শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

সীমান্তে ‘পুশইন’ ঠেকাতে সাতক্ষীরায় ১১দলীয় জোটের সভা, ভোমরায় সমাবেশ আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
সীমান্তে ‘পুশইন’ ঠেকাতে সাতক্ষীরায় ১১দলীয় জোটের সভা, ভোমরায় সমাবেশ আজ

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারত সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা ‘পুশইন’ বন্ধ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের দাবিতে সাতক্ষীরায় ১১ দলীয় জোটের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহরের জেলা জামায়াত কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ১১ দলীয় জোটের প্রধান ও জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল।
সভায় বক্তারা বলেন, সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে লোকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) অভিযোগটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের কর্মকা- দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার জন্য বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করার পাশাপাশি কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি সমাধানে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
সভায় জোটের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ পুশইন অবিলম্বে বন্ধ করা, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা করা এবং জাতীয় স্বার্থে এ বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থান জনগণের সামনে তুলে ধরা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় জনগণের উদ্বেগ দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন এনসিপির জেলা সমন্বয়কারী কামরুজ্জামান বুলু, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, খেলাফত আন্দোলনের জেলা সভাপতি হাফেজ ইমদাদুল হক এবং জাগপা ও এবি পার্টিসহ জোটভুক্ত অন্যান্য দলের নেতারা। আজ শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল চারটায় এই দাবিতে সাতক্ষীরার ভোমরায় সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে ১১ দলীয় জোট।

Ads small one

বিশ্বকাপের সেরা গোলকিপার হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে কে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৩ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপের সেরা গোলকিপার হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে কে?

বিশ্বকাপে সোনালি ট্রফির পাশাপাশি গোল্ডেন বল, বুট ও গ্লাভসেরও লড়াই হয়ে থাকে। এবারের বিশ্বকাপেও ব্যক্তিগত অর্জনের লড়াইগুলো জমে উঠেছে। গোল্ডেন বল ও বুটের জন্য লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মধ্যে লড়াই চললেও গোল্ডেন গ্লাভসের রেসেও রয়েছে বেশ কিছু গোলকিপার। চলুন দেখে নেওয়া যাব এবার এই পুরষ্কারটি কার হাতে উঠছে।

কাতার বিশ্বকাপে এই পুরস্কারটি পেয়েছিলেন চ্যাম্পিয়ন দল আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। সেবার বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্স ছিল অনবদ্য। আর্জেন্টিনাকে দুটি পেনাল্টি শুটআউটে জিতিয়েছেন। তবে এবার সেই ফর্মে নেই তিনি। নকআউটের প্রতিটি ম্যাচেই গোল হজম করতে হয়েছে।

এবার এখন পর্যন্ত ৭ ম্যাচ খেলে এখন পর্যন্ত গোল হজম করেছেন ৭টি। মোট সেভ দিয়েছেন ৯টি। বক্সের ভেতরে ও বাইরে বলে টাচে অন্য গোলকিপারদের চেয়ে বেশ পিছিয়ে তিনি। তার এবার পুরস্কারটি জেতার সম্ভাবনা অনেক কম।

সেমিফাইনাল পর্যন্ত এই পুরস্কারের জন্য তুমুল লড়াই চলেছে স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন, ফ্রান্সের মাইগান ও ইংল্যান্ডের জর্ডান পিকফোর্ডের মধ্যে। তবে উনাই সিমন ফাইনালে ওঠায় তিনি কিছুটা এগিয়ে গেছেন।

এই বিশ্বকাপে স্পেন গোলরক্ষকের অনবদ্য পারফরম্যান্স দেখা যাচ্ছে। ৭ ম্যাচে গোল হজম করেছেন মাত্র একটি। এর মধ্যে ফ্রান্স ও পর্তুগালের ম্যাচেও দলকে ক্লিনশিট এনে দিয়েছেন। ৭ ম্যাচে সেভ দিয়েছেন ১৪টি। যদিও ফিফার ওয়েবসাইটে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী তার চেয়ে ভালো করেছেন আরও ২০ গোলকিপার। কিন্তু তার দল ফাইনালে যাওয়ার পেছনে তার অবদান অতুলনীয়। পাশাপাশি তিনি ৬ ম্যাচে ক্লিনশিট রেখেছেন। সে জায়গা থেকে এবার এই পুরস্কারটি তার হাতে ওঠার সম্ভাবনা অনেকে বেশি।

বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে ৯ গোল হজম করলেও এবারের টুর্নামেন্টে ইংলিশ গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ডের পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। এখন পর্যন্ত তিনি ১৯টি সেভ দিয়েছেন। বিশ্বকাপে শট সেভের তালিকায় তিনি পাঁচ নম্বরে রয়েছেন। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে তিনি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিতে পারলে গোল্ডেন গ্লাভসের দাবিদার তিনিও থাকবেন।

৭ ম্যাচে ৪ ক্লিনশিট রেখে গোল্ডেন গ্লাভসের দৌড়ে রয়েছেন ফরাসি গোলরক্ষক মাইগানও। তবে মাত্র ১১টি সেভ দিয়েছেন তিনি। যা উনাই সিমন ও পিকফোর্ডের তুলনায় কম।

এদিকে এবারের বিশ্বকাপে একক গোলকিপার হিসেবে সর্বোচ্চ সেভ দিয়েছেন প্যারাগুয়ের ওরলান্ডো গিল। যদিও রাউন্ড অব সিক্সটিনে ফ্রান্সের সঙ্গে ১-০ গোলে হেরে তার দল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়।

সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ছয় লক্ষাধিক টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ছয় লক্ষাধিক টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ কাকডাঙ্গা , মাদরা ও চান্দুরিয়া বিওপি এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ, ঔষধ এবং শাড়ী আটক করে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানায়, কাকডাঙ্গা বিওপির পৃথক দুইটি আভিযানে কলারোয়া থানার কেড়াগাছি ও রাজ্জাকের মোড় হতে ২ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ, ঔষধ এবং শাড়ী আটক করে। মাদরা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার ভাদিয়ালি হতে ৯০ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে।

এছাড়াও চান্দুরিয়া বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার কাদপুর হতে ২ লাখ ২১ হাজার ২০০ টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ এবং ঔষধ আটক করে। আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ৬ লাখ ০৮ হাজার ৭০০ টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী মাদকসহ অন্যান্য মালামাল চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

সুখের শুরু দৃষ্টিভঙ্গিতে/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ণ
সুখের শুরু দৃষ্টিভঙ্গিতে/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

মানুষের জীবন কখনোই সরলরেখায় চলে না। আনন্দের পাশাপাশি আসে বেদনা, সাফল্যের পাশে থাকে ব্যর্থতা, প্রাপ্তির সঙ্গে থাকে অপ্রাপ্তি। জীবনের এই বৈচিত্র্যই মানুষকে অভিজ্ঞ করে, পরিণত করে এবং বাস্তবতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলোÑএকই পরিস্থিতিতে মানুষের প্রতিক্রিয়া এক রকম হয় না। কেউ সামান্য সমস্যায় ভেঙে পড়েন, আবার কেউ বড় সংকটের মধ্যেও আশার আলো খুঁজে পান। এই পার্থক্যের মূল জায়গাটি হলো মানুষের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি।

 

আমাদের জীবনে কতটা সুখ থাকবে, তা অনেকাংশেই নির্ভর করে আমরা জীবনকে কীভাবে দেখি তার ওপর। কারণ বাইরের সব পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক বাধা, মানুষের আচরণ কিংবা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাÑএসব অনেক কিছুই আমাদের ইচ্ছার বাইরে ঘটে। কিন্তু এসব ঘটনার প্রতি আমাদের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে, সেটি অনেকটাই আমাদের নিজের হাতে। একই বৃষ্টিকে কেউ দুর্ভোগ মনে করেন, আবার কেউ প্রকৃতির সৌন্দর্য হিসেবে উপভোগ করেন। একই ব্যর্থতাকে কেউ অপমান মনে করেন, আবার কেউ সেটিকে শিক্ষা ও নতুন শুরুর সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন। অর্থাৎ বাস্তবতা এক হলেও মানুষের উপলব্ধি ভিন্ন হতে পারে। আর এই উপলব্ধির পার্থক্যই একজন মানুষকে সুখী কিংবা অসুখী করে তোলে।

 

বর্তমান সময়ে মানুষের অসুখী হওয়ার অন্যতম বড় কারণ হলোÑঅন্যের সঙ্গে নিজের জীবনকে তুলনা করা। আমরা প্রায়ই ভুলে যাই, প্রত্যেক মানুষের জীবনযাত্রার পথ আলাদা। কারও সাফল্য দ্রুত আসে, কারও আসে দীর্ঘ সংগ্রামের পর। কেউ অল্প বয়সে প্রতিষ্ঠিত হন, আবার কেউ জীবনের পরবর্তী সময়ে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। তাই অন্যের জীবনের সঙ্গে নিজের জীবনকে তুলনা করলে হতাশা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগে এই সমস্যা আরও বেড়েছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মানুষ সাধারণত নিজের জীবনের সুন্দর মুহূর্তগুলোই তুলে ধরে। সেখানে হাসি আছে, সাফল্য আছে, অর্জন আছে; কিন্তু সেই হাসির আড়ালের কষ্ট, ব্যর্থতা ও সংগ্রামের গল্প খুব কমই দেখা যায়। ফলে আমরা অন্যের জীবনের একটি অংশ দেখে নিজের পুরো জীবনকে বিচার করতে শুরু করি। এই ভুল তুলনা মানুষের মনে অপ্রাপ্তির অনুভূতি বাড়ায়।

 

মনে হয়, সবাই এগিয়ে যাচ্ছে, শুধু আমিই পিছিয়ে আছি। অথচ বাস্তবতা হলোÑপ্রত্যেক মানুষই কোনো না কোনো সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছেন। যাকে আমরা সফল মনে করি, তার জীবনেও থাকতে পারে অজানা চাপ, দুশ্চিন্তা ও কঠিন লড়াই। অন্যের সাফল্যে হিংসা করা সহজ, কিন্তু সেই সাফল্যকে সম্মান করা এবং নিজের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করা একটি পরিণত মানসিকতার পরিচয়। কারণ হিংসা প্রথমে অন্যকে নয়, নিজের মনকেই অশান্ত করে। অন্যের ভালো দেখে আনন্দিত হতে পারলে নিজের মধ্যেও তৈরি হয় ইতিবাচক শক্তি। সমাজে অনেক সময় একটি ভুল ধারণা তৈরি হয়Ñঅন্যের এগিয়ে যাওয়া মানেই নিজের পিছিয়ে পড়া। এটি সত্য নয়। একজনের সাফল্য আরেক জনের ব্যর্থতার কারণ নয়।

 

পৃথিবীতে প্রত্যেক মানুষের জন্য আলাদা সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। তাই অন্যের অর্জন থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের পথ তৈরি করাই হওয়া উচিত লক্ষ্য। সুখের আরেকটি বড় বাধা হলো অতিরিক্ত প্রত্যাশা। আমরা অনেক সময় বাস্তবতার চেয়ে কল্পনার জগতে বেশি বসবাস করি। চাই সবকিছু আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটুক। কিন্তু জীবন সব সময় আমাদের ইচ্ছামতো চলে না। তাই বাস্তবতাকে গ্রহণ করার ক্ষমতাও জীবনের বড় শিক্ষা। এর অর্থ এই নয় যে মানুষ স্বপ্ন দেখবে না বা উন্নতির চেষ্টা করবে না। বরং স্বপ্ন, লক্ষ্য ও পরিশ্রম মানুষের এগিয়ে যাওয়ার শক্তি। তবে সেই সঙ্গে প্রয়োজন ধৈর্য ও বাস্তবতা বোঝার ক্ষমতা।

 

অযৌক্তিক প্রত্যাশা মানুষকে হতাশ করে, আর বাস্তবসম্মত লক্ষ্য মানুষকে সফলতার পথে এগিয়ে নেয়। ব্যর্থতার ক্ষেত্রেও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা প্রয়োজন। আমাদের সমাজে ব্যর্থতাকে অনেক সময় নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। পরীক্ষায় ভালো ফল না হলে, চাকরি না পেলে কিংবা ব্যবসায় ক্ষতি হলে অনেকে মনে করেন সব শেষ। অথচ ব্যর্থতা জীবনের স্বাভাবিক অংশ। পৃথিবীর বহু সফল মানুষ জীবনে একাধিকবার ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু তাঁরা ব্যর্থতাকে নিজেদের পরিচয় বানাননি; বরং সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে গেছেন। জীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতা আমাদের কিছু না কিছু শেখায়।

 

কোনো ব্যর্থতা শেখায় নতুন পরিকল্পনা করতে, কোনো সংকট শেখায় নিজের শক্তি চিনতে, কোনো সম্পর্কের ভাঙন শেখায় মানুষকে বুঝতে। তাই কঠিন সময়কে শুধু দুর্ভাগ্য হিসেবে না দেখে শিক্ষার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা প্রয়োজন। পরিবার, শিক্ষা ও সামাজিক পরিবেশ একজন মানুষের চিন্তাভাবনা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশুকে ছোটবেলা থেকেই অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেওয়া উচিত। কারণ আত্মবিশ্বাসী মানুষই জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শুধু ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা, সহমর্মিতা ও মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

 

একজন শিক্ষার্থীর সফলতা শুধু নম্বরে সীমাবদ্ধ নয়; তার চরিত্র, চিন্তা ও মানবিক গুণাবলিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি সুন্দর সমাজ গড়ে ওঠে তখনই, যখন মানুষ শুধু নিজের সাফল্য নিয়ে ব্যস্ত থাকে না; অন্যের সুখ-দুঃখকেও গুরুত্ব দেয়। অন্যের সাফল্যে অভিনন্দন জানানো, বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং ব্যর্থ মানুষকে উৎসাহ দেওয়াÑএসব ছোট ছোট মানবিক আচরণ সমাজকে আরও সুন্দর করে। মানসিক শান্তি কোনো বাহ্যিক সম্পদের বিষয় নয়। অনেক অর্থবান মানুষও অশান্তিতে থাকেন, আবার সীমিত সামর্থ্যের মানুষও সুখী জীবন যাপন করেন। কারণ সুখের সঙ্গে মানুষের চিন্তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যে ব্যক্তি নিজের প্রাপ্তির মূল্য বুঝতে পারেন, তিনি সীমিত সুযোগের মধ্যেও আনন্দ খুঁজে নিতে পারেন। সবশেষে বলা যায়, জীবনের সব সমস্যা দূর করা সম্ভব নয়। প্রতিকূলতা থাকবে, ব্যর্থতা আসবে, অপ্রাপ্তিও থাকবে। কিন্তু এসবের মধ্যেও ভালো থাকার ক্ষমতাই হলো জীবনের বড় প্রজ্ঞা।

 

অন্যের সাফল্যে হিংসা নয়, অনুপ্রেরণা; ব্যর্থতায় হতাশা নয়, শিক্ষা; অপ্রাপ্তিতে আফসোস নয়, প্রাপ্তির প্রতি কৃতজ্ঞতাÑএই মানসিকতাই মানুষকে সত্যিকারের সুখী করে। জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য হলো, সুখ কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় পাওয়া যায় না। সুখের শুরু আমাদের নিজের ভেতর থেকে, আমাদের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি থেকে।ঘটনা নয়, ঘটনার ব্যাখ্যাই অনেক সময় আমাদের সুখ বা দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই পৃথিবীকে বদলানোর আগে বদলাতে হবে নিজের দেখার চোখ। কারণ সুখের শুরু বাইরের কোনো অর্জনে নয়, সুখের শুরু আমাদের নিজের দৃষ্টিভঙ্গিতে।

লেখক: সংবাদকর্মী