রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় ৮ হাজারেরও বেশি ক্যান্সার রোগী, সরকারি হাসপাতালে নেই চিকিৎসা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ৮ হাজারেরও বেশি ক্যান্সার রোগী, সরকারি হাসপাতালে নেই চিকিৎসা

ভারত-ঢাকা-খুলনামুখী রোগীরা, চিকিৎসা ব্যয়ে নিঃস্ব হচ্ছে একের পর এক পরিবার
পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরা জেলায় মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও উন্নয়নকর্মীদের আশঙ্কা, জেলায় বর্তমানে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৮ হাজারেরও বেশি। তবে বিপুলসংখ্যক এই রোগীর চিকিৎসার জন্য জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে নেই কোনো বিশেষায়িত ব্যবস্থা। ফলে বাধ্য হয়েই হাজারো রোগীকে ছুটতে হচ্ছে ঢাকা, খুলনা কিংবা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে শারীরিক ও মানসিক ভোগান্তি, অন্যদিকে চিকিৎসা ব্যয়ের ধাক্কায় নিঃস্ব হয়ে পড়ছে শত শত পরিবার।
জেলাভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ ‘ক্যান্সার রেজিস্ট্রি’ বা সঠিক ডাটাবেজ না থাকায় সাতক্ষীরায় আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে। জাতীয় গড় (প্রতি ১ লাখে প্রায় ১০৬ জন আক্রান্ত) অনুযায়ী জেলায় ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা আনুমানিক আড়াই হাজার হওয়ার কথা।
তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। স্থানীয় উন্নয়নকর্মী শেখ আফজাল হোসেন জানান, সাতক্ষীরার আশাশুনি, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত পানির কারণে মানুষের মধ্যে ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। তার দাবি, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আট হাজার ছাড়িয়ে যাবে। দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে এই অঞ্চলে মৃত্যুর ঝুঁকি ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে। স্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, সাতক্ষীরায় বর্তমানে ব্লাড ক্যান্সার, স্তন, কিডনি, ফুসফুস, জরায়ুমুখ ও মুখগহ্বরের ক্যান্সারের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তের সুযোগ এখানে সীমিত।
রোগীরা যখন গুরুতর অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা সদর হাসপাতালে আসেন, তখন পরীক্ষা-নিরীক্ষার আধুনিক সুবিধা না থাকায় বিপাকে পড়তে হয়। হাসপাতাল দুটির কোনোটিতেই আলাদা কোনো অনকোলজি (ক্যান্সার) বিভাগ নেই; নেই কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা। ফলে রোগ নির্ণয়ের জন্য রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিকের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ।
চিকিৎসকরা বলছেনÑ ধূমপান, মদ্যপান, জর্দা-গুল সেবন, অতিরিক্ত লবণ ও চিনি গ্রহণ, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং পরিবেশ দূষণের কারণে সব বয়সীদের মধ্যেই এখন ক্যান্সারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী পল্টু বাসার তাঁর যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে জানান, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর রোগ ধরা পড়ে। শুরুতে আত্মীয়-স্বজন ও জেলা প্রশাসনের সহায়তায় চিকিৎসা চললেও এখন তিনি অর্থসংকটে দিশেহারা।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কবি পল্টু বাসার বলেন, “সরকারি হাসপাতালে কোনো ওষুধ বা সেবা নেই। বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা করানোর মতো টাকাও আর অবশিষ্ট নেই। ক্যান্সার মানে শুধু শারীরিক কষ্ট নয়, এটি একটি ভয়াবহ অর্থনৈতিক যুদ্ধ। পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যাতায়াত আর ওষুধের পেছনে মাসে লাখ টাকা চলে যায়। বেঁচে থাকার তাগিদে মানুষ জমি, শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।”
দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরায় ক্যান্সার চিকিৎসার দাবিতে আন্দোলন করছে জেলা নাগরিক কমিটি। কমিটির আহ্বায়ক শেখ আজাদ হোসেন বেলাল বলেন, “আমার বড় ভাই ক্যান্সারে আক্রান্ত, প্রতি দুই মাস পর পর তাঁকে বোম্বে (মুম্বাই) নিতে হয়। যার টাকা নেই, এই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় তার বেঁচে থাকা মুশকিল। সাতক্ষীরায় এত বড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থাকতেও কেন একটি ১০ বেডের প্রাথমিক ক্যান্সার ইউনিট চালু করা হচ্ছে না?” নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে সরকারি হাসপাতালে ক্যান্সার রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ ও ফ্রি সেবার দাবি জানিয়ে ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্য এক নাগরিক নেতা ইদ্রিস আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সীমান্তবর্তী এই জেলার মানুষ আর অবহেলার শিকার হতে চায় না। ক্যান্সার এখন নীরব মহামারি। জেলায় দ্রুত আধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা ও সঠিক ক্যান্সার ডাটাবেজ তৈরি করা রাষ্ট্রের জরুরি দায়িত্ব।”
সরকারি সুযোগ-সুবিধার এই শূন্যতার মাঝেও আশার আলো দেখাচ্ছেন সাতক্ষীরারই কৃতি সন্তান এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক (সার্জারি বিশেষজ্ঞ) ডা. মনোয়ার হোসেন।
খুলনা মেডিকেলে নামমাত্র শয্যা নিয়ে ক্যান্সার ইউনিট চালু থাকলেও সাতক্ষীরার রোগীদের কষ্ট তাঁকে ব্যথিত করে। তাই সরকারি দায়িত্ব পালনের পর ভালোবাসার টানে নিয়মিত সাতক্ষীরায় ছুটে আসেন তিনি, গভীর রাত পর্যন্ত রোগীদের সেবা দিয়ে আবার ফিরে যান।
ডা. মনোয়ার হোসেন বলেন, “মেডিকেল কলেজগুলোতে পর্যাপ্ত পদ সৃষ্টি না হওয়ায় তৃণমূলের রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।” সাতক্ষীরার রোগীদের খুলনা বা ঢাকামুখী হওয়া বন্ধ করতে তিনি নিজের সমস্ত জমানো সঞ্চয় দিয়ে বিনেরপোতা এলাকায় একখ- জমি কিনেছেন। সেখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন তিনি। হাসপাতালটি চালু হলে এই অঞ্চলের প্রান্তিক রোগীরা স্বল্পমূল্যে উন্নত চিকিৎসা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন এই চিকিৎসক।

 

 

Ads small one

তালায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
তালায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

তালা প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ কর্মসূচীর বাস্তবায়ন উপলক্ষে তালায় বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন হয়েছে। তালা উপজেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ তালা উপজেলা কেন্দ্রের বাস্তবায়নে এই বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচীর উদ্বোধন হয়।

‎শনিবার (১৩ জুন) সকালে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন।

‎এছাড়া, তালা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ হাজিরা খাতুন, তালা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

‎তালা উপজেলা বন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইউনুস আলীর সভাপতিত্বে এসময় বিএনপি নেতা রেজাউল ইসলাম রেজা ও ফারুক জোয়ার্দার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

‎পরে, তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের হরিশ্চন্দ্রকাটি গ্রামে কপোতাক্ষ নদের বাঁধের উপর গোবিন্দ ঋসির বাড়ির পাশ থেকে তালা ব্রীজ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রজাতির ২৫ হাজার বৃক্ষ চারা রোপণ কার্যক্রম শুরু হয়।

 

 

শ্যামনগরে অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনায় দুইজনের কারাদন্ড, বাল্কহেড জব্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৭:২৮ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনায় দুইজনের কারাদন্ড, বাল্কহেড জব্দ

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দুর্গাবাটি মন্দির সংলগ্ন ঝাপারচর এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় একটি বাল্কহেড জব্দ করেছে বিজিবি। এ ঘটনায় দুইজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদন্ড ও অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) ভোর আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটে হাবিলদার জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি বিজিবি টহল দল স্পিডবোটযোগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনরত একটি বাল্কহেড জব্দ করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, জব্দকৃত বাল্কহেডে আনুমানিক ৫ হাজার ৩০০ ঘনফুট বালু ছিল, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬৭ হাজার ২০০ টাকা। পরে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে বাল্কহেডটি ব্যাটালিয়ন সদর পল্টন ঘাট সংলগ্ন এলাকায় নিয়ে আসা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসেন এবং বুড়িগোয়ালিনী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তদন্ত শেষে বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী মামলা নং-৩২/২৬ দায়ের করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযুক্ত বাল্কহেডের চালক মোঃ নজরুল ইসলাম (পিতা: মৃত আফসার আলী, গ্রাম: দরগাহপুর, থানা: আশাশুনি, জেলা: সাতক্ষীরা)-কে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ১ লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন।

এছাড়া সহকারী মোঃ আক্তারুল জামান (৩০) (পিতা: জিল্লুর গাজী, গ্রাম: রাড়ুলী, থানা: পাইকগাছা, জেলা: খুলনা)-কে ১৪ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়।

এ সময় অবৈধ বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত সাতটি পিভিসি পাইপ অপসারণ করে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

কার্যক্রম শেষে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে দন্ডপ্রাপ্তদের নিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নৌ-পুলিশের কর্মকর্তারা শ্যামনগর থানার উদ্দেশ্যে রওনা হন। জব্দকৃত বাল্কহেডটি বর্তমানে বিজিবির তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত রয়েছে।

স্থানীয়রা সুন্দরবন ও উপকূলীয় নদী-খালে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের এমন অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।

নিঃশব্দ বিপ্লবের নাম রক্তদান/ ‎তারিক ইসলাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
নিঃশব্দ বিপ্লবের নাম রক্তদান/ ‎তারিক ইসলাম

‎তারিক ইসলাম

‎ডিজিটাল স্ক্রিনে তখন রাত দুটো। ফেসবুকের নিউজফিড স্ক্রল করতেই চোখে পড়ল একটা পরিচিত আর্জি-“জরুরি ভিত্তিতে ও-নেগেটিভ রক্ত প্রয়োজন। স্থান: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। যোগাযোগের নম্বর…”। এই একটি পোস্টের পেছনে লুকিয়ে থাকে এক একটি পরিবারের আকুলতা, উৎকণ্ঠা আর বেঁচে থাকার শেষ লড়াই। প্রতি বছর ১৪ জুন ‘বিশ্ব রক্তদাতা দিবস’ যখন আমাদের দরজায় কড়া নাড়ে, তখন এই স্ক্রিনশটগুলোই আমাদের মনে করিয়ে দেয়-বিজ্ঞান যতই মঙ্গল গ্রহে বসতি গড়ার স্বপ্ন দেখুক না কেন, ল্যাবরেটরিতে আজও এক ফোঁটা কৃত্রিম রক্ত তৈরি করা সম্ভব হয়নি। মানুষের জীবনের বিকল্প আজও কেবলই মানুষ।

‎আজকের এই আধুনিক পৃথিবীতে রক্তদান কেবল একটি ‘মানবিক কাজ’ বা ‘ধর্মীয় পুণ্য’ নয়; এটি মূলত একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নাগরিক সচেতনতার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।

‎আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এখন অনেক বেশি প্রযুক্তি-নির্ভর। ওপেন হার্ট সার্জারি, জটিল ক্যানসার থেরাপি, অর্গান ট্রান্সপ্লান্ট কিংবা থ্যালাসেমিয়া ও হিমোফিলিয়ার মতো জেনেটিক রোগের চিকিৎসায় রক্তের চাহিদা আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, একটি দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১ শতাংশ মানুষ যদি নিয়মিত রক্তদান করেন, তবে সেই দেশের রক্তের মৌলিক চাহিদা মেটানো সম্ভব।

‎উন্নত বিশ্বে যেখানে ‘ভলান্টিয়ার ব্লাড ডোনেশন’ বা স্বেচ্ছায় রক্তদানের হার প্রায় শতভাগ, সেখানে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে এখনো সিংহভাগ রক্ত আসে রোগীর আত্মীয়-স্বজন বা ‘রিপ্লেসমেন্ট ডোনার’-দের কাছ থেকে। এই মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।

‎আজকের তরুণ প্রজন্ম প্রযুক্তিতে দারুণ পারদর্শী। তারা রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ব্যবহার করছে, ফুড ডেলিভারি নিচ্ছে এক ক্লিকে। কিন্তু রক্তের মতো জরুরি প্রয়োজনের সময় এখনো আমাদের ফেসবুক গ্রুপ বা মেসেঞ্জার চ্যাটের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা অনেক সময় সঠিক সময়ে রক্ত প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারে না।

‎আমাদের এখন ‘স্মার্ট ডোনেশন’ কালচারের দিকে যেতে হবে। রক্তদানকে একটি সামাজিক ফ্যাশন বা লাইফস্টাইল হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। বছরে তিনবার রক্ত দেওয়াকে যদি একজন তরুণ তার ফিটনেস রুটিনের অংশ করে নেয়, তবে ব্লাড ব্যাংকগুলো কখনোই শূন্য থাকবে না।

‎‎আপনি যখন এক ব্যাগ রক্ত দিচ্ছেন, আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সেটিকে ভেঙে লোহিত কণিকা, প্লাটিলেট এবং প্লাজমা-এই তিনটি উপাদানে ভাগ করা হচ্ছে। অর্থাৎ, আপনার এক ব্যাগ রক্ত আধুনিক চিকিৎসায় তিনজন ভিন্ন রোগীকে নতুন জীবন দিচ্ছে। এর চেয়ে বড় ‘মাল্টিটাস্কিং’ আর কী হতে পারে?

‎অনেকে এখনো ভাবেন রক্ত দিলে শরীর দুর্বল হয়ে যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে সম্পূর্ণ উল্টো কথা। নিয়মিত রক্তদান আসলে শরীরের এক চমৎকার ‘রিসেন্ট বাটন’।

‎নতুন রক্তকণিকা সৃষ্টি: রক্ত দেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শরীরের তরল অংশ পূরণ হয়ে যায় এবং দ্রুত নতুন ও সতেজ রক্তকণিকা তৈরি হতে শুরু করে।

‎হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস: রক্তে অতিরিক্ত আয়রন জমা হলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। নিয়মিত রক্তদান শরীরে আয়রনের ভারসাম্য বজায় রাখে, যা কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী।

‎ফ্রি হেলথ চেকআপ: প্রতিবার রক্ত দেওয়ার আগে হেপাটাইটিস বি, সি, এইডসের মতো মারাত্মক রোগের স্ক্রিনিং এবং রক্তচাপ পরীক্ষা করা হয় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

‎১৪ জুনের ক্যালেন্ডারে রক্তদাতা দিবস আসে মূলত সেইসব নায়কদের স্যালুট জানাতে, যারা কোনো প্রতিদান ছাড়াই নিজেদের শরীরের তরল সোনা বিলিয়ে দেন অন্যকে বাঁচানোর জন্য। তবে এই দিবসটিকে শুধু সেমিনার আর র‌্যালির ফ্রেমে বন্দি রাখলে চলবে না। রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্লাড ব্যাংকগুলোর আধুনিকায়ন, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে রক্তের উপাদান পৃথকীকরণের প্রযুক্তি পৌঁছানো এবং রক্তদান প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ কাগজহীন ও ডিজিটাল করা এখন সময়ের দাবি।

‎আসুন, এই রক্তদাতা দিবসে আমরা ট্র্যাডিশনাল চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক হই। রক্ত দেওয়া কোনো দয়া বা করুণা নয়, এটি একজন সুস্থ মানুষের সুস্থ থাকার এবং অন্যকে বাঁচিয়ে রাখার আধুনিক নাগরিক দায়িত্ব। আপনার রক্তে সচল থাকুক অন্য কারও লাইফ-সাপোর্ট।

‎লেখক: তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।