সোনাফুল-ঝরা ফুল
আমিরুল বাসার
একদিন-কোনোদিন, এ অরণ্যে আর ফুল ফুটবে না
সাম্প্রতিককালে
যে ফুলগুলো ফুটেছিল সবুজ শাখে
হাসতো, গাইতো আলো ছড়াতো হৃদয় বুকে-
আজ তারা ধারাবাহিকভাবে
লুটিয়ে পড়েছে, লুটিয়ে পড়ছে জমিনের বুকে।
নিথর ফুলগুলোর বৃষ্টিঝরা শরীর
ওদের মুখের দিকে তাকালে মনে হয়
দলবেঁধে আলো ছড়ায় সোনা ঝরা রোদ্দুর-
কিন্তু আমি তাকাতে পারি না।
বাবারা আর গাইবে না-‘আয় আয় চাঁদ মামা’
মায়েরা বলবে না— ‘খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়ালো’
আজ তাদের অশ্রু শুকানো চোখ— পলকহীন
আজ তাদের হৃদয় ভাঙা, হাহাকার বুক ।
শতশত ফুলগুলো এভাবে ঝরে গেল
ঝরে যাওয়া এ মিছিলের শেষ কোথায়?
তুমিতো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
আমার নিরাপত্তার শপথ তোমার জবানীতে
কী হাস্যকর কথা, এই তার ফল…
ফুলগুলো গোলাপী, বেগুনী, টগর— পলাশ, জুঁই- শেফালী
আমাদের অরণ্য আজ ফুল শূন্য, ফুলহারা তার
শাখে শাখে বেজে চলেছে বেহালা সংগীত।
পাখিগুলোও পলক ফ্যালে, দুফোটা চোখের জলে
আমি তোমার মুখের দিকে তাকাতে পারি না শিশুফুল
আমি তোমায় আদর করতে পারি না শিশুফুল
তোমরা আর এভাবে চলে যেও না সোনাফুল
হৃদয়ক্ষরণ আমার,
এবার থামুক তোমাদের শব মিছিল।


