বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

অভিজ্ঞতার বাজারে বাংলাদেশের অদেখা বাস্তবতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ণ
অভিজ্ঞতার বাজারে বাংলাদেশের অদেখা বাস্তবতা

মো. মামুন হাসান

বাংলাদেশের উন্নয়ন ভাবনায় কয়েক দশক ধরে একটি স্থায়ী প্রবণতা লক্ষ করা যায়। আমরা উন্নয়নকে দেখেছি মূলত অবকাঠামো নির্মাণ, শিল্পায়ন, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং কৃষি উৎপাদনের পরিমাণগত সম্প্রসারণের আলোকে। এই কাঠামো নিঃসন্দেহে দেশের অর্থনীতিকে একটি দৃশ্যমান ভিত্তি দিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, উন্নয়নের সংজ্ঞা কি কেবল উৎপাদনের পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি মানুষের জীবনযাপন, সংস্কৃতি এবং অভিজ্ঞতাও অর্থনৈতিক মূল্য হিসেবে বিবেচিত হবে?

বিশ্ব অর্থনীতির সাম্প্রতিক পরিবর্তন এই প্রশ্নকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। পর্যটন এখন আর কেবল অবকাশ যাপনের খাত নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা নির্ভর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থার বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিশ্ব পর্যটনের একটি ক্রমবর্ধমান অংশ এখন অভিজ্ঞতা ভিত্তিক ভ্রমণের দিকে ঝুঁকছে। পর্যটকরা এখন কেবল কোনো স্থান দেখতে যান না, তারা সেখানে বসবাসের অনুভূতি পেতে চান, স্থানীয় মানুষের জীবনকে বুঝতে চান এবং সংস্কৃতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে চান।

এই পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান বিশেষভাবে অনুকূল। কারণ বাংলাদেশে কৃত্রিমভাবে গ্রামীণ অভিজ্ঞতা তৈরি করার প্রয়োজন নেই। এখানে গ্রামীণ জীবন নিজেই একটি জীবন্ত বাস্তবতা। দেশের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ মানুষ এখনো গ্রামীণ পরিবেশে বসবাস করেন এবং তাদের দৈনন্দিন জীবন কৃষি, নদী, মৌসুমি পরিবর্তন, লোকসংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যবাহী সামাজিক কাঠামোর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। অথচ এই বিশাল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদকে আমরা এখনো মূলত উৎপাদনশীল কৃষির দৃষ্টিকোণ থেকেই বিবেচনা করি। একটি ধানক্ষেতের অর্থনৈতিক মূল্য নির্ধারিত হয় কেবল উৎপাদিত ধানের বাজারমূল্যে, কিন্তু সেই একই ক্ষেত যে একটি সাংস্কৃতিক, শিক্ষামূলক এবং পর্যটন অভিজ্ঞতার কেন্দ্র হতে পারে, সেই দৃষ্টিভঙ্গি এখনো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যথেষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা এই বিষয়ে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। ইতালির গ্রামীণ পর্যটন ব্যবস্থা কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে বহুমাত্রিক আয়ের উৎসে পরিণত করেছে। জাপানে কৃষি শিক্ষা ও পর্যটনকে একত্রিত করে নতুন প্রজন্মকে গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম তাদের গ্রামীণ সংস্কৃতি, নদীকেন্দ্রিক জীবন এবং কৃষিভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক পর্যটন পণ্যে রূপান্তর করেছে। এসব উদাহরণ দেখায়, গ্রাম এখন আর কেবল উৎপাদনের কেন্দ্র নয়, বরং এটি অভিজ্ঞতা অর্থনীতির একটি শক্তিশালী ইউনিট।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত। হাওর অঞ্চল, উপকূলীয় জনপদ, পার্বত্য এলাকা, নদীবিধৌত দক্ষিণাঞ্চল এবং উত্তরবঙ্গের কৃষিভিত্তিক গ্রামগুলো একেকটি স্বতন্ত্র অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জগৎ। হাওরের বর্ষাকালীন জলরাশি, জেলেদের জীবনসংগ্রাম এবং মৌসুমি পরিবর্তন একটি অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে। উপকূলীয় অঞ্চলের নদীভিত্তিক জীবন, জেলে সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাত্রা পর্যটকদের জন্য গভীর মানবিক অভিজ্ঞতা হতে পারে। পার্বত্য অঞ্চলের নৃগোষ্ঠীগত বৈচিত্র্য এবং কৃষিভিত্তিক জুম চাষ পদ্ধতি ভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক আকর্ষণ তৈরি করে।

অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনীতি, বিশেষ করে কৃষিভিত্তিক হাটবাজার, মৌসুমি ফল উৎপাদন এবং লোকসংস্কৃতি একটি ধারাবাহিক সামাজিক অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করেছে, যা পর্যটনের মাধ্যমে নতুন আয়ের উৎসে রূপ নিতে পারে। একইভাবে সিলেটের চা বাগান কেবল কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্র নয়, এটি একটি ইতিহাস, শ্রম সংস্কৃতি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমন্বিত অভিজ্ঞতা।

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রামীণ অভিজ্ঞতা অর্থনীতি একটি মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্ট তৈরি করে। একটি পর্যটন কেন্দ্রের মাধ্যমে কেবল একটি খাত নয়, বরং পরিবহন, খাদ্য, হস্তশিল্প, আবাসন, ডিজিটাল সেবা এবং স্থানীয় উদ্যোক্তা কার্যক্রম একসঙ্গে বিকশিত হয়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পর্যটন খাতে প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বহু গুণ বেশি পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে দ্রুত গতিশীল করে।
বাংলাদেশের বর্তমান শ্রমবাজারের প্রেক্ষাপটে এই খাত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে, যাদের একটি বড় অংশ প্রচলিত চাকরির সুযোগের বাইরে থেকে যাচ্ছে। গ্রামীণ অভিজ্ঞতা অর্থনীতি এই তরুণদের জন্য নতুন উদ্যোক্তা ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। তারা পর্যটন গাইড, ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা, হসপিটালিটি ম্যানেজার, স্থানীয় ইতিহাস ব্যাখ্যাকারী এবং ক্ষুদ্র পর্যটন উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করতে পারে।

নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও এই খাতের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। গ্রামীণ নারীরা ঐতিহ্যবাহী রান্না, হস্তশিল্প, লোকসংগীত এবং আতিথেয়তার মাধ্যমে পর্যটন অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠতে পারেন। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রামীণ পর্যটনভিত্তিক আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নারীদের হাতে পৌঁছায়, যা পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবায়ন করতে হলে কয়েকটি মৌলিক কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে হবে। প্রথমত, গ্রামীণ পর্যটনের জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় নীতিমালা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, অবকাঠামো উন্নয়নকে পর্যটনবান্ধব করতে হবে। তৃতীয়ত, স্থানীয় জনগণের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। চতুর্থত, ডিজিটাল বিপণন ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সর্বোপরি পরিবেশ ও সংস্কৃতির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে উন্নয়নের নামে স্থানীয় স্বাতন্ত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। এই সময় কেবল পরিকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং ধারণাগত উন্নয়নও জরুরি। অর্থনীতিকে যদি আমরা কেবল উৎপাদনের পরিসংখ্যান হিসেবে দেখি, তাহলে তার একটি বড় অংশ অদৃশ্য থেকে যাবে। কিন্তু যদি আমরা মানুষের জীবনযাপন, সংস্কৃতি এবং অভিজ্ঞতাকে অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে স্বীকৃতি দিই, তাহলে উন্নয়নের পরিসর বহুগুণ বিস্তৃত হবে।

গ্রামীণ অভিজ্ঞতা অর্থনীতি সেই সম্ভাবনার নাম, যা একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে, আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে পারে এবং বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে বৈশ্বিক মানচিত্রে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে পারে। এখন প্রয়োজন কেবল একটি সুস্পষ্ট নীতি, কার্যকর সমন্বয় এবং গ্রামকে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নতুনভাবে দেখার সাহস।

লেখক: মোঃ মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

Ads small one

তালায় খামারিদের জলবায়ু বিপন্নতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
তালায় খামারিদের জলবায়ু বিপন্নতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় উপকূলীয় অঞ্চলের খামারিদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) উপজেলার জাতপুর সমকাল মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠে ‘জলবায়ু বিপন্নতা’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর অর্থায়নে এবং স্থানীয় উন্নয়ন সংগঠন ‘উন্নয়ন প্রচেষ্টা’র বাস্তবায়নাধীন সাসটেইনেবল মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ট্রান্সফরমেশন (স্মার্ট) প্রকল্পের আওতায় এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় খামারি, উদ্যোক্তা ও প্রাণিসম্পদ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
কর্মশালায় গবাদিপশু পালন ও দুগ্ধজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে সম্পদের সঠিক ব্যবহার, পরিচ্ছন্ন উৎপাদন পদ্ধতি, জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সার্কুলার ইকোনমির ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ সাংবাদিক ও তরুণ সংগঠক মো. হোসেন আলী। তিনি উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে পরিবেশবান্ধব খামার পরিচালনা, পানি ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং খামারের বর্জ্য পুনর্ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ জোর দেন। অনুষ্ঠানে উন্নয়ন প্রচেষ্টার স্মার্ট প্রকল্পের পরিবেশ ও সামাজিক কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম এবং সহকারী কারিগরি কর্মকর্তা শেখ আসিফ রেজা উপস্থিত ছিলেন।

সাতক্ষীরায় উড়ছে বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের পতাকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় উড়ছে বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের পতাকা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা শহর ও বিভিন্ন উপজেলায় বাড়ির ছাদ, দোকানপাট এবং সড়কের পাশের বিভিন্ন স্থাপনায় বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের পতাকা উড়তে দেখা যাচ্ছে। ফুটবলকে কেন্দ্র করে বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এই নিয়ে বাড়তি উৎসাহ উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দেশের প্রতি ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমী মানুষ ব্রাজিলের পতাকা টানিয়েছেন। কেউ বাড়ির ছাদে, কেউ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে বড় খুঁটি গেড়ে এই পতাকা উড়িয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে।
বৃহস্পতিবার (১০ জুন) সাতক্ষীরা জজ কোর্ট এলাকার সামনের একটি বাড়ির ছাদ থেকে এমন চিত্র দেখা যায়। হালকা বাতাসে পাশাপাশি উড়তে থাকা বাংলাদেশের লাল-সবুজ ও ব্রাজিলের হলুদ-সবুজ পতাকাটি পথচারীদের বেশ নজর কাড়ছে।

গ্রাম আদালত বিষয়ক রিফ্রেশার প্রশিক্ষণের সমাপনী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
গ্রাম আদালত বিষয়ক রিফ্রেশার প্রশিক্ষণের সমাপনী

নিজস্ব প্রতিনিধি: গ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠা, স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তি এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতকে আরও সক্রিয় করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সাতক্ষীরায় ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত গ্রাম আদালত বিষয়ক রিফ্রেশার প্রশিক্ষণের সমাপনী দিনে বক্তারা এ কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুই দিনব্যাপী এই আবাসিক প্রশিক্ষণের তৃতীয় ব্যাচের সমাপ্তি ঘটে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলার ৭৭টি ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তার অংশগ্রহণে তিনটি ব্যাচে এই আবাসিক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার হাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরার স্থানীয় সরকার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক শেখ মঈনুল ইসলাম।
সভাপতির বক্তব্যে শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের বিচারিক কাজ পরিচালনায় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের আইন ও বিধি অনুসরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
প্রশিক্ষণে রিসোর্স পারসন হিসেবে সেশন পরিচালনা করেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার, সমাজসেবা, যুব উন্নয়ন ও মহিলা বিষয়ক দপ্তরের উপপরিচালক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং জেলা তথ্য অফিসার। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের মামলা গ্রহণ, নথি ব্যবস্থাপনা এবং সংশোধিত গ্রাম আদালত আইনের বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হয়।