শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় ‘উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’Ñএই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের সহযোগিতায় এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার বলেন, “বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান ও উদ্ভাবনী চিন্তায় এগিয়ে আসতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের মেলার মাধ্যমেই গবেষণামুখী নতুন প্রজন্ম তৈরি হবে, যারা ভবিষ্যতে দেশের সেরা বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদ হিসেবে আবির্ভূত হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল নৈতিকতা ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে বিজ্ঞান চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু গ্রামগঞ্জের শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে সমান সুযোগ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানান। একইসাথে তিনি সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ও সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় মাদক গ্রহণ থেকে বিরত রাখতে কঠোর তদারকির আহ্বান জানান।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিনুর রহমান চৌধুরী তরুণ প্রজন্মকে অপরাধমুক্ত ও সৃজনশীল কাজে নিয়োজিত রাখতে বিজ্ঞান চর্চাকে একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে অভিহিত করেন। শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে দেবহাটার বহেরা এ.টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মুমতাহিনা এবং সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের আবরার আশিক তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে জানায়, এই মেলা তাদের আত্মবিশ্বাস ও উদ্ভাবনী অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার আফরিন সিদ্দীকার সঞ্চালনায় মেলায় জেলার বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, তালার সমকাল মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠ, কলারোয়ার বেগম খালেদা জিয়া মহাবিদ্যালয় ও গার্লস পাইলট হাইস্কুল, আশাশুনির সরাপপুর ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দেবহাটার হাজী কিয়ামউদ্দীন মেমোরিয়াল মহিলা কলেজ ও বহেরা এ.টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

মেলায় শিক্ষার্থীরা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, ভূমিকম্প সতর্ককারী যন্ত্র, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ক নানা উদ্ভাবনী মডেল প্রদর্শন করে। দর্শনার্থীদের ভিড়ে মেলা প্রাঙ্গণ ছিল মুখর। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা তৈরি করে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

Ads small one

সাতক্ষীরায় সীমানা পিলারসহ আটক ৪

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় সীমানা পিলারসহ আটক ৪

খেশরা (তালা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় তালার কলাগাছি গ্রামের ভোলানাথ সানার (৫০) বসতবাড়ি থেকে সীমানা পিলারসহ এক্সপার্ট চক্রের ৩ সদস্যকে আটক করেছে থানা পুলিশ। শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১০ টার পরে তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের কলাগাছি গ্রামের ভোলানাথ সানার বাড়ি থেকে এই পিলার উদ্ধার করা হয়।
আটক ভোলানাথ সানা কলাগাছি গ্রামের মৃত চতুর চন্দ্র সানার ছেলে এবং অন্য তিন জনের একজন খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা ও অন্য ২ জন পাইকগাছা গ্রামের বাসিন্দা তুষার ও ভোলানাথ সানার কুটুম সুশান্ত বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোলানাথ সানার বসতবাড়ির পাশে একটি মাটির ঘরে এই পিলার মাটির নিচে বসানো ছিলো। আজকে এক্সপার্টরা এই পিলার সঠিক কি-না যাচাইয়ের জন্য আসবে বলে মাঠি খুড়ে বের করে ঘরের ভিতর রাখা হয়। তখনই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের টিম সেখানে অভিযান চালায়। রাত সাড়ে ১০ টায় পিলারসহ তাদের বসতবাড়ি থেকে আটক করে পুলিশের চৌকস টিম।

 


তালা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, রাত সাড়ে ১০ টায় আমরা খবর পাই কলাগাছিতে সীমানা পিলার বেচাকেনা চলছে। এই খবর পেয়ে আমারা অভিযান চালাই। অভিযান চালিয়ে আমরা তাদের পিলারসহ আটক করি। তবে আমরা তাদের থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাচ্ছি। যারা এর সাথে জড়িত রয়েছে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। যারা জড়িত না তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।

 

 

সম্পাদকীয়/ নির্বিচারে বৃক্ষনিধন রোধে চাই কার্যকর জাতীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ নির্বিচারে বৃক্ষনিধন রোধে চাই কার্যকর জাতীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা

উন্নয়ন প্রকল্প, নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদার অজুহাতে দেশে আশঙ্কাজনক হারে গাছ কাটা ও বন উজাড়ের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তর মিলনায়তনে পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পরিবেশবিদেরা দেশের সবুজ আচ্ছাদন ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পাওয়ার যে তথ্য প্রকাশ করেছেন, তা আমাদের পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার ওপর এক মারাত্মক নেতিবাচক বার্তা দেয়। এই বাস্তবতায় দেশে নির্বিচারে গাছ কাটা রোধে একটি ‘জাতীয় বন ও বৃক্ষনিধন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার যে দাবি তাঁরা জানিয়েছেন, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং এর দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি।
উত্থাপিত গবেষণা প্রবন্ধ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র এক বছরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৫২ হাজার ৩৭৫টি বৃক্ষনিধনের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। যদিও এই সংখ্যাটি আগের বছরের তুলনায় ৭১ দশমিক ২ শতাংশ কম এবং এটি সচেতনতা বৃদ্ধির ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে, তবুও প্রতিবছর হাজার হাজার পরিপক্ব গাছ এভাবে কেটে ফেলা কোনোভাবেই হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে জেলাভিত্তিক হিসাবে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ২৩ হাজার এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় জেলা কক্সবাজারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ হাজার বৃক্ষনিধনের তথ্য পরিবেশগত সুরক্ষাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। কক্সবাজারের মতো সংবেদনশীল ও পর্যটন এলাকায় এত বিপুলসংখ্যক গাছ কাটার খেসারত আগামী দিনে ওই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও পাহাড় সুরক্ষায় মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
আমরা প্রায়ই দেখি, রাস্তা সম্প্রসারণ কিংবা অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের জন্য কোনো বিকল্প ভাবনা ছাড়াই শতবর্ষী ও ছায়াসুনিবিড় গাছগুলো সবার আগে কেটে ফেলা হয়। আইন ও নীতিমালা থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ এবং জবাবদিহিতার অভাবে এই অপরাধ পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন যে, মাঠপর্যায়ে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। বৃক্ষনিধনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে মাটিক্ষয়, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস এবং সামগ্রিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে, যা ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তীব্র তাপপ্রবাহের মাধ্যমে আমরা টের পাচ্ছি।
সরকার পরিবেশ সুরক্ষায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে নতুন গাছ লাগানোর চেয়ে বিদ্যমান বড় ও পরিণত গাছগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অনেক বেশি কার্যকর। বন আইনের কঠোর বাস্তবায়ন, টেকসই কৃষিবনায়ন সম্প্রসারণ এবং নগর পরিকল্পনায় সবুজ অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে পরিবেশগত অপরাধ দমনে ইউনিয়ন বা স্থানীয় পর্যায়ে শক্তিশালী তদারকি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন।
জলবায়ু সংকটের এই বর্তমান বাস্তবতায় শুধু উৎসব করে গাছ লাগালেই চলবে না, বরং দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সবুজ আচ্ছাদন ও বনাঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। আমরা আশা করি, পরিবেশবাদীদের দীর্ঘদিনের দাবি আমলে নিয়ে সরকার অনতিবিলম্বে একটি কার্যকর জাতীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে এবং বনের ওপর স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার ও তদারকি নিশ্চিত করে পরিবেশ রক্ষায় কঠোর ভূমিকা পালন করবে।

বুধহাটা বাজারে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
বুধহাটা বাজারে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা বাজার এলাকায় ড্রেনেজ সমস্যার কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ লাঘবে ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগের বিষয়টি নজরে আসার পর সাতক্ষীরা জজকোর্টের এপিপি ও আশাশুনি উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম নিজস্ব লোকবল নিয়ে ভেঙে পড়া ড্রেন পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন। তাৎক্ষণিকভাবে পানি চলাচলের সাময়িক ব্যবস্থা করায় বাজারের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও ভোগান্তি কিছুটা কমেছে।

স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম জানান, বুধহাটা বাজারের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে নতুন ড্রেন নির্মাণ ও রাস্তা সংস্কার করা প্রয়োজন। এই বিষয়ে সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। হঠাৎ করে নেওয়া এই কার্যকর উদ্যোগের জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।