আশাশুনিতে ৩ পরীক্ষা কর্মকর্তা অব্যাহতি নিয়ে গুঞ্জন!
আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার দরগাহপুর এসএসস পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিবসহ তিন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। যশোর শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় গত ৫ মে তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয় শিক্ষা অনুরাগী ও অভিভাবকদের মধ্যে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। অব্যাহতিপ্রাপ্তরা হলেনÑকেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ গৌরপদ মন্ডল, ট্যাগ অফিসার ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার ঝংকর ঢালী এবং পরীক্ষা কমিটির সদস্য সহকারী শিক্ষক জি এম রাখিদুল ইসলাম।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছেÑ বিধি বহির্ভূতভাবে বহিরাগতদের কেন্দ্রে প্রবেশ। একজন সহকারী প্রধান শিক্ষকের ছেলে ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়া সত্ত্বেও বিশেষ সুবিধা প্রদান। ট্যাগ অফিসার কর্তৃক শিক্ষার্থীদের খাতা কেড়ে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি। কমিটির সদস্য কর্তৃক প্রশ্নপত্র বাইরে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা এবং ভিজিলেন্স টিমের হাতে ধরা পড়া।
তবে তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, কেন্দ্রটি সিসি ক্যামেরা ও কড়া পুলিশি পাহারায় নিয়ন্ত্রিত। ৯টি প্রতিষ্ঠানের ৪৬৫ জন পরীক্ষার্থী এখানে পরীক্ষা দিচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অভিভাবকদের একাংশের দাবি, কেন্দ্রটি আগের চেয়ে অনেক বেশি শৃঙ্খল। কোনো অনিয়ম হলে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করলেই সত্যতা পাওয়া যেত। তদন্ত ছাড়াই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
অব্যাহতি পাওয়া কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ গৌরপদ মন্ডল বলেন, “আমি সব নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করেছি। কতিপয় প্রধান শিক্ষক পরীক্ষা শুরুর আগে পরীক্ষার্থীদের খোঁজ নিতে আসেন ঠিকই, কিন্তু পরীক্ষা শুরুর আগেই চলে যান। সিসিটিভি ফুটেজই আমার প্রমাণ। অব্যাহতির সিদ্ধান্তে আমি বিস্মিত।”
ট্যাগ অফিসার ঝংকর ঢালী দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের সতর্ক করার জন্য মাত্র ৫-১৫ মিনিটের জন্য দুটি খাতা নেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, শিক্ষক রাখিদুল ইসলাম প্রশ্ন ফাঁসের চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভিজিলেন্স টিমের সামনে এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
এ বিষয়ে জানতে ভিজিলেন্স টিমের সদস্য প্রভাষক জহুরা ইয়াসমিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, “যশোর শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধির সুপারিশের ভিত্তিতে তিনজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে তদন্ত করছি। তদন্ত শেষেই প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।”









