শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

সুখের শুরু দৃষ্টিভঙ্গিতে/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ণ
সুখের শুরু দৃষ্টিভঙ্গিতে/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

মানুষের জীবন কখনোই সরলরেখায় চলে না। আনন্দের পাশাপাশি আসে বেদনা, সাফল্যের পাশে থাকে ব্যর্থতা, প্রাপ্তির সঙ্গে থাকে অপ্রাপ্তি। জীবনের এই বৈচিত্র্যই মানুষকে অভিজ্ঞ করে, পরিণত করে এবং বাস্তবতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলোÑএকই পরিস্থিতিতে মানুষের প্রতিক্রিয়া এক রকম হয় না। কেউ সামান্য সমস্যায় ভেঙে পড়েন, আবার কেউ বড় সংকটের মধ্যেও আশার আলো খুঁজে পান। এই পার্থক্যের মূল জায়গাটি হলো মানুষের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি।

 

আমাদের জীবনে কতটা সুখ থাকবে, তা অনেকাংশেই নির্ভর করে আমরা জীবনকে কীভাবে দেখি তার ওপর। কারণ বাইরের সব পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক বাধা, মানুষের আচরণ কিংবা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাÑএসব অনেক কিছুই আমাদের ইচ্ছার বাইরে ঘটে। কিন্তু এসব ঘটনার প্রতি আমাদের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে, সেটি অনেকটাই আমাদের নিজের হাতে। একই বৃষ্টিকে কেউ দুর্ভোগ মনে করেন, আবার কেউ প্রকৃতির সৌন্দর্য হিসেবে উপভোগ করেন। একই ব্যর্থতাকে কেউ অপমান মনে করেন, আবার কেউ সেটিকে শিক্ষা ও নতুন শুরুর সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন। অর্থাৎ বাস্তবতা এক হলেও মানুষের উপলব্ধি ভিন্ন হতে পারে। আর এই উপলব্ধির পার্থক্যই একজন মানুষকে সুখী কিংবা অসুখী করে তোলে।

 

বর্তমান সময়ে মানুষের অসুখী হওয়ার অন্যতম বড় কারণ হলোÑঅন্যের সঙ্গে নিজের জীবনকে তুলনা করা। আমরা প্রায়ই ভুলে যাই, প্রত্যেক মানুষের জীবনযাত্রার পথ আলাদা। কারও সাফল্য দ্রুত আসে, কারও আসে দীর্ঘ সংগ্রামের পর। কেউ অল্প বয়সে প্রতিষ্ঠিত হন, আবার কেউ জীবনের পরবর্তী সময়ে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। তাই অন্যের জীবনের সঙ্গে নিজের জীবনকে তুলনা করলে হতাশা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগে এই সমস্যা আরও বেড়েছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মানুষ সাধারণত নিজের জীবনের সুন্দর মুহূর্তগুলোই তুলে ধরে। সেখানে হাসি আছে, সাফল্য আছে, অর্জন আছে; কিন্তু সেই হাসির আড়ালের কষ্ট, ব্যর্থতা ও সংগ্রামের গল্প খুব কমই দেখা যায়। ফলে আমরা অন্যের জীবনের একটি অংশ দেখে নিজের পুরো জীবনকে বিচার করতে শুরু করি। এই ভুল তুলনা মানুষের মনে অপ্রাপ্তির অনুভূতি বাড়ায়।

 

মনে হয়, সবাই এগিয়ে যাচ্ছে, শুধু আমিই পিছিয়ে আছি। অথচ বাস্তবতা হলোÑপ্রত্যেক মানুষই কোনো না কোনো সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছেন। যাকে আমরা সফল মনে করি, তার জীবনেও থাকতে পারে অজানা চাপ, দুশ্চিন্তা ও কঠিন লড়াই। অন্যের সাফল্যে হিংসা করা সহজ, কিন্তু সেই সাফল্যকে সম্মান করা এবং নিজের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করা একটি পরিণত মানসিকতার পরিচয়। কারণ হিংসা প্রথমে অন্যকে নয়, নিজের মনকেই অশান্ত করে। অন্যের ভালো দেখে আনন্দিত হতে পারলে নিজের মধ্যেও তৈরি হয় ইতিবাচক শক্তি। সমাজে অনেক সময় একটি ভুল ধারণা তৈরি হয়Ñঅন্যের এগিয়ে যাওয়া মানেই নিজের পিছিয়ে পড়া। এটি সত্য নয়। একজনের সাফল্য আরেক জনের ব্যর্থতার কারণ নয়।

 

পৃথিবীতে প্রত্যেক মানুষের জন্য আলাদা সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। তাই অন্যের অর্জন থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের পথ তৈরি করাই হওয়া উচিত লক্ষ্য। সুখের আরেকটি বড় বাধা হলো অতিরিক্ত প্রত্যাশা। আমরা অনেক সময় বাস্তবতার চেয়ে কল্পনার জগতে বেশি বসবাস করি। চাই সবকিছু আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটুক। কিন্তু জীবন সব সময় আমাদের ইচ্ছামতো চলে না। তাই বাস্তবতাকে গ্রহণ করার ক্ষমতাও জীবনের বড় শিক্ষা। এর অর্থ এই নয় যে মানুষ স্বপ্ন দেখবে না বা উন্নতির চেষ্টা করবে না। বরং স্বপ্ন, লক্ষ্য ও পরিশ্রম মানুষের এগিয়ে যাওয়ার শক্তি। তবে সেই সঙ্গে প্রয়োজন ধৈর্য ও বাস্তবতা বোঝার ক্ষমতা।

 

অযৌক্তিক প্রত্যাশা মানুষকে হতাশ করে, আর বাস্তবসম্মত লক্ষ্য মানুষকে সফলতার পথে এগিয়ে নেয়। ব্যর্থতার ক্ষেত্রেও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা প্রয়োজন। আমাদের সমাজে ব্যর্থতাকে অনেক সময় নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। পরীক্ষায় ভালো ফল না হলে, চাকরি না পেলে কিংবা ব্যবসায় ক্ষতি হলে অনেকে মনে করেন সব শেষ। অথচ ব্যর্থতা জীবনের স্বাভাবিক অংশ। পৃথিবীর বহু সফল মানুষ জীবনে একাধিকবার ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু তাঁরা ব্যর্থতাকে নিজেদের পরিচয় বানাননি; বরং সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে গেছেন। জীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতা আমাদের কিছু না কিছু শেখায়।

 

কোনো ব্যর্থতা শেখায় নতুন পরিকল্পনা করতে, কোনো সংকট শেখায় নিজের শক্তি চিনতে, কোনো সম্পর্কের ভাঙন শেখায় মানুষকে বুঝতে। তাই কঠিন সময়কে শুধু দুর্ভাগ্য হিসেবে না দেখে শিক্ষার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা প্রয়োজন। পরিবার, শিক্ষা ও সামাজিক পরিবেশ একজন মানুষের চিন্তাভাবনা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশুকে ছোটবেলা থেকেই অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেওয়া উচিত। কারণ আত্মবিশ্বাসী মানুষই জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শুধু ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা, সহমর্মিতা ও মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

 

একজন শিক্ষার্থীর সফলতা শুধু নম্বরে সীমাবদ্ধ নয়; তার চরিত্র, চিন্তা ও মানবিক গুণাবলিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি সুন্দর সমাজ গড়ে ওঠে তখনই, যখন মানুষ শুধু নিজের সাফল্য নিয়ে ব্যস্ত থাকে না; অন্যের সুখ-দুঃখকেও গুরুত্ব দেয়। অন্যের সাফল্যে অভিনন্দন জানানো, বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং ব্যর্থ মানুষকে উৎসাহ দেওয়াÑএসব ছোট ছোট মানবিক আচরণ সমাজকে আরও সুন্দর করে। মানসিক শান্তি কোনো বাহ্যিক সম্পদের বিষয় নয়। অনেক অর্থবান মানুষও অশান্তিতে থাকেন, আবার সীমিত সামর্থ্যের মানুষও সুখী জীবন যাপন করেন। কারণ সুখের সঙ্গে মানুষের চিন্তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যে ব্যক্তি নিজের প্রাপ্তির মূল্য বুঝতে পারেন, তিনি সীমিত সুযোগের মধ্যেও আনন্দ খুঁজে নিতে পারেন। সবশেষে বলা যায়, জীবনের সব সমস্যা দূর করা সম্ভব নয়। প্রতিকূলতা থাকবে, ব্যর্থতা আসবে, অপ্রাপ্তিও থাকবে। কিন্তু এসবের মধ্যেও ভালো থাকার ক্ষমতাই হলো জীবনের বড় প্রজ্ঞা।

 

অন্যের সাফল্যে হিংসা নয়, অনুপ্রেরণা; ব্যর্থতায় হতাশা নয়, শিক্ষা; অপ্রাপ্তিতে আফসোস নয়, প্রাপ্তির প্রতি কৃতজ্ঞতাÑএই মানসিকতাই মানুষকে সত্যিকারের সুখী করে। জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য হলো, সুখ কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় পাওয়া যায় না। সুখের শুরু আমাদের নিজের ভেতর থেকে, আমাদের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি থেকে।ঘটনা নয়, ঘটনার ব্যাখ্যাই অনেক সময় আমাদের সুখ বা দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই পৃথিবীকে বদলানোর আগে বদলাতে হবে নিজের দেখার চোখ। কারণ সুখের শুরু বাইরের কোনো অর্জনে নয়, সুখের শুরু আমাদের নিজের দৃষ্টিভঙ্গিতে।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

Ads small one

আজ আইসক্রিম দিবস: জানেন কি সে ইতিহাস?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৫ অপরাহ্ণ
আজ আইসক্রিম দিবস: জানেন কি সে ইতিহাস?

আখলাকুর রহমান

মানুষের জীবনটা আসলে এক অদ্ভুত ধাঁধা। এই যেমন ধরুন, সাতক্ষীরার প্রখর গ্রীষ্মে যখন মাথার ওপর সূর্যটা ঠিক যেন একটা জ্বলন্ত কড়াইয়ের মতো খাড়া হয়ে থাকে, তখন আমরা সবাই ছায়া খুঁজি, একটুখানি শীতলতা খুঁজি। প্রকৃতির এই তীব্র দাবদাহের মধ্যে মানুষের তৈরি সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার কী, তা কি আপনারা জানেন? এটার উত্তর কোনো রকেট সায়েন্স নয়, উত্তরটা খুবই সরল এবং সুস্বাদু-আইসক্রিম। আজ জুলাই মাসের তৃতীয় রবিবার, বিশ্ব আইসক্রিম দিবস। দিনটি যখন এসেছেই, তখন আমার প্রিয় সাতক্ষীরার পাঠকদের জন্য আইসক্রিমের কিছু চমৎকার এবং আনন্দময় ইতিহাস না বললেই নয়। আপনারা হয়তো ভাবছেন, এই হিমশীতল বস্তুটি বুঝি সেদিনের আধুনিক কোনো কারখানার সৃষ্টি। কিন্তু ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, মানুষের এই ঠান্ডার প্রতি মোহ হাজার বছরের পুরোনো।

গল্পের শুরুটা করা যাক আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের পারস্য সাম্্রাজ্য থেকে। তখনকার দিনে তো আর আমাদের ঘরের কোণের মতো আধুনিক রেফ্রিজারেটর ছিল না। পারস্যের রাজারা গরমের দিনে পাহাড়ি বরফ আনিয়ে তার ওপর আঙুরের রস, জাফরান এবং নানা পদের ফল ছড়িয়ে এক বিশেষ ধরনের খাবার খেতেন। এটাকে ঠিক আজকের আইসক্রিম বলা না গেলেও, হিমায়িত মিষ্টান্ন বা ডেজার্টের আদিপুরুষ বলাই যায়। রোমান সম্্রাট নিরোর একটা মজার কান্ড ছিল। তিনি তাঁর দাসদের পাঠাতেন আল্পস পর্বতমালায়, শুধুমাত্র সেখান থেকে তাজা বরফ কুড়িয়ে আনার জন্য। সেই বরফ এনে তাতে মধু এবং ফলের রস মিশিয়ে তিনি পরম তৃপ্তিতে খেতেন। ভেবে দেখুন, এক বাটি বরফ-মিষ্টির জন্য মানুষের কী বিপুল আয়োজন!

তবে আমরা আজকে যে ক্রিমি এবং মোলায়েম আইসক্রিম খাই, তার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান কিন্তু চীনের। প্রায় দুই হাজার বছর আগে চীনের তাং রাজবংশের রাজারা দুধ আর চালের গুঁড়োর মিশ্রণকে বরফে জমিয়ে এক ধরনের খাবার তৈরি করতেন, যা বর্তমান আইসক্রিমের খুব কাছাকাছি। এই গোপন রেসিপিটি কিন্তু দীর্ঘদিন প্রাচীর ঘেরা চীনেই বন্দি ছিল। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে বিখ্যাত পরিব্রাজক মার্কো পোলো যখন চীন ভ্রমণ শেষে ইতালিতে ফিরে গেলেন, তখন তিনি সঙ্গে করে নিয়ে গেলেন আইসক্রিম তৈরির এই জাদুকরী কৌশল। ব্যস, ইউরোপের রাজপরিবারে হইচই পড়ে গেল। ইতালির রাজকন্যা ক্যাথরিন ডি মেডিসি যখন ফ্রান্সের রাজাকে বিয়ে করলেন, তখন তিনি নিজের সঙ্গে করে শেফ নিয়ে গিয়েছিলেন, যেন ফ্রান্সে গিয়েও তিনি এই রাজকীয় খাবারের স্বাদ থেকে বঞ্চিত না হন।

আইসক্রিমের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, এটি দীর্ঘদিন ছিল শুধু রাজা-বাদশাহদের বিলাসী খাদ্য। সাধারণ মানুষের এই অমৃত ছোঁয়ার সাধ্য ছিল না। কিন্তু আমেরিকা আবিষ্কারের পর এবং শিল্প বিপ্লবের ছোঁয়ায় আইসক্রিম আমূল বদলে গেল। জ্যাকব ফুসেল নামের এক ভদ্রলোক যখন প্রথম বাণিজ্যিকভাবে আইসক্রিম তৈরি শুরু করলেন, তখন এটি সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে চলে এলো। এরপর এলো আইসক্রিম কোনের যুগ। ১৯০৪ সালের সেন্ট লুইস বিশ্ব মেলায় এক আইসক্রিম বিক্রেতার বাটি ফুরিয়ে গিয়েছিল। পাশেই এক সিরিয়ান ভদ্রলোক ওয়াফেল বিক্রি করছিলেন। তিনি বুদ্ধি করে তাঁর ওয়াফেলটিকে কোণের মতো মুড়িয়ে তার ওপর আইসক্রিম বসিয়ে দিলেন। এভাবেই জন্ম নিল আমাদের অতি পরিচিত এবং ভালোবাসার আইসক্রিম কোণ, যা খেতে কোনো বাটি বা চামচের প্রয়োজন হয় না।

আমাদের এই সাতক্ষীরা অঞ্চলে গরমের দিনে যখন ‘আইসক্রিম’ বলে কোনো ফেরিওয়ালা ডাক দেন, তখন ছোট-বড় সবার মনেই এক তীব্র চঞ্চলতা তৈরি হয়। শৈশবের সেই কাঠি আইসক্রিম, লাল-সবুজ রঙের বরফ গলা পানি, কিংবা আজকের দিনের আধুনিক কুলফি—সবকিছুর মধ্যেই লুকিয়ে থাকে এক অদ্ভুত ভালো লাগা। জীবনটা আসলে খুব জটিল কিছু নয়। কখনো কখনো এক কাপ ভ্যানিলা কিংবা চকোলেট আইসক্রিম মানুষের সমস্ত ক্লান্তি এবং দুঃখকে এক পলকে ভুলিয়ে দিতে পারে। তাই এই বিশেষ দিবসে সাতক্ষীরার সমস্ত ব্যস্ত মানুষকে আমার অনুরোধ, জীবনের সব জটিলতা কিছুক্ষণের জন্য ভুলে যান। বাজার থেকে নিজের পছন্দের আইসক্রিম কিনে এনে মুখে পুরে দিন, এবং অনুভব করুন কীভাবে ফ্রিজের ঠান্ডার মাঝেও এক চিলতে অকৃত্রিম ও উষ্ণ আনন্দ লুকিয়ে থাকে। শুভ আইসক্রিম দিবস, সবার জীবন আইসক্রিমের মতোই মিষ্টি আর শীতল হোক।

লেখা : আখলাকুর রহমান, উদ্যোক্তা

আন্তর্জাতিক রিটেইনার দিবস: সুন্দর হাসির স্থায়ী অঙ্গীকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:০০ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক রিটেইনার দিবস: সুন্দর হাসির স্থায়ী অঙ্গীকার

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রতি বছর ১৯ জুলাই পালিত হয় আন্তর্জাতিক রিটেইনার দিবস (International Retainer Day)। দাঁত সোজা করার দীর্ঘ ও শ্রমসাধ্য অর্থোডন্টিক চিকিৎসার পর সেই অর্জিত সুন্দর হাসি ও দাঁতের সুবিন্যস্ত অবস্থান ধরে রাখতে রিটেইনারের গুরুত্ব অপরিসীম। চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি কেবল নান্দনিকতার বিষয় নয়, বরং মৌখিক স্বাস্থ্য ও শারীরিক সুস্থতার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আমাদের মুখগহ্বর হলো শরীরের প্রবেশদ্বার। মানুষের ৩২টি স্থায়ী দাঁত-ইনসিসর, ক্যানাইন, প্রিমোলার ও মোলার-প্রতিটিই নিজস্ব গঠন ও কাজের মাধ্যমে আমাদের খাদ্য গ্রহণ, স্পষ্ট উচ্চারণ এবং সুন্দর হাসির ভিত্তি তৈরি করে। দাঁতের সঠিক বিন্যাস কেবল আত্মবিশ্বাসই বাড়ায় না, বরং এটি খাবার চিবানোর কার্যকারিতা বাড়িয়ে হজম প্রক্রিয়াকেও সহায়তা করে। যখন কোনো ব্যক্তি ব্রেস বা অ্যালাইনারের মাধ্যমে আঁকাবাঁকা দাঁত সোজা করেন, তখন মূলত তিনি নিজের মুখের গঠন ও স্বাস্থ্যের পুনর্বিন্যাস করেন।

অর্থোডন্টিক চিকিৎসার পর দাঁত যখন নতুন অবস্থানে আসে, তখন তার চারপাশের হাড় ও লিগামেন্টগুলোকে সেই অবস্থানের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সময়ের প্রয়োজন হয়। রিটেইনার ছাড়া দাঁত পুনরায় তার আগের এলোমেলো অবস্থানে ফিরে যেতে চায়, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘রিল্যাপস’ নামে পরিচিত। এই রিল্যাপস রোধে রিটেইনারের ভূমিকা অপরিসীম—তা রিমুভেবল হোক বা স্থায়ী। দাঁতকে কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে স্থায়ীভাবে স্থিতিশীল রাখতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত এর ব্যবহার অপরিহার্য।

সুন্দর ও দীর্ঘস্থায়ী হাসি ধরে রাখতে রিটেইনারের সঠিক যতœ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত রিটেইনার ব্যবহার করুন। খাবার বা পানীয় গ্রহণের সময় (পানি ছাড়া) এটি খুলে রাখা উচিত। প্রতিদিন নরম ব্রাশ ও ঠান্ডা পানি দিয়ে এটি পরিষ্কার করতে হবে, তবে গরম পানি পরিহার করতে হবে যেন রিটেইনারের গঠন বিকৃত না হয়। রিটেইনার ব্যবহারের বাইরে এটি বক্সে সুরক্ষিত রাখতে হবে।

আন্তর্জাতিক রিটেইনার দিবস দাঁতের চিকিৎসার ফল দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে। বাংলাদেশে ব্রেসেস, রুট ক্যানেল ও ইমপ্লান্টের মতো আধুনিক দন্তচিকিৎসা জনপ্রিয় হলেও অনেক মানুষ এখনও নিয়মিত চেক-আপের বদলে ব্যথা হলে চিকিৎসকের কাছে যান। দাঁত সোজা করার পর রিটেইনারের নিয়মিত ব্যবহার এবং দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি। পাশাপাশি পান-সুপারি, জর্দা ও ধূমপান বর্জন করলে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ দাঁত ও সুন্দর হাসি বজায় রাখা সম্ভব। তাই দিবসটি চিকিৎসার পাশাপাশি দন্তস্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

১৯ জুলাই আন্তর্জাতিক রিটেইনার দিবস; অর্থোডন্টিক চিকিৎসার সাফল্য কেবল চিকিৎসকের দক্ষতায় নয়, বরং আপনার নিয়মিত সচেতনতা ও যতেœর ওপরই নির্ভর করে। নিজের হাসির বিনিয়োগকে সুরক্ষিত রাখতে এবং ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন বজায় রাখতে রিটেইনার ব্যবহারের আগ্রহী হউন-কেননা “আজকের সচেতনতা ও নিয়মিত যতœই আগামী দিনের সুন্দর ও সুস্থ হাসির ভিত্তি গড়ে তোলে।”

 

পাইকগাছায় মরণফাঁদ খড়িয়া-ভড়েঙ্গা ব্রিজ, দেখার কেউ নেই!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় মরণফাঁদ খড়িয়া-ভড়েঙ্গা ব্রিজ, দেখার কেউ নেই!

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা উপজেলার খড়িয়া ভড়েঙ্গার চক গ্রামে ভড়েঙ্গা খালের ওপর নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেতুর মাঝখানে বড় আকারের গর্ত সৃষ্টি হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে কংক্রিট খসে রড বেরিয়ে এসেছে। এছাড়া সেতুর সংযোগ সড়কও না থাকায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শতশত স্কুলগামী শিশু শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর মাঝ বরাবর বড় দুটি অংশ ভেঙে নিচের ফাঁকা অংশ দৃশ্যমান হয়েছে। আশপাশে কংক্রিটে ফাটল এবং ক্ষয় স্পষ্ট। সেতুর দুই পাশের রেলিংও ভেঙে গিয়ে লোহার রড বেরিয়ে রয়েছে, যা এর নাজুক অবস্থা আরও স্পষ্ট করেছে। সেতুর নিচের পিলার ও কাঠামোর বিভিন্ন অংশেও বয়সজনিত ক্ষয় এবং ফাটলের চিহ্ন রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা উত্তম মন্ডল বলেন, বহু বছর ধরে সেতুটি সংস্কার বা পুনঃনির্মাণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ এটি খড়িয়া সবুজ পল্লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ গ্রামের মানুষের একমাত্র চলাচলের পথ।

পথচারী রবিউল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন কোমলমতি শিক্ষার্থী, অভিভাবক, কৃষক ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু ব্যবহার করছেন। যেকোন সময় ঘটতে পারে প্রাণঘাতী দূর্ঘটনা। প্রসনজিৎ মন্ডল বলেন, সেতুর মাঝখানে সৃষ্টি হওয়া বড় গর্তে অসাবধানতাবশত যে কোনো সময় মানুষ বা যানবাহন পড়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। বিশেষ করে বর্ষাকালে কিংবা রাতের অন্ধকারে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

লস্কর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, ব্রিজটি প্রায় ৩০ বছর আগে নির্মাণ করা হয়। অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে ঢালাই নষ্ট হয়ে গেছে, লোহার রড বের হয়ে গেছে। ব্রিজটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন একটা ব্রিজ হলে এলাকার মানুষ ভালোভাবে চলাচল করতে পারবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজিব বিশ্বাস বলেন, ব্রিজটির চলাচলের অযোগ্য হয়ে গেছে। বরাদ্দ পেলে নতুন একটা ব্রিজ করার জন্য প্রকল্প দেয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে সেতুটি পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ অংশে চলাচল নিয়ন্ত্রণ, সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং দ্রুত সংস্কার অথবা নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।