শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

আড়াল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ
আড়াল

কানিজ ফাতিমা
মায়ের মৃত্যুর ঠিক দুই দিন পর রাত প্রায় ১১:৩০। রুমের দরজায় কেউ যেন আস্তে আস্তে করে ধাক্কা দিচ্ছে। দরজা খুলতেই ময়না খালা তাড়াতাড়ি করে আমার রুমে ঢুকে যায়। সাধারণত ময়না খালা আমাদের আউট হাউজে থাকে। সারাদিন ঘরের সব কাজ করে আর রাতে সেখানে থাকে। কিন্তু আজ এখনও আউট হাউজে যায়নি সে। কী হয়েছে খালা কিছু প্রয়োজন?
কথাটা জিজ্ঞাসা করতেই সে চারপাশটা একটু ভালো করে দেখে নিলো। তারপর আমার দিকে এগিয়ে এসে খুব আস্তে আস্তে কানের কাছে এসে বললোÑ
তোমার সাথে দরকারী কথা আছে বুবুজান। আচ্ছা বলো তাহলে।
খালা এবার একটু চুপচাপ। কী যেন ভাবছে। আচ্ছা খালা, বলো তাহলে, কী বলবে। রাত তো অনেক।
খালা এবার কিছু না ভেবেই সোজাসাপ্টা বলে দিলোÑ
বড়োমনিরে তোমার আব্বায় মারসে।
আমার মাকে খালা বড়োমনি বলে ডাকতো কারন আমার চাচিদের ঘরেও সে মাঝে মাঝে কাজ করতে যেত। তাই চাচিকে ছোটমনি বলে ডাকে। ময়না খালার কথাটা শুনে আমি রেগে যাই।
এই রাতে সে আমার রুমে এসে আমাকে বলছে যে আমার বাবা নাকি আমার মাকে খুন করেছে। যেটা অবিশ্বাস্য আর ভিত্তিহীন। মায়ের ২ দিন আগেই মৃত্যু হয়। ঘুমেই মারা যান। ডাক্তার বলেছে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু। এখানে ময়না খালা এসে কী যা তা বলছে। তুমি কী সব বলছো খালা। তুমি হয়তো ক্লান্ত তুমি যেয়ে বিশ্রাম করো। সে আমার কোনো কথাই শুনতে চাচ্ছে না। অনেক বুঝিয়ে তারপর তাকে তার ঘরে পাঠাই। তার যাওয়ার পর কথাগুলো মাথায় কেমন জানি ঘুরপাক খাচ্ছিল। বাবা মাকে খুব ভালোবাসতেন, আর মায়ের মৃত্যুর পর তো বাবা পুরাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
না না, আমি শুধু শুধু বাজে কথা ভাবছি। রাতে আর তেমন এই কথা নিয়ে ভাবিনি, ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে রান্না ঘরে যেয়ে দেখি ময়না খালা নেই। সকালের নাস্তাও বানানো হয়নি। কিন্তু প্রতিদিন ৯ টা বাজার আগেই খালা সব তৈরি করে রাখতো। হয়তো কাল রাতে দেরিতে ঘুমিয়েছে তাই এখনও সময় করে উঠতে পারেনি। আমি নাস্তা বানিয়ে সব রেডি করে বাবাকে ডাকতে যাই। বাবা ইদানীং খুব অন্যমনস্ক থাকেন। মনে হয় যেন তার আশেপাশে কী হচ্ছে তার খবর থাকেই না। বাবার রুমের দরজা খোলা।
ভেতরে যেয়ে দেখি বাবা চেয়ারে বসেই ঘুমিয়ে আছেন। বাবাকে ডেকে উঠিয়ে ফ্রেশ হতে পাঠাই। এদিকে আমিও ময়না খালাকে দেখতে আউট হাউজে যাই। আউট হাউজ তালা দেওয়া, কেউ নেই ভেতরে। তাহলে খালা গেল তোÑগেল কোথায়! াসায় এসে দেখি বাবাও খাবার টেবিলে বসে আমার জন্য অপেক্ষা করছে। সাধারণত আমি, বাবা, মা আর ময়না খালা একই সাথে নাস্তা করতাম। বাবা ময়না খালার কথা জিজ্ঞাসা করে। আমি বলে দেই সে বাসায় নেই। হয়তো মেয়ের বাসায় গেছে। তার মেয়ের বাসা আমাদের এখান থেকে ১ মাইল দূরে। সব কিছু গুছিয়ে নিজের রুমে চলে যাই, বাবাও হাঁটতে বের হয়। ছোটখাটো মিলাদ পড়াবে সেই জন্য বোধহয় চাচার বাসায় গিয়েছে। এদিকে দুপুর হবে হবে ময়না খালার কোনো খবর নেই। শেষে নিজেই সব করে বাবাকে খাবার দিয়ে দুপুর বাদে বিকেলে বের হই। উদ্দেশ্য ময়না খালার মেয়ের বাসা। রুপা আপার বাসায় যাওয়ার পর জানতে পারিÑ খালা কাল রাতে ৮ টায় সেখান থেকে বেরিয়ে পড়েছিল। তাহলে খালা গেল কোথায়! আমার কালকে রাতের কথায় কী সে কষ্ট পেয়েছিল? কিন্তু আমি তো তেমন কিছু বলিনি। বাসায় ফিরে আউট হাউজের ডুপ্লিকেট চাবি মায়ের ড্রয়ার থেকে বের করি। মার কাছেই সব কিছুর চাবি থাকতো। আউট হাউজের তালা খুলে ভেতরে ঢুকি। ঘরের সব কিছুই ঠিক ঠাক আছে। কিন্তু খালার রুমের খাটের উপর চাদর নেই। আর কার্পেট টাও মিসিং। হঠাৎ কী হলো!
খালা বা কোথায়? ভাবতে ভাবতেই আউট হাউজ থেকে বের হয়ে গেলাম। সেদিন পুরো রাত ঘুম হয়নি। পরের দিন রুপা আপা আমাদের বাসায় আসে তার মায়ের খবর পেয়েছি কিনা জানতে। মিলাদের সময় ছিল , আমি কোনো রকম সব জোগাড় করেই রুপা আপার সাথে পাশের থানায় চলে যাই। খালার ছবি আর প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে মিসিং ডায়রি করে আসি। উনারা বলে উনারা খুঁজবে খালাকে। কিন্তু আমার কাছে সব কিছুই খুব অগোছালো লাগছিল। পরের দিন সকালে পুলিশ বাড়িতে আসে। আমাদের সবাইকে বেশ কিছু প্রশ্ন করে আর আউট হাউজের চাবিটা নিয়ে যায় সেটা চেক করতে। উনারা পুরো ঘর খুঁজে তেমন কিছু পায়নি। কিন্তু আউট হাউজের পাশের কুয়াতে নাকি দড়ি বাধা দেখে।

Ads small one

এই শীতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
এই শীতে

মকবুল মাহ্ফুজ
উলের সোয়েটার পরে আছে ওষুধের দোকান
নতুন বছরের ক্যালেন্ডারের গায়ে শীতের চাদর।

এই শীতে গাছেরা কুঁজো হয়ে আছে।
হাড় কাঁপানো শীত এ বছর
আগুনে সেঁকতে হচ্ছে হাত। পা রোজ।
কার যেন কবিতায় পড়েছিলাম
‘কথা বললেই শীত কম লাগে।’
ইস্, এরা যদি কথা বলতে পারত!

মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে
বাবুর আলী গোলদার
কিছু ইতর প্রাণী মলমূত্র ত্যাগ করছে,
দুর্গন্ধ নাকে আসছে।
নারী কী পুরুষ চেনা দায় হচ্ছে,

সর্বাঙ্গ ঢাকা আছে।
বিরতিহীন হাঁটছে,
এপাড়া-ওপাড়া যাচ্ছে।
ফিসফিসিয়ে বলছেÑ
অনন্তকাল সুখভোগের লোভ দেখাচ্ছে।
বাহ্! সুখ যেন ওদের হাতে,
মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে।
সরলমনা মানুষগুলো কি বুঝতে পারছে?

 

আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

জহুরুল হক জুলু
সকালের রোদের চিকমিক সোনা গায়ে মেখে
যে নতুন দিনের জন্ম দেয়,
আর সন্ধ্যার আকাশে
আবিরের রঙ ছড়িয়ে

অস্তাচলে রেখে যাওয়া শেষ স্বাক্ষরÑ
শিল্পীর তুলিতে আঁকা রঙিন স্বপ্নের মতো;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
শীতের ভোরে
ঘাসের ডগায় জেগে থাকা শিশিরকণা

টুপটাপ ঝরে পড়ে নীরবে,
যেন একান্ত আপন ভেবে
বেদনার ভাষা জানাতে চায়Ñ
হৃদয় নিংড়ানো স্বচ্ছ সে কথা;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে, সুগন্ধ বিলিয়ে
যে নীরবে পৌঁছে যায় হৃদয়ের মনিকোঠায়,

অবশেষে একদিন
ঝরে পড়ে নিঃশব্দে,
নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েÑ
আমি সেই ফুলটিকে ধরে রাখতে চাই
সযতেœ স্মৃতির পাতায়;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
ঘুম ভাঙে কিচিরমিচির ডাকে,

হৃদয়ে জাগে অচেনা আলোড়ন।
কেউ দূর নীল আকাশে ভেসে যায়,
খাদ্যের সন্ধানে ব্যস্ত উড়াল;
সন্ধ্যা নামলে আবার
কুলায় ফেরে তৃপ্ত হৃদয়ে।
তাদের এই সহজ জীবনযাত্রা
কার না মন কাড়ে?
আমি সেই পাখিদের বন্ধু হতে চাই।

সবুজ ফসলের মাঠ মনকে ভুলিয়ে দেয়,
আলো-ছায়ার লুকোচুরি খেলায়
বাতাস দোলে ছন্দে ছন্দে;
তার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে
আমার হৃদয়ের তীরে।
আমি তারও বন্ধু হতে চাই।
তুমিও তবে হাত বাড়াওÑ
দিগন্ত-বিস্তৃত উন্মুক্ত হাত।

এসো, আমরা বন্ধু হই

এই সৌন্দর্যের, এই জীবনের,

এই অনন্ত মমতার।

শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

শাহাবুদ্দীন
সবকিছুর বিনিময়ে তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন ভোরের কুয়াশা তার অদৃশ্য আঙুল দিয়ে
ঘাসের ডগায় হেঁটে যায়,
শুধু নিঃশব্দে কিছু নরম আলো রেখে যায়।
আমি যত দিইÑ
শব্দ, সময়, স্মৃতি, অদৃশ্য আঙুলের স্পর্শÑ
সবই যেন মাটির নিচে সরে যায়;
কিন্তু তুমি ভালো থাকো,
এটাই আমার প্রার্থনা।
যেমন ঝড়ের পর একা পাতার ওপর
সন্ধ্যার আলো নেমে আসে,
তেমনি তোমার মুখে যেন
শান্তির নরম ছাপ থাকেÑ

যেখানে কেউ আহত হয় না, কেউ হারায় না।
আমি জানি, আমার দেওয়া সবকিছু
অদৃশ্য নদীর মতো বয়ে যাবে;
শুধু তুমি ভালো থেকো,
এই ভেবে নদীও থেমে যায়,
এক মুহূর্তের জন্য নিজেকে দাঁড় করায়।
তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন হেমন্তের শেষে
শিশিরের নিচে একাকী ফুল;
শুধু নিজের উপস্থিতি দিয়ে
সমস্ত মাঠকে ভরিয়ে রাখে।
সবকিছুর বিনিময়ে,
যদি এই পৃথিবীর সমস্ত শব্দ,
সমস্ত নীরবতা, সমস্ত আকাশ
আমার হাতে এসে গলে যায়Ñ
তবু একটাই চাওয়া থাকবে:
তুমি ভালো থেকো,
যেমন নক্ষত্র নিজের আলো দিয়ে
রাত্রিকে আলোকিত রাখে,
অচল, অমোঘ, অদূর।