শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আমার মৃত্যুটি কেমন হবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
আমার মৃত্যুটি কেমন হবে

শাহাবুদ্দীন
আমার মৃত্যুটি কেমন হবে
কখনও কখনও এই প্রশ্নটি
নীরব রাতের মতো এসে বসে
আমার ভাবনার জানালায়।

কোন ঋতু হবে সেদিন?
বৃষ্টি নামবে, নাকি আকাশ থাকবে নির্মল?
কোন পাখি শেষবারের মতো ডেকে উঠবে,
কোন বাতাস এসে ছুঁয়ে যাবে
আমার ক্লান্ত কপাল?
আমি জানি না।
শুধু জানি,
একদিন হঠাৎ করেই
আমার জন্য পৃথিবীর সমস্ত ব্যস্ততা থেমে যাবে না,
বরং পৃথিবী চলতেই থাকবে
নিজের চিরচেনা ছন্দে।

সূর্য উঠবে,
গাছেরা দুলবে,
মানুষেরা হাসবে, কাঁদবে,
আর আমার নামটি
ধীরে ধীরে স্মৃতির ভেতর আশ্রয় নেবে।

আমার বইগুলো হয়তো
নিঃশব্দে তাকেই পড়ে থাকবে,
অপূর্ণ কিছু লেখা
হয়তো অপেক্ষা করবে
আমার আরেকবার ফিরে আসার।

কিন্তু আমি ফিরব না।

আমার প্রিয় মানুষগুলো
হয়তো প্রথম ক’দিন
আমার অনুপস্থিতিকে বিশ্বাস করতে পারবে না।
ফোনের তালিকায় আমার নাম দেখে
হঠাৎ থমকে যাবে,
পুরোনো কোনো ছবিতে চোখ পড়লে
চুপ করে যাবে কিছুক্ষণ।

তারপর একসময়
কষ্টগুলোও বেঁচে থাকার নিয়ম শিখে নেবে।

আমি চাই,
আমার মৃত্যুর দিনে
খুব বেশি কান্না না হোক।

বরং যারা আমাকে ভালোবেসেছিল,
তারা স্মরণ করুক-
আমি একসময় তাদের জীবনে
একটুখানি আলো হয়ে এসেছিলাম।

আমি চাই,
আমার জন্য যদি কোনো প্রার্থনা ওঠে,
তা হোক ভালোবাসা দিয়ে ভেজা;
যদি কোনো স্মৃতি জাগে,
তা হোক কোমল।

আর যদি কেউ
গভীর রাতে আমাকে মনে করে,
তবে সে যেন আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে

“সে চলে গেছে,
কিন্তু তার দেওয়া ভালোবাসা এখনো রয়ে গেছে।”

মৃত্যু তো শেষ নয় শুধু,
মৃত্যু হলো এক দরজা,
যার ওপারে আমাদের অজানা যাত্রা।

তাই আমার মৃত্যুটি কেমন হবে
সে উত্তর জানি না আমি।

শুধু চাই,
যেদিন বিদায়ের ডাক আসবে,
সেদিন আমার হৃদয়ে কোনো অভিমান না থাকুক,
ঠোঁটে থাকুক শান্তির নীরবতা,
আর আত্মা বলুক-

আমি আমার ভালোবাসাগুলো রেখে গেলাম পৃথিবীতে,
এবার আমি ফিরে যাচ্ছি
আমার রবের কাছে।

আর আমার চলে যাওয়ার পরও
যদি কোথাও আমি বেঁচে থাকি,
তবে তা হবে
কোনো মানুষের হৃদয়ের গভীরে রাখা
একটি উষ্ণ স্মৃতির মতো।

 

Ads small one

কেউ চলে গেলে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
কেউ চলে গেলে

আহমেদ সাব্বির
কেউ চলে গেলে
কেউ মনে রাখে না
যারা মনে রাখে
তারা মনে রাখে।

প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়
অশীতিপর বসন্তের মতো।

শীত চলে যায়
পড়ে থাকে ঝরা পালক
ভ্রমণক্লান্ত পরিযায়ী ওম
পাহাড়ের নিঃসঙ্গতায়
স্মৃতি হয়ে ছড়িয়ে থাকে
জীবনতৃষ্ণাসম
অদৃশ্য অন্তর্জাল।

কেউ চলে গেলে
কেউ মনে রাখে না।

 

ধিক্ এই ভ- সমাজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
ধিক্ এই ভ- সমাজ

বিপুল চন্দ্র রায়
হে বিধাতা!
একি ঘোর তিমিরে নিমজ্জিত আজ ধরা?
সর্বত্র ভেজাল আজি, বিষাক্ততায় বিশ্ব ভরা।
হায় রে মানুষ! চেনা বড় দায় স্বার্থের নেশায়,
নৈতিকতা বিসর্জিয়া ওড়ে অহমিকার ফানুস।

মগজে কুটিল ফন্দি তাদের মনে ঘোরে অবিরাম,
লুপ্ত আজ অকৃত্রিম মায়া, স্নেহের মেলেনি দাম।
অন্নে বিষ, রক্তে ভেজাল, কলুষিত প্রাণের ছায়া,
অর্থের লোভে বিবেক বিকায় জীর্ণ এ কোন মায়া!

আচ্ছন্ন নিখিল ভুবন আজ মর্ত্যভীতিতে,
কপটতাই কি স্থান পেল তবে শ্রেষ্ঠ নীতিতে?
সত্যের টুঁটি চেপে ধরে আজ ভ- অমানুষ,
স্বার্থের টানে চেনা দায় কে প্রকৃত মানুষ!

ধিক্ এই ভ- সমাজ! ধিক্ এই দানবীয় উল্লাস!
যূপকাষ্ঠে বলী আজ মানবতার শেষ নিশ্বাস।
হে বিধাতা, এই দুর্ভেদ্য পাপে হানো বজ্রাঘাত,
ছিঁড়ে যাক নরপশুদের ওই লোলুপ-রক্তিম হাত।

দয়া নয় প্রভু, আজ নেমে আসুক মহা দ-,
চূর্ণ হোক মিথ্যে মুখোশধারী ওই ভ-!
দিকে দিকে বেজে উঠুক সাম্যের শুভ শঙ্খধ্বনি,
কলুষতামুক্ত হোক আবার আমাদের এই ধরণী।

 

বেলা অবেলার শেষে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৮:০০ অপরাহ্ণ
বেলা অবেলার শেষে

মোঃ রহমত আলী
গল্প শেষ, তবু স্বল্প রয়ে গেছে,
সমাধির উপরে অযথাই ফুল,
জীবদ্দশায় মূল্যহীন যা,
মৃত্যুর পরে তুল্য কি তা,
বেলা অবেলায় হারিয়ে যেতে বাধ্য
সময়ের সাথে জীবনের মূল্য।

কাহিনী যখন শুরু হয়েছিল,
তখন তো স্মৃতিশক্তি হীন,
আর এখন শেষ বেলাতেও
স্মৃতির স্মরণে বুদ্ধি লোপপ্রাপ্ত।
জীবন থেকে চিরতরে হারিয়ে
যে সময়ের স্রোত বয়ে গেছে
তা ধরা না ধরার আফসোস হায়।

বেলা অবেলা শেষে, বিদায় বেলা!
সাথী যা আমল তা কি কাজের?
হিসাব শুরু শেষের পর, শুরু থেকে।