বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সিম কার্ডে ৩০০ টাকা কর প্রত্যাহার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
সিম কার্ডে ৩০০ টাকা কর প্রত্যাহার

মোবাইল ফোনের সিম কার্ডের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকা কর সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করেছে সরকার। ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে নতুন সিম ক্রয় এখন আরও সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে করের হার প্রায় ৫০ শতাংশ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তা প্রায় ২৫ শতাংশ, যা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় বেশি। এ অবস্থায় খাতটির বিকাশ ও ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণে কর কাঠামো ধাপে ধাপে যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, সাধারণ মানুষের কাছে মোবাইল সেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে প্রতিটি নতুন সিমের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকা কর সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী অর্থবছরে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় কমে যেতে পারে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আইসিটি খাতকে দেশের অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে গড়ে তুলতে কর, ভ্যাট ও লাইসেন্সিং নীতিমালায় আরও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলো। রবি আজিয়াটা লিমিটেড–এর চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম বলেন, এই পদক্ষেপের ফলে এখনো সংযোগবিহীন প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ ডিজিটাল সংযোগের আওতায় আসতে পারবে, যা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে আরও বিস্তৃত করবে।

অপরদিকে বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে কর হ্রাসসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ও বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বাজেট। এ বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। আর ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা দেশি-বিদেশি ঋণের মাধ্যমে মেটানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

Ads small one

হাইকোর্টের আদেশ গোপন করে সাংবাদিকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগ, তদন্ত সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ
হাইকোর্টের আদেশ গোপন করে সাংবাদিকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগ, তদন্ত সম্পন্ন

আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনির চাপড়ায় খেলার মাঠ নিয়ে উচ্চ আদালতে চলমান একটি মামলা গোপন রেখে নি¤œ আদালতে সাংবাদিকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই জমি নিয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলাটি করেন এক তৃতীয় পক্ষ। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার (৯ জুন) বিবাদপূর্ণ জমির সরেজমিন তদন্ত সম্পন্ন করেছেন ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।
মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় নিবন্ধিত সার্ভেয়ার শেখ রুবেল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম চাপড়া হিন্দোল যুব সংঘের পরিচালনাধীন ‘আমিন উদ্দীন ক্রীড়োদ্যানে’ (খেলার মাঠ) যান। এ সময় মামলার বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের লোকজন, চাপড়া হিন্দোল যুব সংঘের কর্মকর্তা, খেলোয়াড় ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। তদন্ত কর্মকর্তা সার্ভেয়ারের মাধ্যমে খেলার মাঠ ও ক্লাবের দখলে থাকা পুকুরটি পরিমাপ করেন এবং উপস্থিত সকলের বক্তব্য শোনেন। এ সময় মাঠ ও পুকুরটি ক্লাবের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে বলে উভয় পক্ষ স্বীকার করে।
নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, ১ দশমিক ৩৩ একরের এই জমির এসএ রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন শিক্ষক বদর উদ্দীন সরদার। তাঁর মৃত্যুর পর ওয়ারিশরা জমিটি এম এ গফ্ফার সরদারের নামে নাদাবি দলিল করে দেন। পরবর্তী সময়ে গফ্ফার সরদার ১৯৭৭ সালে চাপড়া হিন্দোল যুব সংঘের নামে জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেন। ১৯৭৮ সালে ক্লাবটি নিবন্ধন পাওয়ার পর সরকারি অনুদানে পুকুর খনন ও মাঠ ভরাট করে সেখানে খেলাধুলা শুরু হয়। বর্তমান বিআরএস জরিপেও জমিটি হিন্দোল যুব সংঘের নামেই রেকর্ডভুক্ত আছে।
তবে জমির সাবেক রেকর্ড নিয়ে একটি দেওয়ানি মামলায় একতরফা রায় হলে ক্লাব কর্তৃপক্ষ সাতক্ষীরার যুগ্ম জিলা জজ আদালতে আপিল করে। সেখানে নি¤œ আদালতের রায় বহাল থাকলে ক্লাব কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে সিভিল রিভিশন (মামলা নং-৫১৯/২৬) দায়ের করে। হাইকোর্ট এই জমিতে স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস-কো) বজায় রাখার আদেশ দেন এবং নি¤œ আদালতের নথি তলব করেন।
উচ্চ আদালতের এই আদেশ গোপন করে সম্প্রতি শিউলি আক্তার নামের এক ব্যক্তি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আশাশুনি প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এসএম আহসান হাবিবসহ চারজনকে বিবাদী করে ১৪৫ ধারায় মামলা করেন। এ ঘটনায় তদন্ত ছাড়াই পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আদালতে মনগড়া প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন বলে বিবাদী পক্ষ অভিযোগ করেছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল এই মিথ্যা মামলা ও ত্রুটিপূর্ণ তদন্তের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

নূরনগর ইউনিয়ন নির্বাচনে জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
নূরনগর ইউনিয়ন নির্বাচনে জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: আসন্ন নূরনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা গোলাম মোস্তফাকে নূরনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে নূরনগরের তানভীর কনভেনশন সেন্টারে ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ডা. রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি শেখ লিয়াকত হোসেন বাবুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা আমির মাওলানা আব্দুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল জলিল, উপজেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক এস এম ফজলুল হক, মাওলানা মইনুদ্দিন মাহমুদ, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি সাঈদী হাসান বুলবুল এবং উপজেলা শুরা সদস্য মাওলানা আব্দুল মজিদ। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

কুশখালী হাড়িয়াঘাটা মাঠে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
কুশখালী হাড়িয়াঘাটা মাঠে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি: গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া লোকজ ঐতিহ্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতি ধরে রাখতে সাতক্ষীরার দক্ষিণ কুশখালী হাড়িয়াঘাটা মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ঐতিহ্যবাহী ২৭তম ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে স্থানীয় এলাকাবাসী ও যুবসমাজের উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
তীব্র গরম উপেক্ষা করে চোখধাঁধানো এই ঘোড়দৌড় উপভোগ করতে দুপুরের পর থেকেই সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে আসা হাজারো ক্রীড়ামোদী মানুষের ঢল নামে মাঠজুড়ে।
ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আজিয়ার রহমান টালীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র মো. তাসকিন আহমেদ চিশতী।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, গ্রামীণ বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা আমাদের সংস্কৃতির এক অনন্য মূলভিত্তি। বর্তমান যুগের তরুণ ও যুবসমাজকে মারাত্মক মাদকাসক্তি, ক্ষতিকর মোবাইল আসক্তি এবং নৈতিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে এ ধরনের সুস্থ বিনোদন ও মাঠপর্যায়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। চমৎকার এই আয়োজন গ্রামীণ সৌহার্দ্য আরও বৃদ্ধি করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা কৃষক দলের সাবেক সদস্য সচিব মো. রবিউল ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মো. মনিরুজ্জামান আলম বাপ্পি, কুশখালী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. কামরুজ্জামান, ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা বাবু ও সমাজসেবক মোহাম্মদ জিয়াউল রহমান জিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ঘোড়ার মালিক ও সওয়ারীদের (রাইডার) হাতে নগদ অর্থ পুরস্কার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার ২০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার ১৫ হাজার টাকা এবং তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে ৮ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এ ছাড়া চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থান অধিকারীদেরও যথাক্রমে সাড়ে ৩ হাজার, ২ হাজার ও ১ হাজার টাকা নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়।
স্থানীয় সমাজসেবকরা জানান, গ্রামীণ সংস্কৃতির এই ধারা বজায় রাখতে আগামী বছরগুলোতেও এই ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন ধরে রাখা হবে।