রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে আরও ১৭ মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৬:৪৮ অপরাহ্ণ
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে আরও ১৭ মৃত্যু

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে নিশ্চিত হামে দুজন ও হামের উপসর্গে নিয়ে আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এরমধ্যে গতকাল রবিবার (৩ মে) শিশু হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে দুই মৃত্যুর তথ্যও আজ রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

সোমবার (৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে, এমন দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৫২ জনের মৃত্যু হলো। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ১৫ মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হামের উপসর্গে ২৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ৩১১ জনে দাঁড়ালো।

গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগী পাওয়া গেছে ১ হাজার ৩০২ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৫৪ জনের। আর গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হাম সন্দেহে পাওয়া রোগীর সংখ্যা ৪১ হাজার ৭৯৩ জন, এ সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ৪৬৭ জনের।

গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৮ হাজার ৮৪২ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৫ হাজার ১৫১ জন।

 

Ads small one

দেশের বিভিন্নস্থানে পিটিয়ে কুপিয়ে লাঠির আঘাতে ৯ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ণ
দেশের বিভিন্নস্থানে পিটিয়ে কুপিয়ে লাঠির আঘাতে ৯ জনের মৃত্যু

পত্রদূত ডেস্ক: নোয়াখালীতে সালিশ থেকে ফেরার পথে যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কলাপাড়ায় তরুণকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশ ৩ জনকে আটক করেছে। মানিকগঞ্জে ভাবি ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার পর দেবর পালিয়ে গেছে। নোয়াখালীতে জুয়ার আসর নিয়ে বিরোধে ভাতিজাকে বাঁচাতে গিয়ে চাচার মৃত্যু হয়েছে। রাজধানীর ভাটারায় উদ্ধার হওয়া নারীর মরদেহে খুনের আলামত পাওয়া গেছে। খুলনায় ভাড়া বাসা থেকে নানি ও দুই নাতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুনামগঞ্জে প্রতিবেশীর লাঠির আঘাতে কিশোরী নিহত হয়েছে।

 

নোয়াখালীতে সালিশ থেকে ফেরার পথে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় সালিস বৈঠক থেকে ফেরার পথে এক যুবককে পথরোধ করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার রাতে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের পাকমুন্সিরহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই যুবকের নাম জোবায়ের হোসেন রাকিব (২৩)। সে ওই ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো. হানিফের ছেলে। রাকিব ঢাকা ও নোয়াখালীর বিভিন্ন শপিংমলে চাকরি করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে পাকমুন্সিরহাট বাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাকিবের চাচাতো ভাইয়ের ছেলের সঙ্গে স্থানীয় এক দোকানদারের কথা কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে শনিবার রাতে ওই বাজারে সালিস বৈঠকের জন্য উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হন। সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এলাকার লোকজন রাকিবকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। পরে তিনি ছোট ভাই রিমনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। বাড়ি ফেরার পথে অন্ধকার স্থানে পথরোধ করে রাকিবের ওপর হামলা চালায় কয়েকজন।

হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে রাকিবের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করে। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যাওয়ায় রিমনের ওপরও হামলা করে দুর্বৃত্তরা। পরে রিমনের চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে আসেন। রাকিবকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি মো. শামসুজ্জামান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ঘটনায় জড়িতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। হত্যার কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

 

কলাপাড়ায় তরুণকে কুপিয়ে হত্যা, আটক ৩

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ‘কিশোর গ্যাংয়ের’ ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাজুল ইসলাম (১৬) নামের এক তরুণ নিহত হয়েছে। শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মাছুয়াখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তাজুল ইসলাম ওই গ্রামের ফারুক হাওলাদারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মাছুয়াখালী গ্রামের কিশোর গ্যাং সদস্যরা তাজুল ইসলামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। হামলার পর তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত তাজুল ইসলামকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কলাপাড়া থানার এসআই মো. হামিদুল হক বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার বা ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে এবং তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

 

মানিকগঞ্জে ভাবি ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, দেবর পলাতক

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় বড় ভাইয়ের স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে দেবরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বড় ভাই আব্দুস ছালাম (৪০) গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন-আব্দুস ছালামের স্ত্রী আমেনা (২৮) ও তাদের দেড় বছর বয়সী ছেলে আসওয়াদ। অভিযুক্ত ছোট ভাইয়ের নাম ইউসুফ আলী। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আব্দুস ছালাম ও তার ছোট ভাই ইউসুফ আলীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি সেই বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এরই জেরে গতকাল রাতে ইউসুফ ধারালো অস্ত্র নিয়ে ভাইয়ের বাড়িতে প্রবেশ করে ভাবি আমেনা ও ভাতিজা আসওয়াদের ওপর হামলা চালান। হামলায় ঘটনাস্থলেই মা-ছেলের মৃত্যু হয়। পরে বাধা দিতে গেলে আব্দুস ছালামের ওপরও হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি দা ও একটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

দৌলতপুর থানার ওসি স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানা গেছে। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

জুয়ার আসর নিয়ে বিরোধ, ভাতিজাকে বাঁচাতে গিয়ে চাচার মৃত্যু

বাড়িতে ঢুকে ভাতিজাকে মারধর করেছিলেন কয়েকজন। তা দেখে এগিয়ে যান চাচা। ভাতিজাকে রক্ষা করতে গেলে তাঁকেই মারধর করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এরপর তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

গতকাল শনিবার রাত নয়টার দিকে এমনই ঘটনা ঘটেছে নোয়াখালী সদর উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লচি সরদারবাড়িতে। নিহত ব্যক্তির নাম মো. কামাল উদ্দিন (৫০)। তিনি ওই এলাকার মৃত মো. সোলেমানের ছেলে। পেশায় গাছ ব্যবসায়ী ছিলেন মো. কামাল উদ্দিন।

পুলিশ ও বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগে গতকাল রাতে ঘরে ঢুকে মো. কামাল উদ্দিনের ভাতিজা মো. ফরহাদের ওপর হামলা করেন স্থানীয় কিছু বাসিন্দা। এ সময় ফরহাদকে বাঁচাতে গেলে হামলাকারীরা কামাল উদ্দিনকেও মারধর করেন। এরপর কামালের মৃত্যু হয়েছে।

জানতে চাইলে সুধারাম থানার পরিদর্শক রামচন্দ্র ভট্টাচার্য বলেন, জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে ফরহাদের ওপর হামলা হয়েছে। তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে কামাল উদ্দিনও হামলার শিকার হয়েছেন বলে পরিবারের অভিযোগ। তবে সুরতহাল প্রতিবেদনে কামাল উদ্দিনের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভাটারায় উদ্ধার হওয়া নারীর মরদেহে খুনের আলামত, স্বামী পলাতক

রাজধানীর ভাটারা থানার সোলমাইদ এলাকার একটি বাসা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যায় একজন গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর নাম পূর্ণিমা আক্তার (২৫)।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তাঁর গলায় নখের আঁচড়ের চিহ্ন রয়েছে।

ভাটারা থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্বামী স্বপনের সঙ্গে সোলমাইদ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন পূর্ণিমা। জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ খবর পেয়ে ভাটারা থানা-পুলিশ ওই বাসায় যায়। এ সময় খাটের ওপর থেকে পূর্ণিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে ময়নাতদন্তের জন্য পূর্ণিমার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়।

মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইয়াউর রহমান। প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্ণিমার মাথার বাঁ পাশে ফুলে ছিল। তাঁর গলার বাঁ পাশে আঙুলের ছাপ রয়েছে।

এসআই ইয়াউর রহমান বলেন, ঘটনার পর থেকে পূর্ণিমার স্বামী স্বপন পলাতক। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি।

পূর্ণিমাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন এসআই ইয়াউর রহমান। তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাবে।

পূর্ণিমার বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার বিল্লা কুড়িগ্রামে। তাঁর বাবার নাম মো. কুদ্দুস। থানা-পুলিশ জানায়, আগের স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর স্বপনকে বিয়ে করেন এই নারী। আগের ঘরে একটি মেয়েসন্তান রয়েছে পূর্ণিমার। মেয়েটি পূর্ণিমার মা-বাবার সঙ্গে গ্রামে থাকে। স্বপনেরও আরেক স্ত্রী রয়েছে। পূর্ণিমা ও স্বপনের সংসারে কলহ চলছিল।

খুলনায় ভাড়া বাসা থেকে নানি ও দুই নাতির মরদেহ উদ্ধার

খুলনা নগরের সোনাডাঙ্গা এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে নানি ও তাঁর দুই নাতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

শনিবার সন্ধ্যায় নগরের সোনাডাঙ্গা থানার তমিজউদ্দিন সড়কের দারুস আমান মহল্লার একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তিরা হলেন বেবি বেগম (৫৫), তাঁর নাতি শামীম ব্যাপারী (১৩) ও মুস্তাকিম (৪)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে বাসাটির একটি কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে। পরে খবর পেয়ে সোনাডাঙ্গা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বেবি বেগম, শামীম ও মুস্তাকিমের মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় ডিবি ও সিআইডির সদস্যরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, নিহত শামীম ও নিখোঁজ মুস্তাকিম ফাতেমা বেগমের প্রথম পক্ষের সন্তান। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে ফাতেমা বেগমের দ্বিতীয় স্বামী রফিকুল ইসলাম এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

পুলিশের কমিশনার আরও বলেন, প্রথমে বেবি বেগম ও শামীম বেপারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তখন মুস্তাকিমকে নিখোঁজ মনে করা হচ্ছিল। পরে কক্ষের একটি ওয়ারড্রোবের তালা ভেঙে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, রফিকুল ইসলামের বাড়ি নগরের দৌলতপুর থানার মানিকতলা এলাকায়। পেশায় তিনি একজন ট্রাকচালক। ঘটনার পর থেকে রফিকুল ইসলামকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে ফাতেমা বেগমের সঙ্গে তাঁর প্রথম স্বামী মাসুম ব্যাপারীর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর দুই সন্তান শামীম ও মুস্তাকিম মায়ের সঙ্গেই বসবাস করছিল।

সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় ফাতেমা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জে প্রতিবেশীর লাঠির আঘাতে কিশোরীর মৃত্যু

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে প্রতিবেশীর লাঠির আঘাতে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার পৌর শহরের নতুন বাগবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আজ শনিবার দিরাই থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

নিহিত মিতা আক্তার (১৩) পৌর শহরের নতুন বাগবাড়ী গ্রামের মৃত আকিক মিয়ার মেয়ে। এ ঘটনার অভিযুক্তরা একই গ্রামের টিটু মিয়া এবং তার স্ত্রী খাদীজা বেগম।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত মিতার ফুফাত ভাই শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের উজ্জ্বল মিয়া। তিনি মিতার গ্রামে ভগ্নিপতি ওলীর নিকট কিছু টাকা পাওনা ছিল। গতকাল উজ্জ্বল মিয়া পাওনা টাকার জন্য বাগবাড়ীতে আসেন। টাকা না পেয়ে উজ্জ্বল উচ্চস্বরে কথাবার্তা বলে রাস্তা দিয়া হেঁটে যাচ্ছিলেন। এমন সময় প্রতিবেশী আলী নূর ওলির নিকট আত্মীয় হওয়ায় তার নির্দেশে টিটু উজ্জ্বলের উপর আক্রমন করে।

উজ্জ্বলের চিৎকারে আশপাশের লোকজনের সাথে মামাত বোন মিতা ঘটনাস্থলে যান। তাদের সহযোগিতায় উজ্জ্বল বেঁচে গেলেও বাড়িতে ফেরার সময় টিটু ও তার স্ত্রী খাদিজা বেগম লাঠি দিয়ে মিতার মাথায় আঘাত করেন। এতে মিতা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে রাত ২টার দিকে চিকিৎসারত অবস্থায় মিতার মৃত্যু হয়।

দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক চৌধুরীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন অপরাধীদের ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক ১০

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক ১০

অনলাইন ডেস্ক:  সীমান্তে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের অভিযোগে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

 

রোববার (৩১ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান।

 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ ভোর ৫টার দিকে সীমান্তে দায়িত্ব পালনের সময় বাংলাদেশ সীমান্তের অভ্যন্তরে অবৈধ অনুপ্রবেশ করার সময় ১০ জনকে আটক করে বিজিবির বারাদি ক্যাম্পের সদস্যরা। আটককৃতদের মধ্যে ২ জন পুরুষ, ৩ জন মহিলা ও ৫ জন শিশু রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, আটককৃত ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। তাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলমান রয়েছে। প্রাথমিক আইনানুগ কার্যক্রম শেষে তাদের দর্শনা থানায় সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলাও হবে।

 

তিনি আরও জানান, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পারাপার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

রহস্যময় অন্ধকার কোঠা ও গুপ্তধনের লোককথা ঘিরে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
রহস্যময় অন্ধকার কোঠা ও গুপ্তধনের লোককথা ঘিরে চাঞ্চল্য
জুলফিকার আলী
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এক ঐতিহাসিক জনপদ সোনাবাড়িয়া। প্রায় দুই শত বছর আগের গোটা সোনাবাড়িয়াজুড়ে আজও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে জমিদার শাসনের নানা প্রাচীন নিদর্শন। আর এই ঐতিহ্যের সবচেয়ে বড় ধারক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ‘সোনাবাড়িয়া মঠ মন্দির’। প্রায় ৬০ ফুট উঁচু, টেরাকোটা ফলক খচিত এই শ্যামসুন্দর মন্দিরটি আজও কালের সাক্ষী হয়ে টিকে আছে। তবে যথাযথ সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহ্যবাহী এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি এখন চরম জরাজীর্ণ। দ্রুত কোনো পদক্ষেপ না নিলে এর অবশিষ্ট অংশটুকুও চিরতরে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
​পুকুরের ‘টাকার মেঠে’ ও সুরঙ্গ রহস্য
​এই মঠ মন্দিরকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে কিছু রোমাঞ্চকর ও গা ছমছমে রহস্য। এলাকার প্রবীণদের দাবি, মন্দিরের সামনের বিশাল পুকুরটিতে একটি লোহার শিকল দিয়ে বাঁধা ‘টাকার মেঠে’ বা জালা (গুপ্তধনের পাত্র) ছিল। অমাবস্যা ও পূর্ণিমার রাতে ওই মেঠে থেকে টাকাগুলো বের হয়ে পুকুরের পানিতে কিলবিল করে ভাসতো, যা তৎকালীন সময়ে অনেকেই নিজ চোখে দেখেছেন। এ ছাড়াও লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, পুকুরের মাঝ বরাবর একটি গোপন সুরঙ্গ পথ ছিল, যা দিয়ে সরাসরি মঠ মন্দিরের ভেতরে যাতায়াত করা যেত।
​আশ্চর্য অন্ধকার কোঠা ও স্বয়ংক্রিয় কষ্টিপাথর
​মন্দিরের ভেতরে রয়েছে এক রহস্যময় কক্ষ, যা স্থানীয়দের কাছে ‘অন্ধকারা কোঠা’ নামে পরিচিত। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, একসাথে ১০টি টর্চ লাইট জ্বালালেও সেই কোঠার ভেতরের অন্ধকার দূর করা যেত না; আলোর তীব্রতা ভেদ করে সেখানে শুধু ঘুটঘুটে অন্ধকারই দেখা যেত। তবে ওই কোঠার ভেতরে আসলে কী ছিল, তা আজও এক রহস্য।
​প্রবীণরা জানান, ওই কোঠার মধ্যে একটি অলৌকিক কষ্টিপাথর ছিল, যা প্রতি শনি ও মঙ্গলবারে আপনা-আপনি ঘুরতো। আর এই অলৌকিক দৃশ্য দেখতে ও পূজা করতে তখন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ভিড় জমাতেন। ধারণা করা হয়, কোনো কারণে ওই কোঠার পবিত্রতা নষ্ট হওয়ায় অলৌকিক কষ্টিপাথরটি শিকল কেটে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুকুরে পড়ে যায়। বর্তমানে সেই শিকলের মাত্র দুটি আংটা বা কড়া মন্দিরের কোঠায় ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় অনেকেরই বিশ্বাস, সেই ‘টাকার মেঠে’ বা গুপ্তধনের পাত্রটি আজও পুকুরের তলদেশে লুকিয়ে আছে।
​ইতিহাস ও অলৌকিক জনশ্রুতি
​বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্র থেকে জানা যায়, বাংলা ১২০৮ সালে রানী রাশমনি এই মঠ মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। তবে এই মঠ মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে রয়েছে নানা রোমাঞ্চকর অলৌকিক জনশ্রুতি। প্রচলিত আছে, সোনাবাড়িয়ার এক বেলগাছ তলায় রাতের আঁধারে মাটি ফুঁড়ে একাধিক শিব মূর্তি বের হয়েছিল। পরবর্তীতে রানী রাশমনি স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে স্নানের সময় নদী থেকে একটি ভাসমান পাথরের শিবমূর্তি উদ্ধার করেন এবং এই অলৌকিক ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখতেই তিনি এই মঠ মন্দিরটি নির্মাণ করেন।
​স্থাপত্যশৈলী ও কাঠামোগত সৌন্দর্য
​আম, কাঁঠাল, নারকেল, মেহগনি, সেগুন ও দেবদারু গাছের বাগান দিয়ে ঘেরা প্রায় ১৫ একর জমির ওপর অবস্থিত এই মন্দির প্রাঙ্গণ। মূল মন্দিরটির দৈর্ঘ্য ২০ ফুট এবং প্রস্থ ১৫ ফুট। বিশালাকৃতির এই মঠ মন্দিরটি তৈরি করা হয়েছে ছোট ছোট পাতলা ইট ও চুন-সুরকি দিয়ে। এর দেয়ালজুড়ে রয়েছে নজরকাড়া টেরাকোটা ফলকের কারুকাজ।
​মন্দিরের সামনে রয়েছে একটি বিশাল পুকুর। পুকুরের পাশ দিয়ে ভেতরে ঢোকার জন্য ছিল একটি বড় তোরণ, যার ওপর নির্মিত হয়েছিল নহবতখানা। মন্দিরের পূর্ব পাশ দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে লম্বা ১২টি ঘরে একসময় ১২টি শিবলিঙ্গ ছিল। এ ছাড়াও মূল মঠ মন্দিরের দোতলায় ঝুলন্ত দোলনায় থাকত সোনার তৈরি রাধাকৃষ্ণের মূর্তি।
​বৌদ্ধ ধর্মের সংযোগ ও ভিন্নমত
​মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে এলাকার প্রবীণদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও চমৎকার একটি তথ্য পাওয়া যায়। অনেকের মতে, প্রাচীনকালে বৌদ্ধধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে গৌতম বুদ্ধের অনুসারীরা এখানে প্রথম একটি মঠ বা উপাসনালয় তৈরি করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে এই অঞ্চলে বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার ও প্রসারে সুবিধা করতে না পেরে তারা সোনাবাড়িয়া ত্যাগ করেন। এরপর মঠটি বেশ কিছুকাল পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। বহু বছর পর সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই পরিত্যক্ত কাঠামোটি পুনরায় নির্মাণ ও সংস্কার করে এটিকে মন্দিরে রূপান্তরিত করেন।
​বর্তমান দশা ও জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা
​কালের বিবর্তনে এবং যথাযথ যত্নের অভাবে হারিয়ে গেছে মন্দিরের সেই জৌলুস। চুরি হয়ে গেছে মূল্যবান কষ্টিপাথর ও সোনার মূর্তি। ধসে পড়েছে নহবতখানাসহ অনেক কক্ষ। বর্তমানে দেয়ালের টেরাকোটা খসে পড়ছে এবং পুরো ভবনটিই চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
​এলাকাবাসী ও ইতিহাস সচেতন মহলের দাবি, দক্ষিণবঙ্গের এই অনন্য প্রাচীন স্থাপত্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এই ঐতিহাসিক মঠ মন্দিরটি রক্ষার্থে ও এর রহস্য উদ্ঘাটনে অতি দ্রুত সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এখনই সংস্কার করা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সোনাবাড়িয়ার এই গৌরবময় ইতিহাস কেবলই রূপকথা হয়ে থাকবে।