মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

৩৩ বলে তানজিদের ফিফটি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২১ অপরাহ্ণ
৩৩ বলে তানজিদের ফিফটি

দ্বিতীয় ওয়ানডের সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১৫ ওভারে ৯৫/২ (তানজিদ ৫৫*, শান্ত ২১*; সাইফ ৮, সৌম্য ৮)

নিউজিল্যান্ড ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮/১০ (স্মিথ ১৮*; নিকোলস ১৩, ইয়াং ২, ল্যাথাম ১৪, আব্বাস ১৯, কেলি ৮৩, ক্লার্কসন ৬, ফক্সক্রফট ১৫, টিকনার ১২, লেনক্স ০, রুর্ক ৬)

২১ রানে দুই উইকেট পড়ার পর অনায়াসে খেলছেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ৩৩ বলে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফিফটি তুলে নিয়েছেন তানজিদ। তাও আবার সেটা করেছেন ছক্কা মেরে।

তানজিদের আগ্রাসী ব্যাটিং, পঞ্চাশ পার বাংলাদেশের

২১ রানে ২ উইকেট পড়ার পর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে রানের চাকা সচল করেছেন ওপেনার তানজিদ হাসান। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে সপ্তম ওভারেই ২ উইকটে ৫১ রান তুলে ফেলেছে বাংলাদেশ। এই সময় ১৯ বলে ২৫ রান তুলেছেন তানজিদ। সঙ্গী শান্ত অবশ্য সতর্ক থেকে খেলছেন।

সাইফের পর দ্রুত ফিরলেন সৌম্যও

১৯৯ রানের লক্ষ্যে শুরুতেই চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। ২১ রানের মধ্যে হারিয়েছে দুই উইকেট। প্রথম ওভারেই নাথান স্মিথের শেষ ডেলিভারিতে বোল্ড হন হাত খোলার চেষ্টায় থাকা ওপেনার সাইফ হাসান (৮)। তার পর একইভাবে আগ্রাসী হওয়ার চেষ্টায় ছিলেন সৌম্য সরকারও। কিন্তু চতুর্থ ওভারের শেষ বলে ও’রুর্কের বলে আপার কাট করতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ৮ রানে।

১৯৮ রানে অলআউট নিউজিল্যান্ড

সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দারুণ বোলিংয়ে ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানে গুটিয়ে গেছে নিউজিল্যান্ড। সিরিজে ফিরতে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য এখন ১৯৯ রান।

বল হাতে মূল সর্বনাশটা করেছেন পেসার নাহিদ রানা। ৩২ রানে এক মেডেনে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। দুটি ৩২ রানে দুটি নিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। তিনিও একটি মেডেন দিয়েছেন। একটি করে নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ, সৌম্য সরকার ও রিশাদ হোসেন।

রানা তিনবার ওভারের প্রথম বলেই উইকেট তুলে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে প্রভাব ফেলেন। শুরুতে প্রথম পাওয়ারপ্লেতে নেন দুটি উইকেট, এরপর ২৯তম ওভারে আরেকটি। শেষদিকে তৃতীয় পাওয়ারপ্লেতে আরও দুটি উইকেট শিকার করে ইনিংস শেষ করেন।

ফিল্ডিংয়েও দারুণ পারফরম্যান্স দেখায় বাংলাদেশ। একাধিক সিঙ্গেল বাঁচানোর পাশাপাশি ডিপে কয়েকটি নিশ্চিত চার ঠেকিয়ে কিউইদের রান আটকেছে তারা। উইকেটকিপার লিটন দাস নেন দুটি চমৎকার ক্যাচ, আর তাওহীদ হৃদয় নেন তিনটি! যার মধ্যে ৪৯তম ওভারে লং-অনে ডাইভ দিয়ে নেওয়া ক্যাচটি ছিল নিউজিল্যান্ডের শেষ উইকেট।

ব্যাট হাতে একার লড়াইটা করেছেন ওপেনার নিক কেলি। ১০২ বলে ৮৩ রান করেছেন তিনি। বাকিরা সেভাবে বাংলাদেশের বোলিংয়ে দাঁড়াতেই পারেনি।

নাহিদের পঞ্চম শিকার লেনক্স

শুরু থেকে নাহিদ রানার পেস বিপদে ফেলেছে কিউইদের। শেষটাতে এসেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ৪৬তম ওভারে তার পঞ্চম শিকার হয়েছেন জেইডেন লেনক্স। নতুন ব্যাটারকে একেবারে বোল্ড করেছেন তিনি। নিউজিল্যান্ড নবম উইকেট হারায় ১৮৩ রানে। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার পাঁচ উইকেট পেলেন নাহিদ।

শরিফুলের আঘাতে পড়লো কিউইদের অষ্টম উইকেট

উইকেট পড়তে থাকায় রান বাড়িয়ে নেওয়ার তাড়া দেখা যায় ব্লেয়ার টিকনারের। কিন্তু তাতে সফল হতে পারেননি। ৪৪.৫ ওভারে শরিফুলের বলে মেরে খেলতে গেলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ১২ রানে। তাতে ১৮২ রানে অষ্টম উইকেট পড়েছে সফরকারীদের।

নাহিদ রানার চতুর্থ শিকার ফক্সক্রফট

দিনে টানা তৃতীয়বার প্রথম বলে আঘাত হেনে উইকেট নিলেন নাহিদ রানা। তাতে অবশ্য মোট চতুর্থবার উইকেটের দেখা পেয়েছেন তিনি। শেষ দিকে এসে ৪৩তম ওভারে তার শিকার হয়েছেন ডিন ফক্সক্রফট। পুল করতে গিয়ে ১৫ রানে হৃদয়ের হাতে ধরা পড়েছেন কিউই ব্যাটার। তাতে ১৬৪ রানে সপ্তম উইকেট হারিয়েছে নিউজিল্যান্ডের।

কেলির আউটের পর ক্লার্কসনকে ফেরালেন রিশাদ

সতীর্থরা ব্যর্থ হলেও শুরু থেকে প্রান্ত আগলে নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন ওপেনার নিক কেলি। ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়েছিলেন। এগিয়ে যাচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকেও। ৩৭তম ওভারে মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ানো কেলিকে থামিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। তাকে হৃদয়ের ক্যাচ বানান তিনি। কেলি আউট হন ৮৩ রানে। তার বিদায়ে ১৪৫ রানে পড়েছে পঞ্চম উইকেট। পাশাপাশি ভেঙেছে ফক্সক্রফটের সঙ্গে কেলির ৩৭ রানের জুটি।

পরের ওভারে নতুন নামা ক্লার্কসন রিশাদের বলে চার মারলেও থিতু হতে পারেননি। রিশাদের ঘূর্ণিতে ৬ রানে থেমেছেন কিউই ব্যাটার। মেহেদী হাসান মিরাজকে সহজ ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ৬ রানে। যার ফলে টানা দ্বিতীয় ওভারে আরও একটি উইকেট তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।

আব্বাসকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙলেন রানা

তৃতীয় উইকেট পতনের পর চাপে পড়ে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। সেখান থেকে দলকে ভালোই সামাল দিচ্ছিলেন নিক কেলি ও মোহাম্মদ আব্বাস। তাদের জুটিতেই স্কোর একশ ছাড়িয়েছে। চতুর্থ উইকেটে ৫৬ রান যোগ করেন তারা। ২৯তম ওভারে আবারও আক্রমণে এসে এই জুটি ভেঙে তৃতীয় উইকেট তুলে নিয়েছেন নাহিদ রানা। তার বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে লিটনের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়েছেন মোহাম্মদ আব্বাস। ফেরার আগে ৩৪ বলে ১৯ রান করেছেন তিনি।

কেলির ফিফটিতে একশ ছাড়িয়েছে নিউজিল্যান্ড

৫২ রানে তৃতীয় উইকেট পতনের পর জুটি গড়েছেন নিক কেলি ও মোহাম্মদ আব্বাস। পঞ্চাশ ছাড়িয়েছে এই জুটি। যার মূল দায়িত্বটা সামলাচ্ছেন কেলি। ৬৬ বলে তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি। তাদের জুটিতে ভর করে ২৭ ওভারে একশ ছাড়িয়েছে নিউজিল্যান্ড।

ল্যাথামকে ফেরালেন সৌম্য

কিউইদের রানই নিতে দেয়নি বাংলাদেশ। ২৮ রানে দুই উইকেট পতনের পর জুটি গড়ার চেষ্টায় ছিলেন ল্যাথাম ও কেলি। ২৪ রান যোগ করেন তারা। ১৮তম ওভারে দলীয় ফিফটির পরই সৌম্য সরকারের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অধিনায়ক ল্যাথাম (১৪)। ৫২ রানে তৃতীয় উইকেটের পতনে আরও চাপে পড়েছে সফরকারী দল।

টানা দ্বিতীয় ওভারে নাহিদের আঘাত

অষ্টম ওভারের পর দশম ওভারে আবারও আঘাত হেনেছেন নাহিদ রানা। এবারও উইকেট নেন প্রথম বলে। তার গতি আর বাউন্সের কাছে পুরোপুরি পরাস্ত হন নতুন ব্যাটার উইল ইয়াং। বলটা সামলাতে পারেননি। ব্যাটে স্পর্শ করে চলে যায় সৌম্য সরকারের হাতে। ইয়াং বিদায় নেন ২ রানে। নিউজিল্যান্ড তাদের দ্বিতীয় উইকেট হারায় ২৮ রানে।

আক্রমণে এসেই নাহিদের উইকেট

টস জিতে ব্যাট করতে নামলেও কিউইদের দুই ওপেনারকে সহজে রান দেননি পেসার তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম। নিখুঁত লাইন লেংথে বল করে সফরকারী ব্যাটারদের হতাশ করেছেন। তাতে ৭ ওভারে স্কোর ছিল বিনা উইকেটে ২৫। অষ্টম ওভারে প্রথম আক্রমণে এসে ব্রেক থ্রু এনে দেন পেসার নাহিদ রানা। ওপেনার হেনরি নিকোলসকে প্রথম বলেই এলবিডাব্লিউতে ফেরান তিনি। নিকোলস ২৬ বলে সাজঘরে ফিরেছেন ১৩ রানে। নিউজিল্যান্ড প্রথম উইকেট হারায় ২৫ রানে।

আবারও টস হেরেছে বাংলাদেশ, একাদশে সৌম্য

প্রথম ওয়ানডের মতো দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও টস ভাগ্য সহায় হয়নি বাংলাদেশের। টস জিতে আবারও ব্যাটিং নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। তার মানে এই গরমে আবারও ফিল্ডিং করতে হবে স্বাগতিক বাংলাদেশকে। ম্যাচ যথারীতি শুরু হচ্ছে সকাল ১১টায়। দেখাবে টি স্পোর্টস ও নাগরিক টিভি।

প্রথম ম্যাচ বাংলাদেশ ২৬ রানে হেরেছে। তাই এই সিরিজ বাঁচাতে এই ম্যাচ জিততে মরিয়া স্বাগতিকরা। তার ওপর এই ম্যাচটা আবার লিটন দাসের শততম ওয়ানডে।

প্রথম ওয়ানডেতে ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটিংটা খুবই বাজে করেছে বাংলাদেশ। ৩৭ রানে হারিয়েছে শেষ ৬ উইকেট। গুটিয়ে যায় ২২১ রানে। এই ম্যাচে ব্যাটিংয়ে ভালো করার বিকল্প নেই।

একাদশে কারা

গত ম্যাচ থেকে একটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। বাদ পড়েছেন আফিফ হোসেন, তার জায়গায় এসেছেন সৌম্য সরকার। নিউজিল্যান্ড অবশ্য অপরিবর্তিত দল নিয়ে খেলছে।

বাংলাদেশ একাদশ: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন, লিটন দাস (উইকেটকিপার), তাওহীদ হৃদয়, সৌম্য সরকার, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।

নিউজিল্যান্ড একাদশ:
উইল ইয়াং, টম ল্যাথাম (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), হেনরি নিকোলস, নিক কেলি, মোহাম্মদ আব্বাস, ডিন ফক্সক্রফট, জশ ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, ব্লেয়ার টিকনার, উইলিয়াম ও’রুর্ক ও জেইডেন লেনক্স।

Ads small one

কেশবপুরে সীমানা বিরোধে স্কুল ভবন নির্মাণ: জমির মালিককে মারধরের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ
কেশবপুরে সীমানা বিরোধে স্কুল ভবন নির্মাণ: জমির মালিককে মারধরের অভিযোগ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলার রেজাকাটি শহীদ জিয়াউর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে জোরপূর্বক নতুন ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। বাধা দেওয়ায় প্রধান শিক্ষক ও তাঁর সহযোগীর হাতে জমির মালিক দম্পতি লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় গত ২০ জুলাই (সোমবার) জমির মালিক ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জাহানারা বেগম ও সহকারী শিক্ষক কাকরকে অভিযুক্ত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাসানপুর ইউনিয়নের ৫০ নম্বর রেজাকাটি মৌজার ৩৭৫৪ নম্বর দলিল ও সংশ্লিষ্ট খতিয়ান সূত্রে ফিরোজা খাতুন ডাঙ্গা ও অন্যান্য শ্রেণিতে মোট ১৮.৩৮ শতক জমির মালিক হয়ে ভোগদখল করে আসছেন। জমিতে বিভিন্ন ফলের গাছগাছালিও রোপণ করেছিলেন তিনি। তবে প্রধান শিক্ষিকা স্কুলের আয়াকে দিয়ে গাছগুলো উপড়ে ফেলেন এবং উক্ত বিতর্কিত জমিতেই স্কুলের নতুন ভবনের কাজ শুরু করেন।
গত ২০ জুলাই সকালে ফিরোজা বেগম ও তাঁর স্বামী মো. আব্দুল হাদিস নির্মাণকাজে বাধা দেন এবং সরকারি আমিন দিয়ে জমি মেপে ভবন করার অনুরোধ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা আব্দুল হাদিসকে মারধর ও গলাধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষিকা জাহানারা বেগম বলেন, মারামারির কোনো ঘটনা ঘটেনি। স্কুলে শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের কাজ চলছে। ফিরোজা বেগমের জমি স্কুলের ভেতর রয়েছে কিনা তা তাঁর জানা নেই; সরকারিভাবে নকশা এলে জমি মেপে দেখা হবে।
যোগাযোগ করা হলে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন জানান, অভিযোগপত্রটি পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাইকগাছায় শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে অর্থ আদায়ের মিথ্যা অভিযোগের প্রমাণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
পাইকগাছায় শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে অর্থ আদায়ের মিথ্যা অভিযোগের প্রমাণ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা আদায়ের যে অভিযোগ উঠেছিল, তা ভুয়া এবং স্বাক্ষর জালের মাধ্যমে করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে শেষ ধাপের তদন্ত শেষে এ তথ্য জানা যায়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে তেরখাদা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এম এম মতিয়ার রহমান ও খুলনা সদর থানা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম এই অভিযোগের ওপর তদন্ত চালান। এতে উপজেলার ৩৪ জন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাজির হয়ে নিজেদের বক্তব্য লিখিত ও মৌখিকভাবে জমা দেন।
অভিযোগে দাবি করা হয়েছিল, ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের রিট মামলার খরচ বাবদ শিক্ষক সমিতির সভাপতি রবীন্দ্রনাথ রায়, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান ও সহকারী শিক্ষক আবদুল আলীম মিলে শিক্ষকদের কাছ থেকে ৬ হাজার ২০০ টাকা করে আদায় করেছেন। তবে অভিযোগের মূল ভিত্তি নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়।
তদন্তে হাজির হয়ে অভিযোগকারী হিসেবে নাম থাকা সহকারী শিক্ষক হাফিজুল ইসলাম স্পষ্টভাবে জানান, তিনি এমন কোনো কাগজে সই করেননি; তাঁর স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। অন্যদিকে ফোনে যোগাযোগের পর অপর অভিযোগকারী সুভাষ চন্দ্র মন্ডলও একই কথা জানিয়ে বলন, মধুখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল আক্তার তাঁর সই জাল করেছেন।
অবশ্য বাবুল আক্তার জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুমতি নিয়েই অন্য প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান কাগজে স্বাক্ষর করেছিলেন। এ বক্তব্যের পরই সেখানে উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং স্বাক্ষর জালিয়াতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
পাইকগাছা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান বলেন, ১০ম গ্রেড নিয়ে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন হয়নি। শিক্ষক সংগঠনকে হেয় করতে একদল শিক্ষক জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনার মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

আশাশুনিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে সমন্বয় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:০২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে সমন্বয় সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার আশাশুনিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কতা, ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের নিয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১১টায় আশাশুনি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মুসলিম এইড ইউকে বাংলাদেশ ফিল্ড অফিসের আর্থিক সহায়তায় এবং ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) ‘আইসিআরডিসিভি-৩’ প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু।
ইএসডিওর প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. শামসুল হক মৃধার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক আহ্বায়ক সম হেদায়েতুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের আমীর আবু মুসা তারিকুজ্জামান তুষার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নিতীশ চন্দ্র গোলদার, কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সোবহান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার বর্মণ, এবং সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান মনির।
এ ছাড়া সভায় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার দাস, বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. রিজাউল করিম, আশাশুনি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আকাশ হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আবু দাউদ ঢালী ও আবু বক্কর সিদ্দিকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সিপিপি দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছানো এবং টেকসই অভিযোজন কৌশলের ওপর জোর দেন বক্তারা। দুর্যোগ পূর্ববর্তী প্রস্তুতি গ্রহণ ও ঝুঁকি হ্রাসে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।