আশাশুনিতে বোরো ধানে বাম্পার ফলনের আশা, চোখে কালবৈশাখির ভয়
আশাশুনি সংবাদদাতা: আশাশুনির বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন দুলছে কাঁচা-পাকা ধানের শীষ। সবুজের বুক চিরে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে সোনালি আভা। রোদ আর হালকা বাতাসে দিগন্তজোড়া ক্ষেত যেন এক নীরব উৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হবে ধান কাটার মৌসুম-কৃষকের বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত ও প্রত্যাশার সময়। তবে এই আনন্দের মাঝেও রয়েছে দুশ্চিন্তা।
মৌসুমের শেষ সময়ে এসে কালবৈশাখির আশঙ্কা আর শ্রমিকসংকট কৃষকদের ভাবিয়ে তুলেছে। চলতি মৌসুমের শুরুতে তীব্র তাপপ্রবাহে ধানের শীষ বের হওয়ার সময় ‘চিটা’ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সেই শঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে। জমিতে আর্দ্রতা ফিরে আসায় ধানগাছ এখন সতেজ, দানাও ভালোভাবে গঠিত হচ্ছে। আশাশুনির কাদাকাটি এলাকার কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “কয়েক দিন আগে খুব ভয় ছিল।
এত গরমে মনে হচ্ছিল ধান ঠিকমতো হবে না। কিন্তু আল্লাহর রহমতে বৃষ্টি হওয়ায় এখন জমির অবস্থা ভালো। যদি বড় ঝড় না হয়, তাহলে ফলন ভালোই হবে।” কৃষকদের মতে, এই সময়টাতে মাঝারি বৃষ্টি উপকারী হলেও কালবৈশাখির ঝড় বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। হঠাৎ দমকা হাওয়ায় পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে, যা কাটার আগেই ফলন নষ্ট করে দিতে পারে। ধান পাকতে শুরু করলেও এখনই শ্রমিক পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক কৃষক।
স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত শ্রমিক না থাকায় বাইরের এলাকা থেকে শ্রমিক আনতে হয়, এতে খরচও বাড়ছে। বুধহাটা এলাকার কৃষক সুধাংশু বলেন, “ধান কাটার সময় শ্রমিক পাওয়া যায় না। যারা আসে, তারা বেশি মজুরি চায়। এতে আমাদের খরচ অনেক বেড়ে যায়। সময়মতো ধান কাটতে না পারলে আবার ঝড়ে নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে।” স্থানীয় সেচ পাম্প মালিকরাও জানিয়েছেন, মৌসুমের শেষ দিকে এসে ডিজেলের সংকট ও বাড়তি দামে জ্বালানি কিনতে হওয়ায় সেচ ব্যয়ও বেড়েছে। যদিও সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।
আশাশুনি উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। মাঠের বর্তমান অবস্থা সন্তোষজনক এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “ধান এখন পাকার পথে। আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি-যেন সময়মতো ধান কাটতে পারেন এবং ঝড়ের পূর্বাভাস পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেন।
আবহাওয়া সহায়ক থাকলে এ বছর ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।” সব উদ্বেগের মাঝেও কৃষকের চোখে এখন স্বপ্ন। মাঠের সোনালি ধান ঘরে তুলতে পারলেই শুরু হবে নবান্নের আনন্দ-পিঠা-পুলি, নতুন চালের ভাত আর গ্রামীণ জীবনের চিরচেনা উৎসব। আশাশুনির মাঠ যেন এখন সেই অপেক্ষার গল্প বলছে-প্রকৃতি, পরিশ্রম আর অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করে সোনালি স্বপ্ন ঘরে তোলার গল্প।






