মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

আশাশুনিতে দুর্যোগ ঝুঁকি ও প্রস্তুতি বিষয়ে তিন দিনের প্রশিক্ষণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে দুর্যোগ ঝুঁকি ও প্রস্তুতি বিষয়ে তিন দিনের প্রশিক্ষণ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরে প্রতিবন্ধিতা-অন্তর্ভুক্ত দুর্যোগ ঝুঁকি ও প্রস্তুতি বিষয়ে তিন দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষ হয়েছে। বুধবার সকালে প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে এই প্রশিক্ষণ সমাপ্ত হয়।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আইডিয়াল’-এর বাস্তবায়নে, সেন্টার ফর ডিজএবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি)-এর কারিগরি সহায়তায় এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক সংস্থা ‘লিলিয়ান ফন্ডস’-এর অর্থায়নে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। ‘রেজিলেন্স বিগিনস এট হোম’ প্রকল্পের আওতায় গত ৮ জুন থেকে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণে প্রতাপনগর ইউনিয়নের ২৫ জন প্রতিবন্ধী শিশুর কেয়ারগিভার (পরিচর্যাকারী) অংশ নেন।

প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু দাউদ ঢালী। প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার মামুন আলী। দুর্যোগকালীন সময়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও প্রস্তুতি বিষয়ে এই প্রশিক্ষণে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

 

Ads small one

চিকিৎসকের অবহেলায় যমজ সন্তানের মায়ের জীবন সংকটাপন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
চিকিৎসকের অবহেলায় যমজ সন্তানের মায়ের জীবন সংকটাপন্ন

মো. জাবের হোসেন: যমজ সন্তান প্রসবের পর জরায়ুতে গর্ভফুলের (ফুল) অংশবিশেষ রেখেই প্রসূতিকে ছাড়পত্র দেওয়ার চরম অভিযোগ উঠেছে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে। পর্যাপ্ত তদারকি ও চিকিৎসার গাফিলতিতে প্রসূতি রিমা খাতুন (১৮) প্রসব-পরবর্তী মারাত্মক রক্তক্ষরণে (সেকেন্ডারি পিপিএইচ) আক্রান্ত হয়েছেন। এতে ইতোমধ্যে তাঁর এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে এবং বর্তমানে রিমা নিজেও জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। গত ৫ জুলাই সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মেলা বাজারে অবস্থিত তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে এই ঘটনা ঘটে।
মেডিকেল রিপোর্টের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রসবের পর গর্ভফুল বা প্রসবসংক্রান্ত উপাদান সম্পূর্ণ অপসারণ না করেই প্রসূতিকে ছাড়পত্র দেয় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। ফলে জরায়ুতে অবশিষ্ট অংশ থেকে ক্রমাগত রক্তক্ষরণ হতে থাকে এবং তিনি মারাত্মক রক্তস্বল্পতায় (অ্যানিমিয়া) ভোগেন। পরবর্তীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর জরায়ু পরিষ্কার ও রক্ত সঞ্চালন করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রসবের পর প্রসূতির জরায়ু সঠিকভাবে পরীক্ষা না করে ছেড়ে দেওয়া চরম চিকিৎসাগত অবহেলা, যা রোগীর জীবন বিপন্ন করতে পারতো।
রিমা খাতুনের বাবা শুকুর আলী সরদার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গত ৪ জুলাই তাঁর মেয়ে রিমা ও জামাতা মো. সেলিম খাঁ পরামর্শের জন্য তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে যান। পরদিন ৫ জুলাই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভর্তি করা হয়। ক্লিনিকটির স্বত্বাধিকারী বিধান বাবুর পরামর্শে স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিধান নিজে উপস্থিত থেকে এক নার্সকে দিয়ে এপিসিওটমি (সাইট কাটা) ও সেলাইয়ের কাজ করান। ওই দিনই রিমা দুটি যমজ পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
জন্মের পরপরই নবজাতকরা অসুস্থ হয়ে পড়লে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে তাদের খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে ৭ জুলাই রিমা খাতুনকে ক্লিনিক থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলে তিনিও খুলনায় সন্তানদের কাছে চলে যান। সেখানে পৌঁছানোর পরদিন রিমা মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখানকার চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, তাঁর জরায়ুতে গর্ভফুলের অংশ রয়ে গেছে। পরে জরুরি চিকিৎসার মাধ্যমে জরায়ু পরিষ্কার করা হয়।
রিমার স্বামী সেলিম খাঁ আক্ষেপ করে বলেন, “ডাক্তারের বদলে ক্লিনিক মালিক নিজে উপস্থিত থেকে নার্সকে দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। এই ভুল চিকিৎসার জন্যই আমার স্ত্রীর আজ এই অবস্থা, আর আমাদের একটি সন্তানও মারা গেছে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।”
এদিকে ২৫ জুলাই সকালে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে গেলে কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ব্যাপক অসঙ্গতি দেখা যায়। প্রসূতির চিকিৎসায় গাফিলতির চিত্রটি সেখানে পরোক্ষভাবে উঠে আসে। স্বত্বাধিকারী বিধান কখনো নিজেকে ‘মালিক’ আবার কখনো ‘ম্যানেজার’ পরিচয় দেওয়ায় কারণ জানতে চাইলে ম্যানেজার মশিউর রহমান দাবি করেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা মানসিকভাবে চাপের মধ্যে রয়েছি, তাই হয়তো তিনি এমন বলছেন।”
জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হলে প্রসূতির পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সাত হাজার টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে প্রসূতির পরিবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
অন্যদিকে, প্রসবের কাজে যুক্ত নার্স রিমা খাতুন পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এছাড়া ছাড়পত্র দেওয়ার পর রোগীর জীবনঝুঁকির কথা জেনেও কেন তাঁর কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি—সে প্রশ্নের কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেনি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।

কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা ছাড়াল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা ছাড়াল

এম শফিকুল ইসলাম: টানা বৃষ্টিতে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সাতক্ষীরার বাজারগুলোতে হঠাৎ করেই কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে মরিচের দাম কয়েক গুণ বেড়ে কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা ছাড়িয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে বাজারে নতুন কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজিতে, আর পুরনো কাঁচা মরিচের দাম উঠেছে ৩২০ টাকায়। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কয়েক দিন আগেও নতুন মরিচের দাম ছিল ২০০ টাকা।
বড়বাজার ও টাউন বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, টানা দুই সপ্তাহের বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমে কাঁচা মরিচগাছের পাতা ও গোড়া পচে গেছে। এর সঙ্গে অতিরিক্ত গরম যুক্ত হওয়ায় উৎপাদন ব্যাপক ব্যাহত হয়েছে। কৃষকেরা বাজারজাত করার মতো পর্যাপ্ত মরিচ পাচ্ছেন না।
কৃষক মোহাম্মাদ আলী বলেন, জেলায় কৃষিজমি কমে যাওয়া এবং বাণিজ্যিকভাবে মৎস্যঘের বৃদ্ধি পাওয়ায় সবজি চাষের জমি কমে গেছে। উঁচু জমিতে যেটুকু চাষ হচ্ছে, তা চাহিদার তুলনায় খুব কম।
এদিকে আমদানিকারক গণেশ ঘোষ জানান, স্থানীয় উৎপাদনে জেলার চাহিদা মেটে না। কাঁচা মরিচের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও দাম সহনীয় পর্যায়ে আনতে ভারত থেকে আমদানির অনুমতি (আইপি) প্রয়োজন। অনুমতি মিললেই আমদানিকারকেরা ঋণপত্র (এলসি) খুলে মরিচ আমদানি শুরু করবেন।

জাতীয় প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েও পদক মেলেনি, ক্ষুব্ধ দুই কৃতি শিশু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
জাতীয় প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েও পদক মেলেনি, ক্ষুব্ধ দুই কৃতি শিশু

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছিল সাতক্ষীরার দুই শিশু। কথা ছিল বর্ণাঢ্য আয়োজনে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে কাক্সিক্ষত পুরস্কার। কিন্তু ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৫’-এ দেশসেরা হওয়ার দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও এখনো মেলেনি পদক, সনদপত্র কিংবা প্রাইজমানি। উল্টো সম্প্রতি ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬’-এর পুরস্কার দেওয়া হলেও উপেক্ষিত থেকে গেছে পূর্ববর্তী বছরের এই কৃতী শিক্ষার্থীরা। এতে চরম হতাশা ও মানসিক কষ্টে দিন কাটছে তাদের।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৫’ প্রতিযোগিতায় চিত্রাঙ্কন বিভাগে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অধিকার করে তালা উপজেলার ১২৭ নম্বর পাটকেলঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহিয়া সুলতানা (তাহা)। একই প্রতিযোগিতায় অন্য একটি ইভেন্টে জাতীয় পর্যায়ে দেশসেরা হয় ৩৩ নম্বর তালা বাজার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাধুর্য দাশ।
কৃতী শিক্ষার্থী তাহিয়া সুলতানা জানায়, সে স্বপ্ন দেখেছিল দেশের সর্বোচ্চ সম্মাননা গ্রহণ করবে এবং সেই ছবি ফ্রেমে বাঁধিয়ে ঘরে ঝুলিয়ে রাখবে। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কোনো সনদ বা পদক হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬’ প্রদান করা হয়েছে। অথচ ২০২৫ সালের চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত জাতীয় সেরা শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত না করেই পরবর্তী বছরের পদক বিতরণ করায় ক্ষোভ ও বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীরা।
তাহিয়া সুলতানার অভিভাবক মো. শাহাবুদ্দীন মোড়ল বলেন, “আমাদের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে সারা দেশের মধ্যে প্রথম হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো ইতিবাচক উত্তর পাইনি। জাতীয় পর্যায়ে সেরা হয়েও শিশুরা যদি সম্মান না পায়, তবে তাদের কোমল মনে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।”
পাটকেলঘাটা মডেল প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক অলিউল ইসলাম জানান, সেরা মেধার স্বীকৃতি না পাওয়ায় এই শিশুরা হতাশ হয়ে পড়ছে। দ্রত সময়ের মধ্যে ২০২৫ সালের পদক হস্তান্তরের দাবি জানান তিনি।
বঞ্চনার অবসান চেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য (সাতক্ষীরা-১) এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় বরাবর স্মারকলিপি ও আবেদনপত্র পাঠিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। তাদের দাবি, দ্রুত আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৫’-এর পদক, সনদপত্র ও প্রাইজমানি দিয়ে শিশুদের প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ফিরিয়ে দেওয়া হোক। যোগাযোগ করা হলে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজা স্বর্ণা বলেন, “এ বিষয়ে আমার করণীয় কিছু নেই।”