শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আলিপুর আজিজিয়া মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
আলিপুর আজিজিয়া মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: আলিপুর আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় মাদ্রাসা মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রউফ। উল্লেখ্য, এ বছর এই মাদ্রাসা থেকে মোট ২৮জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

Ads small one

ভেড়ির কুঁড়েঘর থেকে স্বপ্নের প্রাসাদে মৌলুদা-মোস্তাফার পরিবার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ণ
ভেড়ির কুঁড়েঘর থেকে স্বপ্নের প্রাসাদে মৌলুদা-মোস্তাফার পরিবার

পত্রদূত রিপোট: একসময় তাদের ঠিকানা ছিল মাছের ঘেরের ভেড়ির পাশে তৈরি করা একটি জরাজীর্ণ কুঁড়েঘর। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি চুঁইয়ে পড়ত মাথার ওপর, শীতের রাতে কাঁপতে কাঁপতে কাটত সময়, আর ঝড় এলেই বুকের ভেতর বাসা বাঁধত অজানা আতঙ্ক। ভূমিহীন ও হতদরিদ্র মৌলুদা খাতুন এবং তার স্বামী গোলাম মোস্তফার কাছে জীবন ছিল বেঁচে থাকার এক নিরন্তর সংগ্রামের নাম। দুবেলা খাবার জোগাড় করাই যেখানে কঠিন ছিল, সেখানে নিজের জমিতে একটি নিরাপদ ঘরের স্বপ্ন দেখাও ছিল বিলাসিতা। কিন্তু সেই অসম্ভব স্বপ্নই আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে মানবতার দুই মহান বন্ধু ভিনসেনজো ফালকোনে এনজো ও গ্রাজিয়েল্লা মেলানো লাওরার হাত ধরে।

 

মুক্তিযুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের মানুষের কষ্ট তাদের হৃদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল। সেই টানেই ইতালি থেকে এ দেশে ছুটে এসেছিলেন তারা। তারপর কেটে গেছে কয়েক দশক। আশির কোঠায় পৌঁছেও থেমে যাননি। মানুষের জন্য ভালোবাসা আর সেবার অঙ্গীকার নিয়েই কাজ করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। তাদের প্রতিষ্ঠিত ঋশিল্পীর মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, কর্মসংস্থান ও মানবিক সহায়তার নানা কর্মসূচিতে উপকৃত হয়েছেন দেশের লাখ লাখ প্রান্তিক মানুষ। অসংখ্য পরিবার পেয়েছে নতুন আশ্রয়, নতুন জীবন এবং নতুন করে বাঁচার সাহস।
সম্প্রতি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পারকুখরালি গ্রামের মৌলুদা খাতুনের পরিবারের অসহায় জীবনযাত্রার কথা জানতে পারেন এনজো ও লাওরা। ঘেরের ভেড়ির পাশে মানবেতর পরিবেশে বসবাস করা পরিবারটির দুর্দশার কথা শুনে তারা বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন।

পরিবারটির জন্য জমি ক্রয় করে নির্মাণ করা হয়েছে একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন বাড়ি। বাড়িটিতে রয়েছে তিনটি প্রশস্ত শয়নকক্ষ, যেখানে পরিবারের সদস্যরা নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করতে পারবেন। রয়েছে একটি আলাদা রিডিং রুম, যাতে শিশুদের লেখাপড়া ও জ্ঞানচর্চার সুযোগ সৃষ্টি হয়। এছাড়া সুপরিসর ড্রয়িং ও ডাইনিং রুম, আধুনিক স্বাস্থ্যসম্মত বাথরুম এবং বড় পরিসরের রান্নাঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ঘরের প্রতিটি অংশ এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে একটি পরিবার শুধু আশ্রয়ই না পায়, বরং মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারে। জমি ক্রয় ও গৃহনির্মাণ বাবদ মোট ব্যয় হয়েছে ১৫ লাখ ৬৩ হাজার ৯৫১ টাকা।

বাড়ি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঋশিল্পী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক প্রশান্ত কুমার বল্লভ, কনসালটেন্ট মো. আকতারুল আলম, প্রোগ্রাম অফিসার মো. নাঈমুজ্জামান এবং হিসাবরক্ষক মীর মাহমুদুর রহমান।
নতুন ঘরের চাবি হাতে নিয়ে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে মৌলুদা খাতুন বলেন, আমাদের কোনো জমি ছিল না, কোনো নিরাপদ আশ্রয়ও ছিল না। আজ মনে হচ্ছে আমরা নতুন জীবন পেলাম। যারা আমাদের এই ঘর দিয়েছেন, তাদের ঋণ কোনোদিন শোধ হবে না।

এন্সো ও লাওরা আজীবন মানুষকে যত দৃষ্টান্তমুলক সেবা দিয়েছে তা নিরবে। জাহির করে নয়। মানবতার পাশে তাদের সব কর্মকান্ড তাই অনন্য ও অসাধারণ। তার তাদের অনুপস্থিতিতে তাদের পক্ষে জমির দলিল ও বাড়ির চাবি হস্তান্তর করে সমাজকর্মী ও সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন।

সুমন বলেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করার ক্ষেত্রে এনজো ও লাওরা কখনও প্রচার বা স্বীকৃতি খোঁজেননি। নীরবে, নিরলসভাবে তারা হাজারো অসহায় মানুষের জীবন বদলে দিয়েছেন। আজ মৌলুদা খাতুনের পরিবারের মুখে যে হাসি দেখা যাচ্ছে, সেটিই তাদের মানবিক কর্মকান্ডের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। মানবতার জন্য তাদের এই ভালোবাসা আমাদের সকলের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এটি শুধু একটি বাড়ি নির্মাণের ঘটনা নয়; এটি মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাদের ভাষায়, অনেকেই সাহায্য করেন, কিন্তু মানুষের ভাগ্য বদলে দেওয়ার মতো কাজ খুব কম মানুষই করেন। এনজো ও লাওরা একটি পরিবারকে শুধু ঘর দেননি, তাদের হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন, সম্মান ও ভবিষ্যৎ ফিরিয়ে দিয়েছেন।

ঋশিল্পী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক প্রশান্ত কুমার বল্লভ বলেন, একটি পরিবারের মাথার ওপর নিরাপদ ছাদ নিশ্চিত করা শুধু দান নয়, এটি মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার কাজ। এনজো ও লাওরা আজীবন সেই মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন।

ফাউন্ডেশনের কনসালটেন্ট মো. আকতারুল আলম বলেন, ভূমিহীন মানুষের জন্য জমি ও বাসস্থান নিশ্চিত করা তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। মৌলুদা খাতুনের পরিবারের জন্য এই উদ্যোগ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

সাতক্ষীরার এই গল্প তাই কেবল একটি গৃহহস্তান্তরের সংবাদ নয়; এটি মানুষের প্রতি মানুষের সীমাহীন ভালোবাসা, মমতা ও দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দলিল, যা দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

সাতক্ষীরায় স্টার্টআপ বিজ্ঞান প্রকল্প এবং উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় স্টার্টআপ বিজ্ঞান প্রকল্প এবং উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিনিধি: মেধা-বিজ্ঞান-উদ্ভাবনের দেশ সবার আগে বাংলাদেশ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে স্টাটাপ বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী বিষয়ক প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) সকালে সাতক্ষীরা নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (ইইএসএস), এসইডিপি ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকার আয়োজনে এবং সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সহযোগিতায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্তের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আলমগীর কবীর ও সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আবুল হোসেন প্রমুখ।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল মালেক গাজী, সাবেক প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ মনজুরুল হক প্রমুখ।
বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন এলজিইডি সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রকৌশলী ইয়াকুব আলী, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নিত্যানন্দ কুমার, আইসিটি প্রভাষক দেবাশীষ দাস, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের প্রভাষক মোঃ আফজাল করিম প্রমুখ।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে স্টাটাপ বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী বিষয়ক প্রোগ্রামে ১৮টি স্টল স্থান পেয়েছে।এসময় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উপমা আহমেদ।

চোর ধরার পরও মালামাল উদ্ধারে এত দেরি কেন: ববি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
চোর ধরার পরও মালামাল উদ্ধারে এত দেরি কেন: ববি

চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববির ঈদুল আজহায় মুক্তি পায় ‘তছনছ’ নামে একটি সিনেমা। তবে ঈদের মাত্র দুই দিন আগে তার পূর্ব মণিপুরের বাসায় এক দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা বাসার জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে স্বর্ণালংকার, টাকা ও মূল্যবান ঘড়িসহ প্রায় ৮৫ লাখ ৭০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় গত ২৭ মে কাফরুল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন ববির খালাতো ভাই আবদুল কাদের ভূঁইয়া। অভিযোগের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত ফয়সাল হোসেন ফারুক (৩৫) ও তার স্ত্রী নাহিদা আক্তারসহ এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে আসামি গ্রেপ্তার হলেও চুরি হওয়া বিপুল পরিমাণ সম্পদের মধ্যে মাত্র ৪ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

মালামাল উদ্ধারের সর্বশেষ আপডেট জানতে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় কাফরুল থানায় যান ববি। সেখানে দায়িত্বরত অফিসারদের সঙ্গে কথা বলেন এই নায়িকা।

বিষয়টি নিয়ে ববি বলেন, বিষয়টি নিয়ে খুবই হতাশ। শুধু আমি না, আমার পরিবার ঘটনাটি নিয়ে এখনও ট্রমার মধ্যে আছেন। এরমধ্যে এতগুলো টাকার মালামালের মধ্যে মাত্র ৪ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার হয়েছে। আমি অবাক হচ্ছি চোর ধরার পরও মালামাল উদ্ধারে এত দেরি দেখে। আমি আশা করব পুলিশ দ্রুত সবকিছু উদ্ধার করবে। না হলে, মামলাটি আমি ডিবিতে দেওয়ার প্রক্রিয়া করব।’

এর আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ এবং আসামি গ্রেপ্তারের ঘটনায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ববি। তবে চোর ধরার পরও মালামাল উদ্ধারে কেন এত দেরি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ববি জানান, এখনও তার অধিকাংশ সম্পদ উদ্ধার হয়নি। বাকি স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য জিনিস যেন দ্রুত উদ্ধার হয় এবং অপরাধীরা যথাযথ শাস্তির মুখোমুখি হয়, সেজন্য তিনি সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।