বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

হারিয়ে যাচ্ছে ‘ডেউয়া’, হারাচ্ছি খাঁটি পুষ্টি/ ‎তারিক ইসলাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৩:০৯ অপরাহ্ণ
হারিয়ে যাচ্ছে ‘ডেউয়া’, হারাচ্ছি খাঁটি পুষ্টি/ ‎তারিক ইসলাম

তারিক ইসলাম

‎জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়ের কড়া রোদে গ্রামীণ মেঠোপথ ধরে হাঁটলে একসময় যে চেনা সুবাস নাকে আসত, তা এখন অনেকটাই স্মৃতির পাতায়। আম-কাঁঠালের এই মৌসুমে গ্রামীণ জনপদে কচিকাঁচাদের আরও একটি ফলের জন্য উন্মুখ অপেক্ষা থাকত-তা হলো টক-মিষ্টি স্বাদের ‘ডেউয়া’। অঞ্চলভেদে এটি ডেউফল, ঢেউয়া বা বঁড়হর নামেও পরিচিত। রূপ-রঙে বিদেশি ফলের মতো অতটা আকর্ষণীয় না হলেও, এর পুষ্টিগুণ ও ওষুধি ক্ষমতা অনন্য। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, জলবায়ু পরিবর্তন, নির্বিচারে বৃক্ষনিধন আর বিদেশি ফলের আগ্রাসনে আমাদের চিরচেনা এই দেশি ফলটি আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে।

‎দেখতে কিছুটা এবড়োথেবড়ো ও অসমান হলেও ডেউয়ার ভেতরের প্রতিটি কোয়া পুষ্টির একেকটি আধার। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, ডেউয়া ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম এবং পটাশিয়াম। প্রতি ১০০ গ্রাম ডেউয়ায় প্রায় ১৩৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায়, যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দারুণ কার্যকরী।

‎কেন খাদ্যতালিকায় ডেউয়া রাখা জরুরি?
‎হজম ও লিভারের সুরক্ষায়: কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ও যকৃতের (লিভার) কার্যকারিতা বাড়াতে ডেউয়া ঐতিহ্যগতভাবেই অত্যন্ত কার্যকরী।

‎ওজন ও মেদ নিয়ন্ত্রণে: শরীরের অতিরিক্ত মেদ বা চর্বি ঝরাতে (লিপোলাইসিস প্রক্রিয়ায়) ডেউয়ার রস দারুণ উপকারী।

‎রুচি ফেরাতে: দীর্ঘ রোগভোগের পর বা প্রচন্ড গরমে মুখের অরুচি কাটাতে ডেউয়া ভর্তা বা চাটনির জুড়ি নেই।
‎ত্বক ও চুলের যতœ: উচ্চ মাত্রার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট অকালে চুল পাকা রোধ করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
‎বিগত কয়েক দশকে দেশের ফল চাষের ধরনে এক বিশাল বাণিজ্যিক রূপান্তর এসেছে। নার্সারি ও চাষিদের বড় অংশই এখন বিদেশি ড্রাগন ফল, মাল্টা, কিংবা রামবুটান চাষে ঝুঁকছেন। অধিক ও দ্রুত মুনাফার আশায় গ্রামীণ ঝোপঝাড় কেটে সাবাড় করা হচ্ছে, যার প্রথম শিকার হচ্ছে ডেউয়া, গাব বা আতার মতো দেশি গাছগুলো।

‎বর্তমানে রাজধানীর কাঁচাবাজার কিংবা সুপারশপগুলোতে থরে থরে সাজানো বিদেশি ফলের ভিড়ে ডেউয়া খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। অথচ আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে এই ফলের বাণিজ্যিক চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ (যেমন: জ্যাম, জেলি বা ক্যান্ডি তৈরি) নিয়ে ব্যাপক গবেষণা ও বিপণন হচ্ছে।

‎দেশি ফলের এই বিলুপ্তি কেবল আমাদের খাদ্যতালিকা থেকে একটি নাম মুছে যাওয়া নয়, বরং আমাদের জীববৈচিত্র্য ও লোকজ চিকিৎসার এক অপূরণীয় ক্ষতি। এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
‎উন্নত জাতের উদ্ভাবন: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইঅজও) বা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যদি ডেউয়ার কলম ও দ্রুত ফলনশীল জাত তৈরি করে কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়, তবে এর বাণিজ্যিক চাষ সম্ভব।

‎ছাদ কৃষিতে অন্তর্ভুক্তি: বর্তমানের জনপ্রিয় ‘ছাদ কৃষি’র তালিকায় ডেউয়াকে অন্তর্ভুক্ত করতে ছাদবাগানিদের সরকারি-বেসরকারিভাবে উৎসাহিত করা যেতে পারে।

‎তরুণ প্রজন্মে সচেতনতা: নতুন প্রজন্মের কাছে দেশি ফলের পুষ্টিগুণ তুলে ধরতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘দেশি ফল উৎসব’-এর আয়োজন করা প্রয়োজন।

‎বিদেশি ফলের চাকচিক্যের মোহে পড়ে আমরা যেন আমাদের মাটির খাঁটি পুষ্টিকে ভুলে না যাই। আসুন, বাড়ির পরিত্যক্ত কোণে, ফসলের আইলে বা ছাদবাগানে অন্তত একটি হলেও ডেউয়া গাছের চারা রোপণ করি। আমাদের সুস্থতা আর প্রকৃতির ভারসাম্য-উভয় রক্ষার্থেই দেশি ফলকে ফিরিয়ে আনতে হবে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায়।
‎‎লেখক: তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

Ads small one

শ্যামনগরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির উদ্বোধন

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার সকালে উপজেলার হায়বাতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জামান কনক।
এ সময় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনামুল হক, শ্যামনগর সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি দীনেশ চন্দ্র মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান লাভলুসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আগে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক দেশব্যাপী প্রাথমিক শিক্ষা পদক বিতরণ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়।

সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পর্যবেক্ষণ ও তীব্র জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে ‘জলবায়ু শিক্ষা বিনিময় পরিদর্শন সিরিজ ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে শহরের ইটাগাছা পশ্চিমপাড়ার জলমগ্ন এলাকায় এই কর্মসূচি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘হেড’-এর উদ্যোগে ‘কমিউনিটি অ্যাকশন ফর ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং প্রজেক্ট’-এর আওতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে সহযোগিতা করে ‘সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন’ ও ‘ক্লাইমেট জাস্টিস রেজিলিয়েন্স ফান্ড’।
ইটাগাছা পশ্চিমপাড়ার জলমগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ফেরদৌসী আরা ময়না। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আলী নূর খান বাবুল। তিনি বলেন, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব ও প্রাকৃতিক জলাধার ভরাটের কারণে ইটাগাছাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা আজ জলমগ্ন। এ সময় তিনি দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ দফা দাবি পেশ করেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে পরিকল্পিত মাছ চাষ নিশ্চিত করা। জলবায়ু ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া। ইটাগাছা পশ্চিমপাড়াসহ সব নি¤œাঞ্চলে টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। প্রাকৃতিক জলাশয় সংস্কার ও অবৈধ দখলমুক্ত করা। কমিউনিটি ভিত্তিক জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা শরীফা ও রওশন আরা বলেন, বছরের পর বছর জলাবদ্ধতার কারণে বসতবাড়িতে পানি উঠে স্যানিটেশন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।
এর আগে সকালে শহরের কাটিয়া এলাকায় হেডের প্রধান কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় হেডের নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাইন বলেন, তরুণ প্রজন্ম ও স্থানীয় কমিউনিটিকে সঙ্গে নিয়ে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় টেকসই অভিযোজন কৌশল তৈরি করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। সভায় সিনিয়র সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমনসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সংস্থার ইয়ুথ টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

শ্যামনগরে তিন বেকারিতে জরিমানা, একটির উৎপাদন বন্ধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে তিন বেকারিতে জরিমানা, একটির উৎপাদন বন্ধ

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নি¤œমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার রাখার দায়ে তিনটি বেকারিকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে একটি বেকারির উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত শ্যামনগর সদর ও নূরনগর বাজারে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুজ্জামান কনক।
আদালত সূত্র জানায়, অভিযানকালে শ্যামনগর বাজারের নিউ সুন্দরবন বেকারিকে ১০ হাজার টাকা, রয়্যাল ফুডস বেকারিকে ১০ হাজার টাকা এবং নূরনগর বাজারের সোনার বাংলা বেকারিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় রয়্যাল ফুডস ও সোনার বাংলা বেকারিতে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ নি¤œমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সোনার বাংলা বেকারির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে এ ধরনের তদারকিমূলক অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।