শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

আশাশুনিতে বোরো ধানে বাম্পার ফলনের আশা, চোখে কালবৈশাখির ভয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২১ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে বোরো ধানে বাম্পার ফলনের আশা, চোখে কালবৈশাখির ভয়

আশাশুনি সংবাদদাতা: আশাশুনির বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন দুলছে কাঁচা-পাকা ধানের শীষ। সবুজের বুক চিরে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে সোনালি আভা। রোদ আর হালকা বাতাসে দিগন্তজোড়া ক্ষেত যেন এক নীরব উৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হবে ধান কাটার মৌসুম-কৃষকের বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত ও প্রত্যাশার সময়। তবে এই আনন্দের মাঝেও রয়েছে দুশ্চিন্তা।

 

মৌসুমের শেষ সময়ে এসে কালবৈশাখির আশঙ্কা আর শ্রমিকসংকট কৃষকদের ভাবিয়ে তুলেছে। চলতি মৌসুমের শুরুতে তীব্র তাপপ্রবাহে ধানের শীষ বের হওয়ার সময় ‘চিটা’ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সেই শঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে। জমিতে আর্দ্রতা ফিরে আসায় ধানগাছ এখন সতেজ, দানাও ভালোভাবে গঠিত হচ্ছে। আশাশুনির কাদাকাটি এলাকার কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “কয়েক দিন আগে খুব ভয় ছিল।

 

এত গরমে মনে হচ্ছিল ধান ঠিকমতো হবে না। কিন্তু আল্লাহর রহমতে বৃষ্টি হওয়ায় এখন জমির অবস্থা ভালো। যদি বড় ঝড় না হয়, তাহলে ফলন ভালোই হবে।” কৃষকদের মতে, এই সময়টাতে মাঝারি বৃষ্টি উপকারী হলেও কালবৈশাখির ঝড় বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। হঠাৎ দমকা হাওয়ায় পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে, যা কাটার আগেই ফলন নষ্ট করে দিতে পারে। ধান পাকতে শুরু করলেও এখনই শ্রমিক পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক কৃষক।

 

স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত শ্রমিক না থাকায় বাইরের এলাকা থেকে শ্রমিক আনতে হয়, এতে খরচও বাড়ছে। বুধহাটা এলাকার কৃষক সুধাংশু বলেন, “ধান কাটার সময় শ্রমিক পাওয়া যায় না। যারা আসে, তারা বেশি মজুরি চায়। এতে আমাদের খরচ অনেক বেড়ে যায়। সময়মতো ধান কাটতে না পারলে আবার ঝড়ে নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে।” স্থানীয় সেচ পাম্প মালিকরাও জানিয়েছেন, মৌসুমের শেষ দিকে এসে ডিজেলের সংকট ও বাড়তি দামে জ্বালানি কিনতে হওয়ায় সেচ ব্যয়ও বেড়েছে। যদিও সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।

 

আশাশুনি উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। মাঠের বর্তমান অবস্থা সন্তোষজনক এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “ধান এখন পাকার পথে। আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি-যেন সময়মতো ধান কাটতে পারেন এবং ঝড়ের পূর্বাভাস পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেন।

 

আবহাওয়া সহায়ক থাকলে এ বছর ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।” সব উদ্বেগের মাঝেও কৃষকের চোখে এখন স্বপ্ন। মাঠের সোনালি ধান ঘরে তুলতে পারলেই শুরু হবে নবান্নের আনন্দ-পিঠা-পুলি, নতুন চালের ভাত আর গ্রামীণ জীবনের চিরচেনা উৎসব। আশাশুনির মাঠ যেন এখন সেই অপেক্ষার গল্প বলছে-প্রকৃতি, পরিশ্রম আর অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করে সোনালি স্বপ্ন ঘরে তোলার গল্প।

 

 

Ads small one

কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় ছয় লক্ষ টাকার মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় ছয় লক্ষ টাকার মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ কাকডাঙ্গা ও হিজলদী বিওপির টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ ও ঔষধ আটক করে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়াটার জানায়, কাকডাঙ্গা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার ভাদিয়ালী হতে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার ভারতীয় ঔষধ আটক করে।

এছাড়াও, হিজলদী বিওপির আভিযানে বড়ালী হতে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৫০০ টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে।
আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

 

 

 

সাতক্ষীরায় প্রাণসায়র খাল রক্ষায় সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় প্রাণসায়র খাল রক্ষায় সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন

সংবাদদাতা: পরিবেশ সংরক্ষণ, ঐতিহ্যবাহী জলাশয় রক্ষা এবং নাগরিকদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাতক্ষীরা শহরের প্রাণসায়র খালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) সাতক্ষীরা পৌরসভা, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এবং সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

সাইনবোর্ডগুলোতে খাল, জলাশয় ও উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ও প্লাস্টিক না ফেলা, পরিবেশ দূষণ রোধ, পরিচ্ছন্ন নগর গঠন এবং পরিবেশবান্ধব নাগরিক আচরণ গড়ে তোলার বিষয়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা ও নির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, প্রাণসায়র খাল সাতক্ষীরা শহরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত সম্পদ এবং এই শহরের ফুসফুস। এর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে জনসচেতনতা এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। সরকারি-বেসরকারি ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই কেবল একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য সাতক্ষীরা শহর গড়ে তোলা সম্ভব।

সাইনবোর্ড স্থাপন কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শেখ আফজাল হোসেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর মাহাফুজুর রহমান মুকুল, পরিবেশকর্মী অনিমেষ পাল এবং রুহিতোষ কুমার দাশ, প্রান্তিক যুব সংঘের সভাপতি হৃদয় মন্ডল ও প্রচার সম্পাদক মোঃ মোকাররাম বিল্লাহ ইমন প্রমুখ।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আয়োজক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সাতক্ষীরার সাধারণ জনগণের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়ে বলা হয় খাল, নদী, নালা বা কোনো জলাশয়ে কোনো ধরনের পচনশীল বা অপচনশীল বর্জ্য ফেলবেন না। একবার ব্যবহারযোগ্য (সিঙ্গেল-ইউজ) প্লাস্টিকের ব্যবহার বর্জন করুন। পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তুলে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, নিরাপদ ও সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করুন।

 

 

 

 

লিডার্স এর বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
লিডার্স এর বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

শনিবার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লিডার্সের বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এস এম দেলোয়ার হোসেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন লিডার্সের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ নজরুল ইসলাম
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন লিডার্সের নির্বাহী পরিচালক ও সম্পাদক মোহন কুমার মন্ডল।

এছাড়াও সভায় উপস্থিত লিডার্সএর সাধারণ পরিষদের সদস্য রনজিৎ কুমার বর্মন, বিধু¯্রবা মন্ডল, মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, আমিনা বিলকিস, লিপিকা রায়, জি এম নাসির উদ্দিনসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। তারা লিডার্স এর জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলা, প্রান্তিক মানুষদের উন্নয়নে লিডার্সের অবদান, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, কৃষি উন্নয়ন, বনায়ন ও বন সংরক্ষণ এবং নারীর ক্ষমতায়নে লিডার্সের কার্যকরী ভূমিকা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এছাড়া বার্ষিক সাধারণ সভায় ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের অডিট প্রতিবেদন অনুমোদন, ২০২৫-২০২৬ ও ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের অডিটর নিয়োগ, ২০২৬-২০২৭ সালের বাজেট অনুমোদন ও অন্যান্য অনেক বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। প্রেসবিজ্ঞপ্তি