৭ বছর পর সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ল্যাপারোস্কপিক পিত্তথলি অপারেশন শুরু
চলছে গরমকাল। আর এ গরমে শুধু শরীরের ত্বকই নয়, মাথার ত্বক বা স্ক্যাল্পও নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়। তপ্ত রোদে বাইরে বের হলে ঘাম জমে স্ক্যাল্পে অস্বস্তি তৈরি করে। কিছুক্ষণ রোদে থাকলেই মাথা চুলকানো, জ্বালাপোড়া অনুভব করা কিংবা খুশকি বেড়ে যায়।
এছাড়া ধুলাবালি ও দূষণের কারণে চুলের গোড়ায় সংক্রমণ তৈরি করতে পারে। অনেক সময় অতিরিক্ত ঘামের কারণে মাথায় ছোট ছোট ফুসকুড়িও দেখা দিতে পারে।
এখন জানার বিষয় হলো স্ক্যাল্পের সমস্যা কেন হয়?
গবেষণায় দেখা গেছে, গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় আমাদের শরীরের ঘর্মগ্রন্থিগুলো বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে মাথার ত্বকেও বেশি ঘাম জমে। এই ঘামের সঙ্গে যখন বাইরের ধুলা ও ময়লা মিশে যায়, তখন তা স্ক্যাল্পের ছিদ্র বা পোরস বন্ধ করে দেয়। ফলে ত্বকে অক্সিজেন পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি হয় এবং ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে যারা নিয়মিত বাইক চালান বা দীর্ঘ সময় রোদে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে ‘স্টিকি ড্যানড্রাফ’ বা আঠালো খুশকির সমস্যা বেশি দেখা যায়।
তবে এই সমস্যার সমাধানে সবসময় পার্লারে গিয়ে খরচ করার প্রয়োজন নেই। ঘরেই থাকা কিছু সাধারণ উপাদান ব্যবহার করে সহজেই স্ক্যাল্পের যত্ন নেওয়া সম্ভব।
তো এবার আসুন জেনে নেওয়া যাক জ্বালাপোড়া ও চুলকানি রোধের ঘরোয়া উপায়গুলো কী কী-
> অ্যালোভেরা জেল
অ্যালোভেরা জেল স্ক্যাল্পের জন্য একটি প্রাকৃতিক কুল্যান্ট হিসেবে কাজ করে। এটি জ্বালাপোড়া কমাতে এবং ত্বককে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। ব্যবহারের জন্য ১ টেবিল চামচ টাটকা অ্যালোভেরা জেল বের করে ব্লেন্ড করে নিন। এরপর সরাসরি স্ক্যাল্প ও চুলে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিন। তারপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি স্ক্যাল্পের পিএইচ ব্যালেন্স ঠিক রাখতে সাহায্য করে এবং চুলকানি কমায়।
> নিম পাতা
নিম পাতা প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান হিসেবে পরিচিত। গরমে যাদের মাথায় ফুসকুড়ি বা সংক্রমণ হয়, তাদের জন্য এটি খুবই উপকারী। আপনি চাইলে নিম পাতা বেটে সরাসরি স্ক্যাল্পে লাগাতে পারেন। অথবা ১ মুঠ নিম পাতা পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি ঠান্ডা করে চুল ধুতে পারেন। এতে স্ক্যাল্প পরিষ্কার থাকবে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।
> টক দই
টক দই স্ক্যাল্পকে শান্ত রাখতে এবং খুশকি কমাতে দারুণ কাজ করে। এতে প্রাকৃতিক কন্ডিশনিং উপাদান থাকে, যা চুলকে নরম ও মসৃণ করে। ব্যবহারের জন্য ২ টেবিল চামচ টক দই ভালোভাবে ফেটে নিয়ে স্ক্যাল্প থেকে চুলের ডগা পর্যন্ত লাগান। ১৫-২০ মিনিট রেখে হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহার করলে খুশকি ও চুলকানি অনেকটাই কমে যাবে।
> লেবুর রস ও নারিকেল তেল
খুশকির কারণে যদি চুলকানি বেড়ে যায়, তবে লেবুর রস একটি ভালো সমাধান হতে পারে। লেবুর অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণ খুশকি কমাতে সাহায্য করে। ১ টেবিল চামচ লেবুর রস সামান্য পানির সঙ্গে মিশিয়ে তুলার সাহায্যে স্ক্যাল্পে লাগান। তবে যদি আপনার স্ক্যাল্প শুষ্ক হয়, তাহলে লেবুর রসের সঙ্গে ১ চা চামচ নারিকেল তেল মিশিয়ে নিন। ১০-১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেললে ভালো ফল পাওয়া যাবে।
> কিছু বাড়তি যত্নের পরামর্শ
গরমে স্ক্যাল্পের সমস্যা এড়াতে কিছু বিষয় মেনে চলা জরুরি। প্রথমত, কড়া কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার না করে মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। এতে স্ক্যাল্পের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় থাকবে। বাইরে বের হওয়ার সময় স্কার্ফ, টুপি বা ছাতা ব্যবহার করে সরাসরি রোদ থেকে মাথাকে রক্ষা করুন। এছাড়া নিয়মিত চুল পরিষ্কার রাখা এবং ঘাম জমতে না দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
গরমের সময় স্ক্যাল্পের জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা খুশকির সমস্যা খুবই সাধারণ হলেও তা অবহেলা করা ঠিক নয়। সঠিক যত্ন না নিলে এটি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।তবে ভালো খবর হলো, ঘরোয়া কিছু সহজ উপায়েই এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে আপনি সহজেই স্ক্যাল্পকে সুস্থ ও আরামদায়ক রাখতে পারবেন।
সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে, এনডিটিভি
এপ্রিল থেকে জুন বা চৈত্র থেকে আষাঢ় পর্যন্ত বাংলাদেশে বজ্রপাত বেশি হয়। এ সময়ে বজ্রপাতে প্রাণহানির আশঙ্কা প্রবল। বাংলাদেশে একদিনে বজ্রপাতে রেকর্ড সংখ্যক মৃত্যুর ঘটনাগুলোর মধ্যে ২০২১ সালের আগস্ট মাসে চাপাইনবাবগঞ্জে ১৭ জনের মৃত্যু অন্যতম। এ ছাড়া চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল সুনামগঞ্জ, রংপুরসহ বিভিন্ন জেলায় একদিনেই ১০ জন এবং এর আগে বিভিন্ন সময়ে একদিনে ৯ থেকে ১২ জন পর্যন্ত নিহতের খবর পাওয়া যায়।
তবে কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চললে বজ্রপাত থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে-
বজ্রঝড় সাধারণত ৩০-৪৫ মিনিট স্থায়ী হয়। এ সময়টুকু ঘরে অবস্থান করুন।
গভীর ও উলম্ব মেঘ দেখা দিলে ঘরের বাইরে না যাওয়া, অতি জরুরি প্রয়োজনে রাবারের জুতা পরে বাইরে যাবেন।
বজ্রপাতের সময় ধান ক্ষেত বা খোলা মাঠে থাকলে তাড়াতাড়ি পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে কানে আঙুল দিয়ে মাথা নিচু করে বসে পড়ুন।
বজ্রপাতের আশঙ্কা হলে যত দ্রুত সম্ভব ভবন বা কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিন। ভবনের ছাদে বা উঁচু ভূমিতে না যাওয়া।
শিশুদের খোলা মাঠে খেলাধুলা থেকে বিরত রাখা এবং ঘরের ভেতরে নিরাপদে অবস্থান করা জরুরি।
বজ্রপাতের সময় মুঠোফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন, ফ্রিজসহ সব ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির সুইচ বন্ধ রাখুন এবং আভাস পেলেই এগুলোর প্লাগ বিচ্ছিন্ন করুন।
খোলা স্থানে অনেকে একসঙ্গে থাকাকালীন বজ্রপাত শুরু হলে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া উচিত।
উঁচু গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুটি ও তার, ধাতব খুটি, মোবাইল ফোনের টাওয়ার ইত্যাদি থেকে দূরে থাকুন।
গভীর ও উলম্ব মেঘ দেখা দিলে নদী বা জলাশয় থেকে দূরে থাকুন।
বজ্রপাতের সময় ছাউনিবিহীন নৌকায় মাছ ধরতে যাবেন না। সমুদ্র বা নদীতে থাকলে মাছ ধরা বন্ধ রেখে নৌকার ছাউনির নিচে অবস্থান করুন।
বজ্রপাতের সময় গাড়ির ভেতর থাকলে গাড়ির ধাতব অংশের সঙ্গে শরীরের সংযোগ রাখবেন না।
আগেই গুঞ্জনটা ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পাকিস্তান দলের কোচ হতে যাচ্ছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। শেষ পর্যন্ত সেই গুঞ্জনটাই হলো সত্য। বাংলাদেশ সফরের ঘোষিত দলের কোচের ভূমিকায় থাকছেন সরফরাজই।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ সফরের জন্য ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। সেখানে হেড কোচ হিসেবে আছেন সরফরাজ আহমেদ।
গেল কয়েকমাস ধরেই টেস্ট দলের কোচের পদটি শূন্য ছিল। তখন থেকেই বারবার শোনা যাচ্ছিল সাবেক এই উইকেটকিপার ব্যাটারের নাম। ব্যাটিং কোচ হিসেবে থাকছেন আসাদ শফিক। বোলিং কোচের দায়িত্ব সামলাবেন উমর গুল।
সরফরাজ সম্প্রতি পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে এসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের শিরোপা জিততে নেতৃত্ব দিয়েছেন, যেখানে তিনি মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া চলতি বছরের শুরুতে ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিপক্ষে সিরিজে কাজ করেছেন পাকিস্তান শাহিনস দলের মেন্টর হিসেবেও।
খেলোয়াড়ী জীবনে ৫৪টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ব্যাট হাতে করেছেন ৩৭ গড়ে ৩০৩১ রান। নামের পাশে রয়েছে ৪টি সেঞ্চুরি ও ২১টি হাফসেঞ্চুরি। গ্লাভস হাতে ১৬০টি ক্যাচ ধরেছেন ও স্টাম্পিং করেছেন ২২টি।