আমার মৃত্যুটি কেমন হবে
শাহাবুদ্দীন
আমার মৃত্যুটি কেমন হবে
কখনও কখনও এই প্রশ্নটি
নীরব রাতের মতো এসে বসে
আমার ভাবনার জানালায়।
কোন ঋতু হবে সেদিন?
বৃষ্টি নামবে, নাকি আকাশ থাকবে নির্মল?
কোন পাখি শেষবারের মতো ডেকে উঠবে,
কোন বাতাস এসে ছুঁয়ে যাবে
আমার ক্লান্ত কপাল?
আমি জানি না।
শুধু জানি,
একদিন হঠাৎ করেই
আমার জন্য পৃথিবীর সমস্ত ব্যস্ততা থেমে যাবে না,
বরং পৃথিবী চলতেই থাকবে
নিজের চিরচেনা ছন্দে।
সূর্য উঠবে,
গাছেরা দুলবে,
মানুষেরা হাসবে, কাঁদবে,
আর আমার নামটি
ধীরে ধীরে স্মৃতির ভেতর আশ্রয় নেবে।
আমার বইগুলো হয়তো
নিঃশব্দে তাকেই পড়ে থাকবে,
অপূর্ণ কিছু লেখা
হয়তো অপেক্ষা করবে
আমার আরেকবার ফিরে আসার।
কিন্তু আমি ফিরব না।
আমার প্রিয় মানুষগুলো
হয়তো প্রথম ক’দিন
আমার অনুপস্থিতিকে বিশ্বাস করতে পারবে না।
ফোনের তালিকায় আমার নাম দেখে
হঠাৎ থমকে যাবে,
পুরোনো কোনো ছবিতে চোখ পড়লে
চুপ করে যাবে কিছুক্ষণ।
তারপর একসময়
কষ্টগুলোও বেঁচে থাকার নিয়ম শিখে নেবে।
আমি চাই,
আমার মৃত্যুর দিনে
খুব বেশি কান্না না হোক।
বরং যারা আমাকে ভালোবেসেছিল,
তারা স্মরণ করুক-
আমি একসময় তাদের জীবনে
একটুখানি আলো হয়ে এসেছিলাম।
আমি চাই,
আমার জন্য যদি কোনো প্রার্থনা ওঠে,
তা হোক ভালোবাসা দিয়ে ভেজা;
যদি কোনো স্মৃতি জাগে,
তা হোক কোমল।
আর যদি কেউ
গভীর রাতে আমাকে মনে করে,
তবে সে যেন আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে
“সে চলে গেছে,
কিন্তু তার দেওয়া ভালোবাসা এখনো রয়ে গেছে।”
মৃত্যু তো শেষ নয় শুধু,
মৃত্যু হলো এক দরজা,
যার ওপারে আমাদের অজানা যাত্রা।
তাই আমার মৃত্যুটি কেমন হবে
সে উত্তর জানি না আমি।
শুধু চাই,
যেদিন বিদায়ের ডাক আসবে,
সেদিন আমার হৃদয়ে কোনো অভিমান না থাকুক,
ঠোঁটে থাকুক শান্তির নীরবতা,
আর আত্মা বলুক-
আমি আমার ভালোবাসাগুলো রেখে গেলাম পৃথিবীতে,
এবার আমি ফিরে যাচ্ছি
আমার রবের কাছে।
আর আমার চলে যাওয়ার পরও
যদি কোথাও আমি বেঁচে থাকি,
তবে তা হবে
কোনো মানুষের হৃদয়ের গভীরে রাখা
একটি উষ্ণ স্মৃতির মতো।


