সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় ৭৬ শতাংশ নারীই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সহিংসতার শিকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ৭৬ শতাংশ নারীই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সহিংসতার শিকার

মো: হোসেন আলী: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীদের বিরুদ্ধে অনলাইন হয়রানি ও সহিংসতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সাতক্ষীরায় পরিচালিত এক জরিপে অংশ নেওয়া ৬২ জন উত্তরদাতার মধ্যে ৪৭ জন (প্রায় ৭৬ শতাংশ) জানিয়েছেন, তারা কোনো না কোনো সময় অনলাইনে হয়রানি বা ডিজিটাল সহিংসতার শিকার হয়েছেন। অথচ ৪৮ জনই জানিয়েছেন, অনলাইন সহিংসতার ঘটনায় কোথায় অভিযোগ করতে হয়, সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই।

সোমবার (৬ জুলাই) সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে ‘যুব নেতৃত্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে এডভোকেসি সভায়’ এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অ্যাকশন ফর ট্রান্সফরমেশন প্রকল্পের আওতায় সাতক্ষীরার উন্নয়ন সংস্থা সিডো জরিপটি পরিচালনা করে। এতে সহযোগিতা করেছে একশনএইড বাংলাদেশ।

পরিচালিত এ জরিপে তালা উপজেলার ধানদিয়া ও নগরঘাটা ইউনিয়ন এবং সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পৌরসভা, ফিংড়ী ও ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নে যুব সদস্য, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, ভুক্তভোগী নারী ও কমিউনিটির সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হয়। জরিপে মোট ৬২টি কী ইনফরমেন্ট ইন্টারভিউ (নারী ৩৮, পুরুষ ২৪) এবং চারটি ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশনে (এফজিডি) ৪৬ জন (নারী ২৩, পুরুষ ২৩) অংশ নেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ করলেও একই সঙ্গে নারীদের জন্য নতুন ধরনের ঝুঁকিরও সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে হয়রানি, ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও অপব্যবহার, সাইবার বুলিং, ব্ল্যাকমেইল, যৌন হয়রানি, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, চরিত্রহনন, এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি করে হয়রানির মতো ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে।

জরিপে অংশ নেওয়া সবাই ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইউটিউব ব্যবহার করেন। এছাড়া ২৫ জন টিকটক, ১৫ জন ই-মেইল, ৮ জন ইমো এবং ৫ জন ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করেন। হয়রানির মাধ্যম হিসেবে সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে ফেসবুক। জরিপ অনুযায়ী, ২০ জন ফেসবুকের মাধ্যমে এবং ৫ জন মেসেঞ্জারের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হয়েছেন। এছাড়া ফোন মেসেজ ও ইমোর মাধ্যমেও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে।

হয়রানির ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ১৯ জনের নামে ভুয়া আইডি খোলা হয়েছে। ১৬ জন অশালীন বার্তা পেয়েছেন। ১১ জনের ছবি বা ভিডিও অপব্যবহার করা হয়েছে এবং সমানসংখ্যক ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া ৯ জন হুমকি, ৭ জন ব্ল্যাকমেইল এবং ৪ জন সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন।

ডিজিটাল সহিংসতার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে ভুক্তভোগীদের মানসিক স্বাস্থ্য। ২৯ জন জানিয়েছেন, তারা তীব্র মানসিক চাপের মধ্যে পড়েছেন। ২২ জন ভয় ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছেন। ১৩ জনের শিক্ষা বা কর্মজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ৮ জন আত্মবিশ্বাস হারিয়েছেন এবং ৭ জন সামাজিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন।

জরিপে দেখা গেছে, হয়রানির শিকার হওয়ার পর মাত্র একজন পুলিশকে এবং একজন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যকে বিষয়টি জানিয়েছেন। ১৫ জন পরিবারের সদস্যদের এবং ২০ জন বন্ধুদের সঙ্গে বিষয়টি ভাগাভাগি করেছেন। একজন শিক্ষককে জানিয়েছেন। তবে ৮ জন কাউকেই কিছু জানাননি।

কেন অভিযোগ করেননি? এমন প্রশ্নে ১৬ জন বলেছেন, প্রতিকার পাবেন বলে বিশ্বাস করেননি। ১৫ জন ভয় পেয়েছেন, ১৪ জন সামাজিক লজ্জার কথা বলেছেন। ৯ জন জানিয়েছেন, কোথায় অভিযোগ করবেন তা জানতেন না। আর ৬ জন পরিবারের বাধার কথা উল্লেখ করেছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, ৬২ জনের মধ্যে ৪৮ জনই জানিয়েছেন, অনলাইন সহিংসতার ঘটনায় কোথায় অভিযোগ করা যায়, সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কেউই অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে নারীদের জন্য ‘খুব নিরাপদ’ মনে করেননি। ২৪ জন বলেছেন, কিছুটা নিরাপদ। অন্যদিকে ২৩ জন এটিকে অনিরাপদ এবং ১৫ জন খুবই অনিরাপদ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। অংশগ্রহণকারীদের মতে, সামাজিক কুসংস্কার, প্রযুক্তি সম্পর্কে সীমিত জ্ঞান, ব্যক্তিগত তথ্য অসতর্কভাবে শেয়ার করা, দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অপরাধীদের পরিচয় গোপন রাখার সুযোগ নারীদের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

প্রতিবেদনে নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি পর্যায়ে ডিজিটাল সাক্ষরতা ও সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, অনলাইন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা, কিশোরী ও তরুণীদের জন্য কাউন্সেলিং ও আইনি সহায়তা সহজলভ্য করা, যুব নেতৃত্বে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও উন্নয়ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করা।

প্রতিবেদনটি বলছে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সুবিধা ভোগ করতে হলে নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এ জন্য শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগই হতে পারে ডিজিটাল সহিংসতা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর পথ।

উন্নয়ন সংস্থা সিডোর নির্বাহী পরিচালক শ্যামল কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত, জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. জাহারুল ইসলাম, সদর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন, এটিএন বাংলার স্টাফ রিপোর্টার ও সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম. কামরুজ্জামান, স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত, সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মমতাজ পারভীন, সাতক্ষীরা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শফিক উদ দৌলা সাগর, সমাজকর্মী অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন, সিডোর প্রকল্প সমন্বয়কারী তৌহিদুর রহমান, প্রোগ্রাম অফিসার চন্দ্র শেখর হালদার, যুব সংগঠক মো. সাকিব হোসেন, মাহফুজ আহমেদ প্রমুখ।

সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী, উন্নয়নকর্মী, যুব প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় প্রকল্পের আওতায় গঠিত যুব সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

 

 

Ads small one

ন্যায়বিচারের রাষ্ট্র, নাকি প্রতিহিংসার রাজনীতি?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
ন্যায়বিচারের রাষ্ট্র, নাকি প্রতিহিংসার রাজনীতি?

‎গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎‎বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদল গণতন্ত্রের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু প্রতিটি ক্ষমতার পরিবর্তনের পর যদি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে গণগ্রেপ্তার, মামলা, হয়রানি, রাজনৈতিক প্রতিশোধ কিংবা বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ সামনে আসে, তাহলে একটি মৌলিক প্রশ্ন অনিবার্য হয়ে ওঠে আমরা কি সত্যিই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে এগোচ্ছি, নাকি প্রতিহিংসার এক অন্তহীন রাজনৈতিক চক্রের মধ্যেই আবর্তিত হচ্ছি?

‎বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা গেছে, ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটলেও রাজনৈতিক সংস্কৃতির কাঙ্খিত পরিবর্তন সব সময় ঘটেনি। যে দল বিরোধী অবস্থায় থেকে দমন-পীড়নের অভিযোগ করেছে, ক্ষমতায় গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। এই পুনরাবৃত্তি বাস্তবতা জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করে এবং গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা দুর্বল করে।

‎আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক হয়রানি ও বিরোধী মত দমনের অভিযোগ তুলেছে। এসব অভিযোগের যেগুলো তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হবে, সেগুলোর অবশ্যই আইনানুগ বিচার হওয়া উচিত। একইভাবে বর্তমান সময়ে যে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠলে তারও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আইনসম্মত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কারণ আইনের শাসনের মূলনীতি হলো আইন ব্যক্তি বা দলের পরিচয় নয়, প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োগ হবে।

‎বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভিন্ন মহলে এমন অভিযোগও আলোচিত হচ্ছে যে, আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের কিছু নেতা-কর্মী, যাদের বিরুদ্ধে অতীতে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ছিল না এবং যারা নিজ নিজ এলাকায় সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ছিলেন, তারাও বিভিন্ন মামলায় আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের একমাত্র বৈধ ক্ষেত্র আদালত। তবে এ ধরনের আলোচনা যখন জনপরিসরে বিস্তৃত হয়, তখন বিচারব্যবস্থা ও আইনের নিরপেক্ষতা সম্পর্কে মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

‎একইভাবে আইনজীবী মহল ও রাজনৈতিক অঙ্গনে মাঝে মাঝে এমন অভিযোগও উঠে আসে যে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আদালত থেকে জামিন লাভের পর অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। এসব অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট আদালত ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার অনুসন্ধান ও বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়। তবে এমন ধারণা যদি জনমনে প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

‎একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অপরাধের দায় ব্যক্তির, কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের নয়। কোনো দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত বা কর্মকান্ডের দায় সেই দলের প্রতিটি সাধারণ কর্মীর ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বর্তায় না। অপরাধী যে-ই হোক, তার বিচার অবশ্যই হতে হবে। আবার নির্দোষ ব্যক্তি যেন রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে হয়রানির শিকার না হন, সেটিও সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে। এটাই আইনের শাসনের প্রকৃত চেতনা।

‎বাংলাদেশের ইতিহাস আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয় প্রতিহিংসার রাজনীতি কখনো স্থায়ী সমাধান এনে দেয় না। আজ যারা ক্ষমতায়, কাল তারা বিরোধী দলে যেতে পারেন; আবার আজ যারা বিরোধী, ভবিষ্যতে তারাই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারেন। ফলে আজ যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে, আগামী দিনে তার প্রভাব পড়বে সব রাজনৈতিক দলের ওপরই।
‎গণতন্ত্রের শক্তি প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার মধ্যে নয়; বরং ভিন্নমতকে সাংবিধানিক ও আইনসম্মত কাঠামোর মধ্যে নিরাপদ রাজনৈতিক পরিসর দেওয়ার মধ্যেই নিহিত। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত জনগণের রায়ে, প্রশাসনিক প্রভাব বা প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে নয়।

‎বাংলাদেশের মানুষ বহু সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন লালন করেছে। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে তখনই, যখন আইনের শাসন বাস্তব অর্থে প্রতিষ্ঠিত হবে, বিচারব্যবস্থা হবে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ, মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং কোনো নাগরিক তার রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে বৈষম্য বা অনিশ্চয়তার শিকার হবেন না।
‎আজ সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন প্রতিপক্ষকে পরাজিত করা নয়; বরং রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা পুনর্গঠন করা। সেই আস্থার ভিত্তি হতে পারে একটিই অপরাধীর বিচার হবে, কিন্তু নির্দোষের অধিকারও সমানভাবে সুরক্ষিত থাকবে; আইন হবে নিরপেক্ষ, বিচার হবে প্রমাণভিত্তিক এবং রাষ্ট্র হবে সব নাগরিকের সমান আশ্রয়স্থল।

‎প্রতিহিংসার রাজনীতি কোনো জাতির জন্য স্থায়ী সমাধান নয়। ন্যায়বিচার, জবাবদিহি, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের ওপর দাঁড়িয়েই একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে ওঠে।

‎‎‎লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ, সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা

 

পাইকগাছায় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় নানা আয়োজনে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত হয়েছে। উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ সবার আগে বাংলাদেশ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ৬ জুলাই সোমবার উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষে র‌্যালি, আলোচনা সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

র‌্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ওয়াহিদ মুরাদ।

এসময়ে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একরামুল হোসেন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক, উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শোয়েব শাফিন, সমাজসেবা কর্মকর্তা অনাথ কুমার বিশ্বাস, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির, উপজেলা কেন্দ্রীয় সমিতির চেয়ারম্যান প্রাণকৃষ্ণ দাশ প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী সমবায়ীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করেন। এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সমবায়ী, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

কয়রায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
কয়রায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালন

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: কয়রায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালন পালিত হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১০ টায় উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, কয়রা শাখার আয়োজনে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। পরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

এসময় উপজেলা বিআরডিপির চেয়ারম্যান এফ এম মনিরুজ্জামান মনি সভাপতিত্বে ও পল্লী উন্নয়ন অফিসার (ইরেসপো) মোঃ আল মামুনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার সমীর কুমার সরকার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব নুরুল আমিন বাবুল, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার নিশাত ইসলাম, সমাজসেবা অফিসার মোঃ আবুল কালাম আজাদ, কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রিয়াছাদ আলী, পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন অফিসার মোঃ বিল্লাল হোসেন, বিআরডিবির সহ সভাপতি মোঃ আব্দুস ছালাম, সমবায়ী মোঃ আলমগীর হোসেন, রেক্সনা হক প্রমুখ।

 

অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, এনজিও প্রতিনিধি, সমবায়ী সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে সমবায়ীদের মাঝে ঋণের চেক বিতরনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।