রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় ‘সম্পাদক’ পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ: কোণঠাসা সরকারি কর্মকর্তারা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ‘সম্পাদক’ পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ: কোণঠাসা সরকারি কর্মকর্তারা

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরায় কথিত ‘সম্পাদক’ ও নিবন্ধনহীন ভূঁইফোড় অনলাইন পোর্টালের দাপটে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সরকারি অফিসপাড়া। বিভিন্ন দপ্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। টাকা না দিলে ‘সিরিজ নিউজ’ বা ধারাবাহিক প্রতিবেদনের হুমকি দিয়ে কর্মকর্তাদের ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই চক্রটির চাঁদাবাজির কৌশল বেশ সুসংগঠিত। শুরুতেই তারা টার্গেট করা কর্মকর্তাকে ফোন দিয়ে নিজেকে প্রভাবশালী কোনো পত্রিকার সম্পাদক পরিচয় দেন। এরপর ‘আপনার অফিসে দুর্নীতি চলছে’, ‘সাংবাদিকরা প্রতিবেদন তৈরি করেছে’Ñএমন সব কথা বলে ভীতি প্রদর্শন করেন। এক পর্যায়ে ‘অফিস খরচ’ বা ‘বিজ্ঞাপন’ বাবদ বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়।
টাকা দিতে অস্বীকার করলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নিবন্ধনহীন অনলাইন পেজে শুরু হয় অপপ্রচার। ‘অমুক কর্মকর্তার দুর্নীতির সংবাদ আসছে, চোখ রাখুন’Ñএমন পোস্ট দিয়ে প্রথমে মানসিক চাপ তৈরি করা হয়। যদি কর্মকর্তা ভয়ে নতিস্বীকার করেন, তবে মুহূর্তেই সেই পোস্ট গায়েব হয়ে যায়। আর দাবি পূরণ না হলে ভুল ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা হয়। শুধু তা-ই নয়, হকার দিয়ে ওই সংবাদের কপি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ডেস্কেও পৌঁছে দেওয়া হয়।
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সাবেক এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “শুরুতে অফিস ভাড়ার কথা বলে টাকা চাওয়া হয়েছিল। একবার-দুবার দেওয়ার পর যখন বন্ধ করে দিলাম, তখনই শুরু হলো চরিত্রহনন। আমি নাকি ভারতে বাড়ি করেছি, ঢাকায় ফ্ল্যাট কিনেছিÑএমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ ছাপা হলো। পরে আবার সেই নিউজ মুছে ফেলার নামে টাকা চাওয়া হয়েছে।”
একই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন সনাতন ধর্মাবলম্বী এক উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা। তিনি বলেন, “আমি হিন্দু হওয়ায় আমাকে টার্গেট করে বলা হলো কলকাতায় আমার আলিশান বাড়ি আছে। অথচ ভারতে আমার পরিবারের কেউ থাকে না। স্রেফ টাকা না পেয়ে এমন হয়রানি করা হয়েছে।”
ভুক্তভোগী আরেক বিআরটিএ কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হলুদ সাংবাদিকদের শিকারে পরিণত হয়েছি আমি। দিনরাত ফোন দিয়ে বিরক্ত করা হতো। একবার অতিষ্ঠ হয়ে টাকা দিয়েছি, কিন্তু তাদের দাবি মেটে না। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা না দেওয়ায় দুই পর্বে মিথ্যা খবর ছাপানো হয়েছে।”
গুটিকয়েক ব্যক্তির এই অপেশাদার কর্মকা-ে সাতক্ষীরার মূলধারার গণমাধ্যমকর্মী ও প্রকৃত সম্পাদকরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন। তাদের দীর্ঘদিনের অর্জিত মান-সম্মান আজ প্রশ্নবিদ্ধ। সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করে, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আড়ালে এই চাঁদাবাজি বন্ধ হওয়া জরুরি।
সাতক্ষীরার সুশীল সমাজ ও পাঠকরা দাবি জানিয়েছেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যেন দ্রুত এসকল কথিত সম্পাদক ও অবৈধ অনলাইনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। মহান এই পেশাকে কলঙ্কমুক্ত করতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।

Ads small one

পাটকেলঘাটায় সরকারি জমি দখল করে ঘর নির্মাণ: উচ্ছেদ ও জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় সরকারি জমি দখল করে ঘর নির্মাণ: উচ্ছেদ ও জরিমানা

এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা বাণিজ্যিক কেন্দ্রে সরকারি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা একটি স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (১০ মে) বিকেলে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে সরকারি আদেশ অমান্য করায় অভিযুক্তকে জরিমানাও করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তালা উপজেলার সরুলিয়া ইউনিয়নের পুটিয়াখালী মৌজার ১৪৯ দাগের ‘ক’ তপশিলভুক্ত সরকারি জমিতে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ করছিলেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণে আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা অমান্য করে নির্মাণকাজ চালিয়ে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিন পরিদর্শন করে অবৈধ নির্মাণের প্রমাণ পান।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন তালা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহাত খান। পরিদর্শনকালে দেখা যায়, মাত্র এক শতক সরকারি জমি দখল করে স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারি আদেশ অমান্য করার দায়ে দ-বিধি ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারায় নির্মাণাধীন স্থাপনাটি উচ্ছেদ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আর্থিক জরিমানা করা হয়।
অভিযান চলাকালে পাটকেলঘাটা থানা-পুলিশের একটি দল আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা প্রদান করে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহাত খান সাংবাদিকদের জানান, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে জমি উদ্ধারে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, জনস্বার্থে কোনো অবৈধ দখলদারকে ছাড় দেওয়া হবে না।

কেশবপুরে জাল সনদ বিক্রির আস্তানা ‘পিটিএফ’ সিলগালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে জাল সনদ বিক্রির আস্তানা ‘পিটিএফ’ সিলগালা

এমএ রহমান, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জাল ডাক্তারি সনদ বিক্রি করে আসছিল ‘প্যারামেডিকেল অ্যান্ড টেকনোলজি ফাউন্ডেশন’ (পিটিএফ) নামের একটি প্রতিষ্ঠান। গতকাল রোববার (১০ মে) দুপুরে যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা অভিযান চালিয়ে ভুয়া এই প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দিয়েছেন।
এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রেকসোনা খাতুন এই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছিলেন। সে সময় জালিয়াতির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার এ কে আজাদ ওরফে ইকতিয়ারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে লোকচক্ষুর অন্তরালে চক্রটি তাদের জাল সনদ বিক্রির বাণিজ্য অব্যাহত রাখে।
২০১৬ সালে খুলনার যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (জয়েন্ট স্টক) থেকে নিবন্ধন নিয়ে কেশবপুর শহরের মাইকেল মোড়ে একটি ভাড়া বাসায় পিটিএফের ‘কেন্দ্রীয় হেড অফিস’ খোলেন আবুল কালাম আজাদ। এরপর ডিএমএফ, প্যাথলজি, আল্ট্রাসোনোগ্রাফিসহ ৫৬টি ট্রেডে সার্টিফিকেট দেওয়ার নামে ট্রেনিং সেন্টার শুরু করেন। আকর্ষণীয় লিফলেটের প্রলোভনে পড়ে বেকার যুবকরা এখানে আসতেন এবং কোর্সভেদে ৩৫ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ভুয়া ডাক্তারি সনদ হাতিয়ে নিতেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, স্বাস্থ্যবিষয়ক যেকোনো ট্রেনিং বা সনদ প্রদানের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন) অনুমোদন বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ কে আজাদ জয়েন্ট স্টকের একটি সাধারণ নিবন্ধনকে পুঁজি করে গত ১১ বছর ধরে অবৈধভাবে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। সরকারি তদারকি না থাকায় জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা বলেন, “পিটিএফ নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভুয়া সনদ বিক্রি করছেÑএমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তারা বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”

আশাশুনিতে মাদ্রাসার টাকা ও গয়না নিয়ে উধাও স্ত্রী, দিশেহারা স্বামী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে মাদ্রাসার টাকা ও গয়না নিয়ে উধাও স্ত্রী, দিশেহারা স্বামী

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার খরিয়াটি গ্রামে স্বামীর গচ্ছিত টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে এক গৃহবধূর পালিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খরিয়াটি হাফিজিয়া কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিম মাওলানা আব্দুস সবুর সরদার এই ঘটনায় খুলনা সোনাডাঙ্গার আতিকুর রহমান খোকন ও নিজের স্ত্রী রেশমা খাতুনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন।

মামলার বিবরণী অনুযায়ী, খুলনা সোনাডাঙ্গার আতিকুর রহমান খোকন পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে আব্দুস সবুরের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় আব্দুস সবুর বাড়িতে না থাকার সুযোগে রেশমা খাতুন দুই সন্তানকে ফেলে খোকনের সঙ্গে পালিয়ে যান। যাওয়ার সময় তিনি মাদ্রাসার সঞ্চয় তহবিলের নগদ ১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা এবং ৩ ভরি ২ আনা স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছেন বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদী আব্দুস সবুর জানান, রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সংগৃহীত মাদ্রাসার টাকা ব্যাংক ছুটি থাকায় তিনি বাড়িতে রেখেছিলেন। স্ত্রী ও অর্থসম্পদ হারিয়ে এখন তিনি নিঃস্ব। মাদ্রাসার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে এবং শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা ছেড়ে চলে গেছে। এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানকে নিয়ে তিনি এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

আদালতে সিআর ১৫৯/২৬ (আশাশুনি) নং মামলা দায়ের করার পর আসামিরা বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আমলী ০৮ নং আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে বাদী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।