শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

আশাশুনিতে সয়াবিন তেলের ‘কৃত্রিম’ সংকট, দাম নিয়ে দিশাহারা ক্রেতারা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে সয়াবিন তেলের ‘কৃত্রিম’ সংকট, দাম নিয়ে দিশাহারা ক্রেতারা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে খুচরা বাজারে বোতলজাত তেল প্রায় পাওয়া যাচ্ছে না। এই সুযোগে খোলা সয়াবিন তেল চড়া দামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারসাজিতে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের।
উপজেলার বুধহাটা, দরগাপুর, বড়দল ও গোয়ালডাঙ্গা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দোকানগুলোতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ নেই বললেই চলে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি পর্যায় থেকে তেলের সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে নিরুপায় হয়ে ক্রেতারা খোলা তেলের দিকে ঝুঁকছেন। তবে সেখানেও অস্বস্তি; সরকার নির্ধারিত ১৭৬ টাকার পরিবর্তে খোলা সয়াবিন ২০৫ থেকে ২১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বুধহাটা বাজারে আসা ক্রেতা রায়হান হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, “বাজারে বোতলজাত তেল নেই। খোলা তেল কিনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩০-৪০ টাকা বেশি দিয়ে। সাধারণ মানুষের সংসার চালানো এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
একই অভিযোগ করেন গোয়ালডাঙ্গার মাহমুদা বেগম। তিনি জানান, কিছুদিন আগে ১৮৯ টাকায় যে তেল পাওয়া যেত, এখন ২০০ টাকা দিয়েও তা ঠিকমতো মিলছে না।
খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কথা বলে পাইকাররা দাম বাড়িয়েছেন। তবে সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রশাসনের তদারকি না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে মুনাফা লুটছেন। বিশেষ করে বুধহাটা ও বড়দল বাজারের কিছু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বোতলজাত তেল লুকিয়ে রেখে বেশি দামে বিক্রির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বাজার নিয়ন্ত্রণে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অতিরিক্ত মুনাফা করলে বা মজুদদারির প্রমাণ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Ads small one

এই শীতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
এই শীতে

মকবুল মাহ্ফুজ
উলের সোয়েটার পরে আছে ওষুধের দোকান
নতুন বছরের ক্যালেন্ডারের গায়ে শীতের চাদর।

এই শীতে গাছেরা কুঁজো হয়ে আছে।
হাড় কাঁপানো শীত এ বছর
আগুনে সেঁকতে হচ্ছে হাত। পা রোজ।
কার যেন কবিতায় পড়েছিলাম
‘কথা বললেই শীত কম লাগে।’
ইস্, এরা যদি কথা বলতে পারত!

মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে
বাবুর আলী গোলদার
কিছু ইতর প্রাণী মলমূত্র ত্যাগ করছে,
দুর্গন্ধ নাকে আসছে।
নারী কী পুরুষ চেনা দায় হচ্ছে,

সর্বাঙ্গ ঢাকা আছে।
বিরতিহীন হাঁটছে,
এপাড়া-ওপাড়া যাচ্ছে।
ফিসফিসিয়ে বলছেÑ
অনন্তকাল সুখভোগের লোভ দেখাচ্ছে।
বাহ্! সুখ যেন ওদের হাতে,
মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে।
সরলমনা মানুষগুলো কি বুঝতে পারছে?

 

আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

জহুরুল হক জুলু
সকালের রোদের চিকমিক সোনা গায়ে মেখে
যে নতুন দিনের জন্ম দেয়,
আর সন্ধ্যার আকাশে
আবিরের রঙ ছড়িয়ে

অস্তাচলে রেখে যাওয়া শেষ স্বাক্ষরÑ
শিল্পীর তুলিতে আঁকা রঙিন স্বপ্নের মতো;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
শীতের ভোরে
ঘাসের ডগায় জেগে থাকা শিশিরকণা

টুপটাপ ঝরে পড়ে নীরবে,
যেন একান্ত আপন ভেবে
বেদনার ভাষা জানাতে চায়Ñ
হৃদয় নিংড়ানো স্বচ্ছ সে কথা;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে, সুগন্ধ বিলিয়ে
যে নীরবে পৌঁছে যায় হৃদয়ের মনিকোঠায়,

অবশেষে একদিন
ঝরে পড়ে নিঃশব্দে,
নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েÑ
আমি সেই ফুলটিকে ধরে রাখতে চাই
সযতেœ স্মৃতির পাতায়;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
ঘুম ভাঙে কিচিরমিচির ডাকে,

হৃদয়ে জাগে অচেনা আলোড়ন।
কেউ দূর নীল আকাশে ভেসে যায়,
খাদ্যের সন্ধানে ব্যস্ত উড়াল;
সন্ধ্যা নামলে আবার
কুলায় ফেরে তৃপ্ত হৃদয়ে।
তাদের এই সহজ জীবনযাত্রা
কার না মন কাড়ে?
আমি সেই পাখিদের বন্ধু হতে চাই।

সবুজ ফসলের মাঠ মনকে ভুলিয়ে দেয়,
আলো-ছায়ার লুকোচুরি খেলায়
বাতাস দোলে ছন্দে ছন্দে;
তার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে
আমার হৃদয়ের তীরে।
আমি তারও বন্ধু হতে চাই।
তুমিও তবে হাত বাড়াওÑ
দিগন্ত-বিস্তৃত উন্মুক্ত হাত।

এসো, আমরা বন্ধু হই

এই সৌন্দর্যের, এই জীবনের,

এই অনন্ত মমতার।

শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

শাহাবুদ্দীন
সবকিছুর বিনিময়ে তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন ভোরের কুয়াশা তার অদৃশ্য আঙুল দিয়ে
ঘাসের ডগায় হেঁটে যায়,
শুধু নিঃশব্দে কিছু নরম আলো রেখে যায়।
আমি যত দিইÑ
শব্দ, সময়, স্মৃতি, অদৃশ্য আঙুলের স্পর্শÑ
সবই যেন মাটির নিচে সরে যায়;
কিন্তু তুমি ভালো থাকো,
এটাই আমার প্রার্থনা।
যেমন ঝড়ের পর একা পাতার ওপর
সন্ধ্যার আলো নেমে আসে,
তেমনি তোমার মুখে যেন
শান্তির নরম ছাপ থাকেÑ

যেখানে কেউ আহত হয় না, কেউ হারায় না।
আমি জানি, আমার দেওয়া সবকিছু
অদৃশ্য নদীর মতো বয়ে যাবে;
শুধু তুমি ভালো থেকো,
এই ভেবে নদীও থেমে যায়,
এক মুহূর্তের জন্য নিজেকে দাঁড় করায়।
তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন হেমন্তের শেষে
শিশিরের নিচে একাকী ফুল;
শুধু নিজের উপস্থিতি দিয়ে
সমস্ত মাঠকে ভরিয়ে রাখে।
সবকিছুর বিনিময়ে,
যদি এই পৃথিবীর সমস্ত শব্দ,
সমস্ত নীরবতা, সমস্ত আকাশ
আমার হাতে এসে গলে যায়Ñ
তবু একটাই চাওয়া থাকবে:
তুমি ভালো থেকো,
যেমন নক্ষত্র নিজের আলো দিয়ে
রাত্রিকে আলোকিত রাখে,
অচল, অমোঘ, অদূর।