মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ, এক মাসে ১৯৮ শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ, এক মাসে ১৯৮ শিশুর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক: দেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক আকার নিয়েছে। গত এক মাসে প্রায় ২০০ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। প্রতিদিনই হাম ও সন্দেহজনক হামে শিশু মৃত্যুর খবর আসছে বিভিন্ন জেলা থেকে। সরকার টিকাদান কর্মসূচি শুরু করলেও তা এখনও সীমিত পরিসরে থাকায় অনেক শিশু রয়ে গেছে ঝুঁকির মধ্যে। এ অবস্থায় দ্রুত ও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত এক মাসে নিশ্চিত হাম ও সন্দেহজনক উপসর্গ মিলিয়ে ১৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সন্দেহজনক ১৬৬ জন এবং নিশ্চিত হামে ৩২ জন মারা গেছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় তিন জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

জেলাভিত্তিক হিসাবে গত একমাসে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, ৯৪ জন। রাজশাহীতে ৬৮ জন এবং চট্টগ্রামে ১৫ জন মারা গেছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

সরকারি পদক্ষেপ

হাম নিয়ন্ত্রণে সরকার সারা দেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করেছে। টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের আওতায় আনতে চালু করা হয়েছে ‘ক্যাচ-আপ’ কার্যক্রম। পাশাপাশি ইপিআই কার্যক্রম শক্তিশালী করা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে র‌্যাপিড রেসপন্স টিম সক্রিয় রাখা এবং আক্রান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

প্রথম ধাপে ১৮টি জেলা ও ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় ১২ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ শুরু করা হয়েছে। এর আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের দ্রুত টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

গত ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ‘হাম-রুবেলা জরুরি টিকাদান কর্মসূচি’র আওতায় ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত আট দিনে ৯ লাখ ৪৩ হাজার ৩৪০ শিশু টিকা পেয়েছে। যেসব এলাকায় এখনও কর্মসূচি শুরু হয়নি, সেখানে ২০ এপ্রিল থেকে টিকা দেওয়া শুরু হবে।

এছাড়া হাসপাতালগুলোতে হাম রোগীদের জন্য আলাদা চিকিৎসা ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্রিয় রাখা হয়েছে। সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম ও কমিউনিটি পর্যায়েও প্রচার চলছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জানিয়েছেন, টিকাদানের ঘাটতি ও বড় পরিসরের নিয়মিত ক্যাম্পেইন না হওয়ায় হামের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সরকার দ্রুত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের আওতায় আনতে কাজ করছে। লক্ষ্য অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে শয্যা, ভেন্টিলেটর ও জনবল প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়। গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে টিকা নেওয়া এবং লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

এদিকে, সংসদে স্বাস্থ্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টিকাদান কার্যক্রমে অতীতের গাফিলতির কথা উল্লেখ করায় দায় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এক মাসে প্রায় ২০০ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

বিশেষজ্ঞদের মত

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, একসময় দেশে হাম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকলেও টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় এটি আবার বড় ঝুঁকি হয়ে উঠেছে। আগে যেখানে ৯৭-৯৮ শতাংশ শিশু টিকা পেত, এখন তা ৬০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এতে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ ভেঙে গিয়ে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে।

তিনি জানান, হাম খুব সহজে ছড়ায় হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে, সংস্পর্শে আসা হাতের মাধ্যমে এবং ব্যবহার্য জিনিস ভাগাভাগি করলে। তাই ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

টিকাদানে ঘাটতির কারণ

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) অনুযায়ী, শিশুকে দুই ধাপে হামের টিকা দেওয়া হয়—৯ মাসে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ। দ্বিতীয় ডোজ না নিলে পূর্ণ সুরক্ষা পাওয়া যায় না।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২০ সালে এমআর টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছে ৯১ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে ৮৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ শিশু। পরবর্তী বছরগুলোতে কাভারেজ কিছুটা কমে যায়। ২০২৫ সালে তা নেমে দাঁড়ায় প্রথম ডোজ ৯২ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজ ৯০ দশমিক ৭৮ শতাংশে। ফলে কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু পূর্ণ টিকার বাইরে থেকে গেছে।

এছাড়া চার বছর পর পর হওয়া ‘এমআর ক্যাচ-আপ’ কর্মসূচি করোনা মহামারির কারণে ব্যাহত হয়। ২০২৪ সালেও তা আয়োজন না হওয়ায় প্রায় ৫-৬ বছরের ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’ তৈরি হয়েছে, যা বর্তমান সংক্রমণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত টিকাদান জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা বাড়ানোই এখন সবচেয়ে জরুরি।

Ads small one

সাতক্ষীরা পলিটেকনিকের ট্যুরিজম বিভাগ: সম্ভাবনার বাতিঘর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা পলিটেকনিকের ট্যুরিজম বিভাগ: সম্ভাবনার বাতিঘর

মো. মামুন হাসান

সাতক্ষীরার কোনো এক গ্রামের ছেলে হয়তো এখন ভাবছে, এসএসসি পাস করার পর কী পড়বে। পরিবারের স্বপ্ন, একটি ভালো চাকরি। সন্তানের স্বপ্ন, নিজের পায়ে দাঁড়ানো। কিন্তু এই দুই স্বপ্নের মাঝখানে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি ঘুরপাক খায়, তা হলো, পড়াশোনা শেষে কাজটা কোথায়? প্রশ্নটির উত্তর হয়তো আমাদের খুব পরিচিত কয়েকটি পেশার বাইরে কোথাও লুকিয়ে আছে।

 

ভাবুন, সাতক্ষীরার একটি ছেলে চার বছর আগে ভর্তি হলো সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে। কয়েক বছর পর সেই তরুণ সুন্দরবনে একজন বিদেশি পর্যটকের গাইড। তার কণ্ঠে সুন্দরবনের গল্প, হাতে পর্যটন ব্যবস্থাপনার দক্ষতা, কথায় ইংরেজির স্বচ্ছন্দ ব্যবহার। আবার অন্য কোনো দিন তাকে দেখা গেল ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলের ফ্রন্ট ডেস্কে। আরেকজন হয়তো বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড সার্ভিসে কাজ করছেন। কেউ নিজের ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান খুলেছেন। কেউ সাতক্ষীরার গ্রামেই হোমস্টে তৈরি করেছেন।আর কেউ হয়তো একদিন মালদ্বীপের কোনো দ্বীপ রিসোর্টে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখছেন।

 

একটি শ্রেণিকক্ষ থেকে এতগুলো সম্ভাবনার দরজা খুলে যেতে পারে, বিষয়টি এখনো সাতক্ষীরার অনেক শিক্ষার্থীর কাছে যথেষ্ট পরিচিত নয়।বাংলাদেশে ডিপ্লোমা ইন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট কারিগরি শিক্ষার একটি স্বীকৃত চার বছর মেয়াদি শিক্ষাক্রম। কিন্তু এটিকে কেবল আরেকটি ডিপ্লোমা হিসেবে দেখলে এর আসল সম্ভাবনাটাই ধরা পড়ে না। কারণ এই শিক্ষার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত মানুষের চলাচল, আতিথেয়তা, ভ্রমণ, খাদ্য, সংস্কৃতি, যোগাযোগ, ব্যবস্থাপনা এবং সেবা অর্থনীতি।সাতক্ষীরার জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ।কারণ সাতক্ষীরা নিজেই একটি পর্যটন ভূগোল। সুন্দরবনের পশ্চিম অংশ, নদী, উপকূল, গ্রামীণ জীবন, স্থানীয় খাবার, লোকজ সংস্কৃতি এবং সীমান্তের বাণিজ্যিক অবস্থান মিলে এই জেলার একটি স্বতন্ত্র পর্যটন পরিচয় তৈরি করার সুযোগ রয়েছে। সাতক্ষীরা হয়ে সুন্দরবনে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়েও জাতীয় গণমাধ্যমে ইতিমধ্যে লেখা হয়েছে। সুন্দরবনের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে মানুষের উপস্থিতিও দেখিয়েছে যে এই অঞ্চলে পর্যটনের চাহিদা কেবল সম্ভাবনার কাগজে নেই, বাস্তবেও তার উপস্থিতি আছে।কিন্তু পর্যটক এলেই পর্যটন শিল্প তৈরি হয় না। প্রয়োজন দক্ষ মানুষ।

 

একজন পর্যটক সুন্দরবনে এলেন। তিনি শুধু বনের গাছ দেখতে চান না। জানতে চান, এই বন কীভাবে বেঁচে আছে, জোয়ার কীভাবে মানুষের জীবন বদলায়, মৌয়ালরা কীভাবে মধু সংগ্রহ করেন, বাঘকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের ভয় ও বিশ্বাস কী। একজন দক্ষ স্থানীয় গাইড তখন শুধু পথ দেখান না, তিনি একটি ভূখণ্ডের গল্প বলেন। তিনি হয়ে ওঠেন একটি অঞ্চলের অনানুষ্ঠানিক রাষ্ট্রদূত।

 

সাতক্ষীরার তরুণদের জন্য এখানেই বড় সুযোগ।ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট পড়া মানে শুধু হোটেলে চাকরি করা নয়। বরং হোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, ট্রাভেল এজেন্সি, ট্যুর অপারেটর, এয়ারলাইনস, বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড সার্ভিস, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, ট্যুর গাইডিংসহ পর্যটন ও সেবাখাতের নানা পেশায় যাওয়ার পথ তৈরি করা। পর্যটনবিষয়ক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার ক্ষেত্রে পাঁচ তারকা হোটেল এবং বিমান সংস্থায় কর্মসংস্থানের সুযোগের কথাও জাতীয় পর্যায়ে আলোচিত হয়েছে।কিন্তু আমার কাছে এই বিভাগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক চাকরি নয়, উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ।

 

সাতক্ষীরার একজন শিক্ষার্থী চাইলে সাতক্ষীরাতেই একটি ছোট ট্যুর কোম্পানি শুরু করতে পারেন। শুরুতে অফিস না থাকলেও চলে। একটি মোবাইল ফোন, একটি ফেসবুক পেজ, কয়েকটি ভালো পর্যটন প্যাকেজ এবং মানুষের সঙ্গে কাজ করার দক্ষতা দিয়েই শুরু হতে পারে। সাতক্ষীরা থেকে সুন্দরবন, সুন্দরবন থেকে খুলনা, গ্রামীণ জীবন, স্থানীয় খাবার, নদীভ্রমণ কিংবা হোমস্টে নিয়ে তৈরি হতে পারে ছোট ছোট পর্যটন প্যাকেজ।

 

একজন কাজ শুরু করবেন, তাঁর সঙ্গে যুক্ত হবেন একজন নৌকার মাঝি, একজন গাড়িচালক, একজন স্থানীয় রাঁধুনি, একজন গাইড, একজন ফটোগ্রাফার। অর্থাৎ একজন তরুণের উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত একসময় কয়েকজন মানুষের কর্মসংস্থানে পরিণত হতে পারে।এখানেই পর্যটন শিক্ষার সৌন্দর্য।এটি শুধু চাকরি খোঁজার শিক্ষা নয়, চাকরি তৈরি করার শিক্ষাও হতে পারে।

 

সাতক্ষীরার স্থানীয় খাবারও হতে পারে এই অর্থনীতির অংশ। একটি সন্দেশ, এক পাত্র খেজুরের গুড়, উপকূলের শুঁটকি, গ্রামের একটি ঐতিহ্যবাহী রান্না কিংবা কোনো কারুশিল্পকে যদি পর্যটকের জন্য একটি অভিজ্ঞতায় রূপ দেওয়া যায়, তাহলে স্থানীয় সংস্কৃতি আর শুধু স্মৃতির বিষয় থাকে না, হয়ে ওঠে অর্থনৈতিক সম্পদ।

 

রবীন্দ্রনাথের সেই পঙ্‌ক্তি মনে পড়ে, “পথের শেষ কোথায়, শেষ কোথায়, কী আছে শেষে।” ট্যুরিজমের শিক্ষার্থীর পথটিরও কোনো নির্দিষ্ট শেষ নেই। সাতক্ষীরায় শুরু হয়ে সেই পথ যেতে পারে ঢাকায়, কক্সবাজারে, সিলেটে কিংবা সুন্দরবনের নৌপথে। আবার দেশের সীমানা পেরিয়ে যেতে পারে মালদ্বীপ, দুবাই, কাতার, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া কিংবা বিশ্বের অন্য কোনো পর্যটনকেন্দ্রে।

 

পৃথিবীর পর্যটন শিল্পের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো, এর ভাষা প্রায় সর্বজনীন। একজন মানুষকে স্বাগত জানানো, তার প্রয়োজন বোঝা, তাকে নিরাপদ ও সুন্দর অভিজ্ঞতা দেওয়া, খাবার পরিবেশন করা, ভ্রমণের ব্যবস্থা করা কিংবা একটি স্থানের গল্প বলা, এগুলো কোনো একটি দেশের একচেটিয়া দক্ষতা নয়। তাই দক্ষতা থাকলে একজন সাতক্ষীরার তরুণও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নিজের জায়গা করে নিতে পারেন। আর এখানেই ইংরেজি ভাষা, যোগাযোগ দক্ষতা, প্রযুক্তি ব্যবহার ও পেশাদার আচরণের গুরুত্ব। একটি ভালো হোটেলের লবিতে দাঁড়িয়ে শুধু হাসতে জানলেই হয় না, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে জানতে হয়। একজন পর্যটকের প্রয়োজন বুঝতে হয়। সমস্যা হলে সমাধান করতে হয়। প্রযুক্তির সাহায্যে রিজারভেশন, টিকিটিং, অনলাইন মার্কেটিং কিংবা পর্যটন ব্যবস্থাপনা করতে হয়। ফলে এই শিক্ষার ভেতর দিয়ে একজন শিক্ষার্থী একই সঙ্গে কারিগরি দক্ষতা ও মানবিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান।তবে সবচেয়ে বড় স্বপ্নটি হতে পারে নিজের শহরকে ঘিরে।সাতক্ষীরার ছেলে সাতক্ষীরাতেই দাঁড়িয়ে যদি বলতে পারে, “আমার চাকরি আমি নিজেই তৈরি করেছি”, তাহলে সেটিই হবে এই শিক্ষার সবচেয়ে বড় সাফল্য।

 

আমরা দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নকে অনেক সময় বড় শহরের দিকে তাকিয়ে দেখি। মনে করি ভালো ক্যারিয়ার মানেই ঢাকা। অথচ ডিজিটাল যুগে এবং পর্যটনের বিকাশে এই ধারণা বদলানোর সুযোগ এসেছে। একজন দক্ষ ট্যুর অপারেটরের অফিস সাতক্ষীরায় হতে পারে, তাঁর গ্রাহক হতে পারেন ঢাকার মানুষ কিংবা বিদেশি পর্যটক। তাঁর গাইড হতে পারেন স্থানীয় তরুণ। তাঁর খাবারের সরবরাহ দিতে পারেন গ্রামের নারী উদ্যোক্তা। তাঁর পরিবহন দিতে পারেন স্থানীয় চালক। অর্থাৎ একটি পর্যটন উদ্যোগ একটি পুরো স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল করতে পারে।

 

সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগকে তাই শুধু একটি শিক্ষাক্রম হিসেবে দেখার সময় হয়তো পেরিয়ে গেছে। এটিকে দেখতে হবে সাতক্ষীরার মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং স্থানীয় অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় ভিত্তি হিসেবে।কারণ সুন্দরবন আমাদের আছে, কিন্তু সুন্দরবনের গল্প বলার মতো দক্ষ মানুষ কতজন তৈরি করেছি?প্রকৃতি আমাদের দিয়েছে, কিন্তু সেই প্রকৃতিকে পর্যটন পণ্যে রূপ দেওয়ার দক্ষতা কতটা তৈরি করেছি? সাতক্ষীরার তরুণ আছে, কিন্তু তাদের হাতে স্থানীয় সম্ভাবনাকে কর্মসংস্থানে রূপ দেওয়ার মতো প্রশিক্ষণ কতটা পৌঁছেছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার একটি জায়গা হতে পারে পলিটেকনিকের সেই শ্রেণিকক্ষ। হয়তো কোনো একদিন সেই শ্রেণিকক্ষে বসে থাকা একজন তরুণই সুন্দরবনের নৌকায় বিদেশি পর্যটককে বলবেন, “ওয়েলকাম টু সুন্দরবন.” কয়েক বছর পর হয়তো সেই একই তরুণ নিজের ট্যুর কোম্পানির মালিক।অথবা কোনো পাঁচ তারকা হোটেলের ব্যবস্থাপক।অথবা বিমানবন্দরের পেশাজীবী।অথবা মালদ্বীপের কোনো রিসোর্টে কর্মরত।অথবা নিজের গ্রামের পাশে গড়ে তোলা একটি হোমস্টের উদ্যোক্তা।শুরুটা কিন্তু একই জায়গা থেকে।সাতক্ষীরার একটি শ্রেণিকক্ষ থেকে।

 

তাই ট্যুরিজম পড়া মানে শুধু পর্যটক হওয়া নয়। বরং পর্যটনের মানুষ হওয়া। নিজের মাটিকে নতুন চোখে দেখা। নিজের এলাকার গল্পকে অর্থনীতিতে রূপ দেওয়া। আর প্রয়োজন হলে সেই দক্ষতা নিয়ে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে দাঁড়িয়ে নিজের পরিচয় তৈরি করা।শিকড় সাতক্ষীরায় থাকুক, কিন্তু স্বপ্নের সীমানা হোক পুরো পৃথিবী।সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হয়তো এখানেই।

 

লেখক: মো. মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ,সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

সাতক্ষীরায় সোহাগ পরিবহনের ধাক্কায় পথচারী নিহত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় সোহাগ পরিবহনের ধাক্কায় পথচারী নিহত

মো. সিরাজুল ইসলাম : সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় সোহাগ পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় আনন্দ দাস (৫৮) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটে পাটকেলঘাটা থানাধীন শাকদা ব্রিজ সংলগ্ন মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত আনন্দ দাস শাকদা গ্রামের মৃত কৃষ্ণ পদ দাসের ছেলে।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে আনন্দ দাস শাকদা ব্রিজ সংলগ্ন মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকা থেকে সাতক্ষীরাগামী ‘সোহাগ পরিবহন’-এর একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব-১২-৪৪৬২) তাঁকে তীব্র ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে পড়ে যায়। এতে বাসের কয়েকজন যাত্রী সামান্য আহত হন। তারা প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে গেছেন। ঘটনার পর পরই বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে যান।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাটকেলঘাটা থানা-পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি বর্তমানে মহাসড়কের পাশে রয়েছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে তাঁর নিজ বাড়িতে রাখা হয়েছে। চালক ও হেলপারকে আটকে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে অ্যাডভোকেট ইফতেখার আলীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪২ পূর্বাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সাথে অ্যাডভোকেট ইফতেখার আলীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে রোববার রাতে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলী।