মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

১২ বছরে তৃতীয়বার পিছু হটলো মোদি সরকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১:০৮ পূর্বাহ্ণ
১২ বছরে তৃতীয়বার পিছু হটলো মোদি সরকার

ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ শুধু একজন মন্ত্রীর বিদায় নয়, বরং গত ১২ বছরে গণআন্দোলনের মুখে নরেন্দ্র মোদি সরকারের তৃতীয় বড় ধরনের পিছু হটার ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এনআরসি ইস্যু এবং কৃষি আইনবিরোধী আন্দোলনের চাপেও সরকার অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, তিনটি ঘটনার মধ্যেই একটি অভিন্ন ধারা দেখা যায়। সরকার শুরুতে আন্দোলনের নৈতিক শক্তিকে গুরুত্ব না দিয়ে যতটা সম্ভব অনড় অবস্থানে থাকে। তবে রাজনৈতিক মূল্য বাড়তে শুরু করলে শেষ পর্যন্ত অবস্থান বদলায়।

সিএএ-এনআরসি আন্দোলন

প্রথম বড় ঘটনা ছিল সিএএবিরোধী আন্দোলনের সময়। সে সময় জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থেকে সরকার প্রকাশ্যে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়। যদিও দেশজুড়ে এনআরসি চালুর কোনও আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি, রাজনৈতিকভাবে সরকারের অবস্থান পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রকাশ্যে বলেন, এনআরসি নিয়ে সরকার কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। অথচ এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশব্যাপী এনআরসি বাস্তবায়নের কথা একাধিকবার বলেছিলেন এবং সরকারের পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি কার্যত স্থগিত হয়ে যায়। সরকারের উপলব্ধি হয়, প্রশাসনিক উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপিত বিষয়টি রাজনৈতিক দায়ে পরিণত হয়েছে।

কৃষক আন্দোলন

দ্বিতীয়বার সরকারকে পিছু হটতে হয় কৃষক আন্দোলনের মুখে। প্রায় এক বছর আন্দোলন চলার পর সরকার তিনটি কৃষি আইন বাতিল করে।

শুরুতে সরকার আন্দোলনকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে মনে করেছিল। আন্দোলনকে ভৌগোলিকভাবে সীমিত এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বলেও তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কৃষকেরা আন্দোলন চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী মোদি আইন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন এবং কৃষকদের কাছে ক্ষমা চান। এটিকে সরকারের ওপর আন্দোলনের চাপের স্বীকৃতি হিসেবেই দেখা হয়।

প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী আন্দোলন

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পেছনে থাকা প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী আন্দোলনকে এই ধারাবাহিকতার তৃতীয় ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য ছিল ভিন্ন।

এটি কোনও নির্দিষ্ট মতাদর্শভিত্তিক সংগঠন বা একক নেতৃত্বের অধীনে গড়ে ওঠেনি। আন্দোলন ছিল বিকেন্দ্রীভূত এবং নেতৃত্বনির্ভর নয়। ফলে কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচলিত রাজনৈতিক কৌশল কার্যকর হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিম ও ইনস্টাগ্রাম রিল আন্দোলনে নতুন গতি এনে দেয়। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ হলেও আন্দোলনটি ছিল সুসংগঠিত, যা সরকারের জন্য মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

আগের আন্দোলনগুলোর চেয়ে কেন আলাদা

এর আগে আন্দোলনের ক্ষেত্রে বিজেপি সাধারণত আন্দোলনের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করা, নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা, আন্দোলনকারীদের বিভক্ত করা কিংবা সময়ক্ষেপণের কৌশল নিয়েছিল।

কিন্তু এবার আন্দোলনের বয়ান সরকারের পাল্টা বক্তব্যের চেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধী দলও এ আন্দোলনের প্রধান চালিকাশক্তি ছিল না।

২০ জুলাইয়ের দমন-পীড়নের পর আন্দোলনকারীরা পিছিয়ে না গিয়ে আরও দৃঢ় অবস্থান নেয়। এমনকি সোনম ওয়াংচুক নিজের অবস্থান কিছুটা নমনীয় করলেও আন্দোলনকারীরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি থেকে সরে আসেননি। এতে স্পষ্ট হয়, আন্দোলনের নেতৃত্ব ছিল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এবং কোনও এক ব্যক্তির সঙ্গে সমঝোতা করে আন্দোলন থামানো সম্ভব নয়।

কেন অস্বস্তিতে বিজেপি

বিজেপির সূত্রগুলোর মতে, এবার আন্দোলন সরকারকে আরও বেশি অস্বস্তিতে ফেলেছে অন্য একটি কারণে। সিএএবিরোধী আন্দোলন বা কৃষক আন্দোলনের বিপরীতে এবার আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও তরুণদের বড় অংশই বিজেপির নিজস্ব সামাজিক ভিত্তির মধ্যে থেকে এসেছে।

একজন বিজেপি নেতা বলেন, ঘোষিত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের আন্দোলনের চেয়ে এটি বেশি বিপজ্জনক। কারণ, মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের যেসব শিক্ষার্থী সাধারণত বিজেপির সমর্থক বা সমর্থকগোষ্ঠীর কাছাকাছি বলে বিবেচিত, তাদের ক্ষোভকে সহজে বিরোধী রাজনীতির অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না।

এতে সরকারের সামনে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, রাষ্ট্রের প্রতি অসন্তোষ এখন শুধু প্রচলিত বিরোধী শিবিরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই।

গণচাপের মুখে আরেক মন্ত্রীর বিদায়

মোদি সরকারের আমলে জনগণের চাপের মুখে পদত্যাগ করা আরেক মন্ত্রী ছিলেন তৎকালীন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর। #মিটু আন্দোলনের সময় যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর ব্যাপক জনচাপের মুখে তিনি পদত্যাগ করেন। তবে সেটি সরকারি নীতি বা সরকারের বৈধতাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলন ছিল না।

সরকারের সামনে যে চ্যালেঞ্জ

সিএএ-এনআরসি, কৃষি আইন এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস—এই তিনটি আন্দোলন মোদি সরকারের রাজনৈতিক চরিত্রও তুলে ধরেছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকার রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ন্ত্রণ এবং শক্তির প্রদর্শনে দক্ষ হলেও দীর্ঘস্থায়ী মতবিরোধের সঙ্গে গণতান্ত্রিকভাবে ধারাবাহিক সংলাপ চালিয়ে যেতে তুলনামূলকভাবে দুর্বল। সমালোচকদের মতে, সরকার সাধারণত মতভেদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনায় না গিয়ে রাজনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হলে তবেই অবস্থান পুনর্বিবেচনা করে। অর্থাৎ, যুক্তির চেয়ে রাজনৈতিক চাপই সরকারের সিদ্ধান্তে বেশি প্রভাব ফেলে।

তবে সরকারি সূত্রগুলোর দাবি, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছিল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কৌশলগত সিদ্ধান্ত। সরকারের বিশ্বাস, এতে তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে এবং একই সঙ্গে সরকারের সামগ্রিক কর্তৃত্বও অক্ষুণ্ন রাখা গেছে।

একজন বিজেপি নেতা বলেন, তরুণদের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা প্রশমিত করাই এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য। যদিও শুধু পদত্যাগে সমস্যার সমাধান হবে বলে সরকার মনে করে না। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি দাবি করেন।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

Ads small one

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত প্রয়াস ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত প্রয়াস ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন

প্রকাশ ঘোষ বিধান

সড়ক দুর্ঘটনা বর্তমানে একটি জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন অসংখ্য প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে এবং পরিবারগুলোকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। এ জন্য কেবল চালকদের দায়ী না করে পুরো সড়ক ব্যবস্থাকে নিরাপদ করার ওপর জোর দিতে হবে। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য চালক, পথচারী, সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিশেষজ্ঞদের যৌথ অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে একটি সমন্বিত প্রয়াস এবং সুদূরপ্রসারী দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য প্রাণহানি এবং পঙ্গুত্ব বরণের ঘটনা শুধু ব্যক্তি বা পরিবারের বিপর্যয় নয়, বরং এটি জাতীয় অর্থনীতির জন্যও একটি বড় ধাক্কা। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য কোনো একক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; বরং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যে সকল সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। লক্কড়ঝক্কড় ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে এবং নিয়মিত যানের পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ট্রাফিক আইন অমান্যকারী, বেপরোয়া চালক এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। রাস্তায় চলাচলকারী প্রতিটি যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা নিশ্চিত করা এবং লাইসেন্সবিহীন বা ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা। চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, আধুনিক এবং দুর্নীতিমুক্ত করা। গতিসীমা মানা, সিটবেল্ট ও হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং মদ্যপান বা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো রোধে আইন প্রয়োগ জোরদার করতে হবে।

সড়কে পর্যাপ্ত আলো, স্পষ্ট সাইনবোর্ড, জেব্রাক্রসিং এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সড়ক ও বাঁক নির্মাণ করতে হবে। নগর পরিকল্পনা ও গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করতে হবে যাতে অতিরিক্ত ঝুঁকি কমে। মহাসড়কের বিপজ্জনক মোড় বা ব্ল্যাক স্পট চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কার করা এবং লেন বিভাজক (ডিভাইডার) স্থাপন করা। পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের জন্য পর্যাপ্ত ফুটওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস এবং জেব্রা ক্রসিং তৈরি ও তা ব্যবহারে বাধ্য করা। দূরপাল্লার মহাসড়কগুলোতে ধীরগতির যানবাহন রিকশা, ভ্যান, নসিমন জন্য আলাদা সার্ভিসের লেনের ব্যবস্থা করা।

মহাসড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ এবং বেপরোয়া ড্রাইভিং স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে আইটিএস বা ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম চালু করা দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত কার্যকর। গণপরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেম বাধ্যতামূলক করা উচিত। চালকদের জন্য নিয়মিত পেশাদার প্রশিক্ষণ এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা। চালকদের নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করা জরুরি। দূরপাল্লার চালকদের একটানা অতিরিক্ত সময় গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ করা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া জন্য মহাসড়কে বিশ্রামাগার তৈরি প্রয়োজন।

দুর্ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত রোগী স্থানান্তরের জন্য ডেডিকেটেড অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু রাখতে হবে। সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা বিনা প্রশ্নে দেওয়া আইনিভাবে বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।

বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই শিশুদের ট্রাফিক নিয়ম ও সড়ক সচেতনতা বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া। টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা। সাধারণ মানুষের মধ্যে ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে কেবল একটি নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নয়, বরং সরকার, চালক, যাত্রী এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত প্রয়াস প্রয়োজন।

সড়ক নিরাপত্তা কোনো একক সংস্থার দায়িত্ব নয়। পরিবহন মালিক, শ্রমিক, যাত্রী এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সমন্বয়ে একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলেই কেবল সড়ক দুর্ঘটনা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব। জাতিসংঘের দ্বিতীয় দশক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১-২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন। সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এটি একক কোনো কর্তৃপক্ষ বা নিয়মের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়।

বিশ্বব্যাপী সড়ক দুর্ঘটনা ও নিহতের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জনে একটি সুনির্দিষ্ট, কাঠামোগত এবং দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে একটি সমন্বিত উদ্যোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ কেবল বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে সড়কে স্থায়ী শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা অসম্ভব।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত প্রয়াস ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা একটি নিরাপদ ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য অপরিহার্য। সড়ক দুর্ঘটনা কেবল অসংখ্য মূল্যবান প্রাণ কেড়ে নেয় না, বরং এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাকেও মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। তাই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সব অংশীজনদের একত্রে কাজ করা এবং একটি সুনির্দিষ্ট কৌশলগত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

সম্পাদকীয়/ প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা পরিহার নিশ্চিত হোক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা পরিহার নিশ্চিত হোক

উপকূলীয় লোনাঞ্চলের লাখো মানুষের দীর্ঘদিনে লালিত একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। বেতগ্রাম থেকে তালা-পাইকগাছা হয়ে কয়রা পর্যন্ত ৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ আঞ্চলিক সড়কটির উন্নয়ন ও বাঁক সরলীকরণ কাজ প্রায় শেষের দিকে। ৫৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই মেগা প্রকল্প পূর্ণাঙ্গ রূপ পেলে খুলনা ও সাতক্ষীরার চার উপজেলার সড়ক যোগাযোগে এক নতুন দিগন্ত সূচিত হবে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, বিশাল বিশাল গর্ত আর ধূলিবালির নরকযন্ত্রণা সহ্য করা পথচারী ও এলাকাবাসীর জন্য এটি নিঃসন্দেহে স্বস্তির বার্তা।
প্রকল্পের সুফল নিয়ে কোনো দ্বিধা না থাকলেও এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যেসব অভিজ্ঞতা ও প্রশ্ন রেখে যাচ্ছে, তা এড়ানো অসম্ভব। ২০২০ সালে ৩৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালে এসে পৌঁছানো এবং ব্যয় প্রায় ১৯৫ কোটি টাকা বেড়ে ৫৩৫ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকার বিষয়টি আমাদের পরিকাঠামো খাতের এক পুরনো ও পরিচিত ব্যাধির কথাই স্মর করিয়ে দেয়Ñপ্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা ও সময়মতো জমি অধিগ্রহণে ব্যর্থতা।
সড়ক ও জনপথ দপ্তর (সওজ) এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভাষ্যমতে, ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক সোজা করার ক্ষেত্রে ১১.২৪ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া এবং জেলা প্রশাসন ও ভূমি মালিকদের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণেই এই বিলম্ব। প্রয়োজনীয় অর্থ বা চেক প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও ভূমি মালিকরা সঠিক সময়ে ক্ষতিপূরণের টাকা না পাওয়ায় আন্দোলন-বিক্ষোভের মুখে দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের মতো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রকল্পের শুরুতেই সঠিকভাবে নিবৃতি ও সমন্বয় করা গেলে আজ চার বছরের বাড়তি বিলম্ব এবং জনগণের দীর্ঘ ভোগান্তি এড়ানো যেত।
যেকোনো অবকাঠামোগত প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো জনকল্যাণ। এই অঞ্চলের মানুষের কৃষিজাত পণ্য সরবরাহ, জরুরি চিকিৎসা সেবা গ্রহণ এবং দৈনিক যাতায়াত সহজ করতে সড়কটির অবদান হবে অনস্বীকার্য। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং কপিলমুনি ও গোলাবাটি মোড়সহ শেষদিকের বাকি কাজটি চলতি মাসের মধ্যেই শেষ করে বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
আমরা আশা করব, সওজ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট এই স্বল্প সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে সড়কটির অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করবে। একই সাথে, জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত যেসব জটিলতা এখনো বিক্ষিপ্তভাবে রয়ে গেছে, স্থানীয় জেলা প্রশাসন তা দ্রুত ও সঠিকভাবে নিষ্পত্তি করবে। উন্নয়নের মিষ্টি ফলের পাশাপাশি যেন সময় ও অর্থের অপচয়ের তেঁতো অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রকল্পে পুনরায় দেখতে না হয়Ñসে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীতিগত শিক্ষা নেওয়া জরুরি।

উপকূল পুনরুদ্ধারে ১০ লাখ বীজ ও চারা সুরক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
উপকূল পুনরুদ্ধারে ১০ লাখ বীজ ও চারা সুরক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ

সংবাদদাতা: জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় জনপদে ১০ লাখ বীজ রোপণের পর এবার রোপিত বীজ ও জন্ম নেওয়া চারাগাছের সুরক্ষায় যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ের তদারকি কমিটির সদস্যদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শ্যামনগরে বারসিকের উপকূলীয় আঞ্চলিক কেন্দ্রে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য কমলা রানী। বারসিকের ক্যাম্পেইন অ্যান্ড নেটওয়ার্ক ফ্যাসিলিটেটর স ম ওসমান গনী সোহাগের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শাহীন ইসলাম, ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন গ্রিন কোয়ােিলশনের সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান, কৈখালী ইউনিয়ন গ্রিন কোয়ােিলশনের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন গ্রিন কোয়ােিলশনের সভাপতি মো. আশরাফ হোসেন, সর্বোচ্চ বীজদাতা লতা রানী এবং প্রভাষক কিশোর কুমার প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে বৃক্ষরোপণ কেবল সবুজায়নের কর্মসূচি নয়; এটি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলার একটি সামাজিক আন্দোলন। তবে এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে চারার যথাযথ পরিচর্যা ও সুরক্ষার ওপর। উন্মুক্ত আলোচনায় চারাগাছের চারপাশে ঘের ও বেড়া নির্মাণ, নিয়মিত পাহারা এবং ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে পরিচর্যা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২৮ জুলাই শ্যামনগরে এই ১০ লাখ বীজ রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছিল।