সাবেক পিপি অ্যাড. আব্দুল লতিফের মৃত্যুতে ফুলকোর্ট রেভারেন্স অনুষ্ঠিত
বদিউজ্জামান : সাতক্ষীরার সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল লতিফের মৃত্যুতে ফুলকোর্ট রেভারেন্স ও শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এজলাস কক্ষে ফুলকোর্ট রেভারেন্স এবং দুপুর ১২টায় জেলা আইনজীবী সমিতির হলরুমে মরহুমের স্মরণে এক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।
মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দোয়া ও স্মরণসভা সঞ্চালনা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য সচিব অ্যাড. নুরুল আমিন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক অ্যাড. বিএম মিজানুর রহমান পিন্টু।
সভাপতির বক্তব্যে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “মানুষের পৃথিবীতে আসার একটি নির্দিষ্ট সিরিয়াল থাকলেও চলে যাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট ক্রম নেই। তাই আমাদের গর্ব ও অহংকারমুক্ত থেকে জীবন পরিচালনা করতে হবে। প্রত্যেকটি মৃত্যু আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে পৃথিবীতে কেউ চিরস্থায়ী নয়। অন্যের সমালোচনা করার আগে নিজের আত্মসমালোচনা করা, নিজেকে সংশোধন করা এবং সকলকে ক্ষমা করার মানসিকতা আমাদের গড়ে তোলা উচিত।”
পরে মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
একই দিন দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির হলরুমে অনুষ্ঠিত শোকসভায় তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী আইনজীবীরা স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন।
১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে সনদ লাভের পর তিনি সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতিতে যোগদান করেন এবং দীর্ঘদিন আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৫ মে ভোর ৪টায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল লতিফ ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামার বায়সা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, তিন কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহকর্মী রেখে গেছেন।









