েছে ৪ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার।

অর্থাৎ সাত মাসে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি কমেছে প্রায় ৩২৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার বা ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।

তবে সামগ্রিক বাজারের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশের পতন তুলনামূলকভাবে কম। যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি যেখানে ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমেছে, সেখানে বাংলাদেশ থেকে আমদানি কমেছে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ বাজার সংকুচিত হলেও বাংলাদেশের রফতানি পতন বাজারের সামগ্রিক পতনের চেয়ে কম।

কিন্তু জুলাইয়ের তথ্য পরিস্থিতিকে কিছুটা জটিল করে তুলেছে। ওই মাসে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমেছে। ফলে বছরের প্রথম সাত মাসের তুলনায় জুলাইয়ে পতনের গতি বেড়েছে।

এ কারণে আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের ক্রয়াদেশ ও রফতানি প্রবাহ কোন দিকে যায়, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চীন-ভারতের পতন আরও বড়

প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে চীন। সাত মাসে দেশটির পোশাক রফতানি কমেছে ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ। গত বছরের ৬ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার থেকে চলতি বছর তা নেমে এসেছে ৪ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ চীনের রফতানি কমেছে প্রায় ২ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার।

ভারতের রফতানিও কমেছে ২৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। ৩ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার থেকে তা নেমে এসেছে ২ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারে।

পাকিস্তানের রফতানি কমেছে ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ। ১ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার থেকে তা কমে হয়েছে ১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার।

ভিয়েতনামের পতন তুলনামূলকভাবে সামান্য– ১ দশমিক ০৩ শতাংশ। দেশটির রফতানি ৯ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে হয়েছে ৯ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার।

তবে সংকুচিত বাজারেও ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। ইন্দোনেশিয়ার রফতানি বেড়েছে ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সামগ্রিক চাহিদা কমলেও সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য এখানেই বড় চ্যালেঞ্জ।

পরিমাণেও কমেছে বাংলাদেশের রফতানি

অর্থমূল্যের পাশাপাশি পোশাকের পরিমাণের হিসাবেও বাংলাদেশের রফতানি কমেছে। জানুয়ারি-জুলাই সময়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানির পরিমাণ কমেছে ৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ। গত বছরের প্রায় ১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন বর্গমিটার সমতুল্য থেকে তা কমে হয়েছে ১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন।

তবে এ ক্ষেত্রেও চীন ও ভারতের পতন অনেক বেশি। চীনের রফতানি পরিমাণ কমেছে ২৪ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ভারতের ২৪ দশমিক ০২ শতাংশ।

অন্যদিকে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া রফতানির পরিমাণ বাড়িয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার পরিমাণ বেড়েছে ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার ১২ দশমিক ০৫ শতাংশ।

ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীন ও ভারতের কাছ থেকে যে অংশ অন্য দেশগুলোর হাতে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ লাভবান হতে পারে। কিন্তু সেই সুযোগ নিতে হলে অন্য প্রতিযোগীদেরও পেছনে ফেলতে হবে।

কমেছে বাংলাদেশের পোশাকের গড় দাম

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পোশাকের গড় একক মূল্য কমে যাওয়া। বিএভির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জানুয়ারি-জুলাই সময়ে বাংলাদেশের পোশাকের গড় একক মূল্য ২ দশমিক ২৬ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ রফতানির পরিমাণ কমার পাশাপাশি প্রতি ইউনিট পোশাক থেকেও আগের তুলনায় কম অর্থ পাওয়া গেছে।

প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে চীনের গড় একক মূল্য কমেছে ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। ইন্দোনেশিয়ার ৬ দশমিক ১০ শতাংশ, পাকিস্তানের ৫ দশমিক ১২ শতাংশ এবং ভারতের ২ দশমিক ৩০ শতাংশ। কম্বোডিয়ার কমেছে ১ দশমিক ৪০ শতাংশ।

অর্থাৎ বাংলাদেশেও পোশাকের দাম কমেছে, যদিও চীনের মতো বড় পতন হয়নি।

শুল্কের চাপ কতটা?

রফতানিকারকদের মতে, বাংলাদেশের পোশাকের দাম কমার অন্যতম কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কের চাপ। বাড়তি শুল্কের পুরো বোঝা মার্কিন ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে আলোচনার মাধ্যমে এর একটি অংশ রফতানিকারকদের বহন করতে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাদের ধরে রাখতে পণ্যের দাম কমাতে হয়েছে।

স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম বলেন, মূলত রেসিপ্রোকাল ট্যারিফের একটি অংশ বাংলাদেশের রফতানিকারকদের বহন করতে হয়েছে। ফলে পোশাকের দাম কিছুটা কমিয়ে দিতে হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে ইউনিট মূল্যে।

রফতানিকারকদের তথ্য অনুযায়ী, কোনও কোনও ক্ষেত্রে বাড়তি শুল্কের এক-তৃতীয়াংশ, আবার কোনও ক্ষেত্রে প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত রফতানিকারকদের বহন করতে হয়েছে।

এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য কঠিন। কারণ একই সময়ে দেশের ভেতরে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, বিকল্প জ্বালানির বাড়তি ব্যয়, শ্রম ও অন্যান্য উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি– সব মিলিয়ে কারখানার ব্যয় বাড়ছে। অথচ বিদেশি ক্রেতারা উল্টো কম দাম চাইছেন।

উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, দাম কমছে

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, একদিকে উৎপাদন খরচ ক্রমাগত বাড়ছে, অথচ পণ্যের দাম বাড়ার পরিবর্তে কমেছে। অনেক উদ্যোক্তা ব্যবসা ধরে রাখতে লোকসানেও অর্ডার নিতে বাধ্য হয়েছেন। এতে অনেক কারখানা রুগ্‌ণ হয়ে পড়েছে এবং বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তার মতে, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। গ্যাস না থাকায় অনেক কারখানাকে বেশি দামে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে উৎপাদন চালাতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ আরও বাড়ছে।

এই দুইমুখী চাপ– বাড়তি উৎপাদন ব্যয় এবং কম রফতানি মূল্য, দীর্ঘমেয়াদে পোশাকশিল্পের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তবে সুযোগও দেখছেন রফতানিকারকরা

তবে পুরো পরিস্থিতি যে নেতিবাচক, তা নয়। রফতানিকারকদের মতে, কয়েক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কের বোঝা ভাগাভাগি করার যে চাপ ছিল, তা এখন অনেকটাই কমেছে। ফলে আগের তুলনায় ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

শোভন ইসলাম বলেন, মার্কিন ক্রেতারা এখন আর আগের মতো ছাড় দিতে বলছেন না। ফলে আগামী দিনে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া যেতে পারে। একইসঙ্গে ক্রয়াদেশও বাড়ছে বলে জানান তিনি।

তার প্রত্যাশা, আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি আবারও বাড়তে পারে।

এখন নজর জুলাইয়ের পরের দিকে

সাত মাসের তথ্য একদিকে বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা, অন্যদিকে সুযোগও তৈরি করেছে। চীন ও ভারতের বড় পতনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সরবরাহকারী পরিবর্তনের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, বাংলাদেশ সেটি কাজে লাগাতে পারে। কিন্তু ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার মতো দেশও একই সুযোগ নিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

ফলে বাংলাদেশের সামনে এখন দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সংকুচিত বাজারে নিজেদের অংশ ধরে রাখতে হবে, অন্যদিকে বাড়তি উৎপাদন ব্যয়ের মধ্যেও প্রতিযোগিতামূলক দাম দিতে হবে।

বিশেষ করে জুলাইয়ের ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশ পতনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। একটি মাসের তথ্য দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা নির্ধারণ করা না গেলেও পরবর্তী মাসগুলোতেও যদি একই ধরনের পতন অব্যাহত থাকে, তাহলে তা পোশাক রফতানির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হবে।

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মহিউদ্দিন রুবেল  বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের গড় দাম কমে যাওয়ার পেছনে শুল্কের বাড়তি চাপের পাশাপাশি বাজারের সামগ্রিক সংকোচনও কাজ করছে। শুল্কের একটি অংশ রফতানিকারকদের বহন করতে হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে পোশাকের দাম কমিয়ে দিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যয় যখন বাড়ছে, তখন রফতানি মূল্য কমে যাওয়া উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চাপ তৈরি করছে। তবে চীন ও ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের রফতানি কম কমেছে– এটি আমাদের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে উৎপাদন ব্যয় কমানো, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং উচ্চমূল্যের পোশাক রফতানিতে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।

মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতা এখন আরও তীব্র হচ্ছে। তাই শুধু কম দামে পোশাক রফতানি করে বাজার ধরে রাখা নয়, মান, পণ্যের বৈচিত্র্য ও সরবরাহ সক্ষমতার দিক থেকেও বাংলাদেশকে এগিয়ে থাকতে হবে।

হাইকোর্টে বিদিশার জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৮ অপরাহ্ণ
হাইকোর্টে বিদিশার জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই

প্রতারণার মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে তার মুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

তার জামিন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর আগে ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলায় গত ২০ মে বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম ওই রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিদিশাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেন। রায়ের দিন আদালতে অনুপস্থিত থাকায় বিদিশার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

গত ২৬ আগস্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে প্রতারণার মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এ বিষয়ে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ এই আদেশ দেন।

২০০৮ সালে ৭ ফেব্রুয়ারি মামলাটি করেন ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন। মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাদী মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী। ২০০১ সালে বারিধারার একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে তিনি বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বারিধারা এলাকার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ৮০ লাখ টাকায় চুক্তি হয়।

সাতক্ষীরার কলারোয়ার রেমিটেন্সযোদ্ধা শুভ দাসের মরদেহ নিজ বাড়িতে, শোকের মাতম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার কলারোয়ার রেমিটেন্সযোদ্ধা শুভ দাসের মরদেহ নিজ বাড়িতে, শোকের মাতম

নিজস্ব প্রতিনিধি: ইসরাইলের ড্রোন হামলায় লেবানন এ নিহত সাতক্ষীরার কলারোয়ার শ্রীপতিপুর গ্রামের শুভদাস এর মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌচেছে। সকাল ১০ টায় মরদেহ পৌছানোর পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। গত ১১ মে লেবানন এর দক্ষিণাঞ্চলে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় ড্রোন হামলায় শুভদাস মারা যান। মৃত্যুর ৩ মাস ২৫ দিন পর মরদেহ আসলো। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে শুভ দ্বিতীয়।

 

দরিদ্র পরিবারের দুই শতক বসত ভিটা বিক্রি করে আড়াই বছর আগে লেবাননে যায়। এরপর লাশ হয়ে ফিরলো। হতাশ পুরো পরিবার। আজ দুপুরে সমাধির প্রস্তুতি চলছে। নিয়ে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় লেবানন এ সাতক্ষীরার ৩ জন রেমিটেন্স যোদ্ধা মারা গেল। আশাশুনির নাহিদুল, সদরের ভালুকা চাদপুরের শফিকুল ও কলারোয়ার শুভ দাস।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের খুলনা বিভাগীয় অফিসের কাউন্সিলর মইন উদ্দীন জানান, সরকারের পক্ষ থেকে ৮৫ হাজার টাকার চেক গতকাল রাতেই দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসে আরো ৩ লাখ ও কয়েকমাস পর জীবন বীমার আরো ১০ টাকা অনুদান পাবেন।