সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

সাতক্ষীরার বকচরায় মাছের ঘের দখলের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার বকচরায় মাছের ঘের দখলের অভিযোগ

পত্রদূত ডেস্ক: রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিএনপি’র নাম ভাঙিয়ে এক আওয়ামী লীগ সমর্থকের মাছের ঘের দখলের অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বকচরা গ্রামের কওছার আলীর ছেলে আবতাফুজ্জামান ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে। প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরলেও ব্যর্থ হয়ে ফিরছেন একই গ্রামের আমজাদ আলী।

অভিযোগ, জবরদখলের ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে আবতাফুজ্জামান, তার ভাই কামরুজ্জামান নির্যাতিত আমজাদ আলী ও তার ভাইসহ তাদের পক্ষের আইনজীবীর বিরুদ্ধেও মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে চলেছেন।
বকচরা গ্রামের মৃত বাবর আলীর ছেলে আমজাদ আলী বলেন, শহরের কাটিয়ার ফারজানা খানম, নজরুল ইসলাম ও বকচরার আব্দুর রউফের কাছ থেকে তার স্ত্রী মরিয়ম বিবি ও নিজে দক্ষিণ বকচরা বিলে এক একর নয় শতক জমি কিনে আরো প্রায় চার বিঘা জমি ইজারা নিয়ে দীর্ঘ ২০ বছরের বেশি সময় ধরে মৎস্য ঘের করে আসছেন তিনি।

 

অপরদিকে ইছা খাঁ’র কাছ থেকে ১৯৮০ সালের ২৬ এপ্রিল ৫টি দাগে ২৫ শতক জমি কেনেন কওছার আলী। কওছার আলীর কেনা দাগের মধ্যে তার ও তার স্ত্রীর (আমজাদ ও মরিয়ম) ৭৬ শতক জমি রয়েছে। ওই জমি নিয়ে কওছার আলীর ছেলে সাইফুজ্জামান ও তার ভাইদের দেওয়ানী আদালতে ও ল্যা- সার্ভে ট্রাইব্যুনালে দুটি মামলা রয়েছে।

 

বাবা কওছারের কেনা পাঁচটি দাগে ২৫ শতক জমি থাকলেও ২০০৪ সালের ৫ আগষ্ট এর পর প্রয়াত কওছারের ছেলে আবতাফুজ্জামান, কামরুজ্জামান, সাইফুজ্জামান ও আসাদুজ্জামান ওই জমি তার (আমজাদ) ঘেরের মধ্য থেকে দখল করে নেওয়ার চেষ্টা করে আসছিল। প্রতিবাদের একপর্যায়ে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে তাকে বাড়ির সামনে মারপিট করে আবতাফুজ্জামান ও তার ভাইয়েরা।

 

এ ঘটনায় থানা মামলা না নেওয়ায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। তদন্তে তিন ভাইকে বাদ দিয়ে কামরুজ্জামানের নামে নন জিআর মামলা হয়। তাকে মারপিট করার বিষয়টি ভিন্নথাতে প্রবাহিত করতে ১৬ ফেব্রুয়ারি কামরুজ্জামান বাদি হয়ে তাকেসহ দুই ভাইয়ের নামে আমলী আদালতে ৫ লাখ টাকার চাঁদাবাজির মামলা করেন কামরুজ্জামান। মামলাটি বর্তমানে সদর থানায় তদন্তাধীন।

আমজাদ আলী আরো জানান, আবতাফুজ্জামান. কামরুজ্জামানসহ তারা চার ভাই এবং বকচরা গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে হাবিবুর রহমান, আহম্মদ এর ছেলে মোক্তার হোসেন, খলিলের ছেলে ইব্রাহীমসহ কয়েকজন গত ৫ মে সকালে তার এ একর ৯ শতক মাছের ঘেরের অংশ বেড়িবাঁধ দিয়ে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে। লুটপাট করা হয় রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। ওই দিন তিনি থানায় অভিযোগ করলে পরদিন থানায় দ’ুপক্ষকে নিয়ে পুলিশ বসাবসি করে। ওই জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য আবতাফুজ্জামানদের বলা হয়।

 

এর পরপরই তাকে মৎস্যজীবী দলের আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক সাইফুল্লার দেয়া মামলায় তাকে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করানো হয়। ২১ মে তিনি জামিনে মুক্তি পান। ২৯ মে আবতাফুজ্জামান ও তার লোকজন তার ঘেরে তারই দুটি শ্যালো মেশিন থেকে পানি তুলতে থাকলে তিনি আপত্তি করলে তাকে জীবন নাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি থানায় অভিযোগ দিলে গত ৩১ মে বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষকে নিয়ে থানায় বসাবসি করার কথা থাকলেও কথা রাখেনি আবতাফুজ্জামান ও তার ভাইয়েরা। একপর্যায়ে উপপরিদর্শক সুমন সরকার মঙ্গলবার বিকেলে বসাবসির জন্য আবারো সময় নির্ধারণ করেন।

 

বিপদ বুঝে আবতাফুজ্জামান ও তার লোকজন সোমবার রাতে তার (আমজাদ) ঘেরে গ্যাস চ্যাবলেট বা বিষ জাতীয় কিছু দিয়ে মাছ মেরে ফেলে তার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার থানায় মিথ্যা অভিযোগ করেছে। তবে মাছ মেরে ফেলার ঘটনায় তিনিও থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর বিদেশ থেকে বাড়ি ফেরে আবতাফুজ্জামান। ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আবতাফুজ্জামান, আসাদুজ্জামানসহ তার ভাইয়েরা বিএনপির নাম ভাঙিয়ে তার ঘের দখল করার চেষ্টা করছে। তার পক্ষে আইনি সহায়তা করায় অ্যাড. জিয়াউর রহমান জিয়া, তাদের দুই আপনজন ও তার দুই ভাইসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে গত ২৭ মে এসকেবেটর মেশিন পোড়ানো, ভাংচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে আবতাফুজ্জামান।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আবতাফুজ্জামান জানান, তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর বাড়িতে ছিলেন না। এ সময় আমজাদ আলী তাদের জমি জোর করে দখল করে নিয়েছে। তাই থানায় বসাবসির মাধ্যমে তিনি সম্প্রতি ওই জমি দখলে নিয়েছেন। সোমবার রাতে আমজাদসহ কয়েকজন তার ঘেরে বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলায় তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন। তবে আমজাদ আলীর দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার থানায় বসাবসি থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে থানায় যেতে না পারায় মঙ্গলবার আবারো দিন ঠিক করা হয়েছে।

আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, আবতাফুজ্জামান দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার সুবাদে অনেক টাকার মালিক। সম্প্রতি আমজাদ আলীর ঘের আবতাফুজ্জামান দখল করে নিয়েছে সেটা তিনি জানেন। বিষয়টি নিয়ে থানায় বসাবসি আছে। যাতে আমজাদ আলী তার ঘের ফিরে পায় সেজন্য তিনি তার দলের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক সুমন রায় জানান, আমজাদ আলীর অভিযোগ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যেয়ে আবতাফুজ্জামান ও তার ভাইদের ওই ঘেরে না যাওয়ার নির্দেশনা দেন। কিন্তু আবতাফুজ্জামানরা তা মনেছেন না। মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি নিয়ে আবারো থানায় বসাবসি আছে।

 

 

Ads small one

খোলা কলাম/শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের সৌন্দর্য নষ্ট করছে ডাস্টবিন ও উন্মুক্ত শৌচাগার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ণ
খোলা কলাম/শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের সৌন্দর্য নষ্ট করছে ডাস্টবিন ও উন্মুক্ত শৌচাগার

মোহাম্মদ মুজাহিদ
নাগরিক জীবনের কর্মব্যস্ততা, ক্লান্তি ও অবসাদ কাটাতে মানুষ খোঁজেন একটু নির্মল পরিবেশ ও স্বস্তির নিঃশ্বাস। আর সেই প্রত্যাশা নিয়েই প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা শহরের একমাত্র উন্মুক্ত বিনোদনকেন্দ্র শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ। কিন্তু পার্কের উত্তর পাশে স্থাপিত ডাস্টবিন এবং পশ্চিম পাশে অবস্থিত উন্মুক্ত শৌচাগারের তীব্র দুর্গন্ধে দর্শনার্থীদের সেই স্বস্তি এখন পরিণত হয়েছে চরম ভোগান্তিতে।সরেজমিনে দেখা যায়, পার্কের উত্তর পাশে সড়কের ধারে পৌরসভার ময়লা ফেলার নির্ধারিত স্থানে বিভিন্ন এলাকার আবর্জনা জমা করা হচ্ছে। ডাস্টবিনের ঠিক পাশেই অবস্থিত জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার (সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি)। ফলে লাইব্রেরিতে আসা পাঠক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সাধারণ পথচারীদের দুর্গন্ধের মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পার্কসংলগ্ন এলাকার বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য প্রতিদিন এখানে ফেলা হলেও সময়মতো তা অপসারণ করা হয় না। অনেক সময় সকাল ১০টা পর্যন্তও ময়লা বহনের কনটেইনার সরানো হয় না। এছাড়া পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ডাস্টবিনে জমে থাকা আবর্জনা ঘেঁটে বিভিন্ন ভাঙাচোরা ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী সংগ্রহ করেন। এতে ময়লার দুর্গন্ধ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আবর্জনার ময়লা পানি পাশের পয়নিষ্কাশন ড্রেনে গড়িয়ে পড়ায় পরিবেশ দূষণও বাড়ছে। পার্কে নিয়মিত ব্যায়াম করতে আসা সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা সাইফুল আজম খান মামুন বলেন, পার্কটির আয়তন মাত্র দেড় থেকে দুই একর। ফলে ডাস্টবিনের দুর্গন্ধ সহজেই পুরো পার্কে ছড়িয়ে পড়ে। সকালে ব্যায়াম করতে আসা মানুষের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। কিছুদিন পর উত্তর দিকের বাতাস প্রবাহিত হলে দুর্গন্ধ আরও তীব্র হবে। তখন পার্কে বসে থাকাও কঠিন হয়ে পড়বে। ডায়াবেটিস রোগী মিনাক্ষী জানান, চিকিৎসকের পরামর্শে প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় হাঁটতে পার্কে আসেন তিনি। কিন্তু পার্কের উত্তর-পশ্চিম অংশে গেলেই দুর্গন্ধে নাক চেপে হাঁটতে হয়। তিনি বলেন, সুস্থ থাকার জন্য হাঁটতে আসি, অথচ দূষিত বাতাসে উল্টো অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে পার্কে নিয়মিত হাঁটতে আসা মানুষের বড় একটি অংশ ডায়াবেটিস ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত। এছাড়া অনেকেই শরীর সুস্থ রাখতে ব্যায়াম করতে আসেন। কিন্তু পার্কের পরিবেশগত সমস্যার কারণে তাদের অনেকেই অসন্তুষ্ট। উন্মুক্ত শৌচাগারের পাশ দিয়ে নাক চেপে হেঁটে যাচ্ছিলেন মুনজিতপুরের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, শৌচাগারটি উন্মুক্ত হওয়ায় এবং নিয়মিত পরিষ্কার না করায় বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে পার্কের উত্তর পাশের ডাস্টবিনে সারাদিন ময়লা জমা হচ্ছে। কিন্তু নিয়মিত অপসারণ করা না হওয়ায় এটি স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ব্যাংকার ইজ্জত উল্লাহ বলেন, সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিন শরীরচর্চা করতে পার্কে আসি। কিন্তু আশপাশের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে এখন আর আগের মতো ভালো লাগে না। এলাকাবাসী পৌরসভায় অভিযোগ করলে কয়েকদিন পরিস্থিতির উন্নতি হয়, এরপর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। স্থানীয়দের মতে, পার্কের ভেতরের পরিবেশ এখনও মোটামুটি পরিচ্ছন্ন থাকলেও বাইরের অংশের অব্যবস্থাপনা পুরো পার্কের সৌন্দর্য ও পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। পার্কের চারপাশে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা, ড্রেনে জমে থাকা বর্জ্য এবং দুর্গন্ধে অনেক দর্শনার্থী বিব্রত হচ্ছেন। বর্তমানে সুলতানপুর, মুনজিতপুর, রসুলপুর, কামালনগর, পুরাতন সাতক্ষীরাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের অন্যতম মিলনস্থল এই পার্ক। শিশুদের খেলাধুলা, কিশোর-কিশোরীদের আড্ডা, শিক্ষার্থীদের অবসর সময় কাটানো এবং বয়স্কদের হাঁটাহাঁটির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে বিবেচিত। বিকেল হলেই পার্কে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। শিশু-কিশোররা মাঠে ক্রিকেট খেলায় মেতে ওঠে। শহীদ বেদির পাদদেশে বসে চলে আড্ডা, গল্পগুজব। অনেকে পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে আসেন। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্যও এই পার্ককে বেছে নেন। বদ্ধ শহুরে পরিবেশে একটু মুক্ত বাতাসের সন্ধান মেলে এখানেই। তবে দিনের বেলায় পার্কের চারপাশে হকারদের দোকান বসানো, ড্রেন থেকে ময়লা উপচে পড়া এবং ডাস্টবিনের দুর্গন্ধে পরিবেশ ক্রমেই অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে। অনেককে নাকে রুমাল চেপে চলাচল করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশান্তির এই পার্কের পাশে অশান্তির ডাস্টবিন থাকায় বিনোদনের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সচেতন নাগরিকদের দাবি, দ্রুত ডাস্টবিন স্থানান্তর, উন্মুক্ত শৌচাগারের আধুনিকায়ন, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ এবং পার্কসংলগ্ন এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় শহরের মানুষের একমাত্র উন্মুক্ত বিনোদনকেন্দ্রটি তার আকর্ষণ হারাবে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়বে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পার্কে আসা দর্শনার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির নেতা ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সাতক্ষীরা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক শুধু একটি পার্ক নয়, এটি সাতক্ষীরা শহরের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বিনোদন কেন্দ্র। প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে শরীরচর্চা, হাঁটাহাঁটি ও অবসর সময় কাটাতে আসেন। কিন্তু পার্কের পাশে ডাস্টবিন ও উন্মুক্ত শৌচাগারের কারণে পরিবেশ দূষণ সৃষ্টি হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকিস্বরূপ। একটি বিনোদনকেন্দ্রের পাশে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে শহরের সৌন্দর্য যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। দ্রুত ডাস্টবিন স্থানান্তর, উন্মুক্ত শৌচাগারের আধুনিকায়ন এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পার্ক ও এর আশপাশের পরিবেশ রক্ষায় পৌরসভা, প্রশাসন এবং নাগরিক সমাজকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। শহরের একমাত্র বৃহৎ উন্মুক্ত বিনোদনকেন্দ্রকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, শহরের দৈনন্দিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক সংলগ্ন ডাস্টবিন ও শৌচাগার নিয়ে নাগরিকদের অভিযোগের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। পার্কে আগত দর্শনার্থীরা যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ডাস্টবিন থেকে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং শৌচাগারের পরিবেশ উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি পার্কের আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। নাগরিকদেরও নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলা এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নাগরিকদের সহযোগিতা এবং পৌরসভার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ককে আরও পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও দর্শনার্থীবান্ধব পরিবেশে পরিণত করা সম্ভব হবে।

 

চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম: ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম: ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

সংবাদদাতা: গ্রীষ্মের প্রচ- দাবদাহ আর আষাঢ়ের ভ্যাপসা গরমে সাতক্ষীরায় বিদ্যুতের লোডশেডিং আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। দিনে-রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার কয়েক লাখ গ্রাহক। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে, বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় পরিস্থিতি আরও নাজুক। প্রচ- গরমে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে শিশু ও বয়স্করা।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের বরাদ্দ অনেক কম মেলায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাধ্য হয়েই ফিডার ধরে ধরে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারি দপ্তরে। ভোমরা কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানের দাপ্তরিক সব কাজ অনলাইন নির্ভর। বিদ্যুৎ না থাকায় ইন্টারনেট ও কম্পিউটার বন্ধ থাকছে, যার ফলে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের ফাইল তদারকি ও পণ্য খালাসে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে।
ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অভিযোগ, ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে বাসাবাড়ির টেলিভিশন, ফ্রিজসহ দামি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানার মালিকেরা জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা জানান, বিদ্যুতের এই চরম সংকটে স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় মারাত্মক বিঘœ ঘটছে। গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে মোমবাতি, হারিকেন বা ল্যাম্প জ্বালিয়ে পড়তে বসতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে প্রয়োজনীয় চেষ্টা চলছে।

 

সাতক্ষীরায় ভুয়া চিকিৎসককে ৬ মাসের কারাদন্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ভুয়া চিকিৎসককে ৬ মাসের কারাদন্ড

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় কোনো বৈধ সনদ ছাড়াই নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করে রোগী দেখার অভিযোগে ইয়াসিন আলী নামের এক ব্যক্তিকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদ- দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার দুপুরে উপজেলার নলতা এলাকার ‘নলতা মানব স্বপ্ন হেলথ কেয়ার সেন্টারে’ অভিযান চালিয়ে এ দ- দেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, ইয়াসিন আলী দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসা সনদ ছাড়াই রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অপরাধ স্বীকার করায় তাকে এই কারাদ- দেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন কালিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাইনুল ইসলাম খান। তিনি জানান, জনস্বার্থে ভুয়া চিকিৎসক ও অননুমোদিত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রতারণামূলক কর্মকা-ে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাস্থ্যসেবার নামে এমন প্রতারণা রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।